Home / অপরাধ / লক্ষ্মীপুরে লকডাউনের নির্দেশনা মানছে না মানুষ : নেই প্রশাসনের তৎপরতা

লক্ষ্মীপুরে লকডাউনের নির্দেশনা মানছে না মানুষ : নেই প্রশাসনের তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

করোনায় ভাইরাসে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে রেড জোন এলাকা নির্ধারণ করার পর সেই এলাকা গুলো লক ডাউন ঘোষনা করে জেলা প্রশাসন। প্রথম থেকে কিছুটা মানলেও এখন মানছে না এই সব রেড জোন এলাকার মানুষ গুলো।

অভিযোগ রয়েছে, লকডাউন ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে জেলা প্রশাসনের কোন ভূমিকা দেখা যায়নি রেড জোন এলাকায়, পরিচালনা করা হয়নি কোন ভ্রাম্যমান আদালত এবং রেড জোন এলাকায় হোম সার্ভিস সহ যে সব সেবা দেওয়ার কথা সে সব সেবা দিতে দেখা যায়নি জেলা প্রশাসনকে। রেড জোন এলাকায় পুলিশ ছাড়া আর কেউ মাঠে ছিলেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। লকডাউন এলাকার সাধারণ মানুষ বলছে রেড জোন এলাকা গুলোতে অসহায় ও নিন্ম আয়ের মানুষ এখন খাদ্য সংকটে ভুগছে তারা এই লকডাউনে এখনো কোন ত্রান পায়নি, তাই বাধ্য হয়ে বের হতে হয় কাজের জন্য।

এদিকে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতা কারনে মূলত লকডাউন কার্যকর হচ্ছেনা। জেলা প্রশাসক যে গণ বিজ্ঞপ্তি জারী করেছে তাতে ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর পৌরসভা ৭টি ওয়ার্ড উল্লেখ করেন, কিন্তু সিভিল সার্জন জেলার ৪টি উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন রেড জোন এলাকা হিসেবে ঘোষনা করে। অপরদিকে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা লকডাউন ঘোষনা করে স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারগন,কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ রেড জোন এরিয়া নির্ধারণ করেন কয়েকটি ইউনিয়ন। মূলত সমন্বয়হীনতার কারনে এই লকডাউন কার্যকর হচ্ছে না।

রবিবার (২৮ জুন) লক্ষ্মীপুরের রেড জোনের আওতায় পড়া কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লকডাউন চলছে ঢিলেঢালা ভাবে। লকডাউন হওয়া এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের জন্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা খুব কমই মানা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে অবাধে চলাচল করছেন মানুষজন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় পৌরসভার ৭টি ওয়ার্ড ও ৭ ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ১৫ জুন রেড জোন ঘোষণা করে পরদিন ১৬ জুন সকাল ৬টা থেকে ঘোষিত এলাকায় লকডাউন কার্যকর করা হয়।

জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেড জোন এলাকা গুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে কোনো ধরনের জনসমাবেশ করা যাবে না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়া যাবে। রিকশা, ভ্যান, অটোরিক্সা, ট্যাক্সি বা নিজস্ব গাড়ি রেড জোনের ভেতরে চলাচল করবে না, এই জোনের অন্তর্গত কেবল ওষুধের দোকান খোলা থাকবে।

রেড জোন ঘোষিত এলাকার মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১,২,৫,৬,৭ ১১,১৫ নম্বর ওয়ার্ড, সদর উপজেলার দক্ষিন হামছাদি দালাল বাজার পার্বতী নগর, বাঙ্গাঁখা,মান্দারী,কুশাখালী,চন্দ্রগঞ্জ,রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা এলাকা রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার, কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স,হাজিরহাট,চরফলকন,তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়।

রেড জোন এরিয়া গুলোতে বাঁশ দিয়ে বন্ধ করা হলোও দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন লোক না থাকায় বাঁশ খুলে এক এলাকার মানুষ মোটর সাইকেল, রিক্সা, অটোরিক্সা চলাচল করছে আগের মত করে। রেড জোন এলাকাগুলোতে চায়ের দোকানে বসে মানুষ সমানে গল্প করছে। আড্ডা দিচ্ছে। কোথাও লকডাউনের কোনো সাইনবোর্ডও ঝোলানো দেখা যায়নি।

এদিকে আমাদের রায়পুর প্রতিনিধি জানান, রায়পুর‌ পৌরসভা‌কে গত ১৬ জুন সকাল ০৬টা থে‌কে আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা প্রর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হ‌য়ে‌ছে। লকডাউ‌ন পাল‌নে প্র‌তি‌টি ওয়া‌র্ডে লা‌ঠি হা‌তে চল‌ছে স্বেচ্ছা‌সেবী‌দের তৎপরতা। সরকা‌রি নিয়মানুযায়ী রেড ‌জো‌নে লকডাউন ঘোষণা করা হ‌লে সে এলাকা সাধারণ ছু‌টির আওতায় পড়‌বে। অথচ রেড‌জোন চি‌ন্থিত রায়পুর পৌর এলাকায় লকডাউ‌নেও চল‌ছে বি‌ভিন্ন সরকা‌রি-‌বেসরকা‌রি অ‌ফিস আদালত, ব্যাংক-বীমা-এন‌জিও অ‌ফিস সমূহ। চলছে এন‌জিও‌দের পৌর এলাকার বি‌ভিন্ন ওয়া‌র্ডের বা‌ড়ি বা‌ড়ি গি‌য়ে কি‌স্তি আদায়। এলাকাবাসীরা ব‌লেন, রিকশা, সিএন‌জি আর দোকানপাট ব‌ন্ধের লকডাউন চল‌ছে রায়পু‌রে। এটা ম‌নের শান্তনার লকডাউন, সরকা‌রি স্বাস্থ্য‌বি‌ধি ও রেড‌জোন চি‌ন্থিত এলাকার লকডাউন নয়, এটা গরীব মারার লকডাউন।

লকডাউন কার্যকর হচ্ছে না কেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল খায়ের স্বপন বলেন, প্রথম দিক থেকে লকডাউন ঠিকমত চলছিল আমি স্থানীয়ভাবে সচেতন করে আসছি, পুরো ওয়ার্ড থেকে বের হওয়ার ১২টি স্পট সব গুলোতে বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি, কিন্তুু গত ২/৩দিন মানুষ তা মানছেনা। বন্ধ করা রাস্তা গুলোর বাঁশ খুলে মানুষ ডুকে পড়ছে। তারপরও চেষ্টা করছি মানুষকে সচেতন করার জন্য।

এদিকে রেড জোন এলাকার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ বলছে, ১২ দিন লকডাউনে তাদের হাতে থাকা খাওয়া ও টাকা পয়সা শেষ, এখন পর্যন্ত কোন সরকারী অনুদান পায়নি তারা। ফলে বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে বের হতে হয় তাদের। কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই তারা রোগের কথা চিন্তা না করেই বাসা থেকে বের হয় ।

লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন আহম্মদ হেলাল বলেন, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্বয়হীনতায় মূলত লকডাউন কার্যকর হচ্ছেনা, এই লকডাউনে জেলা প্রশানের তেমন কোন ভূমিকা আমরা দেখিনি,মাঠে পুলিশ ছাড়া জেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তার কোন ভুমিকা ছিল না। জেলা প্রশাসন থেকে যে সব সেবা দেয়ার কথা তা দেওয়া হয়নি,এবং সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য পর্যন্ত দেওয়া হয়না। অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষদের ত্রান সহায়তা পর্যন্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের মোবাইল মুঠো ফোনে কলে দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

লক্ষ্মীপুর জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৬৮, সদর উপজেলায় ৩৮৭, রায়পুর ৭০, রামগঞ্জ ১২৯, কমলনগর ১২১, রামগতি ৬১ জন।

নিউজটি লাইক দিন ও আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ এস.আই নির্বাচিত হলেন সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় মাদক, ইভটিজিং, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল ও ...