শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:৩২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দায়মুক্তির জন্য গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন চরমোনাই মাহফিলে ১১ মুসল্লীর মৃত্যু আখেরী মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মকবুল গাবতলীর সাবেকপাড়া’য় ডাঃ মকবুল হোসেন সড়ক উদ্বোধন আত্রাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল ম্যারাথন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে সুর্যমুখী চাষ বৃদ্ধির লক্ষে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম শহরের ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান ফের খানসামায় ট্রাক্টর চাপায় মোটরসাইকেল চালক এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আত্রাইয়ে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান বড়াইগ্রামে নদী খননের অনিয়ম, কৃষকদের প্রতিরোধে বন্ধ কাজ নলছিটির রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? খানসামায় আমের গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ,বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বিকাশের অর্থ সহায়তায় জড়িত থাকার তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত বেনাপোলের এতিম লিটনকে বাঁচাতে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন চর লাঠিয়ালডাঙ্গা যেন মাদকের গ্রাম তানোরে কৃষকের আলু লুট !

সাকিবের পাশেই থাকুন

বাংলাদেশ ২০০০ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় অভিষেক টেস্ট খেলেছিল ভারতের বিপক্ষে। তারপর গত ১৯ বছরে গঙ্গা আর বুড়িগঙ্গায় অনেক পানি গড়িয়েছে। এই সময়ে পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের অনেক ভালো সময়, খারাপ সময় গেছে; কখনো জিতেছে, কখনো হেরেছে। এই সময়ে বাংলাদেশ সব দেশেই পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেছে। কিন্তু ভারত কখনোই বাংলাদেশকে একটা পূর্ণাঙ্গ সিরিজের জন্য আমন্ত্রণ জানায়নি। নিকট প্রতিবেশী ও বন্ধু হিসেবে ভারতের সুযোগ ছিল এবং উচিত ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট উন্নয়নে সহযোগিতা করার। কিন্তু সহযোগিতা তো করেইনি, উল্টো বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে টেনে থামানোর চেষ্টা করেছে। ১৯ বছর পর হলেও ভারত বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। দুটি টেস্ট আর তিনটি টি-২০ খেলতে ভারত সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সফরটি আরো গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ আগে আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি কলকাতায় ইডেন টেস্ট দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজকে সামনে রেখে সাজ সাজ রব উঠেছিল। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন টালমাটাল।

একের পর এক ঘটনায় ক্রিকেট এখন অস্থির ক্রিকেট। একটা যেতে না যেতেই আরেকটা। দম ফেলে ঠান্ডা মাথায় ভাবারও সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ২১ অক্টোবর সাকিবের নেতৃত্বে ত্রিকেটারদের ১১ দফা পেশ এবং তাৎক্ষণিক ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে শুরু। পরদিন বিসিবি প্রধানের কঠোর প্রতিক্রিয়া। তারপর দিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নমনীয় হন বিসিবি প্রধান। রাতেই সমঝোতা হয়ে যায়। কিন্তু দুদিন বাদেই আবার হাঙ্গামা। নিয়ম না মেনে গ্রামীণফোনের সাথে চুক্তি করার অভিযোগে সাকিব আল হাসানকে কারণ দর্শাতে বলেছে বোর্ড। ভারত সফরের আগে দলের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। ক্রিকেটারদের আন্দোলন, সাকিবকে শোকজের ঘটনাকেই মিডিয়া লিখছিল, বোমা হিসেবে। কিন্তু এখন দেখছি এসবই আসলে পটকা। আইসিসি রীতিমত পারমাণবিক বোমা নিয়ে বসে ছিল। বাংলাদেশের ভারত সফরের ঠিক আগের দিন সন্ধ্যায় আইসিসি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দিল, জুয়াড়ীদের সাথে যোগাযোগের তথ্য গোপন করায় সাকিব আল হাসান দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ।

এরমধ্যে একবছর তিনি কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। আর পরের এক বছর হলো, স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। পরের বছরটায় তিনি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। সাকিব বাংলাদেশের জন্য কতটা, সেটা গত বিশ্বকাপে গোটা বিশ্ব দেখেছে। নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী ব্রিফিঙে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনও বলেছেন, সাকিব এমন একজন খেলোয়াড়, যার কোনো বিকল্প নেই। আসলেই সাকিব মানে দুইজন সেরা খেলোয়াড়। কখনো কখনো সাকিব একইসঙ্গে দলের সেরা ব্যাটসম্যান ও সেরা বোলার। এমন একজন খেলোয়াড়ের আসলে বিকল্প হয় না। কিন্তু নিজের ভুলে সাকিব আজ ক্রিকেট থেকে দূরে। সাকিবের না থাকাটা বড় ধাক্কা, কিন্তু ভারত সিরিজের ঠিক আগে হওয়াতে ধাক্কাটা আরো অনেক বড় হয়ে এসেছে। সাকিব নেই, তামিম নেই; দল ছন্নছাড়া। নতুন অধিনায়ক। সব মিলিয়ে ভারত সফরটা বিপর্যয়ের হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। ভারত সফরের আগের দিনেই সাকিবের নিষেধাজ্ঞাটা কোনো বড় ষড়যন্ত্রের অংশ কি-না আলোচনা আছে তা নিয়েও।

বাংলাদেশের কাছে ভারত সফরের চেয়েও বড় বিষয় এখন সাকিব। একটা সফরের চেয়ে সাকিব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মের তুঙ্গে থাকা সাকিবের একবছর না থাকাটা শুধু বাংলাদেশ নয়, ক্রিকেটের জন্যই বিশাল ক্ষতি। তবে সাকিব কথা দিয়েছেন, তিনি আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবেন। তবে সেই ফিরে আসার জন্য তিনি সবার সহায়তা চেয়েছেন। আসলেই এই দুঃসময়ে সবাইকে তার পাশে থাকতে হবে। সুখের কথা হলো, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমজনতা সবাই সাকিবের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। আমরা সবাই আছি সাকিবের পাশে, ক্রিকেটের পাশে।

আরেকটা সুখের কথা হলো সাকিব তার ভুল বুঝতে পেরেছেন। আইসিসির কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে সাকিব বলেছেন, ‘যে খেলাটি ভালোবাসি, সেখান থেকে নিষিদ্ধ হয়ে আমি অবশ্যই অসম্ভব কষ্ট পাচ্ছি। কিন্তু আমার কাছে অনৈতিক প্রস্তাব আসার পরও না জানানোর ফলে আমার শাস্তি আমি মেনে নিয়েছি। আইসিসির দুর্নীতিবিষয়ক কমিটির দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে। এ ঘটনায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করার অঙ্গীকার করে সাকিব বলেছেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ ক্রিকেটার ও সমর্থকের মতো আমিও চাই দুর্নীতিবিরোধী খেলার পরিবেশ। আমি আইসিসির দুর্নীতিবিষয়ক কমিটির সঙ্গে এ ব্যাপারে কাজ করার অপেক্ষায় আছি। তরুণ ক্রিকেটারদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেব এবং নিশ্চিত করতে চাই, তরুণ ক্রিকেটাররা আমার ভুল থেকে শিক্ষা নেবে।’ এটাই আসল কথা। সাকিবরা আমাদের শিশুদের, তরুণদের আদর্শ। তারা যেন কোনো ভুল বার্তা না পায়। তাই আমাদের চাওয়া একবছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাকিব ফিরে আসুক শুদ্ধ হয়ে, সবার আইডল হয়ে।

চলুন আমরা দিন গুণতে থাকি। ৩৬৫ দিন তেমন বেশি নয়। ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর সাকিব আবার মাঠে ফিরবেই রাজার বেশে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38333994
Users Today : 4097
Users Yesterday : 6494
Views Today : 14247
Who's Online : 47
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/