মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি গলার কাঁটা রোহিঙ্গা সংকট মাস্ক বাধ্যতামূলক অ্যাকশনে যাচ্ছে সরকার ১০ কোটি টাকার ক্ষতি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর মায়ের ইন্তেকাল করোনায় দেশে মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়াল, শনাক্ত সাড়ে ৩ লাখ ফের লকডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব কারা ডিআইজি বজলুর সম্পতি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দ ডা. সাবরীনার জামিন নামঞ্জুর ইতালিয়ান ওপেনের ফাইনালে নোভাক জোকোভিচ নতুন চমক নিয়ে আইপিএলে ডি ভিলিয়ার্স বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তোলা রাকেটিচের বিদায় ইব্রাহিমোভিচের জোড়া গোলে এসি মিলানের জয় বিশ্বে আসছে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ, ৩ কোটি মানুষের মৃত্যু হবে! বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৯ লাখের বেশি

মিরপুরে ডিজিটাল প্রতারণার আস্তানা, ব্যবস্থা নেওয়া হবে বললেন ওসি

 

স্টাফ রিপোর্টার:
ভুয়া মানবাধিকার চেয়ারম্যান ও তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে প্রতারণার রেকর্ড করা আতিকুর রহমান ওরফে ঘটক আতিকের ব্যবহৃত কথিত অফিসের ঠিকানা রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের বুশরা ক্লিনিকের ৫ম তলায় গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। অবৈধ (সরকারি অনুমোদনহীন) ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ও সংস্থা নামের কথিত সংগঠনের নামে ভিজিটিং কার্ডে ওই ঠিকানা রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার ছোট শিবেরচর গ্রামের চৌকিদার হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান। মিরপুরে গড়েছেন প্রতারক সিন্ডিকেট। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অভিযোগসহ সারাদেশের বিভিন্ন থানায় রয়েছে অসংখ্য জিডি ও মামলা। সরকার বিরোধী গুজব রটানোসহ ফেসবুকে অপপ্রচার করারও অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতারণার ফাঁদ গড়েছে আতিকুর।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কথিত ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ঠিকানায় গিয়ে চঞ্চল নামের একজনের দেখা মিলল। তবে প্রতারক সিন্ডিকেটের প্রধান আতিকুর রহমানের দেখা পাওয়া যায়নি। মিরপুর-১০ নম্বরের বুশরা ক্লিনিকের ৫ম তলায় অফিসের ভিতরে কম্পিউটার সেন্টার দেখা গেলেও দরজার উপরের দিকে সাধারণ প্রিন্ট কাগজে ‘ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের অফিস কক্ষ’ লেখা ছোট একটি পোস্টার চোখে পড়ে। সেখানে অবস্থান করা চঞ্চল নামের ব্যক্তির অনুমতিক্রমে ১২জন সংবাদকর্মীর একটি অনুসন্ধান টিম অফিসে প্রবেশ করে। সেসময় সংবাদকর্মীদের ফেসবুকে অনুসন্ধানের লাইভ চলছিল।
সংবাদকর্মীদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে কথিত মানবাধিকার সংগঠনের অফিস সেখানে নেই দাবি করেন চঞ্চল নামের ব্যক্তি। দাবি করেন, অনুমতি ছাড়াই অফিসের বাইরে এই পোস্টার কেউ লাগিয়েছে। এটা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার। এখানে কোনো মানবাধিকার সংগঠনের কার্যালয় নেই।
ডিজিটাল প্রতারক খ্যাত আতিকুর রহমানের ভিজিটিং কার্ড দেখানোর পরেই চঞ্চলের বক্তব্য পাল্টে যায়। বলেন, আতিক এখানে কম্পিউটারে লেখালেখি শিখতে আসতো। তবে এখন সে আর আসেনা। এখানে যখন আসতো, তখন হয়তো এই পোস্টার লাগিয়েছে। আসলে অফিসের বাইরে নজর রাখা হয়না।
চঞ্চলের কথার ফাঁকে নজরে আসে কথিত ওই মানবাধিকার সংগঠনের আরেকটি সাধারণ পোস্টার। সেটি ভিতরে অফিস কক্ষের দরজায় লাগানো ছিল। ক্যামেরায় ভিডিও চলছিল, তখন পোস্টার দুটি ছিঁড়ে ফেলেন চঞ্চল। বলেন, ভাই আমি এখানে কম্পিউটার সেন্টার চালাই। আতিকুর রহমান এখানে মাঝেমধ্যে আসে এবং ছাত্রদেরকে ওই মানবাধিকার সংগঠনের কাজ করার জন্য অনুরোধ করে। কোনো প্রতারকের সাথে আমি নেই।
এদিকে প্রাপ্ততথ্যে পাওয়া গেছে আরও অভিযোগ। ভুয়া মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের সদস্য সংগ্রহ করার নামে সারাদেশে আতিক-চঞ্চল সিন্ডিকেট বিভিন্নভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে, এমন তথ্যের সত্যতা মিলেছে। জমি উদ্ধারের কথা বলে সাদাস্ট্যাম্পে ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষর নেওয়া সহ প্রতারণা করে বিয়ে, অপরাধ তদন্তের নামে সারাদেশে চাঁদাবাজি, পুলিশের নামে আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও কম্পিউটার ব্যবসার আড়ালে ভুয়া আইডি কার্ড বিক্রির সিন্ডিকেট। পাশাপাশি রয়েছে বিবাহ ব্যবসার নামে ঘটকালি। প্রতারক আতিকুর রহমানের একাধিক ফোন রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রতারক আতিককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
৩০ আগস্ট মিরপুর পল্লবী থানায় জিডি নং ২৪৭৮ করেছেন শেখ তিতুমির নামের এক সংবাদকর্মী।
আওয়ামী মটর শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রাজু বলেন, আমি নিজেই ভুক্তভোগী। আতিক ও চঞ্চল দুজই প্রতারক। কম্পিউটার সেন্টারের আড়ালে প্রতারণা করছে কিন্তু সেখানে গেলে ‘মানবাধিকার সংগঠনের কার্যালয় নেই’ বলা হচ্ছে। করোনার সংকটময়ের শুরুতে মানুষকে সহায়তা করার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে আতিকুর রহমান। এইটাকা পুরোটাই তারা খেয়ে ফেলেছে। এইভাবেই ওরা টাকা নিয়ে চলে।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার চিংলা মোড়ের নুর ইসলামের ছেলে মামুন হোসেন বলেন, জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলে মিরপুর-১০ নম্বরের বুশরা ক্লিনিকের ৫ম তলায় ডেকে নিয়ে আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা ও সাদাস্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে প্রতারক আতিকুর ও তার সহযোগিরা। কয়েকদফায় ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাদাস্ট্যাম্পে আমার সব সম্পত্তি লিখে নেওয়ার হুমকি সহ মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়েছে। এঘটনায় ০৫/০২/২০২০ইং তারিখে আমি দামুড়হুদা থানার জিডি নং ২৩৪ দায়ের করেছি।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিজুর রহমান বলেন, আনাচে-কানাচে এখন মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দেয়। ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন সম্পর্কে আমার জানা নেই। মানবাধিকার সংগঠনের নামে কেউ যদি অপরাধ করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

৪০

৫৭

গান 

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37473689
Users Today : 7120
Users Yesterday : 4678
Views Today : 17202
Who's Online : 22
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone