বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০৪:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
নারী কর্মকর্তার করা অভিযোগে নেত্রকোনার ডিসি প্রত্যাহার মেজর সিনহাকে গুলি করে হত্যা, কী হয়েছিল সেদিন শেখ কামালের জন্মদিনে যতো আয়োজন বৈরুতে বিস্ফোরণে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯ সদস্য আহত কোভিড -১৯: কুষ্টিয়ায় পৌর মেয়রসহ আরও ৭৭ জন আক্রান্ত  কুষ্টিয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন কুমারখালীতে যৌন হয়রানীর অভিযোগে গ্রেফতার ১ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে "কোভিড-১৯ মোকাবেলায় প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ" শীর্ষক ভার্চুয়াল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত বন্যার্তদের ঈদ আনন্দ ৩ রাষ্ট্রদূতের চুক্তির মেয়াদ বাড়ালো সরকার পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যু, মাঠে তদন্ত দল প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে হবেন প্রধান শিক্ষক গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপরে করোনা ঝুঁকি উপেক্ষিত সাপাহারে ঐতিহ্যবাহী জবই বিল দর্শনার্থীদের পদ চারনায় মুখোরিত বকশীগঞ্জে পুকুরে ডুবে ২ শিশু মৃত্যু, চিকিৎসকের উপর  হামলা আহত ৪

সহবাসে অসম্মতি, ক্ষোভে স্ত্রীর গলা কাটলেন স্বামী

ডেস্ক : সহবাসে অসম্মতি, ভাত বেড়ে না দেয়া ও সন্তানকে মারধর করায় স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করলেন স্বামী ওমর ফারুক। পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার মধ্যম বলিপাড়ায়। নিহত রাশেদা বেগম একই উপজেলার উত্তর লামকুপাড়ার বাসিন্দা আবু সৈয়দের মেয়ে। ওমর ফারুক বলিপাড়ার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

এএসপি (রামগড় সার্কেল) সৈয়দ মো. ফরহাদ জানান, আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেও রাজি হন আসামি। ওমর ফারুককে খাগড়াছড়ি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেয়া হবে।

পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে ওমর ফারুক জানান, সোমবার রাতে বাথরুমে যান স্ত্রী রাশেদা বেগম। পরে সেখান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে ধারালো দা দিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে কোপ দেন তিনি। এতে রাশেদা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার গলা কেটে হত্যা করে দা ধুয়ে ছাগলের ঘরে লুকিয়ে রাখেন।

তিনি আরো জানান, স্ত্রী রাশেদা সবসময় কারণে-অকারণে তার সঙ্গে ঝগড়া করতো। তাকে ভাত বেড়ে দিতো না। একমাত্র ছেলে সন্তানকে মারধর করতো। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সহবাসে অসম্মতি জানাচ্ছিল। এসব কারণেই রাশেদাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন ফারুক।

নিহতের বাবা আবু সৈয়দ বলেন, প্রায় তিন বছর আগে ওমর ফারুকের সঙ্গে রাশেদার বিয়ে হয়। ফারুক স্থানীয় সেনাইপুল বাজারের ফল ব্যবসায়ী। তাদের ২০ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ছয়-সাত মাস ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। রাশেদাকে মারধর করায় কয়েক মাস আগে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে সালিসও হয়। সোমবার রাতেও তাদের ঝগড়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ফারুকের ছোট ভাই করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে ২৮ দিনের মতো আমাদের বাড়িতে ছিল মেয়ে রাশেদা। ১০-১২ দিন আগে রাশেদা শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যায়।

রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ শামছুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পারিবারিক কলহে খুন হওয়ার সন্দেহ স্বামী ওমর ফরুক, শাশুড়ি জোহরা বেগম রানী, দেবর শরিফ, ননদ আমেনা ও জান্নাতকে আটক করা হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা, স্বামীর রক্তমাখা লুঙ্গি ইত্যাদি আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে কৌশল হিসেবে ওমর ফারুককে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে থানায় এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি অপকটে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেও তিনি রাজি হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone