দেশের সংবাদ l Deshersangbad.com » যে ঘটনা বদলে দিয়েছিল মাহাথির মোহাম্মদকে, জানালেন নিজের মুখে



যে ঘটনা বদলে দিয়েছিল মাহাথির মোহাম্মদকে, জানালেন নিজের মুখে

১০:৩১ অপরাহ্ণ, জুলা ০৭, ২০১৮ |জহির হাওলাদার

282 Views

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: দিনে পাঁচবার সালাত আদায় করা আমাদের জন্য আবশ্যক করা হয়েছে। তবে যদি ইসলামের বিজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের নিজেদের মতো করে বলেন, তাহলে আমরা দিনে পাঁচবার অতিরিক্ত আরো অন্যান্য প্রার্থনা, কুরআন তেলাওয়াত যোগ করতে পারি; যাতে প্রার্থনা দীর্ঘ হয়। অতিরিক্ত এসব ইবাদত হলো ঐচ্ছিক। কিন্তু আমাদের বিজ্ঞজনেরা এগুলোকে বাধ্যতামূলক বলে চালাতে চান।

একজন আমনো (UMNO) রাজনীতিক হিসেবে আমাকে ‘পাস’ (PAS) বক্তাদের ধর্মীয় উদ্ধৃতির বিষয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়েছিল। তারা খুব চিত্তাকর্ষকভাবে কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত এবং মালয় ভাষায় তা খুব বর্ণাঢ্যভাবে অনুবাদ করে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করছিলেন। আমি কুরআনের সর্বাধিক উদ্ধৃত কিছু আয়াত ও এগুলো মালয় অনুবাদ মুখস্থ করছিলাম; কিন্তু তাতে আমার কিছু অসুবিধা হতো। কেননা, আমার আরবি উচ্চারণ যথেষ্ট দ্রুত ছিল না, যদিও উদ্ধৃত করার সময় তা সঠিক হতো।

গভীরভাবে কুরআন অধ্যয়ন, আরবি টেক্সট পড়ার পর মালয় বা ইংরেজি অনুবাদ পড়া শুরু করলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, রাজনীতিকেরা রংচং লাগিয়ে যে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করছেন, আসলে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সঠিক নয়।

প্রায়ই তারা কেবল আয়াতগুলোর অর্ধেকাংশ উদ্ধৃত করে থাকেন। এ সময়ে আমি কুরআন পাঠে আরো মনোযোগী হই। কেননা, মালয় ও ইংরেজি অনুবাদ জানার সুবিধা আমার এ অধ্যয়নকে আরো আনন্দদায়ক করে তোলে। ধর্মের মৌলিক শিক্ষা প্রকৃতপক্ষে কী, তা জানার জন্য ইতোমধ্যে সমগ্র কুরআন বেশ কয়েকবার পড়া শেষ হয়। তখন পর্যন্ত ধর্ম সম্পর্কে আমার গৃহশিক্ষক এবং শিক্ষকেরা যা বলতেন, তাই আমি জানতাম। তারা শুধু কিছু আয়াতের ওপর আলোকপাত করতেন, যা কেবল সালাতের জন্য মুখস্থ করা হতো।

যে ভাষা বুঝি, সে ভাষায় কুরআন পাঠ প্রকৃতপক্ষে আমার চক্ষু খুলে দিলো। শিক্ষকেরা তখন দ্রুত জানালেন যে, কুরআনের অনুবাদ আসলে প্রকৃত কুরআন নয়। তখন উল্লেখ করলাম, তারা তো আমাকে কুরআন শিক্ষা দেয়ার সময় তা মালয় ভাষায় অনুবাদ করে বুঝাতেন। আমি কেবল তখনই বুঝতে পারতাম। তাদের যুক্তি মতে, তাদের অনুবাদ কুরআনের বাণী বা কথা নয়, সত্যিকারভাবে তা আল্লাহর বাণী ছিল না।

পরবর্তী সময়ে জানতে পেরেছিলাম, এমনকি যাদের মাতৃভাষা আরবি, তারাও কুরআনের অনেক আয়াত বুঝতে পারেন না। তারাও তা বোঝার জন্য ব্যাখ্যাকারীর সহায়তা গ্রহণ করে থাকেন এবং ব্যাখ্যাকারী যা বোঝেন, তারাও তাই বুঝে থাকেন। ব্যাখ্যাকারীরাও মানুষ, তাই তারা যত জ্ঞানীই হন না কেন, তারাও ভুল করে বা অন্যভাবে একে অন্য থেকে বুঝে থাকেন। ফলে তাদের সবার শিক্ষা একই রকম হয় না অথবা তা পরস্পরবিরোধী হয়ে থাকে।

আমি বুঝতে পারলাম, কেন মুসলিমরা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত। এসব ব্যাখ্যাকারী ব্যাখ্যায় যেমন ভিন্নতা রয়েছে, তেমনি তাদের শিক্ষারও ভিন্নতা রয়েছে। তথাপি কুরআনের শিক্ষা বোঝার জন্য ব্যাখ্যাকারীর প্রয়োজন, যেহেতু আরবি আমাদের মাতৃভাষা নয় বা আমরা খুব ভালোভাবে এ ভাষা জানি না।

সুতরাং এটা আমি মানি যে, মালয় ও ইংরেজি ভাষায় কুরআনের অনুবাদ, যাকে কুরআন বলা না গেলেও গ্রহণযোগ্য যেমনভাবে মালয় ভাষায় আমাকে ইসলাম সম্পর্কে যা শেখানো হয়েছিল তা গ্রহণযোগ্য। কুরআনের আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে দুইভাগে বিভক্ত বলে পরিলক্ষিত হয়। একভাগে রয়েছে সব আয়াত, যাদেরকে বলা হয় ‘মুহকামাত’, যেগুলোর অর্থ পরিষ্কার যেগুলো দুর্বোধ্যতামুক্ত এবং যাদের বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দেয়া ও বোঝার অবকাশ থাকে না। অপর ভাগের নাম ‘মুতাশাবিহাত’, যেগুলোর অর্থ সুস্পষ্ট বা সরাসরি নয়। রূপক বা প্রতীকের আশ্রয় গ্রহণ করে, যাদের নানারূপ অর্থ ও পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যার অবকাশ থাকে।

সুস্পষ্ট ‘মুহকামাত’ আয়াতগুলো খুব সহজেই বোঝা যায়। এমনকি যিনি আরবি বলতে পারেন না, তিনিও যেকোনো অনুবাদ থেকে তা বুঝে নিতে পারেন। এগুলো সরল এবং সরাসরি। যে কেউই অনুবাদ করেন না কেন, তাদের মধ্যে এগুলো কোনো উল্লেখযোগ্য তারতম্য হয় না। যেমন কুরআন বলে, ‘একজন মুসলিম অন্য মুসলিমদের ভাই।’ এটাকে ভুল বোঝা বা ব্যাখ্যার কোনো অবকাশ নেই। কুরআন আরো বলে, ‘একজন মুসলিম অবশ্যই অন্য কোনো মুসলিমকে হত্যা করবে না।’ এটাও সুস্পষ্ট।

 

তথাপি আমরা দেখি, মুসলিমরা অন্য মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করছে এবং তাদেরকে হত্যা করছে। তারা কি এসব নির্দেশ লঙ্ঘন করছেন না? অবশ্যই তারা তা করছেন। কিন্তু তারা ঘোষণা দিচ্ছেন, তাদের প্রতিপক্ষ প্রকৃত মুসলিম নন। সুতরাং তারা ‘মুসলমানদেরকে হত্যা করছেন না এবং ইসলামের নির্দেশনার বিরুদ্ধে যাচ্ছেন না।’

কুরআনে আরো অনেক সুস্পষ্ট আয়াত রয়েছে, যাতে মুসলিমদেরকে প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাতে বলা হয়েছে। ঘুষ গ্রহণ না করতে, জ্ঞান অর্জন ও সব সময় উম্মাহকে (আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়) রক্ষার কথা বলা হয়েছে।

এতিমদের যতœ নিতে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি যথাযথভাবে বণ্টন করে দিতে, শান্তির প্রস্তাব গ্রহণ করতে, ন্যায়ের সাথে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে, সিদ্ধান্তকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত না করতে, বল প্রয়োগে ধর্মান্তরিত না করতে বলা হয়েছে। আরো অনেক অনেক আয়াত রয়েছে, যা কেবল একজন মুসলিমের জীবনাচরণকেই পরিচালিত করবে না, তাকে একজন মর্যাদাবান ও ন্যায়বান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। সে যেমন পার্থিব জীবনে সফল হবে, তেমনি পরকালের জীবনের কথাও সে ভুলবে না, যেহেতু তার সব কর্মের বিচার হবে। এখানে তিনি যা করেছেন, তার জন্য সেখানে হয় শাস্তিপ্রাপ্ত, না হয় পুরস্কারপ্রাপ্ত হবেন।

বহু মুসলিম বলে থাকেন, ইসলাম হলো একটা ‘জীবনব্যবস্থা’। এটা শুধু একটা বিশ্বাস নয়, একজন মুসলিম কিভাবে তার জীবন পরিচালনা করবে তার সম্পূর্ণ দিকনির্দেশনা বা গাইড। সেই নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনার পরই তার পরজীবন বা আখেরাত হবে মঙ্গলজনক যেমনভাবে কুরআনে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। যা কিছু সে করে তার সব কিছু মিলেই হলো ‘জীবনব্যবস্থা’, কেবল ধর্মের বিধিবিধান পরিপালন নয়।

‘মুহকামাত’ আয়াতগুলো স্পষ্ট ও বোধগম্য, সেহেতু তাদের সম্পর্কে ধারণা ও ব্যাখ্যা বিভিন্ন হবে না এবং একইভাবে সেগুলো মুসলিমদের বিভক্ত করবে না। কিন্তু ওপরের আলোচনা থেকে দেখা যায়, সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এক মুসলিম অন্য মুসলিমকে হত্যা করছে। দুষ্ট ও বিপথগামী মুসলিমরা এখনো এসব হত্যার বিষয়ে দাবি করছে যে, তাদের প্রতিপক্ষরা ‘প্রকৃত মুসলিম’ বা আদৌ মুসলিম নন।

ব্যাখ্যার ভিন্নতা থেকে আরো একটি সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তা হলো বার্তার মর্মার্থের চেয়ে আক্ষরিক অর্থের ওপর জোর দেয়ার প্রবণতা। কুরআন সব সময় ‘পড়ার’ প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে থাকে। যখন সে পড়ে, তখন সে অবশ্যই জ্ঞান অর্জন করে।

এ জন্য প্রাথমিক যুগের মুসলিমগণ কুরআনের এ নির্দেশ মোতাবেক জ্ঞান অর্জনের জন্য যা হাতে পেতেন, তাই পাঠ করতেন। যেহেতু নবীর সময়ে ইসলাম সম্পর্কে তেমন কোনো লেখালেখি এবং পড়ার প্রতি কোনো বাধানিষেধ ছিল না, তাই সে সময়ের মুসলিমগণ গ্রিক, ইন্ডিয়ান, চাইনিজ ও ফারসি ভাষার বইপুস্তক পাঠ করতেন। এটা করতে গিয়ে অবশ্যই তাদেরকে সেসব ভাষা শিখতে হয়েছিল। আমরা এখন অবশ্য জানি যে, প্রাথমিক যুগের মুসলিম মনীষীরা

ওইসব জাতির বৈজ্ঞানিক গবেষণাকর্ম এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ ছাড়া তারা নিজেরা অধ্যয়ন ও গবেষণা পরিচালনা করতেন এবং জ্ঞানের বহু শাখায় অবদান রাখতে সক্ষম হন। মুসলিম মনীষীরাই জ্যোতির্বিদ্যা, বীজগণিত, রোগ ও চিকিৎসাবিদ্যা, সমুদ্রবিজ্ঞান এবং আরো বহু ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। বহু শতাব্দী ধরে মুসলিমগণ অন্যান্য সভ্যতার চেয়ে বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র ও গণিতশাস্ত্রে এগিয়েছিলেন।

কিন্তু ১৫ শ’ শতাব্দীর দিক থেকে নতুন ব্যাখ্যা দেয়া শুরু হয়, ‘ইকরা’ বা পড় অর্থ কেবল ধর্মীয় পড়া ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা। ইসলামি পণ্ডিতগণের নিকট কেবল ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা প্রাধান্য পেতে। সেগুলো জ্ঞানের অন্যান্য শাখা এবং চর্চা কোনো গুরুত্ব পেল না। যেসব ব্যক্তি এ ধরনের ব্যাখ্যা দিলেন, তারা গভীরভাবে ধর্মচর্চা করতে লাগলেন। স্বভাবতই তারা তাদের নির্ধারিত বিষয়ে জ্ঞানচর্চাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন।

কেবল ধর্মীয় জ্ঞান সাধনার ওপর জোর দেয়ার পেছনে কারণ যাই থাক না কেন, ফলাফল এই দাঁড়াল যে, মুসলিম পণ্ডিতগণের দ্বারা জ্ঞানের অন্যান্য শাখার চর্চা ১৫ শ’ শতাব্দী থেকে হ্রাস পেতে শুরু করল। এভাবে সময়ের ব্যবধানে মুসলিমরা জ্ঞানের এসব শাখায় সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়ে পড়লেন।

ঘটনাক্রমে মুসলিমরা যখন বিজ্ঞানের সাধনা পরিত্যাগ করলেন, তখন অন্ধকার যুগে বসবাসকারী খ্রিষ্টানেরা মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি লক্ষ করলেন এবং মুসলমানদের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে জ্ঞানচর্চায় লেগে গেলেন। খ্রিষ্টান পুরোহিতরা আরবি ভাষা শিখে এবং মুসলিম বিশ্বের গড়া লাইব্রেরিতে বসে বৈজ্ঞানিক ও অন্যান্য গ্রন্থ অধ্যয়ন করলেন।

এর ফল দাঁড়াল এই যে, মুসলিমদের পশ্চাৎগামিতা ত্বরান্বিত হলো। আর ইউরোপীয় খ্রিষ্টানেরা দ্রুত অগ্রগতির পথে এগিয়ে গেলেন। কেননা, তারা মুসলমানদের কাছ থেকে যে জ্ঞান লাভ করলেন, তারা তা প্রথমে ল্যাটিন ভাষায় এবং পরে ইউরোপের অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করে ফেললেন। যে জ্ঞান সাধারণত মধ্যযুগীয় গির্জার যাজকদের চর্চার বিষয় ছিল, তা তাদের প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে ওঠে।

যেহেতু মুসলিমগণ বিজ্ঞানচর্চার অভাবে পিছিয়ে পড়ছিলেন, তাই তারা ক্রমান্বয়ে দুর্বল ও নিজেদের সুরক্ষা দিতে অক্ষম হলেন। নতুন অস্ত্রশস্ত্র ও কৌশল দ্বারা নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে না পারায় মুসলিমরা ইউরোপীয়দের উন্নততর অস্ত্রশস্ত্রের কাছে একে একে তাদের ভূমিগুলো হারাতে লাগলেন।

কুরআনের বাণীগুলো এবং একইভাবে ‘ইকরা’ বা পড় শব্দের ভ্রান্ত ব্যাখ্যার কারণেই এরূপ পরিণতি ঘটল। বাস্তবে কেউ কেউ ইকরা শব্দের অর্থ কেবল ‘পড়’ নয়, ঘোষণা করলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের সংখ্যা ছিল অনেক কম। এ ছাড়া কুরআনের অন্যান্য ব্যাখ্যাও হাজির করা হলো, যা মুসলিমদের পশ্চাৎগামিতাকে আরো ত্বরান্বিত করল। কুরআন মুসলিমদের নিজেদেরকে সুরক্ষার জন্য সক্ষমতা অর্জনের নির্দেশনা দিয়েছে। এ জন্য কুরআন যুদ্ধঘোড়া পরিপালনের বিষয় উল্লেখ করেছে। নবীরও যুদ্ধঘোড়া ও সমসাময়িক অস্ত্রশস্ত্র ছিল যেন তার সম্প্রদায়কে তিনি রক্ষা করতে পারেন।

কুরআনের আয়াত বা বাণীর আক্ষরিক ব্যাখ্যার ফলেই মুসলমানেরা তাদের সুরক্ষার সক্ষমতা অর্জনের প্রতি গুরুতর অবজ্ঞা করেছেন, যা দুঃখজনক। পরিবর্তে তারা নবী সা:-এর ব্যবহৃত সমসাময়িক অস্ত্রশস্ত্র ও সমর-অশ্ব থাকার ওপর জোর দিয়েছেন, যা এখন মুসলিমদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ তারা এই ঐতিহ্যই অনুসরণ করা আবশ্যক মনে করছেন। তারা যদি তাদের প্রতিরক্ষাকে গুরুত্ব দিতেন, তবে অস্ত্রশস্ত্র উন্নত করার মাধ্যমে তাদের ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করার জন্য নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে পারতেন।

বিজ্ঞান ও গণিতশাস্ত্র অধ্যয়নে অবহেলা মুসলমানদের পক্ষে নতুন অস্ত্রশস্ত্র উদ্ভাবন ও উন্নয়নের অক্ষমতাকে ত্বরান্বিত করে। পরিশেষে তারা তাদের প্রতিপক্ষ বা অপবাদকারীদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করতে বাধ্য হন। ফলে কুরআন নির্দেশিতভাবে নিজেদের রক্ষার সক্ষমতার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে অবনতি ঘটেছে। আবার এটাও দেখা যায়, যেখানে কুরআনে সুস্পষ্ট আয়াত রয়েছে, সেখানে সেই স্পষ্ট আয়াতের প্রকৃত বার্তা ব্যাখ্যাকারীরা ধরতে পারছেন না, কেবল আক্ষরিক অর্থের ওপর সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। মুসলমানদের আজকের এ দুরবস্থা, নিজেদের রক্ষায় অক্ষমতা অবশ্যই ইসলামের শিক্ষার ভুল ব্যাখ্যার প্রাধান্যের কারণে ঘটেছে।
লেখক : মালয়েশিয়ার দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী, যিনি আবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ৯২ বছর বয়সে সম্প্রতি সে দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করেছেন। তার জীবনভিত্তিক লেখা থেকে নেয়া নিবন্ধ

অনুবাদ : এম এন আমীন

Spread the love
194 Views
11 Views
11 Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উপদেষ্টা পরিষদ:

১। ২।
৩। জনাব এডভোকেট প্রহলাদ সাহা (রবি)
এডভোকেট
জজ কোর্ট, লক্ষ্মীপুর।

৪। মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
ডাইরেক্টর
ষ্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপার গ্রুপ

প্রধান সম্পাদক:

সম্পাদক ও প্রকাশক:

জহির উদ্দিন হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদক
উপ-সম্পাদক :
ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম সবুজ চৌধুরী
বার্তা সম্পাদক :
সহ বার্তা সম্পাদক :
আলমগীর হোসেন

সম্পাদকীয় কার্যালয় :

১১৫/২৩, মতিঝিল, আরামবাগ, ঢাকা - ১০০০ | ই-মেইলঃ dsangbad24@gmail.com | যোগাযোগ- 01813822042 , 01923651422

Copyright © 2017 All rights reserved www.deshersangbad.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com

Translate »