বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
মেয়েটা কী সত্যি খারাপ?আমার চোখ দুটো আমি সরাতে পারছিলাম না অপরাধী ভাব যেনো, এক খুনের মামলার আসামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষা ১৭ মে পর্যন্ত স্থগিত খ্যাতিমান ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর নেই প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া হবে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ গেইল-রশিদ খানরা ফিরে গেলেন, অর্থের লোভে সেরা অলরাউন্ডার সাকিব এবার প্রযোজকের বাড়িতে দেখা গেলো বুবলিকে, কারণটা কি মাসুদ রানা সিনেমার নায়িকা কে এই সুন্দরী? জামালপুরে চাঁদাবাজির মামলায় কলেজ অধ্যক্ষ জেল হাজতে আমার বউয়ের দিকে আঙুল তুললে মেনে নেবো না: নাসির মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণের কথা বলে ‘বনবন্ধু’ ইকবালের কোটি টাকার প্রতারণা পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল ম্যারাথন’ অনুষ্ঠিত।  দেশ বরেণ্য অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)’র শোক ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন: ৫টি লক্ষ্য ঘোষণা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রাষ্ট্রবিনির্মাণের স্মারক: ১০ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা করতে হবে সবুজ আন্দোলন উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হলেন ৪ বিশিষ্ট নাগরিক

সম্প্রীতির সুদূর বন্ধনকে অশান্ত করতে চায়! ওরা কারা?

– – – সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্

ফেজবুক যে হ্যাক করেছে সে মুসলমান, যাকে ফাঁসানো হয়েছে সে হিন্দু, যারা নির্বিচারে মরেছে ওরা মুসলমান। পৃথিবীকে অশান্ত করে রাখা সম্প্রদায় গুলো অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে বারবার। সরকার বাহাদুর থেকে এখনই কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সময় এসেছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি গুলো একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে আর পবিত্র ধর্মকে অন্যের চোখে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। আজ ভোলায় যে বর্বরোচিত ন্যক্কারজনক ঘটনার দায় কে নিবে?

আমাদের দেশ সারা দুনিয়ার বুকে সম্প্রীতির এক উজ্জল অসাধারণ উদারহন। এই দেশের মত আর কোথাও নেই মেলবন্ধন, ভালবাসা, সৌহার্দের বন্ধন। কয়েকমাস আগেই ত্যাগ সংযম শেষে ঈদের খুশিতে আত্মহারা হয়েছিলাম বিভেদ ভুলে একসাথে। এরপর আত্মত্যাগে পবিত্র কোরবানি। আহা! কতইনা আন্তরিকতার ছিল সময়গুলো। অল্পকিছুদিন আগেই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা মহাধুমধামে পালিত হল। আমাদের এই চট্টগ্রাম ঘুরে দেখেছি – কত উৎসাহের সাথে পালন করছে সবাই। কোথাও নেই কোন অশান্ত পরিবেশ। এরপর বৌদ্ধদের প্রবারনা পূর্ণিমা। ফানুসের আলোয় সবাই যেন আলোকিত! একমাস পরেই মুসলমান জাতীর সবচাইতে খুশির দিন সকল ঈদের সেরা ঈদ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিশ্বব্যাপী পালিত হবে মহাপবিত্রতার সাথে। দিনটি সকল জাতীর জন্যই রহমত ও বরকতের। পরপরই খ্রিষ্টানদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব ” বড়দিন ” সেদিনও সবাই উল্লাসে একাত্ত হবে। যার যার ধর্ম সবাই পালন করছে নির্ভয়ে।

এটাই প্রকৃত ধর্ম। যুগযুগ ধরে পবিত্র ধর্ম মানবতার শিক্ষা দিয়ে এসেছে। মানুষকে ভালবাসার প্রধান উপায় হচ্ছে প্রকৃত ধর্মচর্চা। কিন্তু, আজো এ দেশে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটায় মানুষরূপী জন্তুরা। পৃথিবীকে ওরা সন্ত্রাসের বার্তা দেয় বারবার। নিউজিল্যান্ডের মসজিদে, শ্রীলংকার গির্জায় এত বড় হামলা করে ওরা বুঝাতে চায় আমরাও একটা সম্প্রদায় আছি। হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ওরা ধর্মীয় উপাসনালয় গুলোকেই বেচে নেয়। সময় এসেছে ওদের নিশ্চিহ্ন করার। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধতা আর আন্তধর্মীয় একতার।

নিউজিল্যান্ডে খ্রিষ্টান জঙ্গিদের হামলার পর অনেকে দেখছি সোশাল মিডিয়ায় অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাবে ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ধর্ম যার যার অধিকার সবার। ধর্ম কোনদিন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের শিক্ষা দেয়নি। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যীশু খ্রিষ্ট, গৌতম বুদ্ধ বা সনাতন হিন্দু ধর্ম প্রচারকরা তো মানবতার জয়গান গেয়েই বিশ্বব্যাপী শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওদের সেই দেখানো পথে অগণিত মানুষ শুদ্ধ পথের দিশা পেয়েছেন, পাচ্ছেন।

একজন ব্যক্তি জঙ্গি, সন্ত্রাস হয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে, ধর্ম কোনদিন অধর্মের শিক্ষা দেয়না। রোহিঙ্গা মুসলমানদের যারা নির্বিচারে গণহত্যা করেছে ওরা বৌদ্ধ সন্ত্রাস, ভারতের বিভিন্ন জায়গায় গরুর মাংস খাওয়া বা বিক্রির অপরাধে পিটিয়ে নির্দয় ভাবে হত্যা করছে ওরা হিন্দু সন্ত্রাস, নিউজিল্যান্ডের মত বিশ্বশান্তির অন্যতম একটি দেশে পবিত্র মসজিদের মত একটি স্থানে এলোপাতারি বন্দুক যুদ্ধ করে অসহায় মজলুম মুসলমানের পাখির মত গণহত্যা করতে পারে ওরা খ্রিষ্টান সন্ত্রাস। জঙ্গি সন্ত্রাসীদের কোন জাত-ধর্ম-বর্ণ হতে পারেনা!  ওরা যুগ যুগ ধরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে জগন্য প্রেসিডেন্ট বিকৃত মস্তিষ্কের ডোলান্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে পরিকল্পিত মুসলিম নিধনে। আবার অনেক উগ্রপন্থি খ্রিষ্টান বা অনন্য ধর্মাবলম্বীরা বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইসলাম ধর্মকে টার্গেট করছে হীন উদ্দেশ্যে।

আমাদের এই দেশেও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র উপাসনালয়েও হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে জঙ্গিরা সম্প্রীতির যে দীর্ঘকালীন মেলবন্ধন সেটার উপর আঘাত করছে বারবার। পৃথিবীতে ওরা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু, তা ধর্ম হতে পারেনা! আমরা যারা বাঙালীআনা আটআনা পরিমাণও ধারণ করি দেশটাকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মওলবাদীদের অভয়ারণ্য হতে দিতে পারিনা কিছুতেই। আমরা ভুলে যাই, দেশটাকে সৃষ্টি করতে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তখন তো জাত-ধর্ম-বর্ণের সীমাবদ্ধতা ছিলনা কস্মিনকালেও। সারা দুনিয়ার বুকে গর্ব করার মত একটা দেশ, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য লালন করে কেন বিভেদ হবে শুধুমাত্র পবিত্র ধর্মকে পুঁজি করে? আমরা কী ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারিনা? অনেকে তো আবার এটার মানে ধর্মহীনতা বা ধর্মবিরোধিতা ব্যাখ্যা দিয়ে চর্বিতচর্বণ করে।

বাঙালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু (বিশ্ববন্ধু) শেখ মুজিবুর রহমান স্পষ্ট অথচ সহজ ভাষায় কত সুন্দর করে বলেছিলেন – ” আমার বাংলাদেশে, আমার মানুষরা তাঁর তাঁর ধর্ম নির্বিঘ্নে, নিঃসংকোচিত্তে আনন্দের সাথে পালন করবে ” ওনার মত একজন বিশ্বের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বর সেই বাণী কত গভীরতা আর বিশ্লেষণের সেটা একটু মনোযোগী হয়ে অনুধাবন করলেই বুঝা যায়।
একজন বাঙ্গালী হিসেবে যখন দেখি এই দেশে আজো মুসলমানদের সবচাইতে বড় খুশির দিন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজে বোমা হামলা হয়, জশনে জুলুস পালন হয় পুলিশি প্রহরায়, হিন্দুদের দুর্গা পুজায় অবশ্যই প্রতি বছর নিরাপত্তার চাদর লাগবে, বৌদ্ধদের কঠিনচিবর দান হয় পুলিশ দিয়ে, খ্রিষ্টানরা বড়দিনের উৎসব করে নিরাপত্তা পাহারায় আর বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা, সারা দেশে একযোগে বোমাবর্ষণ হয়, বাংলার কৃষ্টি নববর্ষের অনুষ্ঠানে বোমা মেরে জঙ্গিরা বারবার তাঁদের অস্তিত্ব জানান দেয়, রাজনৈতিক দলের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয় – এটাই কী বাংলাদেশ? আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু এ নিয়ে প্রশ্ন আছে- থাকবে। ধর্ম পালন করতে কী এসবের প্রয়োজন হয়? অদ্ভুত পৃথিবী! শুধুমাত্র গুটিকয়েক জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমরা ভীত থাকার জাতী নই। আমরা পারি, পেরেছি, পারব। ১৯৫২ / ১৯৭১ সবচাইতে বড় উদাহরন।

একটা সময় ছিল আজকের এই আধুনিকতার লেশমাত্র ছিলনা। মোবাইল, আইপেড – ফেজবুক, হোয়াটস অ্যাপ, টুইটার, ভাইভার, ইমু, ইনস্টাগ্রাম এসব ছিল নিছক এক রূপকথার গল্প। কিন্তু, এসবের চাইতেই অন্য কিছু ছিল তখনকার দৃশ্যপট। ভালবাসা, স্নেহ, মমতা, সৌহার্দ, আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব এসবের কিছুই কমতি ছিলনা। যুগটা আধুনিক হয়েছে ঠিক, আজ আর এসব নেই। কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়েছে। যুগের দোহাই দিয়েও অনেকে বঞ্চিত প্রকৃত পরিবেশ থেকে। দোষটা কিন্তু, যুগের নয় বিবেকের, মনুষ্যত্বের। আজও মেয়েদের নির্দিষ্ট একটি গণ্ডির মধ্যে রাখা হয় ধর্মের দোহাই দিয়ে। কিছু মানুষরূপী জঙ্গি অমানুষরা যখন ওয়াজের নামে মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি করে সরল জনগণকে বিভ্রান্ত করে – “মেয়েদের কাজ ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে থাকা, পড়ালেখার কোন প্রয়োজন নাই” আরও কত কী। কত ঘৃণ্য তৎপরতা ওরা আমাদের সমাজে, দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে সেদিকে আমাদের মাথাব্যথাই নেই। ওরা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে অত্যন্ত সুকৌশলে। আমরা যেন উনিশ শতকে এসেও মধ্যযুগের মানুষ। এসবের বিরুদ্ধে আমাদের এখন থেকেই রুখে দাড়াতে হবে।

পৃথিবীর সকল ধর্মানুরাগীদের একতাবদ্ধ হওয়া সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসুন ধর্মের বিরুদ্ধে না গিয়ে ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হই  ।।

সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্
কবি, প্রাবন্ধিক
সদস্য : চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরসি)
সাতবাড়ীয়া, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38320054
Users Today : 604
Users Yesterday : 3479
Views Today : 1244
Who's Online : 14
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/