মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাগেরহাটের ডিসি বদলি সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের ইসলামপুরে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধু দর্শনে পথচলা শীর্ষক আলোচনা নড়াইলের তিন বন্ধু সড়ক দুর্ঘটনায়  মমান্তিক মৃত্যু  নথি চুরির মামলা দিলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক রোজিনা সাংবাদিক রোজিনাকে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা হেনস্তা, রাতে মামলা কোয়ারেন্টিনে থাকা তরুণীকে ধর্ষণ, এএসআই বরখাস্ত মুনিয়ার মৃত্যু: সন্দেহের তীর শারুনের দিকে ৯ জীবনবৃত্তান্তে ১৪১ জনের নিয়োগ! খরচ কমাতে সব মন্ত্রণালয়ে চিঠি পটিয়ায় মসজিদের জায়গা দখলে নিতে মরিয়া প্রতিপক্ষরা, উত্তেজনা ইসরাইলকে আরো অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সাবেক চসিক মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে আঁচলস মম কুকিং এর কর্মকর্তাদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় সরিষাবাড়ীতে প্রভাবশালীর পেশী শক্তির প্রভাবে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা.. মোরেলগঞ্জে শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ  কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

শমে-এ বাংলা অধ্যক্ষ মাওলানা আলাউদ্দীন শাহ (রহ) মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

বাংলাদেশের দক্ষিণ চট্টগ্রাম চন্দনাইশের যে কজন ব্যক্তিত্ব তাদের কীর্তিতে আজীবন মানুষের মনের মণিকোঠায় অমর হয়ে আছেন তন্মধ্যে মাওলানা আলাউদ্দীন শাহ (রহ) অন্যতম। দ্বীন চর্চা, দ্বীন প্রচার এবং শিক্ষার প্রসারে তিনি ছিলেন এক অনন্য মহান পুরুষ। তিনি  চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ পৌরসভা এলাকার মাওলানা মঞ্জিলের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুফতি শফিউর রহমান (রহঃ)। (তিনি “মুফতি সাহেব” নামে সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি নিজ এলাকা চন্দনাইশে হাশিমপুর মকবুলিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসা এবং জোয়ারা ইসলমিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ পদে ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সহিত নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।) মাতার নাম আসমা খাতুন, দাদার নাম সৈয়্যদ হাসান মিয়াজি।  মাওলানা আলাউদ্দীন শাহ (রহ) তাঁর পিতার ৯ ছেলের ৪র্থ পুত্র। তাঁর বংশ পরিক্রমা হল-মুহাম্মদ আলাউদ্দীন  বিন শফিউর রহমান বিন সৈয়্যদ হাসান মিয়াজি বিন নুরুদ্দীন। বাল্যকালে তাঁর শ্রদ্ধেয়া আম্মাজান মারা যান। মাতৃহারা এ শিশু তাঁর মুফতি পিতা শফিউর রহমান (রহঃ) এর তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
অধ্যক্ষ  মাওলানা আলাউদ্দীন শাহ (রহ) ১৯৫৮ সালে চন্দনাইশস্থ জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা হতে দাখিল পাস করার পর ১৯৫৯ সালে চট্টগ্রাম দারুল উলূম আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। তিনি এ মাদরাসা হতে আলিম ও ফাজিল কৃতিত্বের সাথে পাস করেন। ১৯৬৬ সালে মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকা হতে কামিল পাস করেন। ১৯৬৮ সালে সরকারী বৃত্তি নিয়ে মাদরাসা-ই-আলিয়া,ঢাকায় ছাত্র থাকাকালীন সময়ে “খাওয়াতীন-এ ইসলাম-কে কার নাম” উর্দু ভাষায় গবেষণা থিসিস রচনা করেন। এটি প্রকাশিত হয় নি।
 মাওলানা আলা উদ্দীন (রহ:) যাদের সান্নিধ্যে শিক্ষা জীবন অতিবহিত করেন তাদের মধ্যে অন্যতম শিক্ষকমন্ডলীগণ হচ্ছেন: ১.আল্লামা আব্দুর রহমান কাশগড়ী (রহ:) ২.মুফতি সৈয়্যদ মাওলানা আমীমুল ইহসান ইবনে সৈয়্যদ আব্দুল মান্নান মুজাদ্দেদী (রহঃ), ৩. শায়খ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বিহারী (রহ), ৪. শায়খ মাওলানা ওবাইদুল হক মুহাদ্দিস সিলেটী (রহঃ),  ৫. শায়খ মুফতি মাওলানা আমিন (রহঃ), ৬. মাওলানা ফোরকান  (রহঃ), ৭. শায়খ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী  (রহঃ) প্রমুখ।কর্মজীবনে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ,  রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলূম সিনিয়ার মাদরসায়  শিক্ষকতা করেন। পটিয়া অহিদিয়া ও বোয়ালখালী চরণদ্বীপ রিজভীয়া মাদরাসায় অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত  সোবাহানিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ইনতিকালের পূর্ব পর্যন্ত স্থানীয় মুরব্বীদের অনুরোধে “চন্দনাইশ মিজ্জির দোখান জামে মসজিদ” এর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর কাছে যারা পড়েছেন কুরআন হাদীসের দরস নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে যে প্রতিষ্ঠানে খেদমত হচ্ছে, সেখানেই তাঁর ছাত্র আছে। বিভিন্ন মাদরাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ মুহাদ্দিস, প্রফেসর হিসেবে অনেক ছাত্রই আজ নিয়োজিত। তিনি ছাত্রদের কে কুরআন-হাদীসের পাশাপাশি ধর্মীয় ও আরবী শিক্ষা দেয়া, ইসলামী আদর্শ ও চেতনা জাগ্রত করা, আদর্শবান ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলা, হানাফী মাযহাবের আলোকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তথা সঠিক সুন্নী মতাদর্শ প্রচার প্রসার করাই ছিল এই আলেমে দ্বীনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। যার ফলশ্রুতিতে গড়ে উঠেছে সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিপুল সংখ্যক ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ইসলামী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সহ আরো অনেক কর্মীবাহিনী। তাঁর অসংখ্য শিষ্য বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়া দেশের বাইরেও অনেক ভাল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত । দেশের প্রশাসনিক লোকদের মধ্যে অসংখ্য ছাত্র আছে।উল্লেখ্য শায়খুল হাদীস অধ্যক্ষ  মাওলানা আলাউদ্দীন শাহ (রহ) এর ছাত্ররা নানাভাবে ধর্মীয় ও সামজিক ও রাষ্ট্রীয় নানাক্ষেত্রে খেদমত আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর প্রণীত “লাইলাতুল কদর” শীর্ষক পুস্তকটি (উর্দু ও বাংলা) প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আঞ্জুমানে মুহিব্বানে রসূল এর পৃষ্ঠপোষকতায় পাকিস্তানের খ্যাতনামা আলিম মুফতি শফি ওকাড়বী (রহ) এর রচিত সাওয়াবুল ইবাদত ও বরকাতে মীলাদ উর্দু দু’টি বই বঙ্গানুবাদ করেন। যা যথাক্রমে ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৯ জুলাই, ২৪ শে রবিউল আউয়াল ১৪১৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ঐতিহাসিক ময়দানে তাঁর জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়।  পরে তাঁকে তার পারিবারিক কবরস্থান মাওলানা মঞ্জিলে দাফন করা হয়।আল্লাহ পাক তাঁকে আন্বিয়া, সোলাহা ও শুহাদার সাথে জান্নাতুল ফেরদাউসের আলা ইল্লিয়িনে মর্যাদাপূর্ণ স্থান নসীব করুন।
লেখক: কলামিস্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone