শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
গৃহহীনদের ঘর দেয়ার কথা বলে অর্থ নেয়ার অভিযোগে সাঁথিয়ায় আ’লীগ নেতাকে শোক’জ করোনায় ১৫ দিনে ১২ ব্যাংকারের মৃত্যু পৃথিবীতে কোনো জালিম চিরস্থায়ী হয়নি: বাবুনগরী যারা আ.লীগ সমর্থন করে তারা প্রকৃত মুসলমান নয়: নূর চট্টগ্রামে বেপরোয়া হুইপপুত্র যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ভারতে ৪ ঘণ্টা পর পাকিস্তানে খুলে দেয়া হলো সোশ্যাল মিডিয়া করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনের মৃত্যু ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দিলেন বাড়িওয়ালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে রক্ষা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনপ্রিয় নায়িকা মিষ্টি মেয়ে কবরী স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে গণধর্ষণ, আটক ৩ দুই দিনের রিমান্ডে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল লকডাউনেও মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল বেনাপোলে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

মায়ের পাশে কবর খুঁড়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা এক সন্তানের!

দুনিয়ার সব থেকে মধুর শব্দটি হচ্ছে মা। যা পরম শান্তিতে মন জুড়িয়ে দেয়। পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে আপন আর কেউ নেই। যত বড় বিপদই আসুক না কেন মা ঠিকই তার সন্তানকে আগলে রাখে। যার মা নেই একমাত্র সেই বোঝে এর কষ্ট।

সন্তানরাও মায়ের প্রতি একটু বেশি দুর্বল থাকে। তেমনি এক মা পাগল সন্তান হচ্ছেন মঞ্জুর হাসান। যিনি মায়ের পাশে কবর খুঁড়ে অপেক্ষা করছেন মৃত্যুর। তার ইচ্ছা মায়ের পাশে শেষ শয্যা পাতবেন। তাই কবর খুঁড়ে মৃত্যুর জন্য তার এই প্রহর গুনা।

ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনার ঘটনা এটি। তবে মঞ্জুরের বাড়ি স্থানীয় গোপালগঞ্জ জেলার বরুলি এলাকায়। তিনি মায়ের কবরের পাশে নিজের শেষ ঠিকানা খুঁড়তে ২৫ হাজার রুপি খরচ করেছেন।

মৃত্যুর পর পরিবার এই ইচ্ছা পূরণ করবে কিনা তিনি নিশ্চিত নন। তাই নিজেই কবর খুঁড়ে রেখেছেন।

৭০ বছরের মঞ্জুর বলেন, “এই পৃথিবীতে আমার যা করার ছিল করেছি। এখন আল্লাহর ডাকের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।”

বর্তমানে শূন্য কবরটি দেখাশোনা ও সেখানে প্রার্থনা করে তিনি বেশির ভাগ সময় কাটান। পেশায় কৃষক মঞ্জুর দাতব্য কাজের জন্য স্থানীয়দের প্রিয়পাত্র। নিজের টাকায় তিনি মাদ্রাসা, মসজিদ ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার মাদ্রাসায় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

মঞ্জুর জানান, মাকে তিনি খুবই ভালোবাসেন। তাই তার কাছাকাছি থাকার জন্য কবর খুঁড়েছেন। জীবদ্দশায় কখনো মাকে ঘরে একা রেখে কোথাও যাননি। এখন শেষ ইচ্ছা মৃত্যুর পরও মায়ের কাছে থাকা।

১৯৯৯ সালে মা মারা গেলে বাড়ির কাছেই তাকে কবর দেন মঞ্জুর হাসান। যেন সব সময় কবরটি দেখতে পান।

তবে কবর খুঁড়ে মঞ্জুরের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষার করার এই আজব খেয়াল নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বেশ চর্চাও হয়েছে। অনেকে কবরটি দেখতেও আসে।

স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মতে, ঘটনাটি বেশ অদ্ভুত। যে সময় মানুষ আরো বেশি বাঁচতে চায়, ভালো চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পাড়ি জমায়- তখন মঞ্জুরের কবর খোঁড়া সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। মায়ের প্রতি এমন ভালোবাসা খুব কমই চোখে পড়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38449214
Users Today : 838
Users Yesterday : 1193
Views Today : 5411
Who's Online : 25
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone