শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দায়মুক্তির জন্য গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন চরমোনাই মাহফিলে ১১ মুসল্লীর মৃত্যু আখেরী মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মকবুল গাবতলীর সাবেকপাড়া’য় ডাঃ মকবুল হোসেন সড়ক উদ্বোধন আত্রাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিজিটাল ম্যারাথন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে সুর্যমুখী চাষ বৃদ্ধির লক্ষে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রাম শহরের ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান ফের খানসামায় ট্রাক্টর চাপায় মোটরসাইকেল চালক এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আত্রাইয়ে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান বড়াইগ্রামে নদী খননের অনিয়ম, কৃষকদের প্রতিরোধে বন্ধ কাজ নলছিটির রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? খানসামায় আমের গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ,বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বিকাশের অর্থ সহায়তায় জড়িত থাকার তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত বেনাপোলের এতিম লিটনকে বাঁচাতে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন চর লাঠিয়ালডাঙ্গা যেন মাদকের গ্রাম তানোরে কৃষকের আলু লুট !

৩ নারীর অ্যাকাউন্টে শতশত কোটি টাকা

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম এবং তাদের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অর্থ পাচার মামলায় জামিন পেয়েছেন।

রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে তাদের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল ও মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

এর আগে ২২ ডিসেম্বর পাপুলের স্ত্রী-কন্যাকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

গত ১১ নভেম্বর দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার অর্থ পাচারের অভিযোগে এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে এবং শ্যালিকার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পরে হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন তারা।

ওই আবেদনে ১০ ডিসেম্বর তাদেরকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে ১০ দিনের সময় দেন হাইকোর্ট। কিন্ত নিন্ম আদালতের অবকাশকালীন ছুটি থাকায় তারা আত্মসমর্পণ করননি। এ পর্যায়ে ২২ ডিসেম্বর পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের পক্ষে করা সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে অদেশ দেন হাইকোর্ট।

এর আগে অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার হন এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল। বর্তমানে তিনি কুয়েতের কারাগারে আছেন। আগামী ২৮ জানুয়ারি কুয়েতের আদালতে এ মামলায় রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

ওই মামলায় সুত্র ধরেই পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

জানা গেছে, পাপুল, তার স্ত্রী সংরতি ৪৯ নম্বর মহিলা আসনের এমপি কাজী সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের নামে আটটি ব্যাংকে ৬১৩টি হিসাব রয়েছে।

ওইসব হিসাবের লেনেদেনসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধে এরই মধ্যে দুদক তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্নিষ্ট ব্যাংকের এমডিদেরকে মৌখিকভাবে বলেছেন। লেনদেন বন্ধে এমডিদেরকে লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হবে।

অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতের কারাগারে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুল, তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে গত ১১ নভেম্বর। তাদের বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি ২১ লাখ টাকা পাচার করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

ওই এজাহারে বলা হয়, পাপুল তার শ্যালিকা জেসমিনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও এফডিআরে দুর্নীতির অর্থ জমা করে পরে উত্তোলন করে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছেন। আসামিরা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংকের হিসাবে ১৪৮ কোটি ২১ লাখ টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর, হস্তান্তর করে আত্মসাৎ করেছেন। যা মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচার সংক্রান্ত অপরাধ।

এজাহারে আরও বলা হয়, এনআরবি কমার্শিয়ালসহ তিনটি ব্যাংকে পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের নামের পাঁচটি হিসাবে জমা হয় মোট ১৪৮ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬১ টাকা। ওই হিসাবগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি নগদে অর্থ জমা করেছেন ও কেউ কেউ তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে স্থানান্তর করেছেন। মানবপাচার ও বিভিন্ন উৎস্য থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত পাপুলের অর্থই শ্যালিকার হিসাবগুলোতে জমা করা হয়েছে। এনআরবি কমার্শিয়াল, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও সিটি ব্যাংকে খুলা হয় জেসমিনের নামে পাঁচটি হিসাব।

জানা গেছে,২০১২ সালের ২ জুন থেকে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত অর্থ পাচার সংক্রান্ত ওই অপরাধ সংগঠিত হয়। ওই সময় জেসমিন প্রধান একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। সংসারের আর্থিক দৈন্যতাও ছিল। তার নামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, ব্যাংক হিসাবে বিপুল অংকের নগদ অর্থ জমা হওয়ার নেপথ্যে ছিলেন মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার এমপি পাপুল।

অসৎ উপয়ে অর্জিত পাপুলের অর্থের লেনদেন করতে শ্যালিকার নামে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘লিলাবালি’ নামের প্রতিষ্ঠান। জেসমিনের নিজ নামে ও তার লিলাবালির নামে ৪৪টি ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাপুলের মালিকানা স্বত্ত্ব থাকা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেই খুলা হয় ৩৪টি এফডিআর। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে তার নামের একটি এফডিআরেই ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ টাকার সন্ধান পাওয়া যায়।

এছাড়া জেসমিন প্রধানের নামের ২০টি এফডিআরের ১ কোটি টাকা, সেলিনা ইসলামের নামে ২৯৫টি এফডিআরের ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, পাপুলের নামে ২৩টি এফডিআরের ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, মেয়ে ওয়াফা নামের ৪১টি এফডিআরের ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিপরীতে জেসমিন প্রধান ২৫ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ঋণ গ্রহণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38333446
Users Today : 3549
Users Yesterday : 6494
Views Today : 11886
Who's Online : 37
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/