মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
কী কারণে মমতার নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা জারি লকডাউনের আওতায় থাকবে না যারা পাবজি গেম প্রেমীদের জন্য দেশের বাজারে এলো অপো এফ১৯ প্রো, পাবজি মোবাইল স্পেশাল বক্স ঝালকাঠিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গুলি, আহত-১, বন্দুক ও গুলি উদ্ধার, অাভিযুক্তের আত্মসমর্পন ঝালকাঠির নলছিটিতে সিটিজেন ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী বিতরণ যখন টাইটানিক ডুবছিল তখন কাছাকাছি তিনটে জাহাজ ছিল। সেদিন আমি স্নানও করিনি, যদি ওই অবস্থায় দেখে ফেলে! সাকিবকে সাতে খেলানো ভালো লাগেনি হার্শার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সীমানা প্রাচীর হোসিয়ারী ব্যবসায়ীর দখলে আলীনগরে বৃদ্ধাকে বেদম পিটিয়েছে উচ্ছশৃঙ্খল মা-মেয়ে ও পুত্র ‘খালেদা জিয়ার মতো নেতাকে জেলে নিয়ে পুরলে তোমার মতো নুরুকে খাইতে ১০ সেকেন্ড সময়ও লাগবে না’ চুপি চুপি বিয়ে করে ফেললেন নাজিরা মৌ লকডাউনে বন্ধ থাকতে পারে শেয়ারবাজার কোরআনের ২৬ আয়াত বাতিলের আবেদন খারিজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলা

সজ্জিত শপিংমল আমাকে টানে না

আমরা ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছি। সারাদিন ফোন আসে যখন তখন। মানুষের মাঝে ভয় আর আতঙ্ক। প্যানিক এট্যাক নিয়েও ফোন করছে অসহায় মানুষ। মানুষ খাবারের জন্য, সাহায্যের জন্য হাত পাতছে। কতজন নিজ উদ্যোগে, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে সাহায্য করছেন।কিন্তু যদি দলে দলে মানুষ কেনাকাটার জন্য বাইরে যায়, তখন কি আমাদের সেবার আর কোনো প্রয়োজন থাকে? বিবেক বিবেচনা দিয়েই তো তারা ঘরের বাইরে!

যারা সাহায্য করছেন, তাদেরও কিন্তু সীমাবদ্ধ রোজগার। এখন কোথাও কাজ নেই, উপার্জন নেই। বেশীরভাগই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তাঁরা নিজেরাও সাশ্রয়ী জীবন কাটাচ্ছেন।

উচ্চবিত্ত পরিবারের কথা আমি জানি না। তাঁদের নাগাল কখনো পাইনি, চাইওনি। উচ্চবিত্ত সমাজের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আমরা কামলা মানুষ। কাজ করলে উপার্জন আছে, না করলে নেই। আমরা সরকারি চাকরি করি। প্রাইভেট চেম্বার করি। প্রায় দুই মাস ঘরবন্দী হয়ে আছি। খরচ কিন্তু খরচের মত চলে।

বৈশ্বিক এই মহামারীতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মারা গেছেন। সারা পৃথিবী কম্পমান। আমাদের দেশে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিটা ক্ষণে মৃত্যুর ছায়া। আমাদের কোনো আনন্দ নেই। আমাদের কোনো শান্তি নেই। আমাদের কোনো স্বস্তি নেই। প্রতিপদে মনে হয় এই বুঝি এলো! বারবার হাত ধুয়েও নিজেকে নিরাপদ লাগে না। শুচিবায়ুগ্রস্ত হতে থাকি আমরা। জানি প্রতিরোধ করতে ঘরে থাকতে হবে। জানি সামাজিক দূরত্বে থাকতে হবে। আর বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

আমরা ভয় পাই। আমরা নিয়মের মধ্যে থাকতে থাকি। অফিস থেকে ফিরে নিজেকে আপাদমস্তক ধৌত করি। আমার সন্দেহ যায় না। যারা কোভিড হাসপাতালে ডিউটি করেন, তাঁরা বাড়ীতে যেতে পারেন না। আর গেলেও কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। পারিবারিক বন্ধনের মাঝেও নিজেকে আলাদা রাখার প্রয়াসে সময় কেটে যায়।হাসপাতালে রোগীর আহাজারি। টেস্ট করতে গিয়ে বিড়ম্বনা।রিপোর্ট পেতে বিড়ম্বনা। স্বজনের শোক, নিজের অসুস্থতা… কাটে না। এই মাসটা আমাদের জন্য ভীষণ সাবধানতার মাস। এই মে মাসটা আমাদের কোথায় নিয়ে যায়, সেটা দেখার সময়।কতজনের প্রিয়জন হারিয়ে গেছে, কতজনের প্রিয়জন হাসপাতালে ভর্তি। কতজনের প্রিয়জন বাড়ীতে আইসোলেশনে!

আমরা হতাশাগ্রস্ত হতে চাই না। তবে আশার আলোও আমাদের ঘরে আসে না। লক ডাউন না মানা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জীবনের তাগিদে মানুষকে বাইরে যেতে হয়। জীবিকার তাগিদে বাইরে যেতে হয়।

আগামী ১০ মে থেকে শপিংমল সীমিত পরিসরে খুলছে। ইতিমধ্যে গার্মেন্টস খুলে গেছে।অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে। ব্যবসা বানিজ্য নেই। অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে।

কিন্তু কাদের জন্য কি করা?

কাদের জন্য এবারের ঈদ? ঈদ মানে তো আনন্দ…

ঈদ মানে তো আত্মীয়, বন্ধু… সবার সাথে দেখা হওয়া। ঈদ মানেই তো সকালে ঈদের নামাজ। কোলাকুলি!

জীবন আজ বড় বিপন্ন। অসুখকে আর ক্ষুধা-তৃষ্ণায় জীবন আজ চিকিৎসা চায়। কখনো ওষুধ, হাসপাতাল। আবার কখনো ত্রাণ, খাবার। কারা যাবেন শপিং মলে? কারা ঘোরাবেন অর্থনীতির চাকা? দোকান খুলে বসে থাকলে তো আর সচল হবে না অর্থনীতি!

সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন মানুষ, প্রয়োজন জীবন, প্রয়োজন বেঁচে থাকা। মানুষ না থাকলে কোনো লাভ নেই।

হয়তো উচ্চবিত্ত সমাজের জন্য ঈদ! আমাদের জন্য নয়।আমরা এমন বিষাদময় ঈদ চাই না।

আমরা এমন আতংকিত জনপদের পথ মাড়িয়ে পৌঁছাতে পারবো না শপিংমল পর্যন্ত।আমাদের বিষন্নতা, দীর্ঘশ্বাস…. কখনোই ছোঁবে না কাউকে। তবুও আমরা ব্যথার ভারে নুহ্য, তবুও আমরা ব্যথাতুর ভীষণ।

সজ্জিত শপিংমল আমাকে টানে না। সারি সারি চোখ ধাঁধানো রঙ আমাকে টানে না।আমি জীবনকে বলেছি…. রোখো!ওখানে সামাজিক দূরত্ব নেই, ওখানে গাদাগাদি মানুষের সাথে মানুষের বিষাক্ত মেলামেশা। ওখানে ঘর নেই, নেই গৃহবন্দী জীবন।

আজ আমি ঘরের বাইরে যাবো না। আজ আমি ঘরের কাছে আবদ্ধ। আজ আমি গুটিয়ে আছি শামুক খোলে। যদি কখনো সময় আসে, যদি আলোর রেখা দেখা যায়…আমিও বাইরে যাবো। ততদিন আমাকে ডেকো না রংবাহারি মরিচীকা। ততদিন আমাকে ভুলিও না মন!

বিপণন আর বিপনি-বিতানে…. আমি হবো না পণ্য অথবা ক্রেতা! বিপনণে আমায় ডেকো না…. আমি ঘরের বাইরে যাবো না এখন।

#করোনা_ফ্যাক্ট

০৫/০৫/২০২০

ফারহানা নীলা

সহযোগী অধ্যাপক

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38443251
Users Today : 206
Users Yesterday : 1256
Views Today : 1246
Who's Online : 32
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone