মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১১:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
খানসামায় ৪২তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হওয়া ইসলামপুরে আনন্দ মিছিল বেনাপোলে শীতের আমেজে ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে জাতীয় শ্রমিকলীগ সভাপতি ফজলুল হক মন্টু স্মরণে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত সিরাজউদ্দৌলা নাট্যদলের প্রাণ পুরুষ বীরমুক্তিযোদ্ধা খসরু স্মরণে শিল্পকলা একাডেমি’র দোয়ার আয়োজন প্লীজ আপনারা সন্তানদের দিকে নজর রাখুন — পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ পালিত বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য সহজীকরনে কাস্টমস- বিজিবি-বন্দর যৌথ এন্ট্রি শাখার উদ্বোধন ডোমারে কৃষকলীগের আনন্দ শোভাযাত্রা  জামালপুরে জেলা প্রশাসনের মাস্ক বিতরণ  শ্রম আইন সংশোধন করে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যবরণকারী শ্রমিকের পরিবার কে আজীবন আয়ের মানদন্ডে ক্ষতিপুরণ প্রদানের দাবীতে মানববন্ধন শিবগঞ্জে মাস্ক ব্যবহার না করায় চার জনের জরিমানা প্রধানমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জয়পুরহাটে আনন্দ র‌্যালি দেশে ফিরলেন সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক এমপি কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাসের ধাক্কায় শিশু মৃত্যু

১৩ নভেম্বর উলিপুরে হাতিয়া গণ-হত্যা দিবস

হাফিজুর রহমান সেলিম,উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
 শুক্রবার ১৩ নভেম্বর কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার প্রায় ৬ লক্ষ মানুষের অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক দিন “হাতিয়া গণহত্যা দিবস” ১৯৭১ সালে এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী জঘন্ন, নৃশংস ও নারকীয় হত্যাকান্ড চালিয়ে ৬‘শ ৯৭ জন নিরপরাধ মানুষকে জড়ো করে পাখির ঝাকের মত গুলি করে হত্যা করেছিল। সে দিনের সেই রক্তঝরা দিনটি ছিল ২৩ রমজান শনিবার, ভোরে আজানের ধ্বনী মসজিদ হতে আসছিল। কোথাও কোথাও প্রস্তুতি চলছিল নামাজের। হায়নাদের মর্টারের শব্দে আকস্মিক ভাবে সব কিছুই যেন স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরক্ষণেই হাতিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের আত্নচিৎকারে প্রকম্পিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। বাড়ি-ঘর, সহায়-সম্বল এমনকি বাপ-ভাই-বোনকে ছেড়ে নিজ নিজ জীবন বাঁচাতে এলোপাতারী দৌঁড়াতে থাকে সকলেই অজানার উদ্দেশ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায়, স্ব-চোখে দেখা হাতিয়া অপারেশন নামে সেই রক্তঝরা দিন। এলাকায় যেন বৃষ্টির মতো গুলি পরছিল। মানুষের আত্নচিৎকার আর গুলির শব্দ আজও সেখানে অনেকের কানে বাজে। সে দিন দৌঁড়ে পালানোর চেয়ে বাড়ীর পার্শ্বে ঝোঁপ-জঙ্গলে এবং ধান ক্ষেতে শুয়ে ক৮ বাঁচানোই যেন জনগণ নিরাপদ মনে করেছিল। এরই মধ্যে অনেকে ব্র‏হ্মপুত্র নদ সাঁতরিয়ে চরাঞ্চলে গিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে।
পাকিস্তানী সেনাদল সে দিন গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে ভস্মিভূত করে দিয়েছিল। ঝোপে-জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মায়ের কোলের শিশুসহ শতশত লোককে টেনে হেঁচরে বের করে হাত-পা-চোখ বেঁধে বদ্ধভূমি “দাগারকুটি” নামক স্থানে এনে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তারা। সারাদিন ব্যাপী চলে এ হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নি সংযোগ। পুরিয়ে যায় হাতিয়া, অস্তপুর, দাগারকুটি, নীলকণ্ঠ, হাতিয়া বকসী, রামখানা ও নয়াদাড়া নামক গ্রামগুলির শতশত বসত ঘর। উলিপুর সদর থেকে মাত্র ৮ কিঃমিঃ পূর্বে রাক্ষুসে ব্র‏হ্মপুত্র নদই শুধু নিজ বক্ষে জাপ্টে ধরে আছে সেই দাগারকুটি নামক গ্রামটি। ঐতিহাসিক এই ঘটনা স্মৃতিচারনে সেখানে গণকবরের পাশ্বে গড়ে উঠেছে স্মৃতিস্তম্ভ। যা চেতনার উৎস হয়ে আজও নতুন প্রজন্মকে জাগিয়ে দিচ্ছে।
মহামারি করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সেই দিনটিকে প্রতিবারের মতো যথাযোগ্য মর্যদার সাথে আজ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং হাতিয়া গণহত্যা দিবস উদযাপন কমিটি যৌথ ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালন করছেন। মানবতা বিরোধী এই গণহত্যার বিচার, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের শহীদ পরিবার হিসাবে স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন এবং ১৩ নভেম্বরকে “হাতিয়া গণহত্যা দিবস” হিসাবে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি এ উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবী।#

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

37855587
Users Today : 1440
Users Yesterday : 1947
Views Today : 8691
Who's Online : 27
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design & Developed BY Freelancer Zone