মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
নোয়াখালী সুবর্ণচরের বিএনপি নেতা এনায়েত উল্লাহ বি কম এর ইন্তেকাল নওগাঁর মহাদেবপুরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবর প্রাচীর দিয়ে সংরক্ষণের দাবি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শিক্ষা জাতীয় করন নিয়ে মনের কষ্ট ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যক্ত করলেন অধ্যক্ষ এস এম তাইজুল ইসলাম কুলিয়ারচরে দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন ২৫ ও ২৬ মার্চ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল জিয়া মমতাকে ছেড়ে আসা মিঠুন এখন মোদির দলে সন্তান কোলে নিয়েই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন নারী ট্রাফিক পুলিশ স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ মিয়ানমারে রাস্তায় হাজারো হাজার লোকের বিক্ষোভ স্কুল শিক্ষককে বিয়ে করলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী নারী প্রতারণার মামলায় ডা. সাবরিনার জামিন আবেদন নামঞ্জুর চট্টগ্রামে প্রবাসী হত্যায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ লেখা সতর্ক করলেন প্রধান বিচারপতি নিবন্ধনধারীদের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নির্দেশ ১৫ দিনের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ

শার্শা ও বেনাপোল থানায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত ১১ পলাতক আসামি আটকবাবার সৎকার করবে শবদেহ কাঁধে শ্মশানে যাচ্ছেন চার বোন

উজ্জ্বল রায়■: (১৮,অক্টোবর) ২৭৪: \ পৃথিবীতে এমন মানুষ বাবার অন্তিম ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর মেয়েরাই তাঁর সৎকার করবে। মারা যাওয়ার পর চার মেয়েও বাবার ইচ্ছে পূরণ করেছে। কুসংস্কার আর নারী পুরুষ বিভেদের মুখে আগুন দিয়ে বাবার যাবতীয় অন্তিম ক্রিয়াকর্ম করেছেন চার মেয়েই। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মূলে এমন কুঠারাঘাত সহ্য হয়নি মাতব্বরদের। তাই একঘরে করার নিদান দিয়ে নিয়ন্ত্রণের রশি আরও শক্ত করতে চেয়েছেন ওই গাঁয়ের মোড়লরা। রাজস্থানের বুন্দি জেলার এই ঘটনায় একদিকে যেমন চার কন্যার বীরগাথা সামনে এসেছে, তেমনই ভারতবর্ষের গ্রাম গ্রামন্তরে এখনও যে গোঁড়া সমাজ ব্যবস্থার বেড়ি পরানো, উঠে এসেছে সেই ছবিও এ গল্প চার কন্যার। বলা যেতে পারে চার বিদ্রোহিনীর। রাজস্থানের বুন্দি জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের। বছর আটান্নর দুর্গাশঙ্কর রেগার মারা যাওয়ার আগেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর অন্তিম ক্রিয়াকর্ম করবে মেয়েরাই। মেয়েরাও তাতে কোনও সমস্যা দেখেননি। কিন্তু সেটা জানাজানি হতেই মোড়ল-মাতব্বররা হুমকি দিতে থাকে, এ কাজ করলে ফল ভাল হবে না। মৃত্যু হয় দুর্গাশঙ্করের। ফতোয়ার ভয়ের চেয়েও বাবার ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি। বাঁশের মাচায় শোয়ানো বাবার দেহ চার দিকে চার বোন কাঁধে করে নিয়ে গিয়েছেন শ্মশানে। সেখানে মুখাগ্নি থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজকর্ম সেরেছেন। আত্মীয় পরিজন বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কেউই তার মধ্যে কোনও অন্যায় দেখেননি। দেখেছেন সমাজ-শাসকরা। ঔদ্ধত্য আর গোঁড়ামির কারবারকে সমূলে বিনাশ করার সাহসদেখে তাঁরা বিপদের ছায়া দেখেছেন। কর্তৃত্ব খর্ব হওয়ার ভয়ে তাই ফতোয়া। দাওয়াই গোটা গ্রামের থেকে একঘরে, আলাদা। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যাবে না। শুধু তাই নয়, গ্রামের কমিউনিটি বাথরুমে স্নান করাও নিষেধ তাঁদের। আর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও গ্রামের কেউ গেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। দেখে নিয়েছেন চার কন্যাও। বাবার শেষ ইচ্ছা পালনের তাগিদ হোক বা সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, পিছপা হতে রাজি নন কেউ। বড় মেয়ে মিনা যেমন বলেছেন, ‘‘বাবার কাজ সেরে আসার পরই আমাদের ক্ষমা চাইতে বলে মোড়লরা। কিন্তু আমরা ক্ষমা চাইনি। কারণ, আমরা কোনও অন্যায় করিনি। কোনও অপরাধ করিনি। ‘অপরাধ’অবশ্য হয়েছে। মোড়লদের চোখে। জগদ্দল পাথরের মতো সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে থাকা অন্ধ বিশ্বাস ভাঙার ‘অপরাধ’। সমাজে নারী পুরুষের সমানাধাকিারের প্রতীক হয়ে ওঠার ‘অপরাধ। আর তাই বিধান একঘরে থাকার। পুলিশ-প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা সেখানে ধৃতরাষ্টের ভূমিকায়।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38373506
Users Today : 226
Users Yesterday : 4902
Views Today : 388
Who's Online : 32
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/