শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
পলাশবাড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লবকে সাময়িক বহিষ্কার জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বে দেশ আজ মর্যাদাপ‚র্ণ অবস্থানে…..মজনু নলছিটিতে গাড়ি চালককে হত্যার বিচারের দাবিতে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ তানোর পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের বেনাপোল বন্দর পরিদর্শন বিরামপুরে ২১লক্ষ ৪০ হাজার টাকার চেক পেলেন প্রতিবন্ধীরা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে লিয়াকত আলী সরকার টুটুল রাজশাহীর তানোরে পতিত জমিতে সবজি চাষ নড়াইলে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু অর্থোপেডিক এসোসিয়েশন অব সার্ক কান্ট্রিজের সভাপতি হলেন অধ্যাপক এম. আমজাদ হোসেন পুলিশের এসি পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে বদলি মানুষ সৃষ্টির আসল উদ্দেশ্য  ……. এ. আই. অলিউদ্দীন  ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ইউনিটি’র  করোনা রোধে মাষ্ক বিতরণ ক্যাম্পেইন। আত্রাইয়ে মিটার চোর চক্রের মূলহোতা আটক ট্রাক্টরের ধাক্কায় খানসামায় চার্জার ভ্যান আরোহী এভারগ্রীণ কোম্পানির শ্রমিক নিহত

মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা ।।রহস্য জনক কারণে প্রশাসন নিশ্চুপ !

হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ নানান নেশা জাতীয় দ্রব্য

 

মাদক থেকে দেশকে বাঁচান,মাদকে ধ্বংস হচ্ছে দেশের মেধা সম্পদ, মাদক এর করাল গ্রাস ও যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়, যুবসমাজ ধ্বংসের অপর নাম মাদক ও ইয়াবায় ধ্বংস যুব সমাজ ।।রাঘব বোয়ালরাই দেশের যুব সমাজের মধ্যে নেশার বীজ বুনছে । বড় বড় রাঘববোয়ালদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা জরুরি।

 

এম এ কাদের, সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টারঃ ডিজিটাল বাংলার রূপের ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে শুধু মাত্র নেশার কারণে। ঘরে-ঘরে বাবা খোর তৈরি হচ্ছে।ইয়াবা ট্যাবলেটকে কেউ বলে জিপি, কেউ বলে পিল, কেউ বলে মাল, কেউ বলে মুরুবি্ব, কেউ বলে হর্সপাওয়ার, কেউ বলে বাবা, কেউ কেউ আবার আদর করে ডাকেন মারহাবা কিংবা গুটি নামে। কি নেই আমাদের বাংলাদেশে? লোকে বলে- রূপসী বাংলার রূপের নেইকো শেষ। অল্প কিছু সংখ্যক দুষ্ট লোকের কারণে বাংলাদেশের রূপ আজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মন ভুলানো, দেহ শীতল করা নদীর আজ বেহাল অবস্থা। শকুণীদের চোখ পড়েছে আমাদের বাংলাদেশের ওপর। আমরা একটা খারাপ সময় অতিক্রম করছি। নেশাগ্রস্ত যুবসমাজ আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশটাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। যাদের হাতে এক সময় দেশের নের্তৃত্ব থাকবে। নেশাগ্রস্ত ওইসব যুবসমাজের হাত ধরে যে রাজনীতি গড়ে ওঠবে তা অবশ্যই প্রবঞ্চনার রাজনীতিরই জন্ম দিবে। তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা হবে ভুল। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কম বেশি মাদক সমস্যা বিদ্যমান। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে এর ব্যাপকতা অনেক বেশি। মাদক ও মাদকাসক্তি এখন বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যে যুব সমাজের ওপর দেশের শিক্ষা-দীক্ষা, উন্নতি-অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল, তারাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ ভয়ঙ্কর অভিশাপ থেকে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করা জরুরি হয়েপড়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১৯৪ পিস ইয়াবাসহ সৌদি আরবের জেদ্দাগামী এক যাত্রীকে আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সৈয়দ ফরহাদুর রহমান (৩২) নামে ঐ যাত্রীকে আটক করা হয়। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৩৫ ফ্লাইটে জেদ্দা যাচ্ছিলেন। সাতক্ষীরার বাসিন্দা ফরহাদুর রহমান গত এক বছরের মধ্যে ১৩ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নীরব ঘাতকের মতো মাদকাসক্তি প্রসার লাভ করছে। আমাদের কর্মশক্তির বড় একটি অংশ আগামী দিনের নাগরিকদের গ্রাস করছে প্রতিনিয়ত। এ পরিস্থিতি শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে রোধ করা সম্ভব নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনা। মাদককে না বলুন- ঘরেঘরে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আগে তো গাঁজায় পেতো মজা। এরপর ক্রমান্বয়ে চোরাই মদ, বিদেশি মদ, হেরোইনেও নেশা হয় না। তারপরই আসে ইয়াবা পিল। এগুলো আকারে এতো ছোট যে, যে কেউ খুব সহজেই এটা বহন করতে পারে। এই ইয়াবার মরণ ছোবলে কতো বাবার ছেলেমেয়ে যে নষ্ট হয়ে গেছে, তার কোনো সঠিক হিসাব কারো কাছে নেই।যে কোনো ধরনের মাদকই হোক না কেন তা কোনো ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নহে। মাদক একটি অভিশাপ। মানুষের জীবনকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিতে পারে এই মাদক। আজকের এই মাদক শুধু যে বখে যাওয়া তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তা নয়, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে শিশু ও কিশোরদের হাতেও। বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মাঝেও মাদক গ্রহণের প্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার শুধু পুরুষই নয়, আজকাল মহিলাদের মাঝেও মাদক গ্রহণের প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকের আগমন ও বিস্তারের পথ দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে শহর বন্দর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অলিগলি পর্যন্ত। বিভিন্ন মারফত জানা যায়, প্রতিদিন শুধু রাজধানী ঢাকা শহরেই ইয়াবা বাবদ হাত বদল হয় ৭ কোটি টাকা।ইয়াবা সেবনের টাকা জোগার করতে না পেরে অনেকেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো জগন্নতম কাজও করছে অনায়েসে। আবার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েও প্রতিনিয়তই সংর্ঘষে লিপ্ত হচ্ছে। মোট কথা, নেশার কারণেই আজ সমাজে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।প্রতিদিনই এভাবে মাদকের অসংখ্য চালান ধরা পড়ছে। তারপরও বন্ধ করা যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার। হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ নানান নেশা জাতীয় দ্রব্য। নেশার নীল ছোবলে আজ ধ্বংসের পথে যুবসমাজ। মাদকাসক্তির কারণে পরিবার ও সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
কোনো জিনিস সহজলভ্য হলে তার বিস্তার ঘটে খুব দ্রুত। মাদকের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সূত্র থেকে জানা যায়, গত ছয় বছরে মাদক উদ্ধার বা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সাফল্য চোখে না পড়লেও নতুন বছরের প্রথমেই ব্যাপক পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদেস্যরা। অবশ্যই এটা কৃতিত্বেও দাবি রাখে।
দ্রুতগতিতে আমাদের দেশে বাড়ছে মাদকের অনুপ্রবেশ ও মাদকসেবীর সংখ্যা। উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদকাসক্ত শিশু-কিশোরের সংখ্যা। শিশু-কিশোররা মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাদের স্বাভাবিক শৈশব ও কৈশোর বলে আর কিছু থাকবে না। অথচ এরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। বন্ধহয়ে যাবে তাদের লেখা পড়া, স্কুলে যাওয়া ও খেলাধুলা। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অগ্রগতি ব্যাহত হবে। অন্ধকারে তলিয়ে যাবে দেশের ভবিষ্যৎ। হিংস্র ও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে গড়ে ওঠবে তারা।বাবা- জন্মদাতা পিতা নয়। এটা মরণ নেশা ইয়াবা বা সংক্ষেপে বাবা পিল। এই মরণ নেশা ইয়াবা বা বাবা’র নীল ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে শত শত পরিবার, গোটা সমাজ এমনকি পুরো দেশ। কবি জীবনানন্দের বাংলার রূপের ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে শুধু মাত্রনেশার কারণে। ঘরে-ঘরে বাবা খোর তৈরি হচ্ছে।ইয়াবা ট্যাবলেটকে কেউ বলে জিপি, কেউ বলে পিল, কেউ বলে মাল, কেউ বলে মুরুবি্ব, কেউ বলে হর্সপাওয়ার, কেউ বলে বাবা, কেউ কেউ আবার আদর করে ডাকেন মারহাবা কিংবা গুটি নামে। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন ভয়ঙ্কর এই মাদক ইয়াবাকে মাদক ব্যবসায়ীরা ও সেবনকারীরা বাবা সাংকেতিক নামেই বেশি ডাকেন। আসক্তদের অনেকের কাছে নিজের বাবার চেয়েও বেশি প্রিয় এই মাদক ‘ইয়াবা (বাবা)’। অভিজাত নেশাগ্রস্তদের কাছে এটি আইস পিল নামেও পরিচিত। ইয়াবা মাদক রাজ্যে এক হট আইটেম। কঙ্বাজার সীমান্ত হয়ে বানের পানির মতো ভেসে আসছে মরণ নেশা ইয়াবা। বাংলাদেশকে টার্গেট করে সীমান্তে গড়ে ওঠা কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা ঠেলে দেয়া হচ্ছে এপারে। সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিজিবির সর্তক টহল এবং কড়া নজদারীতেও বন্ধ হচ্ছে না মরণ নেশা ইয়াবার চালান। কঙ্বাজারের টেকনাফ ও বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে আসা ইয়াবা সমুদ্র ও সড়কপথে চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) জরিপ মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ৭০ লাখ। তার মধ্যে ৮০ শতাংশই যুবক। তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ বেকার। মাদকসেবীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ, অপকর্মের সাথে জড়িত। আর অধিকাংশই এখন ইয়াবায় আসক্ত। সীমান্তবর্তী ২৯টি জেলার মধ্যে ১৩২টি উপজেলা দিয়ে সরাসরি মাদক বহন করা হচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন ৩০ লাখ মানুষ ইয়াবা সেবন করেন। এদের মধ্যে শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। মাদক সেবনের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। মস্তিষ্কের কিছু কোষের অপমৃত্যু ঘটে। এভাবেই হৃদপি-, ফুসফুস ও কিডনি বিকলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে নেশায় আসক্তদের। এ মরণনেশা প্রতিরোদে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে মাদক যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে সমাজের সচেতন মানুষ রীতিমতো আতঙ্কিত। এহেন পরিস্থিতি এখনই রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। মাদকের বিস্তার রোধকল্পে বাল্যকাল থেকেই সবার মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, আর্দশ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। মানব সন্তানের জন্যে প্রথম ও প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে তার পরিবার। তাই প্রত্যেকটি পরিবারকে সচেতন করেই মাদকমুক্ত জাতি গঠন করা যেতে পারে। মাদকের বিস্তার রোধকল্পে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন। প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের তরফ থেকে ব্যাপক মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক তৎপরতা বজায় থাকার পরও মাদকের পাচার ববেং বেচাকেনা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। পত্রিকা মারফত জানা যায়, কঙ্বাজার সমুদ্র সৈকতে মাদক বিক্রেতারা পর্যটকদের নিকট ফেরি করে মাদক বিক্রি করছে। এহেন বাস্তবতায় উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদেস্যরা। মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে গুম, খুন, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অপকর্ম। সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। ১৮ জানুয়ারি অর্থাৎ নতুন বছরের শুরুতেই দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান আটক করে র‌্যাব। ঐ দিন ঢাকা ও চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে এযাবতকালের সবচেয়ে বেশি ২৮ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদেস্যরা, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১১৩ কোটি টাকা। প্রশাসনের মাদকবিরোধী সভা-সেমিনার, বিজিবি ও পুলিশের অভিযানসহ মসজিদভিত্তিক জনসচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণের পরও প্রতিদিন বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকের নীল ছোবলে একেকটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে যুবসমাজের সম্ভবনাময় শক্তি। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদেস্যরা প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে, ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ নানা ধরনের মাদক উদ্ধার করেছে। বাংলাদেশে ইয়াবা আসে মূলত মিয়ানমার থেকে। সূত্র থেকে জানা যায়, এই ইয়াবা চোরাচালানের সাথে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় অর্ধশতাধিক ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে ওঠেছে। এগুলোর প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার করা। আর একে ঘিরে টেকনাফ, কঙ্বাজার ও বান্দরবন সীমান্তবর্তী এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে অনেক চোরাচালান চক্রের। চোরাচালান চক্রের মাধ্যমেই ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দেশে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ইয়াবার নর্বনাশা নেশায় বুঁদ হয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করছে, পরিবার ও সমাজের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের নেশার টাকা যোগার করতে গিয়ে নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণরা। এভাবেই মাদকের নীল ছোবলে সমাজে অপরাধের মাত্রাও বেড়ে চলছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তে কড়াকাড়ি আরোপের ফলে এখন ভারত হয়ে বানের পানির মতো আসছে ইয়াবা। বাংলাদেশে এই ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় থাইল্যান্ড, চীনসহ অন্যান্য মাদক উৎপাদনকারী দেশের মাদক ব্যবসায়িরাও এ দেশের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ ধ্বংসের একেবারেই ধারপ্রান্তের দিকে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজের বিশাল অংশ যখন মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে, তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একশ্রেণির নেতারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি পুলিশের একশ্রেণির কর্মকর্তাও মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ছে বলে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সন্ত্রসী-চাঁদাবাজরা কালোটাকার উৎস হিসেবে যেমন মাদকের ব্যবসাকে বেছে নিচ্ছে, তেমনি বেআইনীভাবে অর্জিত অর্থের একটি অংশ মাদকের পেছনে ব্যয়ও হচ্ছে।
মাদক ও ইয়াবা চোরাচালানের সাথে জড়িত চক্রের অনেক সদেস্যকে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে আটকও করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মুনাফাবাজি ও নিয়ন্ত্রণের কারণেই বন্ধ করা যাচ্ছে না ইয়াবা ব্যবসা- এমনটাই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। নেপথ্যের গডফাদাররা সব সময়ই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সীমান্তের মাদক চোরাচালান রুটগুলোতে বিজিবি, কোস্টর্গাড ও পুলিশের কড়া নজরদারির পাশাপাশি ইয়াবা চোরাচালানের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করতে পারলে দেশ ও সমাজকে মাদকের ভয়ানক ছোবল থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। মাদক ব্যবসা ও এর বিস্তাররোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করতে হবে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা ও মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় পুরো সমাজ ব্যবস্থাই বিশৃঙ্খল ও অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে। মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে আছে মাদক প্রবেশের অবৈধ পথ। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ওয়েবসাইটের দিকে তাকালে আমরা যে চিত্রটি দেখতে পাই, তাতে বিষ্ময় প্রকাশ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। জল, স্থল, রেল ও আকাশ পথে আমাদের দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করছে মাদকদ্রব্য। মাদকের সহজলভ্যতা যে কোনো উপায়েই হোক রোধ করতে হবে। মাদকের সহজলভ্যতা রোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া অপরাধী যে-ই হোক তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন সময়ে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত চুনোপুটিরা গ্রেফতার হলেও রাঘববোয়াল থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদক ব্যবসার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে যেন বিন্দুমাত্র ছাড় না দেয়া হয়- এটাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যেন অব্যাহত থাকে। সুষ্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কিছু মাদকের চালান ধরা পরলেও বেশির ভাগই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর ফলে কি হচ্ছে? ২০১২ সালে আমরা দেখলাম প্রখ্যাত কমেডিয়ান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের ছোট ছেলে বড় ছেলেকে মাদকের টাকার জন্যে খুন করেছে। তারপর ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ধানমন্ডির ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অঙ্ফর্োড ইন্টারন্যাশনালের ও-লেভেলের ছাত্রী ঐশীর কথা আমরা সংবাদপত্রে এবং টেলিভিশনে দেখে শিহরে ওঠেছিলাম। মাদকের ছোবল কি বীভৎস চিত্র তৈরি করতে পারে তা এই ঘটনাগুলো আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়। সমাজে ও শিক্ষাঙ্গনে মাদকের ছোবল রুখতে হবে। মাদকের সর্বগ্রাসী আগ্রাসনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দেশের যুবসমাজ। বস্তির দরিদ্র ছেলে থেকে শুরু করে শহরের অভিজাত এলাকার ধনীর দুলাল এখন মাদকে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি স্কুলের কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পর্যন্ত মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে।

 

এক নজরে মাধবপুর উপজেলা: জেলা হবিগঞ্জ, উপজেলা: মাধবপুর, সীমানা: উত্তরে  হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ও লাখাই উপজেলা, দক্ষিণে বি-বাড়ীয়া জেলা, পূর্বে চুনারুঘাট উপজেলা ও ভারত এবং পশ্চিমে বি-বাড়ীয়া জেলা অবস্থিত। জেলা সদর হতে দূরত্ব ৪৯ কি:মি: আয়তন ২৯৫ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ৩,১৯,০১৬ জন (প্রায়)পুরুষ-১,৫৫,৮৮২ জন, মহিলা- ১,৬৩,১৩৪ জন, লোক সংখ্যার ঘনত্ব ১০৮১ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে), মোট ভোটার সংখ্যা ১,৮৭,২৫৫ জন, মোট পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৯২,৬৫৯ জন, মহিলা ভোটার ৯৪,৫৯৬ জন,বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৫৬%,  মোট পরিবার (খানা) ৬২,৩০০ টি,নির্বাচনী এলাকা মাধবপুর-চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ-০৪),  গ্রাম ২৮৮ টি, মৌজা ১৮১ টি, ইউনিয়ন ১১ টি, পৌরসভা ০১ টি,এতিমখানা সরকারী ০১ টি, এতিমখানা বে-সরকারী ১৭ টি, মসজিদ ৪৭১ টি, মন্দির ২৭ টি, নদ-নদী ৩ টি, হাট-evRvi ৩৪ টি, ব্যাংক শাখা ১৭ টি,পোস্ট অফিস/সাব পোঃ অফিস ২১ টি, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ০১ টি, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ৭৮১ টি, বৃহৎ শিল্প ১৫ টি  শিক্ষা সংক্রান্ত: সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪৬ টি, জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ০২ টি, উচ্চ বিদ্যালয় (সহশিক্ষা) ১৮ টি, উচ্চ বিদ্যালয় (বালিকা)০৩ টি, উচ্চ বিদ্যালয় (বালক)০১ টি, দাখিল মাদ্রাসা ০৪ টি, আলিম মাদ্রাসা ০১ টি, কলেজ (সহপাঠ)০৩ টি, স্কুল এন্ড কলেজ ০৪ টি, শিক্ষার হার ৪০ %  পুরুষ  ৪২ % মহিলা  ৩৮ %  যোগাযোগ সংক্রান্ত:  উপজেলা হতে গ্রাম পর্যন্ত মোট দূরত্ব ৭৩৩.২৩ কিঃমিঃ,পাকা রাস্তা ২২০.০০ কিঃমিঃ, অর্ধ পাকা রাস্তা ১৪৮.২৩ কিঃমিঃ, কাঁচা রাস্তা ৩৬৫.০০ কিঃমিঃ, ব্রীজ/কালভার্টের সংখ্যা ৪৬৬ টি, নদীর সংখ্যা ০৩ টি । এতক্ষণ যা বললাম তা অনেকেরই বেশ জানা আছে, এবার মাধবপুর উপজেলার মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আংশিক আপনাদের সামনে তুলে ধরতেছি । পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা ঘেষে মাধবপুর উপজেলা বিস্তৃত থাকার কারণে বেশ জমজমাট করে গড়ে তুলছে মাদক ব্যবসায়ীগন ।পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে অতি সহজ লব্যে, আসছে ভারতীয় মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ নানান নেশা জাতীয় দ্রব্য । স্থানীয় বিস্বস্ত একটি সুত্রে ও সচেতন মহলের কাজ থেকে জানা-যায়, উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন মাদক কারবারী রয়েছেন তারা হলেন, নুরইসলামের ছেলে মোঃ শরীফ মিয়া(শুভ)ওরপে ইয়াবা শরীফ, তার আরো দুই ভাই গফুর ও মস্তু, সম্রাট চৌহানের ছেলে বাবূল চৌহান, কর্ম সরকারের ছেলে সঞ্জিত সরকার, মরিয়মের ছেলে সুহেল মিয়া ওরপে ইয়াবা সুহেল । তারা ভারতীয় সীমান্ত এলাকাতে ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে মাদক সরবরাহের জন্য কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায়, প্রায়ই ফাড়ি জমান মাদকের চালান আনার জন্য । তাদের গডফাদার হিসাবে কাজ করে আসছে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের আশু মিয়ার ছেলে সাইদুল মিয়া । তাদের ভয়ে মুখ খুলতে কেউ সাহস পায় না। মুখ খুললেই পড়তে হয় মাদক ব্যবসায়ীদের রোষানলে, টানতে হয় একাধিক মাদক ও হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমার ঘানি । চুনাপুটি মাদক ব্যবসায়ীরা মাঝে মধ্যে গ্রেপ্তার হলেও রাগোব-বোয়ালরা রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। মাদকের ছুবলে আমাদের যুব সমাজ দিন দিন ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। আর মাধবপুর উপজেলায় দিন-রাত বাড়ছে অপরাধ কর্মকাণ্ড। মাদক সেবীরা মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে, যেকোন ধরণের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এলাকার বিশেষ সুত্রে জানা যায়, এক শ্রেণীর সুবিদা ভুগিদের সহযোগীতায় মাদকের গডফাদার ও ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই মাদক দ্রব্য, বাস ও ট্রেইন যোগে ছড়িয়ে পরছে বিভিন্ন জেলার দারপ্রান্তে । আর মাদক ব্যবসায়ীদের মোটা অংকের টাকায় অসাধু পুলিশ ও  সুবিদা ভুগিদের পকেট দিন দিন ভারি হচ্ছে। এমনি করে মাধবপুর উপজেলা জুড়ে রয়েছে মাদকের জমজমাট স্বর্গরাজ্য ।মাদকের বিষাক্ত ছুবলে আমাদের সমাজের (যুবক-যুবতীরা ) আগামী দিনের ভবিষৎ ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে । এভাবে আর কত মায়ের সন্তান ধ্বংস হলে, অসাধু পুলিশ, মাদক কারবারী ও সুবিদা ভোগিরা শান্ত হবে ? জানতে চায় সমাজের সচেতন ব্যক্তিরা ।মাধবপুর উপজেলার সচেতন মহলের জোড় দাবী, মাদক থেকে দেশকে বাঁচান, মাদকে ধ্বংস হচ্ছে আমাদের দেশের মেধা সম্পদ, মাদক এর করাল গ্রাস ও যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে,যুবসমাজ ধ্বংসের অপর নাম, মাদক ও ইয়াবায় ধ্বংস আগামী দিনের যুব সমাজ। মাদক কারবারী ও রাঘব বোয়ালরাই দেশের যুব সমাজের মধ্যে নেশার বীজ বুনছে । তাই মাদক কারবারী ও বড় বড় রাঘববোয়ালদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা অতি- জরুরি বলে মনে করছেন ডিজিটাল সমাজ প্রতিরা ।প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের ব্যক্তি বর্গগন

। বিঃ দ্রঃ আগামী পর্বে তুলে ধরব, মাধবপুর উপজেলার যেকোন ইউনিয়নের মাদক ব্যবসার তথ্য ।ততক্ষণ ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, চোখ কান খোলা রাখুন ।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37911699
Users Today : 1218
Users Yesterday : 12829
Views Today : 2420
Who's Online : 63
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone