শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দায়মুক্তির জন্য গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন চরমোনাই মাহফিলে ১১ মুসল্লীর মৃত্যু আখেরী মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মকবুল গাবতলীর সাবেকপাড়া’য় ডাঃ মকবুল হোসেন সড়ক উদ্বোধন আত্রাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল ম্যারাথন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে সুর্যমুখী চাষ বৃদ্ধির লক্ষে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম শহরের ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান ফের খানসামায় ট্রাক্টর চাপায় মোটরসাইকেল চালক এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আত্রাইয়ে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান বড়াইগ্রামে নদী খননের অনিয়ম, কৃষকদের প্রতিরোধে বন্ধ কাজ নলছিটির রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? খানসামায় আমের গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ,বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বিকাশের অর্থ সহায়তায় জড়িত থাকার তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত বেনাপোলের এতিম লিটনকে বাঁচাতে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন চর লাঠিয়ালডাঙ্গা যেন মাদকের গ্রাম তানোরে কৃষকের আলু লুট !

মৃত্যুর পর দাফন করার স্থানও রইলোনা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার

মনির হোসেন, বরিশাল ব্যুরো \ মৃত্যুর পর দাফন করার স্থানও রইলোনা রণাঙ্গন কাঁপানো যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খানের। দীর্ঘদিন পূর্বে ভূমিহীন এ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্ব-পরিবারকে বসবাসের জন্য একখন্ড জমি লিখে দিয়েছিলেন এক প্রতিবেশী সংবাদকর্মী। নানারোগে আক্রান্ত হওয়ার পর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ সম্বল সেই জমিটুকুও বিক্রি করে দিয়েছে তার অসহায় পরিবার।
তার পরেও অর্থাভাবে সু-চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি ইসমাইল খানের। বর্তমানে বিনাচিকিৎসায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে থাকা শষ্যাশয়ী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খানের মৃত্যুর পর কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়েও চিন্তিত তার অসহায় পরিবার। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী গ্রামের মৃত গঞ্জর আলী খানের পুত্র ইসমাইল খান। বর্তমানে নানারোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসাসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র পুত্র জামাল খান রাজমিস্ত্রির সহযোগি হিসেবে কাজ তরে কোন একমতে সাত সদস্যর পরিবারের ভরন পোষন করছেন, যেমন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা।
জামাল খান জানান, সম্প্রতি সময়ে তার বাবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের একমাত্র সম্ভল বসত ভিটে বিক্রি করে তারা আরও নিঃস্ব হয়ে পরেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার উন্নত চিকিৎসা করাতে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ টাকা যোগার করা তাদের অসহায় পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পরেছে।
সম্মুখ যুদ্ধে গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত আঘাত নিয়ে শষ্যাশয়ী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেইদিনের পাকবাহিনীর দোসররা আজও এ দেশের মাটিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটাই বড় কস্ট। আর ওইসব দোসরদের কারণেই আমার জীবনটা আজ বিপন্ন। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সূত্রমতে, দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধাহত জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূমিহীন মোঃ ইসমাইল খানের (৭০) নাম সরকারের মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)-০৬০১১০০২৫৪, যুদ্ধাহত গেজেট নং-১৫০১, মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-৩৪২৩, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং-১৩৫২৫ অর্ন্তভূক্ত হয়ে শুরু থেকেই তিনি (ইসমাইল খান) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা পেয়ে সাত সদস্যর পরিবার নিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রনে তিনি অসংখ্যবার জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণও করেছেন।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান বলেন, স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতারা ২০১৫ সালের প্রথমার্ধে আমাকে বিএনপিতে যোগদানের জন্য চাঁপ সৃষ্টি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত ঘরোয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে আমাকে ভূয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ফলে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে অদ্যবর্ধি আমার (ইসমাইল খান) ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ কারণেই পরিবার পরিজন নিয়ে নানারোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে থাকা ইসমাইল খান এখন চরম অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ইসমাইল খান বলেন, প্রতিটি দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যুদ্ধকালীন কমান্ডার, সহযোদ্ধা ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করার পর আমার পক্ষে রায় দেয়া হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনেও ভাতা চালু না হওয়ায় আমি (ইসমাইল খান) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি’র সাথে সরাসরি দুইবার সাক্ষাত করি। দুইবারই মন্ত্রী আমার আবেদনের যাচাই করে জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পরেও মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে আমার বন্ধ ভাতা আজো চালু করা হয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণ কাঁপানো শষ্যাশয়ী অসহায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান সাময়িকভাবে তার বন্ধ ভাতা চালু করাসহ সু-চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38333880
Users Today : 3983
Users Yesterday : 6494
Views Today : 13778
Who's Online : 39
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/