শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দায়মুক্তির জন্য গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন চরমোনাই মাহফিলে ১১ মুসল্লীর মৃত্যু আখেরী মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মকবুল গাবতলীর সাবেকপাড়া’য় ডাঃ মকবুল হোসেন সড়ক উদ্বোধন আত্রাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল ম্যারাথন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে সুর্যমুখী চাষ বৃদ্ধির লক্ষে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম শহরের ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান ফের খানসামায় ট্রাক্টর চাপায় মোটরসাইকেল চালক এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আত্রাইয়ে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান বড়াইগ্রামে নদী খননের অনিয়ম, কৃষকদের প্রতিরোধে বন্ধ কাজ নলছিটির রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? খানসামায় আমের গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ,বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বিকাশের অর্থ সহায়তায় জড়িত থাকার তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত বেনাপোলের এতিম লিটনকে বাঁচাতে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন চর লাঠিয়ালডাঙ্গা যেন মাদকের গ্রাম তানোরে কৃষকের আলু লুট !

লক্ষ্মীপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি ও বসতভিটা দখলে নেয়ার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে আদালতে মামলা চলমান থাকার পরেও তা অমান্য করে তর্কিত সম্পত্তি ও বসতবাড়ির তালা ভেঙ্গে আবদুল মজিদ, হেলাল, দুলাল ও তার সঙ্গীদের নিয়ে জবরদখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কুদরতউল্লাহ পাটোয়ারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে মৃত আবু তাহেরের মেয়ে মরিয়ম বেগম, (৩৫), পারভীন আক্তার (৩২),খাইরুন্নেছা মুন্নি (২৮)এর বসতবাড়ি থেকে জবরদস্তি ও টানাহেঁচড়া করে বের করে দিয়ে একই বাড়ির আব্দুল মজিদের ছেলে হেলাল, হেলাল এর স্ত্রী শিউলি, মেহেদীহাসান দুলালের স্ত্রী শ্যামলী, আব্দুল মতিনের স্ত্রী রহিমা বেগম, বেলালের স্ত্রী পাখি, বাহারের স্ত্রী নিশু আক্তারসহ আরো ১২/১৫ জনের একটি দল সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে তা দখলে নেয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

আবু তাহেরের বড় মেয়ে আয়েশা বেগম প্রকাশ নার্গিস শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে তার ছোট তিন বোন মরিয়ম, পারভীন ও মুন্নির কাছ হতে প্রায় (২১) লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে বহুবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছিল, তথাপিও নার্গিস টাকা দিচ্ছি, দিবো বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এদিকে তাদের ভাই না থাকায় উপরন্তু বাবা ও মা দুজনেই মৃত হওয়ার সুযোগে একই বাড়ির আব্দুল মজিদ ও তার ছেলে ফুঁসলিয়ে নার্গিসের অংশ কিনে নেয়। পৈত্রিক সম্পত্তি বিভিন্ন দাগে গ্রহণ করলেও খরিদ্দার মজিদ ও হেলাল গংরা না মেনে পাকা রাস্তার পাশ অর্থাৎ সমুদয় সম্পত্তির মুখ জোরপূর্বক দখলে নেয়। সেই সাথে তাদের পৈত্রিক বসত ঘরটিও বেআইনিভাবে দখল করে।

মৃত আবু তাহের রাখালিয়া ৫০২ নং মৌজার ৩৭১ নং খতিয়ানের ২৪২৯/২০/২২/ ২৩ নং দাগের মোট ৯৫ শতাংশ সম্পত্তির প্রকৃত মালিক। পৈতৃক সম্পত্তির দখলদার ও মালিক নার্গিস, মরিয়ম, পারভীন ও মুন্নি। এতে নার্গিস নানা চাটুকারিতায় ছোটবোনদের নিকট জমি বিক্রির কথা বলে প্রায় ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকার জন্য দেনদরবার সালিশ হলে মজিদ ও হেলাল গংরা নার্গিসকে কুপরামর্শ দিয়ে তার ভাগের অংশটা হাতিয়ে নেয় এবং ছোটবোনদের টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য বলে। মজিদ ও হেলাল গংরা নার্গিসের ওয়ারিশী প্রাপ্ত অংশের চেয়েও বেশি জবরদখল করে এবং তাদের পৈত্রিক বসতভিটা দখলে নেয় বলে এ প্রতিবেদককে ভুক্তভোগী মুন্নি জানিয়েছেন।

এ নিয়ে উল্টো মজিদ ও হেলাল গংরা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছেন ভুক্তভোগী তিন বোনদের। মজিদ ও হেলাল গংরা একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন মরিয়ম, পারভীন ও মুন্নিদের। শুধু তাই নয় তাদের জেল খাটিয়েছেন টাকার প্রভাবে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুন্নি জানান -আমাদের বাবা-মা নেই এমনকি আমাদের একজন ভাইও নেই। বড় বোনের কাছে আমরা ছোট তিন বোন প্রায় ২১ লাখ টাকা পাবো। সে বলছে জমি আমাদের কাছে বিক্রি করবে। তা না করে মজিদ ও হেলাল গংদের প্ররোচনায় তাদের নিকট বিক্রি করে। এখন মজিদ ও হেলাল গংরা আমাদের পৈত্রিক ঘরসহ বোনের প্রাপ্ত অংশেরও বেশি দখল করে নিয়েছে। আমাদের পৈত্রিক ঘর থেকে জবরদস্তি ও টানাহেঁচড়া করে বের করে দিয়েছে। আমাদের একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন মজিদ ও হেলাল গংরা।

মরিয়ম, পারভীন ও মুন্নিকে বিবাদী করে রায়পুর থানায় দায়েরকৃত মামলা গুলোর মধ্যে হচ্ছে -জিআর ০৯/ ২০৫ তাং ১৯-১০-২০১৮ বাদী আব্দুল মজিদ, জিআর ০৩/২১৮ তাং ০৪/১১/২০১৮ বাদী হেলাল, জিআর ০৯/১৯৪ তাং ০৪ /০৯/২০১৯ বাদী আবদুল মজিদ,জিআর ২৮৬/১৬ বাদী আবদুল মজিদ।

পিতৃ-মাতৃ ও ভ্রাতৃহীন অসহায় তিনবোন সুবিচার পেতে বারবার ইউনিয়ন পরিষদ, থানা এমনকি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তবুও মজিদ ও হেলাল গংরা তাদের বাহিনী দিয়ে রাতে বিরাতে ঘরের চালে ঢিল ছোঁড়া, ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে অশ্লীল ইঙ্গিত করা, জানালা ও দরজার কপাট ঠেলা দেয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

এনিয়ে অত্র ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মোহাম্মদ কাজল বলেন- মরিয়ম, পারভীন ও মুন্নিদের যখন পুলিশ দিয়ে তাদের পৈতৃক বসত ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়, তখন তাদের কারোরই পরনের জামা-কাপড় ছাড়া জুতা কিবা বোরকাও নিতে দেয়া হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে কাজল আরো বলেন- তাদের পুলিশে নেয়ার সময় ঘটনাস্থলে বহিরাগত লোকজনের সমাগম ছিল।

মৃত সেরাজুল হক পাটোয়ারীর ছেলে মিন্টু(৫৫) বলেন- দুলাল মুন্নির বড় বোন নার্গিস এর কাছ থেকে জমি কিনছেন ঠিক আছে, তবে সে এক দাগে পাবেনা, তাদের পৈত্রিক বসতঘর পাবেনা। কিন্তু সে বেআইনিভাবে পুরো জমির মুখ অর্থাৎ রাস্তার পাশ দখল করেছে ও জমিও বেশি দখল করেছে। তাদের বাপের পুরনো বসতঘরটিও জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে দুলাল, মজিদ ও হেলাল গংরা।

মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে আজাহার মিয়া বলেন -আমি সাত বছর ধরে মুন্নিদের বাগানবাড়ি, বসতবাড়ীর নারকেল সুপারি গাছ আমার কাছে ছিল। হঠাৎ করে মজিদ ও হেলাল দলবল নিয়ে কুড়াল দিয়ে গাছপালা কেটে, মুন্নিদের পৈতৃক বসতঘর থেকে জবরদস্তি করে বের করে তারা দখলে নেয়। আমি তাদের কারোরেই সাতেপাঁচে নেই। তবুও আমাকে মজিদরা মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্কুলছাত্র মুন্না ও আবুল বাশার মুঈন বলে- ঘটনার দিন শুক্রবার আমরা ছিলাম, কোন ঝগড়া বিবাদ হয়নি। হঠাৎ করে দুই গাড়ি পুলিশ ও ১ গাড়ি মানুষ (যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি) এসে বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করে, পুলিশ মুন্নিদের তিন বোনকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে গাড়িতে তোলে।তাদের পরনে পুরনো জামা কাপড় ছিল। পায়ে জুতা ছিল না।

মৃত ইয়াকুব আলী পাটোয়ারীর ছেলে জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন- ঘটনার সত্য। এদের বাবার ঘর থেকে বের করে দেয়া, মুন্নিদের বসত ঘরের চাবি স্থানীয় চেয়ারম্যান কিসমত উকিলের কাছে থাকা সত্ত্বেও মজিদ ও হেলাল গংরা তালা ভেঙ্গে জোরপূর্বক ঢুকে দখল করা সবই সত্য। আমাদের কথা হল -আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও কিভাবে মজিদ ও হোলাল গংরা তা করে?

অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কিসমত উকিল বলেন- ঘটনার সত্য।চাবি আমার কাছেই আছে। মজিদ ও হেলাল গংরা তালা ভেঙে জবরদখল করে মুন্নির ঘরেঢুকেছে। মুন্নিরা আমার কাছে কয়েকবার শালিশ এর জন্য এসেছে। কিন্তু মজিদদের আনতে পারেনি। তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো।তাদের কালো টাকার জোর বেশি। এদের তো টাকা নেই, সাপোর্ট নেই।

রায়পুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তোতা মিয়া বলেন -আমি জমিজমা বিষয়ে কোনো সমাধান দিতে পারব না। আপনারা আদালতে যান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন -মজিদ ও হেলালরা তাদের ঘরে ঢুকেছে। চাবিতো চেয়ারম্যানের কাছে বললে- তোতা মিয়া বলেন- এটা চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করুন। তারা কিভাবে ঢুকেছে, আমি আর বেশি কিছু বলতে পারব না।

ভুক্তভোগী মরিয়ম, পারভীন ও মুন্নি সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন -আমাদের পৈত্রিক বসতঘর জমি জবরদখল করে নিয়ে গেছে আবার আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে মজিদ, হেলাল ও দুলাল গংরা। আমরা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমাদেরকে তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে, বাজে বাজে মন্তব্য করছে। আমরা এর পরিত্রান চাই।

এনিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা স্মারক নং ১৪১২ তারিখ ২৪ ২০১৯ জুন এবং পুলিশ সুপার লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের স্মারক নং ১৯৭১/২য় তারিখ ০৭/০৭/২০১৯ নং মূলে মামলা ও হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেতে আইনি সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন মুন্নি বেগম। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারক নং ১২৭১ তারিখ ৩১/০৭/২০১৯ প্রথম পক্ষ ও দ্বিতীয় পক্ষকে গত মাসের ৭ তারিখে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেখানেও তারা হাজির হননি বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল জানিয়েছেন।

এবিষয়ে খোঁজাখুঁজি করে মেহেদি হাসান দুলাল ও দুলালের মা রহিমা বেগমকে পাওয়া গেলেও তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38333926
Users Today : 4029
Users Yesterday : 6494
Views Today : 13932
Who's Online : 38
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/