মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
যে দেশে নারীদের চেয়ে পুরুষরা বেশি ধর্ষিত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ফরম বিতরণ শুরু মঙ্গলবার বিছানায় মেয়েরাই বেশি নোংরা সেনাবাহিনী যেকোনো প্রয়োজনে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত: সেনাপ্রধান সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন, জাতীয় দিবসে খোলা সকালে সহবাস করলেই অবিশ্বাস্য উপকারিতা মাদক পরীক্ষায় ধরা পড়লেন ৬৮ পুলিশ, চাকরি গেল ১০ জনের ২০০ প্লটের মালিক গোল্ডেন মনির, বাসাতেই ৬০০ ভরি স্বর্ণ করোনা ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য দাম কঠোর হচ্ছে সরকার, মাস্ক না পরলে জরিমানা ৫ হাজার টাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টুর স্মরণে পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল বরিশালের দুই পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা বরিশালে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ধসঢ়;ঘাটন হয়নি ॥ বাড়ছে লাশের সংখ্যা কুড়িগ্রামের বাঁশজানি সীমান্তে এক বাংলাদেশীকে আটক করেছে বিএসএফ সিলেট অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নতুন মাত্রা কৈতক ট্রমা সেন্টার  –মুহিবুর রহমান মানিক এমপি

হেমন্তেই শীতের আমেজ: উষ্ণতার খোঁজে কদর বেড়েছে গাইবান্ধার ধুনকরদের

 

বায়েজীদ (গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি) :

ঋতু পরিবর্তনজনিত কারনে এবার হেমন্তেই মিলছে শীতের আমেজ। কুয়াশার শুভ্র চাদর গায়ে হামা দিতে
দিতে এগিয়ে আসছে শীত। হাড় কাঁপানো না হলেও শীতের আমেজ প্রতিদিনই বাড়ছে একটু একটু করে। দিন
যতো যাচ্ছে প্রকৃতিতে তার ছাপ ততোই স্পষ্টতর হয়ে উঠছে। দিনে রোদের উত্তাপ অনেক কমে গেছে।
সন্ধ্যায় একটু গরম কাপড় পরেই বের হতে হচ্ছে রাস্তায়। আর রাতে কম্বল বা কাঁথা না জড়িয়ে ঘুমানো
যাচ্ছে না। ভোরে ও সন্ধ্যায় পড়ছে ঘন কুয়াশা। হাওয়ায় মিলছে হিমেল স্পর্শ। পথের পাশের জংলি গাছপালা,
ঝোপঝাড়, মাঠের দূর্বাঘাস সারারাত ঝরে পড়া শিশিরে ভিজে উঠছে। আর সেই শিশিরবিন্দুতে সকালের
সোনাঝরা রোদ হীরার কুচির মতো দ্যুতিময় হয়ে ছড়াচ্ছে তার সাতরঙ বর্ণালি। শহর কিংবা গ্রামাঞ্চল
সবখানেই শীতের আমেজ পুরোদমে উপভোগ করছেন মানুষজন। তাই এরই মধ্যে চারিদিকে শুরু হয়ে গেছে
শীতবুড়িকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। পাশাপাশি এবার শীত কেমন পড়বে তা নিয়েও শুরু হয়ে গেছে নানান
জল্পনা।
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় দিনের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩০ দশমিক ১
ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এসে দাঁড়িয়েছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঋতু
পরিক্রমায় শীত আসতে এখনও এক মাস বাকি থাকলেও গাইবান্ধায় এখনই পাওয়া যাচ্ছে শীতের আমেজ।
পরিবারের লোকজন বাক্সবন্দি করে রাখা লেপ তোষক বের করছে ঠিক করার জন্য। আবার কেউ নতুনভাবে
তৈরি করাচ্ছেন। মানুষের শরীরের কাপড়ে পরিবর্তন আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাইবান্ধার
ধুনকররাও। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফিরে ধুনকররা তৈরি করেছেন লেপ-তোষক।
বিশেষ করে গত দু’দিন ধরে পাখিডাকা ভোরে ধুনকররা তুলা, কাপড় ও ধুনার নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন। কেউ
সাইকেলে, কেউবা ভ্যানে আবার কেউবা পায়ে হেঁটে ঘুরছেন জেলা শহরের গলিতে-গলিতে। সকাল থেকে দুপুর
অব্দি একটি বাড়িতে লেপ বা তোষক তৈরি করলেও অর্ডার নিচ্ছেন পরের দিনের।
ধুনকরের টুং-টাং আওয়াজ আর বাতাসে উড়ে বেড়ানো তুলা জানিয়ে দিচ্ছে শীত আসছে। ফলে জেলা শহরের
কাচারিবাজার এলাকায় লেপ-তোষক তৈরির দোকানগুলোতেও অতিরিক্ত কারিগর কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
পাড়া-মহল্লার পাশাপাশি দোকানেও কাজ চলছে পুরোদমে। তাদের ব্যস্ততার যেনো শেষ নেই।
গাইবান্ধার কাচারিবাজারের ধুনকর এন্তাজ আলী জানান, এক সপ্তাহ আগেও তেমন কাজ-কর্ম ছিল না।
কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে ভোরের হালকা কুয়াশায় শীতের আমেজ বিরাজ করছে। এতেই লেপ তৈরির অর্ডার
দেওয়া-নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। দোকানে আসার পর থেকেই অর্ডার মিলেছে বলে জানান তিনি।

অপর ধুনকর মকবুল হোসেন বলেন, এখন কেবল শুরু। আর ক’দিন পর রাত-দিন সমানতালেই কাজ করতে
হবে। বর্তমানে পুরোনো লেপ নতুনভাবে তৈরির অর্ডারই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সেই সাথে গার্মেন্টসের তুলা

দিয়ে তৈরি করা লেপও বিক্রি হচ্ছে। যার বিক্রি মূল্য সিঙ্গেল ৫শ’ টাকা। আর ডাবল লেপ ১১শ’ টাকা।
এছাড়া ভালো শিমুল তুলা দিয়ে নুতনভাবে একটি সিঙ্গেল লেপ তৈরি করতে খরচ পড়ছে ১ হাজার টাকা, আর
ডাবল লেপ তৈরিতে খরচ হচ্ছে ১৫শ’ থেকে ১৭শ’ টাকা। আর সিঙ্গেল তোষক ৬শ’ টাকা এবং ডাবল ১২শ’
টাকা দিয়ে তৈরি করানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কাচারিবাজার এলাকার ধুনকর মন্টু মিয়া বলেন, একটি লেপ তৈরিতে একজন কারিগরের সময় লাগে এক
থেকে দেড় ঘণ্টা। এভাবে একজন কারিগর দিনে গড়ে ৫ থেকে ৬টি লেপ তৈরি করতে পারেন।
দিনে ৫ থেকে ৬টি তোষক তৈরিতেও একই সময় ব্যয় হয়। তুলা ও কাপড়ের দাম বাড়ায় গত বছরের তুলনায়
এবার লেপ তোষকে ১শ’ থেকে ১শ’ ৫০ টাকা বেশি লাগছে। এছাড়া বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে
কারিগরদের মজুরিও বেড়েছে। এরপরও শীত নিবারণের জন্য মানুষ আগে থেকেই অর্ডার দিচ্ছে। সামনের
সপ্তাহ থেকে কাজের চাপ আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা জেলা শহরে সমিতিভূক্ত ১১৫ জন পেশাদার ধুনকর বংশ পরম্পরায় সাবেক জেলা জজ
কোর্টের পরিত্যক্ত এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী টেনিস কোর্টে এবং রাস্তার ধারেই পাটি বিছিয়ে খোলা
আকাশের নিচে তুলা ধুনা থেকে শুরু করে লেপ, তোষক, জাজিম বানানোর কাজ সম্পন্ন করে আসছে। এতে
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির সময়টিতে তাদের কোন কাজ করাই সম্ভব হয় না। ফলে কর্মহীন হয়ে হাত গুটিয়েই
বসে থাকতে হয়। এতে করে এই পেশা নির্ভর মানুষেরা জীবন-জীবিকা চালাতে গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে
মানবেতর জীবনযাপন করছেন।।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37854557
Users Today : 410
Users Yesterday : 1947
Views Today : 1750
Who's Online : 15
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone