শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
গৃহহীনদের ঘর দেয়ার কথা বলে অর্থ নেয়ার অভিযোগে সাঁথিয়ায় আ’লীগ নেতাকে শোক’জ করোনায় ১৫ দিনে ১২ ব্যাংকারের মৃত্যু পৃথিবীতে কোনো জালিম চিরস্থায়ী হয়নি: বাবুনগরী যারা আ.লীগ সমর্থন করে তারা প্রকৃত মুসলমান নয়: নূর চট্টগ্রামে বেপরোয়া হুইপপুত্র যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ভারতে ৪ ঘণ্টা পর পাকিস্তানে খুলে দেয়া হলো সোশ্যাল মিডিয়া করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জনের মৃত্যু ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দিলেন বাড়িওয়ালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে রক্ষা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জনপ্রিয় নায়িকা মিষ্টি মেয়ে কবরী স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে গণধর্ষণ, আটক ৩ দুই দিনের রিমান্ডে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল লকডাউনেও মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল বেনাপোলে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

লক্ষ্মীপুরে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) সংক্রমণে প্রতিদিন দেশে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত (২৫ মার্চ) থেকে মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি এবং জনসমাগম রোধে লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে মাঠে নেমেছে প্রশাসন । সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে এবং সচেতন করতে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের সাথে মাঠে নেমেছে সশস্ত্র বাহিনী। সংক্রমণ রোধে গত (১২ এপ্রিল) থেকে লক্ষ্মীপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। অথচ অসচেতনতার কারণে গ্রামগঞ্জ ও সেখানকার হাটবাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব কিছুতেই যেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যদিও শহর ও মহাসড়কের পাশের এলাকাগুলোতে মানুষ কিছুটা জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে লক্ষ্মীপুর জেলায় করোনা সংক্রমণ কমানো যাবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লক্ষ্মীপুর জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৯ জন, তাদের মধ্যে রামগঞ্জ উপজেলায় ১৪, কমলনগরে ৩, রামগতিতে ১ এবং সদর উপজেলায় ১ জন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরে গ্রামগঞ্জে থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক ও পাড়া মহল্লার প্রতিটি রাস্তায় মানুষের ভিড় রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলাভিত্তিক গ্রামগঞ্জ এবং হাটবাজারগুলোতে জনসমাগম বেশি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব কমানোর উদ্দেশ্যে জনসমাগম বন্ধের আহ্বান জানানোর পরও মানুষের পদচারণা কমছে না। লকডাউন অমান্য করে যানবাহন চলছে স্বাভাবিকভাবে। জেলার বেশিরভাগ বড় কাঁচাবাজারে এখনও মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা টহলে আছেন।
প্রশাসন থেকে প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য। তারপরও কিছু বিপদগামী মানুষ লক্ষ্মীপুর জেলাকে দিন দিন করোনার ঝুঁকিতে ফেলছেন।

সামাজিক দূরত্ব না মানার বিষয়ে তোরাবগঞ্জের সবজি ব্যবসায়ী কৃষক আলী আহম্মদ বলেন, ‘পেটে ভাত থাকলে মানুষ বাহিরে বের হবে না আমাদের পেটে ভাত নেই। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবো কী করে। সবজি চাষ এবং বিক্রি করাই আমার কাজ। আমাদের ক্রেতা কাছাকাছি না গেলে সবজি কার কাছে বিক্রি করবো। এদিকে সরকার থেকে কোনও ত্রাণও আমি পাইনি ৮ সদস্য আমাদের পরিবারে ৫ কেজি চাউল পেয়েছি ত্রান হিসেবে তা দিয়ে ২দিন চলা যায় বাকি দিন গুলো কি ভাবে কাটাবো।
সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের শ্রমিক আবু তাহের জানান, ভাইরাস সব কিছু বন্ধ কাজ করতে যেতে পারি না, এখন পর্যন্ত আমদের বাড়ীতে ৫টি পরিবারে কেউ এখনো সরকারী ত্রান পাইনি বাধ্য হয়ে এখন কাজ খুজতে বের হয়েছি। জন প্রতিনিধিরা আমাদের চোখেও দেখেন বলে জানান তিনি।

কমলনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, সামাজিক দূরত্ব মানছে না মানুষ, গ্রামের মানুষ চোর-পুলিশ খেলছে প্রশাসনের সঙ্গে। আমরা অভিযানে গেলে খবর পেয়ে দোকানপাট বন্ধ করে পালিয়ে যায়। চলে আসার পর আবার দোকান খুলে বেচাকেনা শুরু করে। ঠিক একই অবস্থা পুলিশের ক্ষেত্রেও। তারা ডিউটিতে গেলে গাড়ির আওয়াজ শুনে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে আবার জনসমাগম তৈরি করে। করোনা মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা জনগণের মাঝে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গাফফার বলেন, ‘আমরা জেলার সব মানুষকে সচেতন করার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। এসবের বাস্তবায়নও করছি। তবে এতকিছুর পরও মানুষের অসচেতনতা দেখলে খারাপ লাগে। আমি এখনও বলবো, আপনারা সচেতন হন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহযোগিতা করুন।

লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, ‘জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এবং লকডাউন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, আমরা আমাদের সাধ্য মত চেষ্টা করছি যদি নিজ থেকে সচেতন না হয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আরেফিন বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারীতে পরিণত হয়েছে। এই ভাইরাসের কারনে এখন বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে। করোনা নিয়ে আমরা যুদ্ধ করছি। এই যুদ্ধটা কারো একার পক্ষে জয় করা সম্ভব নয়, সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। এই যুদ্ধে সবাই স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে সামাজিক দূরত্ব এড়িয়ে চলে জরুরী কাজ ছাড়া বাহিরে বের না হতে এবং তাদের বাসায় অবস্থান করার জন্য অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।.sheershasangbad

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38449226
Users Today : 850
Users Yesterday : 1193
Views Today : 5742
Who's Online : 32
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone