মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা আসছে, থাকছে জেল-জরিমানা হাতে বড় একটি ট্যাবলেট ফোন নিয়ে ডিজিটাল জুয়ার আসরে ব্যস্ত তরুণ-তরুণী রমজানের নতুন চাঁদ দেখে বিশ্বনবী যে দোয়া পড়তেন ফরিদপুরে চাের সন্দেহে গণপিটুনীতে একজন নিহত এটিএম বুথ থেকে তোলা যাবে এক লাখ টাকা যৌবন দীর্ঘস্থায়ী করে যোগ ব্যায়াম ‘শশাঙ্গাসন’ আজ চৈত্র সংক্রান্তি মসজিদে সর্বোচ্চ ২০ জন নিয়ে নামাজ পড়া যাবে অপহরণ করা হয়েছিলো ম্যারাডোনাকে দুপুরে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন বসুন্ধরা সিটি শপিংমল খোলা থাকবে মঙ্গলবার উত্তম কুমারের নাতবৌয়ের ভিডিও ভাইরাল রমজান শুরু কবে জানা যাবে সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ২৯ লাখ ৫৮ হাজার ছাড়ালো

মূলধন সংকটে পড়েছে ১০ ব্যাংক

মহামারিতে বিশেষ সুবিধা এবং নানা ছাড়ের কারণে কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে। তারপরও মূলধন সংরক্ষণ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি করতে পারেনি বেশকিছু ব্যাংক। ডিসেম্বর শেষে দেশের সরকারি-বেসরকারি ১০টি ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি। ফলে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে এসব ব্যাংক।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত নিয়ে ঋণ দেয়। সেই ঋণ খারাপ হয়ে পড়লে সেই অনুপাতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়। আবার খারাপ ঋণের ওপর অতিরিক্ত মূলধন রাখার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রীতি ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী, ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। বর্তমান নিয়মে ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের মধ্যে যা বেশি সেই পরিমাণ অর্থ ন্যূনতম মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এ শর্ত পূরণে ডিসেম্বর শেষে ব্যর্থ হয়েছে ১০টি ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই বিশেষায়িত ব্যাংকসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সাত ব্যাংকের ঘাটতি ২৫ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে মূলধন সংকটে পড়া ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক; বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এছাড়া রয়েছে বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

সবমিলিয়ে এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই বিশেষায়িত ব্যাংকসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সাত ব্যাংকের ঘাটতি ২৫ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।

খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে ব্যাংক খাতের ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এটিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এতে দেশি ও বৈদেশিক বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এ সংকট উত্তরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি কমেছে বিভিন্ন ছাড়ের কারণে। এটা কাগজে-কলমে কমেছে। মূলত বিতরণ করা ঋণের আদায় পরিস্থিতি ভালো নয়। তাই মূলধন সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না, চলতে থাকবে যদি ঋণের গুণগত মান না বাড়াতে পারে। তাই যেকোনো উপায়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোকে জোর দিতে হবে।

মূলধন সংকটে পড়া ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক; বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এছাড়া রয়েছে বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সুবিধার পরও রাষ্ট্রীয় মালিকানার ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটি এখন মূলধন সংকটে। ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭০৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি জনতা ব্যাংকের, পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এছাড়া সোনালী ব্যাংকের তিন হাজার ৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের তিন হাজার দুই কোটি ২০ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের এক হাজার ৪৯২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের ৬৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি ১০ হাজার ৮১৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) এক হাজার ৪৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বেসরকারি খাতের তিনটি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৬৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের, এক হাজার ৬২২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ৩৫ কোটি টাকা এবং পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স) ৩১০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।

সরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে সাবেক এ গভর্নর বলেন, ‘ঋণ দেওয়া ও আদায়ে তাদের জবাবদিহিতা কম। তারা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দিয়ে দিচ্ছে। ফলে তা আদায় করতে পারছে না। অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে পড়ছে।’

২০২০ শেষে ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ

‘এতদিন তাদের মূলধন ঘাটতির জোগান দিয়েছে সরকার। আর কত দেবে? এ অবস্থা থেকে উন্নতি করতে ঋণের আদায় বাড়াতে হবে।’

জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হলে বাজেট থেকে তার জোগান দিতে হয়। জনগণের করের টাকায় মূলধন ঘাটতিতে পড়া ব্যাংকগুলোতে অর্থ দেয় সরকার। যার বিরোধিতা করেন অর্থনীতিবিদরা।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের জোগান দেওয়া অর্থ এবং মুনাফার একটি অংশ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। কোনো ব্যাংক মূলধন ঘাটতি রেখে তার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ বিবেচনায় ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মূলধন রাখার কথা এক লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। তবে আপৎকালীন সুরক্ষা সঞ্চয়সহ ব্যাংক খাতে মূলধন রয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১৫ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ শেষে ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38443962
Users Today : 917
Users Yesterday : 1256
Views Today : 11873
Who's Online : 38
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone