বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বোদা উপজেলা ফুটবল একাডেমীর ৫ জন প্রমিলা ফুটবলারের প্রিমিয়ার লীগে খেলার সুযোগ শিবগঞ্জে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন বিভাগীয় প্রধান ছাড়াই চলছে বেরোবির একাউন্টিং বিভাগ: ভোগান্তি চরমে চলতি বছর বাজারে আসা ছয় ফ্ল্যাগশিপ ফোন করোনাকালে বাংলাদেশের বাজারে ছয় ফ্ল্যাগশিপ ফোন মেলান্দহে উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বসতবাড়ি জবর দখল কয়েকশ বৃক্ষ নিধন ও মাছ লুট ছাতকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরন অভিযান ১২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন মোড়েলগঞ্জ- শরণখোলায় আমন ফসলে কারেন্ট পোকার আক্রমন কৃষক দিশেহারা আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে উলিপুরে আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা  বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদ্বোধন বোরোসহ শীতকালিন ফসল চাষ আত্রাইয়ে ২৮ হাজার ৩শত ৬৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ত্রিশালে অনলাইন প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে গাছের চারা ও মাস্ক বিতরণ বাগেরহাটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি ১০ বছর শিকল বন্দী হাফিজুলের চিকিৎসার জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন বড়াইগ্রামে পুলিশ পরিদর্শক তৌহিদুলের পদোন্নতি ও বিদায় সংবর্ধনা বিভাগীয় প্রধান ছাড়াই চলছে বেরোবির একাউন্টিং বিভাগ: ভোগান্তি চরমে

সাতবাড়িয়ার আলোকিত মনীষী হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল মান্নান (রাহঃ)

– – – – সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্
ভূমিকা:
১৭০০ শতাব্দীর শুরুর দিকে সুদূর বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচার ও তৎকালীন সরকারের আমন্ত্রণে কাজীউল কুজাত (বিচারক) পদে বার আওলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রামের দক্ষিণ তীরবর্তী চন্দনাইশের সাতবাড়ীয়া গ্রামে আসেন হযরত কাজী সৈয়দ মাওলানা ক্বারি ছানাউল্লাহ্ (রাহঃ)। তিনি এই অঞ্চলে এসে বিচার কাজ, ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রাখেন এবং বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ওনারই বংশে আরো অনেক খ্যাতনামা অলিয়ে কামেলগন জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পীরে তরিকত, রাহনুমায়ে শরিয়ত, হযরত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল মান্নান (রাহঃ) এই বংশেরই উজ্জল নক্ষত্র।
শুভাগমন ও বংশপরম্পরা :
১৯০০ সালের শুরুর দিকে তিনি সাতবাড়ীয়া গ্রামের ক্বারি বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হযরত মাওলানা সৈয়দ মাহমদুর রহমান (রাহঃ), তিনিও উচুস্তরের বুযূর্গ ছিলেন। মাতা – সৈয়দা আমিনা খাতুন যুগের রাবেয়া বসরী। দাদা হযরত সৈয়দ মাওলানা ক্বারি আব্দুল ফাত্তাহ শাহ (রাহঃ) অত্যন্ত কামেল বুজুর্গ হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। ওনার অলৌকিক ঘটনার কথা লোকমুখে আজো শুনা যায়। তাছাড়া হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল ফাত্তাহ শাহ (রাহঃ) এর তিন ভাই – হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল হাকিম শাহ (রাহঃ), হযরত সৈয়দ মাওলানা গোলাম সোবহান শাহ (রাহঃ), হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল হাই শাহ (রাহঃ) নিজ নিজ খ্যাতিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তাদের মধ্যে হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল হাই শাহ (রাহঃ) সুদূর কক্সবাজার গিয়ে বসতি স্থাপন করেন এবং ওখানেই ইন্তেকাল করেন। বর্তমানে ওনার মাজার ও বংশধারা সেখানেই বিদ্যমান রয়েছে।
শিক্ষা জীবন :
মাওলানা সৈয়দ আব্দুল মান্নান বাল্যকাল থেকে অত্যন্ত মেধাবী, পরহেজগার জীবনযাপনে গ্রামের মক্তব ও মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে আপন মামা – চন্দনাইশের হাশিমপুরের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সৈয়দ আবদুল জলিল (রাহঃ) এর তত্তাবধানে তৎকালিন সুবিখ্যাত কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা হতে কৃতিত্বের সাথে টাইটেল পাশ করে পাগড়ি নিয়ে ফিরে আসেন।
অবয়ব ও স্বভাব চরিত্র :
হযরত সৈয়দ আব্দুল মান্নান (রাহঃ) এর শারিরিক গঠন ছিল খুবই সুন্দর। মুখমণ্ডল ফর্সা হালকা লম্বাকৃতির। চেহারা দিয়ে সবসময় নুরানি আলো বিচ্ছুরিত হতো। অনেকে এটাও বলেছেন – ওনি অন্ধকারে হাটলে আর আলোর প্রয়োজন হতোনা। আদব, আখলাক, শিষ্টাচার, সত্যবাদিতায় তিনি প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিঃ), আউলিয়ায়ে কেরাম (রাহঃ) ও মহাপুরুষদের অনুসরণ করতেন। পুরো সাতবাড়িয়া সহ চন্দনাইশের ছোট বড় সবার শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। চাকুরীক্ষেত্র বহদ্দার হাট ফরিদার পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক হযরতকে অত্যন্ত ভক্তি করতো। তিনি চাকুরীজীবনে ফরিদার পাড়ার তৎকালিন সময়ে সমাজসেবক ও প্রখ্যাত জমিদার এনাম সওদাগরের বাসায় লজিং হিসেবে থাকতেন। ওই বাড়ীর জীবিত সদস্যদের বর্ণনামতে – ওনাকে এলাকাবাসী হুজুর দাদা বলে সম্মোধন করতো। প্রতিদিন স্কুল শেষে আমাদের কাচারি ঘরে আশেপাশের ছেলেদের পড়াতেন। সন্ধ্যায় বের হতেন, রাত ৮/৯ টার মধ্যে ফিরে আসতেন। রাতে খেয়ে ঘুমাতেন না। বেশীরভাগ ইবাদত বন্দেগীতে সময় অতিবাহিত করতেন। ফরিদার পাড়া থেকে বহদ্দার হাট, সবার পরিচিত মুখ ছিলেন হুজুর দাদা।
শিক্ষকতা ও আধ্মাত্বিক সাধনা:
দেশে এসে তিনি চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ফরিদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটানা ৬০ বছর প্রধান ধর্মীয় শিক্ষকের দায়িত্ব পালন ও পাশাপাশি সাতবাড়ীয়া আশরাফ মুহরিহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় প্রায় মাওলানা সাহেব খুলনা দরবার শরীফে যেতেন এবং উক্ত দরবারের প্রাণপুরুষ গাউসে জামান হযরত শাহ আব্দুল আজিজ (রাহঃ)র সাথে ওনার ছিল সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। একদিন খুলনবী হযরত তাকে ডেকে খেলাফত ও এজাজত প্রদান করতঃ দক্ষিণের চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাতকানিয়া ধর্মপুর দরবার শরীফে যেতে বলেন, উক্ত দরবারের প্রাণপুরুষ হযরত কাযী সৈয়দ মাওলানা ইসলাম শাহ চাঁটগামী (রাহঃ) ও ওনাকে খেলাফত ও নক্সবন্দীয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার বায়াত করানোর জন্য এজাজত দান করেন। এরপর তিনি আধ্মাত্বিক সাধনায় মগ্ন থাকেন। সাতবাড়ীয়ার পলিয়াপড়া, ধনারপাড়া, উত্তর জাফরাবাদ সহ চন্দনাইশের বিভিন্ন জায়গায় ওনার অসংখ্য মুরিদান রয়েছে । তার সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে ছিলেন সাতবাড়ীয়া তথা সারা বাংলার অহংকার হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ফখরে বাংলা (রাহঃ) অন্যতম। তিনি ফখরে বাংলার সাথে অনেক মাহফিলেও অংশগ্রহণ করেন, এমনকি বার্মা পর্যন্ত গিয়ে বিরল সম্মানের অধিকারী হন। ফখরে বাংলার ইন্তেকালের আগে ওনার পাগড়ি ও টুপি মোবারক মাওলানা আব্দুল মান্নানকে দিয়ে যান।  (বর্তমান তার ওনার ঘরে এটি সংরক্ষিত আছে)।
কারামাত :
আউলিয়ে কেরাম (রাহঃ) এর কারামাত চিরসত্য। এগুলো অস্বীকারকারীরা নিশ্চয় পথভ্রষ্ট ও গোমরাহ সম্প্রদায়। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ওনাদের অলৌকিকত্ব প্রকাশ পায় মানুষ যাতে করে এই বান্দাদের বেশী পরিমাণে ভক্তি, শ্রদ্ধা করে। হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল মান্নান শাহ (রাহঃ) এর জীবদ্দশায় ও ইন্তেকালের পর অসংখ্য কারামাত প্রকাশ পেয়েছিল সেগুলো থেকে মাত্র দুইটি বরকতের জন্য তুলে ধরছি –
ক্ষেতের সব বেগুন পোকায় ধরে গেল :
——————————————————
উক্ত ঘটনার সাক্ষী এখনো অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী বেঁচে আছেন। ওনি প্রতি বৃহস্পতিবার শহর থেকে বাড়ি আসলে শুক্রবার পার্শ্ববর্তী আশরাফ মুহরি হাটে বাজার করতে যেতেন। সাথে বাজার করার আথা – ঝুড়ি সদৃশ (চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায়) বহন করার জন্য দুই/একজন সার্বক্ষণিক থাকতেন। বাজারের সব দোকানী সহ ওনার সাথে থাকাদের বর্ণনামতে – যে জিনিসটা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতেন কোন দরদাম ছাড়া নিয়ে নিতেন। একদিন এমনি এক শুক্রবারে হাটে গেছেন। অন্য তরকারি নেয়ার পর বেগুন নেয়ার জন্য পলিয়াপাড়ার জনৈক বিক্রেতার কাছে গেলেন বেগুন নেয়ার জন্য। বিক্রেতা ও ওনাকে না চিনে যত পোকা ওয়ালা বেগুন ছিল অর্ধেক ঝুড়িতে ভর্তি করে দিলেন। বাড়ি এসে হযরতের বিবি ঝুড়ি খুলে রাগান্বিত হলে ওনি অত্যন্ত নরম ভাষায় বললেন – বেচারার হয়তো ভালো ছিলনা তাই এসব দিয়েছে। ওদিকে সেই বিক্রেতা বেচাকেনা করে বাড়ি গিয়ে দেখে তাঁর ক্ষেতের একটা বেগুন ও ভালো নেই। সব পোকায় ধরেছে। মাথায় হাত দিয়ে কান্না করতে করতে ছুটলেন ওনার খোঁজে (যাকে পোকা বেগুন দিয়েছিলেন)। বাড়ি এসে খোঁজ পেয়ে পায়ে ধরে কেঁদে কেঁদে মাফ চাইলেন এবং দোয়ার পানি নিয়ে গেলেন ক্ষেতে ছিটানোর জন্য। ঠিকই পানি ছিটিয়ে দেয়ার পর আবার পূর্বের ন্যায় ভালো হয়ে যায়।  সেই বিক্রেতা আজো স্মৃতি নিয়ে জীবিত আছে এবং চাষ করে ক্ষেতে উৎপাদিত প্রথম ফসলটি আমাদের ঘরে দিয়ে যায়।
রতনে রতন চিনে :
————————-
সাতবাড়িয়ার আরেকজন প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ও সুফি সাধক হযরত মাওলানা সৈয়দ মুফতি মাবুদুল হক আল হাফেজনগরী মাইজভান্ডারি (রাহঃ) ডাবল টাইটেল গোল্ড মেডেলিস্ট, উর্দু আদিব তৎকালীন সময়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম জুড়ে সুপরিচিত মনীষী ছিলেন। তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞান আহরণের অন্যতম পীঠস্থান হাফেজনগর দরবার শরীফের অন্যতম রাহবার ছিলেন৷ তাঁর সাথে হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল মান্নান শাহ (রাহঃ)’র ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্য ও হৃদ্যতা। মুফতি সাহেব কোথাও মোনাজারা (তর্কযুদ্ধে) গেলে ওনার সাথে বসে কী করলে কী হবে তা আলোচনা করতেন এবং কিতাবাদী নিয়ে যেতেন। তাছাড়া সুদূর হাফেজনগর থেকে ঘোড়া ছুটিয়ে মুফতি সাহেব হযরতকে দেখতে আসতেন। হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল মান্নান শাহ (রাহঃ) যখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটাতে লাগলেন এমনই একদিন মুফতি সাহেব ওনাকে নিজ বাড়ীতে দেখতে আসলেন৷ অনেক্ক্ষণ কথাবার্তা, কুশল বিনিময়ের পর প্রস্থানের সময় হযরতের কানের কাছে গিয়ে মুফতি সাহেব বললেন – ” অনে যওন। আঁইও আইর (আপনি যান। আমিও আসতেছি) ” এই কথা বলার পর ওনি বিদায় নিয়ে চলে আসলেন। ঠিকই এর কিছুদিন পর হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল মান্নান শাহ (রাহঃ) ইন্তেকাল করলেন এবং তার-ও কিছুদিন পর হযরত সৈয়দ মাওলানা মুফতি মাবুদুল হক হাফেজনগরী (রাহঃ) ইন্তেকাল করলেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
[উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এখনও জীবিত আছেন]
ইন্তেকাল ও ওরশ মোবারক :
জীবনে প্রিয় নবীর সুন্নাত ও ইবাদত বন্দেগীতে নিমগ্ন থেকে এ মহা মনীষী ২ রবিউল আওয়াল, ১৪ই অক্টোবর ২৭শে আশ্বিন ১৯৮৮ সালে মহান আল্লাহ”র ডাকে সাড়া দেন। মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ ইন্তেকালের পরও জীবিত থাকেন। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল মান্নান শাহ (রাহঃ) দুনিয়া থেকে যেদিন পর্দা করেছেন শরীর মোবারকে দেহ কবরস্থ না করা পর্যন্ত প্রচুর ঘাম পড়তে দেখা যায়। যা উপস্থিত সকলেই প্রত্যক্ষ করেন। প্রতি বছর ওনার ওরশ দরবারে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অনুষ্ঠিত হয়।
সাংসারিক জীবন ও সন্তান / সন্ততি:
প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র সুন্নাত অনুযায়ী তিনি চন্দনাইশের বড়মা সেবন্দী সৈয়দ বাড়ী নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী মরহুম সৈয়দ আব্দুল জব্বারের সৎচরিত্র কন্যা মরহুমা সৈয়দা মালেকা খাতুনের সাথে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে দুই কন্য, মোছাম্মৎ জোহরা আক্তার ও মোছাম্মৎ খালেদা আক্তার ও তিন পুত্র সন্তান রেখে যান। বর্তমানে তিনপুত্র ও প্রয়াত হয়েছেন! এছাড়াও কয়েকজন ছেলে/মেয়ে শিশু অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মরহুম সৈয়দ মুহাম্মদ হাবিবউল্লাহ্ জাহিদ (মিঞা) (১৯৪৩-২০০২) :
বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ জাহিদ (মিঞা) একাত্তরের রণাঙ্গনের এক অকুতোভয়, দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধা। ষাটের দশকে বামপন্থী রাজনীতি দিয়ে শুরু হলেও ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগদান। ৭০-এর উত্তাল গণআন্দোলনে জননেতা মরহুম এম,এ,আজিজ এর নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগে। ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন এবং ২ নং সেক্টরে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ (চট্টগ্রাম বিভাগ) -এ বলিষ্ঠ কন্ঠ রেখেছেন। ৮০-র দশকে প্রতিষ্ঠা করেন বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সংগঠন ‘সমন্বয়’, যা অবশ্য আজ বিলুপ্ত। ২০০২ সালের ৫ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন।
মরহুম সৈয়দ মুহাম্মদ আহমেদ উল্লাহ : (১৯৫৯-২০২০)
মেজ ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ আহমদ উল্লাহ দেশে শিক্ষা গ্রহণ শেষে দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে চাকরি শেষে কিছুদিন সেখানে অবস্থান করেন৷ এরপর শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসার জন্য ২০২০ সালের ২৯ শে জানুয়ারি সপরিবারে দেশে আসেন। বাংলাদেশে এসে শরীর ক্রমশ খারাপ হতে থাকে।চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর ২১ শে ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মরহুম সৈয়দ মুহাম্মদ ছানাউল্লাহ্ : (১৯৬১-২০১২)
(অধম লেখকের শ্রদ্ধেয় আব্বাজান) চট্টগ্রাম পিডিবি (ওয়াপদা) তে চাকরী করতেন। তিনিও একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে শ্রদ্ধেয় ও সুপরিচিত ছিলেন। সাতবাড়ীয়ায় আওয়ামী রাজনীতিকে সুসংঘটিত করার ক্ষেত্রে তিনি অসামান্য ভূমিকা রাখেন। ছিলেন চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ বাকলিয়া জোনের কার্যকরী সভাপতি ও সাতবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দুইবারের সভাপতি ও পরবর্তীতে ইউনিয়ন আওয়ামীগের সদস্য। তিনি পটিয়া তথা সারা বাংলায় সৎ পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংঘটক, অবিভক্ত চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামীগের সাবেক প্রচার এবং দপ্তর সম্পাদক, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মরহুম মিয়া আবু মোহাম্মদ ফারুকীর তৃতীয় জামাতা। ২০১২ সালের ২৭ শে নবেম্বর মাত্র ৫২ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন ।।
সাফাত বিন ছানাউল্লাহ্
কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক
সাতবাড়ীয়া,খন্দকার পাড়া,চন্দনাইশ,চট্টগ্রাম
সদস্য : চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরসি)

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37861023
Users Today : 1063
Users Yesterday : 4301
Views Today : 5817
Who's Online : 40
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone