সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ১৬ কোটি ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত গাজায় একদিনেই ৪২ জন নিহত রাজারহাটে ইউপি চেয়ারম্যান রবীনন্দ্রনাথ কর্মকারের বিরুদ্ধ প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা মারিং কাটিং করে খাওয়ার অভিযোগ। মাগুরায় অসাধু মাংস ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে অতিষ্ঠ সাধারণ ক্রেতা যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না সোমবার পুরো পরিবার শেষ, বাঁচল শুধু পাঁচ মাসের শিশুটি ২৯ মে পর্যন্ত বাড়লো প্রাথমিকের ছুটি নাড়ির টানে ঘরে ফেরা, পদ্মায় ঝরলো ৩১ প্রাণ ইসরাইলি ববর্তার বিরুদ্ধে উত্তাল বিশ্ব বেড়েছে লকডাউন, বন্ধই থাকছে লঞ্চ-ট্রেন-দূরপাল্লার বাস যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন বিমান বাহিনীর প্রধান ওআইসি’র বৈঠক জরুরি ভিত্তিতে ফিলিস্তিন ইস্যুর সমাধান চায় বাংলাদেশ ৪ দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল শিগগিরই দেশে আসছে শক্তিশালী ব্যাটারি ও আল্ট্রা স্লিম ডিজাইনের অপো এফ১৯

রাস্তায় পচছে চামড়া, বিনামূল্যেও নিচ্ছে না

কোরবানির পশুর চামড়া রাস্তায় পচে নষ্ট হচ্ছে। বিনামূল্যেও নিচ্ছে না কেউ। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। সিন্ডিকেট করে ফায়দা লুটছেন পোস্তার আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা।

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তার আড়তদাররা বলছেন, ৯০ ভাগ ট্যানারির মালিক পোস্তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি। তাই নগদ টাকার সংকটে চামড়া কিনতে পারছেন না।

অন্যদিকে ট্যানারির মালিকরা বলছেন, ঢালাওভাবে অভিযোগ করা ঠিক নয়। কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ ট্যানারি পাওনা অর্থ পরিশোধ করেছে।

আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে লোকসানে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। বঞ্চিত হচ্ছে গরিব, এতিমরা।

skin4.jpg

কাঁচা চামড়ার খুচরা ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ট্যানারির মালিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকালের তুলনায় আজ চামড়ার দাম আরও কম। আড়তদাররা চামড়া কিনতে চাচ্ছেন না। যত বড় গরুই হোক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি দাম বলছে না।

চামড়ার মৌসুমী ব্যবসায়ী হাজী আরফান বলেন, পোস্তায় গতকাল রাতে চামড়া নিয়ে এসেছিলাম। বিক্রি করেছি ৪০৫ টাকা করে। কিন্তু গড়ে চামড়া কিনেছি ৫০০ টাকা ধরে। আজ আরও কিছু চামড়া এনেছি দাম বলছে ২১০-২২০ টাকা। যে দাম গাড়ি ভাড়ার খরচও উঠবে না। উল্টো চার-পাঁচ লাখ টাকা লোকসান।

মৌসুমী এ ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, আমি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করি। চামড়ার এত কম দাম কোনো সময় দেখিনি। ট্যানারি ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়েছে। তাদের কাছে সবাই এখন জিম্মি। নগদপুঁজি দিয়ে ব্যবসা করি। যদি বছর বছর লোকসান গুনতে হয় তাহলে ব্যবসা করার দরকার কী? এ ব্যবসা আর করব না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালবাগ পোস্তায় ‘বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ)’ সেক্রেটারি হাজী মো. টিপু সুলতান জাগো নিউজকে বলেন, টাকা নেই। ট্যানারি মালিকরা আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি। টাকা আটকে রেখেছে। টাকা না থাকলে আমরা চামড়া কিনব কীভাবে? তাই দাম পড়ে গেছে। আজ চামড়া দেড় থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্যানারিগুলো আমাদের পাওনা আটকে রেখেছে। আবার ব্যাংক থেকেও ঋণ পাচ্ছে। আমরা তো ঋণও পাই না, কেউ টাকা ধারও দেয় না। তাই চামড়া কিনতে পারছি না।

ঢাকার বাইরে থেকে অনেকে চামড়া নিয়ে আসছে, আবার অনেক চামড়া পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এখন করণীয় কী- জানতে চাইলে টিপু সুলতান বলেন, পোস্তার ব্যবসায়ীরা সাধ্যমতো চামড়া কিনেছে। এখন আড়তে চামড়া না এনে যে যেখানে চামড়া কিনছেন সেখানেই লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করতে হবে। তা ছাড়া কোনো কিছু করার নেই।

skin4.jpg

চামড়ার দরপতনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সালমা ট্যানারির মালিক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ট্যানারির মালিকরা পাওনা অর্থ পরিশোধ করছে না, এ কথা ঠিক নয়। ঢালাওভাবে অভিযোগ করাও ঠিক হচ্ছে না। কারণ বেশিরভাগ ট্যানারি আড়তদারদের টাকা দিয়েছে। তারা কম দামে চামড়া কিনছে। আমাদের কাছে বেশি দামেই চামড়া বিক্রি করবে। লবণযুক্ত চামড়া আমাদের এক হাজার টাকার উপরে কিনতে হবে।

তিনি বলেন, পচা চামড়ার দাম পাবে না এটাই স্বাভাবিক। কারণ এ চামড়া কোনো কাজে আসবে না। গরু জবাইয়ের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে যারা চামড়া সংরক্ষণ করলে চামড়া ভালো থাকে। ১৫ থেকে ২০ দিন পর ট্যানারিগুলো চামড়া কেনা শুরু করবে। যেসব চামড়া ভালো থাকবে তা সরকার নির্ধারিত দামে কিনব।

তিনি আরও বলেন, এবার ৮৫ লাখ কাঁচা চামড়ার সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছি। তবে এবার কোরবানি বেশি হয়েছে। তাই লক্ষ্য অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহের কোনো সমস্যা হবে না।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার ও ব্যবসায়ীরা মিলে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। গত বছর প্রতি বর্গফুটের দাম একই ছিল।

২০১৭ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ঢাকায় ৪৫-৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০-৪৫ টাকা।

এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। গতবার খাসির চামড়ার দামও ছিল একই। তবে ২০১৭ সালে খাসির চামড়ার দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ২০-২২ এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭।

সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর, রফতানি আদেশ কমে যাওয়া ও অর্থ সংকটের কারণে এ বছর চামড়ার দাম কমানোর সুপারিশ করেছিল কাচা চামড়ার ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকরা। এসব বিবেচনায় সরকার দাম না বাড়িয়ে আগের মূল্য নির্ধারণ করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone