সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সুইস ব্যাংকে কার কত টাকা, তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট প্রাক প্রাথমিক ছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩০ মার্চ খোলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে কোন শ্রেণির কতদিন ক্লাস? তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা কুড়িগ্রামে বর্ণিল কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এসএসসি ব্যাচ ‘৮৬র সম্মেলন সমাপ্ত সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ  পক্ষ থেকে ৫ গুনি ব্যক্তিকে স্বঃস্বঃ কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান পাবনায় ডিসিআই-আরএসসি ও ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশন’র যৌথ উদ্যোগে ‘বিনামূল্যে চক্ষু শিবির’ অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় শহরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পৌরসভা নির্বাচন; মহেশপুর বিজিবি কর্মকর্তার অসৌজন্যমুলক আচরণে ঝিনাইদহের হেবিওয়েট সাংবাদিকদের চরম ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন ১৮ মাসের কাজ শেষে ৫ বছরেও হস্তান্তর হয়নি ঝিনাইদহ আড়াই’শ বেড হাসপাতাল ভবন! ঝিনাইদহ মাগুরা সড়কে মটরসাইকেলের ধাক্কায় রেস্টুরেন্ট ব্যাবসায়ী নিহত তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি আনতে পুলিশ মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিক্রেট রেসিপি এমটিবি লাউঞ্জে বিশেষ কর্নার চালু করলো শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খানসামায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আচরণবিধি স্বাক্ষর লেখক মুশতাক আহমেদের রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ

রানি রাসমণির বাড়ি গান গেয়েছিলেন অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি!

\উজ্জ্বল রায় স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট■: \ নানা রীতির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য রীতি হল কুমারী পুজো। এই কুমারী পুজো করা হয় অষ্টমী। আবার নিয়মভেদে কোথাও নবমীতেও করা হয়। আবার কোথাও দু’দিন ধরে চলে তা। তবে বাংলায় শুধুমাত্র একটি বাড়িতেই তিন দিন ধরে কুমারী পুজো করা হয়, তা হল ঐতিহ্যশালী রানি রাসমণির জানবাজারের বাড়ির পুজো। আজ থেকে ২০০ বছরেরও বেশি কাল আগে, ১৭৯৪ সালে পরিবারে দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন রানি রাসমণির শ্বশুরমশাই জমিদার এবং ব্যবসায়ী প্রতীরাম মাড়। এরপর রাসমণির স্বামী রাজচন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর পুজোর হাল ধরেন রানি নিজেই। তাঁর আমলে এই পুজো করা হত রীতিমতো জাঁকজমকের সঙ্গে। সারারাত ধরে চলত যাত্রা, কবিগানের আসর। কথিত আছে, বিখ্যাত কবিয়াল ভোলা ময়রা ও অ্যান্টনি ফিরিঙ্গিও নাকি এই বাড়িতে অনুষ্ঠান করে গেছেন। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়ের বহু কিংবদন্তি এবং বরেণ্য মানুষও এ বাড়ির পুজোয় নিয়মিত এসেছেন। প্রাচীন রীতি মেনে আজও এখানে দেবী দুর্গার সঙ্গে পঞ্চ মহাদেব, রঘুবীর, রামকৃষ্ণ এবং সারদার পুজো করা হয়। কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, ১৮৬৪ সালে রামকৃষ্ণদেব এই পুজোতে এসেছিলেন এবং ‘সখীবেশ’ ধারণ করে পুজোও করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যা আরতির সময়ে মা দুর্গাকে চামর দুলিয়ে বাতাস করেছিলেন, যা দেখে মথুরবাবু ভেবেছিলেন, তাঁর স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কোনও মহিলা বোধহয় মা দুর্গাকে চামর দুলিয়ে বাতাস করছিলেন। পরে তিনি জগদম্বা দেবীর থেকে জানতে পারেন, স্বয়ং রামকৃষ্ণদেব ভাবোন্মাদ হয়ে বাতাস করেছিলেন। সেই থেকেই এই পুজোতে আজও ঠাকুরদালানে বাড়ীর মহিলারা প্রতিমার বাঁ দিকে এবং পুরুষেরা ডান দিকে দাঁড়ান। আজ অবশ্য জানবাজারের পুজোয় পশুবলি বন্ধ। বাকি অন্যান্য প্রাচীন পুজোর রীতি চলছে একইভাবে। রানি রাসমণির বাড়ীর দুর্গা প্রতিমাতেও আছে বিশেষত্ব। দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মুখের রং একে অন্যের থেকে আলাদা। দেবী এখানে ‘তপ্তকাঞ্চনবর্ণা’- অর্থাৎ তাঁর মুখের রং শিউলি ফুলের বৃন্তের মতো। মূর্তি এখানে একচালা, কারণ দেবী একান্নবর্তী পরিবার পছন্দ করেন। বংশ পরম্পরায় রানি রাসমণির বাড়ির প্রতিমা তৈরি করছেন লালু চিত্রকর এবং তাঁর ভাই দুলাল চিত্রকর। এঁদের বাড়ি আহমেদপুর। দেবীর বোধন হয় প্রতিপদে, অর্থাৎ মহালয়াতে। রানি রাসমণির বাড়ীতে দুর্গার সঙ্গে পুজো করা হয় মহাদেবেরও। দশমীতে দেবীর মূর্তির সঙ্গে মহাদেবের মূর্তিও বিসর্জন দেওয়া হয়। এই পুজোতে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, তিন দিন ব্যাপী কুমারী পুজো চলে। এই ভোগের প্রসাদ সবাই পেয়ে থাকেন। আজও এখানে পুজোর ক’দিন সারা রাতব্যাপী যাত্রা ও কবি গানের লড়াই-এর আসর বসে। এ বছর পঞ্চমীর দিন বেলা তিনটেয় জানবাজারের বাড়ীতে রানি রাসমণির নবনির্মিত মূর্তি উন্মোচন করেন গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ সুপর্ণানন্দজি।\উজ্জ্বল রায় স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট■ ছবি সংযুক্ত

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38337657
Users Today : 988
Users Yesterday : 0
Views Today : 5062
Who's Online : 26
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/