ল্যান্ডলাইনের যুগে টেলিফোন ডাইরেক্টরি হাতড়ে হাতড়ে অজানা নম্বরে ফোন করে কাউকে বিরক্ত করা ছিল বাচ্চাদের প্রিয় কাজ। বেলা বোসের নম্বরও মিলিয়ে অঞ্জন দত্তকে বিয়ে করার আবেদন যেত। আজ এই ব্যস্ততার দিনে কাউকে বিনা কারণে ফোন করার মতো সময়ও মানুষের নেই। কিন্তু দিল্লির এক যুবক সারাদিনে প্রায় ২০০টি করে অপরিচিত ফোন পাচ্ছেন। খোঁজ নিচ্ছেন সানি লিয়নের।

আপনি অবাক হবেন না, যদি সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘অর্জুন পাটিয়ালা’ সিনেমাটি দেখেন। এই সিনেমাতেই একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার হয়েছে, যেটি দেখানো হয়েছে সানি লিয়নের নম্বর বলে। আর তারপর থেকেই প্রতিদিন প্রায় গড়ে ২০০ জন খোঁজ নিচ্ছেন সানি লিয়নের।

আর যিনি এই নম্বরের আসল মালিক, দিল্লির পীতমপুরার পুনিত আগরওয়ালের(২৭) প্রাণ ওষ্ঠাগত। প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি, ২৬ জুলাই থেকে হঠাত্ করে এত অচেনা নম্বর থেকে কেন ফোন পাচ্ছেন। আর তাঁকে ফোন করে কেন সবাই সানি লিয়নকে খুঁজছেন। আর শুধুতো ফোন করে খোঁজ নেওয়াই নয়, তাঁদের দাবি সানি লিয়নের সঙ্গে কথা বলাতে হবে, সঙ্গে কু-ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে জীবন জেরবার পুনিতের।

 

তবে বাঙালির কাছে এই ঘটনা একেবারে অচেনাও নয়। কারণ অ়ঞ্জন দত্ত তাঁর গানে বেলা বোসের নম্বর হিসেবে একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর ব্যবহার করেন, “হ্যালো এটা কি ২৪৪-১১-৩৯?দিন না ডেকে বেলাকে একটি বার…”

তবে পুনিত বিষয়টি নিয়ে মোটেই মজা পাচ্ছেন না। পাওয়ার কথাও নয়, কারণ অজানা নম্বর থেকে যদি সারা দিনে ২০০টি ফোন আসে আর, সেগুলি থেকে যদিঅশ্লীল কথা বলা হয় তবে কে বা আর মজা পাবেন! বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগও করেছেন পুনিত। তবে তাঁর অভিযোগ, সমস্যার সুরাহা করাতো দূরের কথা, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কোনও আশ্বাসও দেয়নি। তাই পুনিত এখন ভাবছেন, ‘অর্জুন পাটিয়ালা’-র নির্মাতাদের কোর্টে নিয়ে যাবেন।