শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দুমকিতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মানববন্ধন। বগুড়ায় ৮২পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেফতার ব্রিটিশ এমপি হত্যাকাণ্ড ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ : ব্রিটিশ পুলিশ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রাবিতে মানববন্ধন দ্বিতীয় ধাপের ইউপির ভোট: মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ পরিবর্তন পাবনায় নতুন বার্জার এক্সপেরিয়েন্স জোন চালু বোচাগঞ্জে রনগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যুব সংগ্রাম পরিষদ গঠন করুন : যুব জাগপা লাগামহীন নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দামে জনজীবন অতিষ্ঠ : দিলীপ বড়ুয়া গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে দুটি বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ ২০০১-এ ক্ষমতায় আসতে দেয়নি : প্রধানমন্ত্রী দূর্গা পুজা মন্ডপে হামলা ভাংচুর লুঠপাট ধর্ষন খুন জখমের প্রতিবাদে জাতীয হিন্দু মহাজোট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং গঠনতন্ত্র থাকলেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিতে হবে: ইউএনএ চট্টগ্রামে বাসা থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার বোয়ালখালীতে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী’র নেতৃত্বে পশ্চিম গোমদন্ডী মানব কল্যাণ সংঘ এর পূজা মন্ডপ পরিদর্শন সুন্দরগঞ্জে লিমার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

শিক্ষক উপস্থিত হলেও ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে না

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: যমুনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে গাইবান্ধার গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হলেও, ওই বিদ্যালয়ের ২৭৯ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী ক্লাস করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে উত্তর ঝানঝাইর অথবা পূর্ব চর গজারিয়াতে বিদ্যালয়টি স্থাপন করার দাবি জানিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসার বরাবরে আবেদন করেছে অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। জানা যায়, গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা মৌজার ভোটার বর্তমানে উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে বসবাসকারী মৃত জমশের আলী ভূঁইয়ার ছেলে মো. শামছুল হক ভূঁইয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে রাতের আধারে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর ঝানঝাইর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে চর রতনপুর মৌজায় জিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। ফাঁকা স্থানে কোন রকমে একটি টিনের ছাপড়া তুলে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোন শিক্ষার্থী নেই। ২৭ সেপ্টেম্বর দেখা যায় ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক বসে আছে। একজন শিক্ষক পিটিআইতে প্রশিক্ষণে আছেন। যে এলাকায় বিদ্যায়লটি স্থানান্তর করা হয়েছে সেখানে ওই বিদ্যালয়ের কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই। জিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি বিদ্যালয়ের ২৭৯ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নদীপার হয়ে তিন কিলোমিটার দূরে ক্লাস করতে আসেনি। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ববিতা আক্তার বলেন, করোনা কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিলো। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয় খোলার ঘোষণায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বিদ্যালয় খোলার দিন বিদ্যালয় এসে দেখি আমাদের গ্রামে আর বিদ্যালয় নেই। বাবাকে বিদ্যালয়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে বাবা বলেন, তোমাদের বিদ্যালয় রতনপুরে নিয়ে গেছে। আর বিদ্যালয় যেতে হবে না।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়েরআসবাবপত্র করে পশ্চিম ঝানঝাইর রাখা ছিল। কিন্তু আমরা পড়ে জানতে পারি আমাদের বিদ্যালয় অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা কিভাবে এতো দূরে গিয়ে পড়াশোনা করব। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শরিফা আক্তারের পিতা শহিদুল ইসলাম বলেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামানের যোগসাজসে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের অজান্তে নদীর ওপর প্রান্তে ৩ কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়ের মালামাল ২নং উড়িয়া ইউনিয়নের চর রতনপুরে স্থানান্তর করা হয়। এ প্রসঙ্গে আবেদনকারী মো. শামছুল হক ভুঁইয়া বলেন, রতনপুর নয়, মূলত জিয়াডাঙ্গা মৌজাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালে গলনা মৌজায় বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয় এবং পুনরায় ভেঙে গেলে জড়োসড়ো করে রাখা হয়। বর্তমানে জিয়াডাঙ্গা মৌজাটি পুনরায় চর ভরাট হওয়ায় পূর্বের স্থান জিয়াডাঙ্গা মৌজায় বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়। জিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, গত তিন মাস আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ক্যাচম্যান এলাকা দক্ষিণ ঝানঝাইর মৌজা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের ঘর, চেয়ার-ব্রেঞ্চসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা হয় পশ্চিম ঝানঝাইরে। পশ্চিম ঝানঝাইরে না হলেও ঝানঝাইর সংলগ্ন পূর্ব চর গজারিয়াতে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা যেত। কোন অদৃশ্য কারণে বিদ্যালয়টি ওই স্থানে নিয়ে যাওয়া হলো তা আমার বোধ্যগম নয়। প্রধান শিক্ষক মো. আকরাম হোসেন বলেন, ১৯৯১ সালে স্থাপন করা হয় বিদ্যালয়টি। চারচালা দু’টি টিনের ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। দুই তিন মাস আগে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় যমুনার ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হলেও কোন ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসে না। কারণে হিসেবে তিনি বলেন, পূর্বের শিক্ষার্থীরা তিন কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এখানে আসবে না। ফলে ২৭৯ জন শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ফুলছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, মো. শামছুল হক ভুঁইয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামানের তদন্ত সাপেক্ষে এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজের পরামর্শক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ওই স্থানে স্থানান্তর করা হয়। জিয়াডাঙ্গা মৌজায় কোন জায়গা না থাকায় এটি করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

https://www.facebook.com/Dsangbad

All rights reserved © deshersangbad.com 2011-2021
Design And Developed By Freelancer Zone