সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বেঁচে থাকলে পহেলা বৈশাখ-ঈদ অনেক পাবেন: ওমর সানী লক্ষ্মীপুরে বেড়িবাঁধ সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়িদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করলেন এডভোকেট নয়ন সাকিবকে কলকাতার একাদশে রাখেননি বিশপ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চলবে সপ্তাহে তিনদিন সৌদি আরবে মঙ্গলবার থেকে রোজা শুরু বাংলাদেশি শিক্ষকদের আমেরিকান ফেলোশিপের আবেদন চলছে ঘরের কোন জিনিস কতদিন পরপর পরিষ্কার করা জরুরি কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন, পায়ুপথে মাছ ঢুকানোর চেষ্টা পদ্মায় ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বোনের ৭ দিনের সাধারণ ছুটির ঘোষণা আসতে পারে টার্গেট রমজান মাস তৎপর হয়ে উঠেছে ‘ভিক্ষুক চক্র’ মামুনুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে মিলেছে ৩ ডায়েরি এই ফলগুলো খেয়েই দেখুন!

সাপাহারে মিশ্র ফল বাগানে কৃষক সাখাওয়াত হাবীবের ভাগ্য বদল

 

বাবুল আকতার,সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার
সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলা ইতো মধ্যে কৃষিপণ্য নির্ভরশীল
এলাকা হিসেবে সারা দেশে সুনাম অর্জন করেছে । এরই
ধারাবাহিকতায় অন্যের জমি লীজ নিয়ে মিশ্র ফল বাগান তৈরী করে
উপজেলার ফুটকইল গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা কৃষক সাখাওয়াত
হাবিব এখন কোটিপতি। একই সাথে তার আম ও বরই বাগানে
দিন মজুরীর কাজ করে খেয়ে পরে সুখে দিন কাটাচ্ছে এলাকার
প্রায় প্রায় শতাধীক পরিবার।
তার আম গাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে চার ফুট উচ্চতার একেকটি
গাছ। ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে বরই। পরিপক্ব বরইগুলো
দেখতে অনেকটা লাল ও সবুজাভ আপেলের মতো। ৯৬ বিঘার বিশাল
এই বাগানে এবারই প্রথম বরই ধরেছে। এক সপ্তাহ ধরে বরই বিক্রি
শুরু করেছেন কৃষক সাখাওয়াত। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ মণ বরই
নামছে তার বাগান থেকে। এবার বরই বিক্রি করে তিনি কোটি
টাকা আয় করবেন বলে আশা করেছেন।
গত বছর আমের মৌসুমে মিশ্র ফলের এই বাগান থেকে ২৫ লাখ
টাকার আম বিক্রি করে ছিলেন সাখাওয়াত। মিশ্র ফল বাগান করে

সাখাওয়াত এলাকার অন্যান্য কৃষকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার
এই বাগান দেখে দ‚র-দ‚রান্ত থেকে প্রতিদিন বহু লোক আসেন।
অনেকে তাঁর কাছ থেকে মিশ্র ফল বাগান তৈরীর পরামর্শ গ্রহণ
করেন।
তার বিশাল এই মিশ্র ফল বাগানটি উপজেলা সদর থেকে চার
কিলোমিটার দ‚রে শিরন্টি ইউনিয়নের ফুটকইল গ্রামের পাশে
অবস্থিত। ৯৬ বিঘা জমি জুড়ে দুই বছর আগে গড়ে তোলা এই
বাগানে আম্রপালি, আশ্বিনা, বারিফোর ও গৌড়মতি জাতের আম
গাছ রয়েছে। তবে আম্রপালি জাতের আমগাছই বেশি। আম
গাছের সারির ফাঁকা জায়গায় লাগিয়েছেন বল সুন্দরী, কাশ্মেরী
আপেল, বেবি কুল, সেডলেস ও থাইকুল জাতের বরই গাছ। ১১ হাজার
৭০০টি বরই গাছের মধ্যে বল সুন্দরী জাতের বরই গাছই বেশি।
স¤প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতার
আমের গাছের সারির মাঝে চার থেকে সাড়ে চার ফুট উচ্চতার
একেকটি বরই গাছ। এসব গাছের ডালে থোকায় থোকায় ধরে
আছে বরই। আমের গাছগুলোতে মুকুল এসেছে। বিশাল সেই
বাগানে ১০-১২ জন করে শ্রমিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গাছ
থেকে পাকা বরই ছিঁড়ছেন। বাগান থেকে সদ্য তোলা বরই কিনতে
রাজশাহী ও পাবনা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন।
সাখাওয়াত হাবিব জানান, তিনি বছরে প্রতি বিঘা জমি ৩০
হাজার টাকা চুক্তিতে ২০১৮ সালে ফুটকইল গ্রামের ওই মাঠে ৯৬
বিঘা জমি ১২ বছরের জন্য লীজ নেন। ওই বছরেই ইজারা নেওয়া
জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ১২ হাজার ৮০০টি আমের গাছ
লাগান। গত বছর ফেব্রæয়ারি মাসের দিকে সেই বাগান
পরিদর্শনে এসে সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আম গাছের
সারির ফাঁকা জায়গায় উন্নত বরই গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।
তাঁর পরামর্শ মতো তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবণ নগর ও
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বরই গাছের চারা সংগ্রহ করেন এবং আম
গাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে ১ ফুট লম্বা সমপরিমাণ ১১ হাজার

৭০০ টি বরই গাছের চারা রোপন করেন। গত বছরের মে মাসে তিনি
এসব চারা রোপন করেন ৯৬ বিঘা জমিতে বরই চাষ করতে তাঁর
প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ লাখ টাকার
বরই বিক্রি করেছেন তিনি। আরও অন্তত ৯০ লাখ টাকা পাবেন বলে
আশা করছেন।
তিনি আরও জানান, ২০০৭ সালে তাঁর নিজের একটি
মোটরসাইকেল ও মায়ের দেওয়া একটি গাভী বিক্রি করে ১ লাখ ১০
হাজার টাকায় পতœীতলায় নির্মইল এলাকায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে
১২ বিঘার একটি আমের বাগান তিন বছরের জন্য লীজ নেন। ওই
বাগান পরিচর্যা করে পরের বছরই সেই বাগানের আম বিক্রি করে
তিনি ৪ লাখ টাকা আয় করেন। লাভের সেই টাকা দিয়ে ১২ হাজার
টাকা বিঘা চুক্তিতে ১২ বছরের জন্য নির্মইল এলাকায় আরও ২০
বিঘা জমি ইজারা নেন। সেখানে গড়ে তোলেন আমের বাগান।
এরপর প্রতি বছর তাঁর পুঁজি বাড়তে থাকে। সাপাহার উপজেলার
ফুটকইল এলাকার ৯৬ বিঘার ওই মিশ্র ফল বাগান ছাড়াও সাপাহার ও
পার্শ্ববর্তি পতœীতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে
তাঁর ৩৫০ বিঘার আম বাগান রয়েছে।
বরেন্দ্র এলাকায় উৎপাদিত বরই বেশি সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা
অনেক তাই বেশী চাষ হচ্ছে । আম লাভজনক হলেও চারা লাগানোর
প্রায় দুই বছর পর ফল ধরে। মিশ্র ফল বরই অল্প সময়ে পাওয়া যায়।
অধিক লাভের আশায় বরই চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়ি। এ বছর
প্রতিমণ বরই পাইকারি দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেই
হিসেব অনুযায়ী এককোটি টাকা ফল বিক্রি হবে বলে তিনি
জানিয়েছেন।
সাখাওয়াত হাবিব এর সাফল্যে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া
পড়েছে। এলাকার অনেক যুবক বরই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
অন্যান্য ফসলের তুলনায় মিশ্র চাষ অধিক লাভজনক। মিশ্র বাগানে
তেমন কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। প্রথমে গাছ লাগানো

এবং জমি তৈরির পর কীটনাশ ও যৎসামান্য পরিচর্যা ছাড়া কঠিন
কোনো পরিচর্যা করতে হয় না।
শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, আমি বদলগাছি উপজেলা থেকে
বাগানটি দেখতে এসেছি। অনেকের মুখ থেকে শুনেছি
সাখাওয়াত হাবিব এর বাগানের কথা। এখানে এসে অনুপ্রেরণা
পেলাম এবং অন্যেকে তার সফলতার গল্প বলবো বাগানটি সম্পর্কে।
বাগানটি সকলকে একবার এসে দেখে যাওয়া উচিৎ কারণ
অনুপ্রেরণা পাবার জন্য। আমি নিজেও একটি বাগান করবো
সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেখার পর। খুব সুন্দর পরিবেশ এখান থেকে
প্রত্যেকের শিক্ষা নেয়া উচিৎ একজন বেকার যুবক কৃষি কাজ
করে কোটিপতি হতে পারে তার জলন্ত উধাহরণ। সব চাইতে বড় কথা
নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না।এতো সুন্দর একটি
বাগান চমৎকার দৃশ্য যা কল্পনাও করা যায় না।
কর্মরত কৃষি শ্রমিকগণ জানান, এখানে জমির বেড তৈরি ,
পানি সেচ , আম ভাঙ্গা, বরই ভাঙ্গা সহ সব ধরনের কাজ বছর জুড়ে
তারে করে থাকে। প্রতিদিন ৪০০ টাকা আয় আসে ওই বাগান
থেকে।
ফল বিক্রেতা হারুন-অর রশীদ বলেন, আমি মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী
সাখাওয়াত হাবিব ভাই এর বাগান থেকে বরই ও আম সহ নানা
ধরনের ফল কিনি। এতো বড় বাগান সাপাহার, পোরশার মধ্যে এটিই।
এখান থেকে ফল কিনে বরিশাল, ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট সহ
দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি করি। বরই সিজিনে
প্রতিদিন ১৫০/২০০ ক্যারেট ক্রয় করি। এই সিজিনে বরই প্রতিমন
২০০০ থেকে ২৪০০ টাকায় কিনছি। তিনি অন্য কারো কাছে ফল
বিক্রি করে না তাই লাভের অংশটা বেশি থাকে।
সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন,
সাখাওয়াত হাবিব যেন আরও বেশি লাভবান হতে পারেন এজন্য আমি
তাঁর আম বাগানের ফাঁকা জায়গা ফেলে না রেখে সেখানে বরই

চাষ করার পরামর্শ দিয়ে ছিলাম। এখন তিনি তাঁর উপকারিতা
পাচ্ছেন এবং তাঁর দেখাদেখি অন্যান্য কৃষকেরাও অনুপ্রাণিত
হচ্ছেন। বহু কৃষক সাখাওয়াতের মতো মিশ্র ফল বাগান গড়ে তোলার
জন্য আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে আসছেন। আমের পাশাপাশি
প্রতি বছরই উপজেলায় বরই চাষ বাড়ছে। বর্তমানে উপজেলায় ৪০
হেক্টর জমি জুড়ে বরই চাষ হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38442367
Users Today : 578
Users Yesterday : 1265
Views Today : 7477
Who's Online : 33
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone