বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
আইনমন্ত্রী, আপনি বাপের ‘কুলাঙ্গার সন্তান’: ডা. জাফরুল্লাহ মাদ্রাসা প্রধানদের জন্য সুখবর প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি শুরু হাজারবার কুরআন খতমকারী আলী আর নেই তানোরে আওয়ামী লীগ মুখোমুখি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়ে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল দিনাজপুর বিরামপুর পৌরসভায় ১১ মাসপর বেতন পেলেন কর্মকর্তা ও কর্মচারী গণ করোনার টিকা নিলেন মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রী রাজনীতিতে সামনে আরও খেলা আছে ইসিকে অপদস্ত করতে সবই করছেন মাহবুব তালুকদার: সিইসি ৪ অতিরিক্ত সচিবের দফতর বদল এ সংক্রান্ত আদেশ জারি রাজারহাটে কৃষক গ্রুপের মাঝে কৃষিযন্ত্র বিতরণ জামালপুরে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পত্নীতলায় জাতীয় ভোটার দিবস পালিত পত্নীতলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বুলবুলের তান্ডবে বরিশালে আমন ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ভাসিয়ে নিয়েছে ২৬ কোটি টাকার মাছ

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো \ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বরিশালে আমন ও শীতকালীন শাক সবজির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রাথমিকভাবে নিরুপন করা হলেও নিশ্চিত করে এখনও কোন তালিকা করা সম্ভব হয়নি। বিভাগের ছয় জেলায় পানি নেমে যাওয়ার পর এই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা না হলেও বিভাগে রোপা আমন ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আফতাব উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বরিশাল বিভাগে রোপা আমন সাত লাখ ১৪ হাজার ৭২০ হেক্টর জমির মধ্যে দূর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার সাতশ’ হেক্টর জমির ধান। এছাড়া শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল আট হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে দূর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ২৭ হেক্টর জমি। যারমধ্যে খেসারি আবাদ হয়েছে এক হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমিতে, যার পুরোটাই দূর্যোগ আক্রান্ত হয়েছে। পান আবাদ হয়েছে চার হাজার ১৩৮ হেক্টর জমিতে, যারমধ্যে দূর্যোগ আক্রান্ত হয়েছে ৬১৬ হেক্টর। কলা দুই হাজার ৬০১ হেক্টরের মধ্যে আক্রান্ত ৩৯৮ হেক্টর। পেপে ৯৮৭ হেক্টররের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৪০৩ হেক্টর। তিনি আরও জানান, বরিশাল বিভাগের ভোলা ও পটুয়াখালী জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি। ভোলায় রোপা আমন আবাদ হয়েছিল এক লাখ ৭৯ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। যেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমি। এ জেলায় শীতকালী সবজির আবাদ হয়েছিল দুই হাজার সাতশ’ ৪২ হেক্টর জমিতে। দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে ৭৪২ হেক্টর জমি। জেলাটিতে খেসারির আবাদ হয়েছিলো ৫১৮ হেক্টর জমিতে যার পুরোটাই আক্রান্ত হয়েছে। পান আবাদ হয়েছে ৫৩৮ হেক্টর জমিতে, এরমধ্যে ৫৪ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলায় বোরো আমন আবাদ হয়েছিল দুই লাখ দুই হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৫৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমি। এ জেলায় শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল ছয়শ’ হেক্টর জমিতে। দূর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে ১৮০ হেক্টর। এখানে সবচেয়ে বেশি খেসারি ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আফতাব উদ্দিন বলেন, কৃষকদের প্রনদনা কার্যক্রম চলছে। চাষীদের মাঠে ধরে রাখতে ও চাষাবাদে উৎসাহিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রনদোনা কার্যক্রমের মধ্যে এবার যারা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরিদাস শিকারী জানান, বরিশাল জেলায় রোপা আমন আবাদ হয়েছিল এক লাখ ২৪ হাজার ৬৩৩ হেক্টর জমিতে। দূর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে ৫০ ভাগ জমি। যার পরিমান দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার তিনশ’ হেক্টর জমি। শীতকালীন শাক সবজির আবাদ হয়েছিল ২৫শ’ হেক্টর জমিতে, যেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৯৮০ হেক্টর জমি। বরিশাল জেলায় খেসারির আবাদ হয়েছিলো এক হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে যার শতভাগ আক্রান্ত হয়েছে। কলা ৪৬৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল, আক্রান্ত হয়েছে ১৫ ভাগ যার পরিমান ৭০ হেক্টর জমি। পেপে আবাদ হয়েছিলো ৪৬৭ হেক্টর জমিতে, আক্রান্ত হয়েছে ১৫ ভাগ যা ৭১ হেক্টর জমি। পান আবাদ হয়েছিলো দুই হাজার ৬৮২ হেক্টর জমিতে, আক্রান্ত হয়েছে ২০ ভাগ ৫৩৬ হেক্টর জমি। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বরিশাল জেলার মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখন শীতকালীন সবজি চাষ করা হচ্ছেনা সেহেতু ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তেমন হবেনা। আমন ধান মাঠে রয়েছে কিছুদিন পর পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করে জানতে পারবো।
ভাসিয়ে নিয়েছে ২৬ কোটি টাকার মাছ
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভেসে গেছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রায় ২৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদ। যা মাছের ঘের, পুকুর ও দিঘী থেকে জোয়ারের পানির সাথে ভেসে গেছে। ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পরবর্তী বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের প্রাথমিক জরিপে ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোডস্থ মৎস্য ভবনে বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চল তথা বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় ঘুর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রভাবে মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যা সর্বশেষ সিডরের পরে আর হয়নি। একদিকে বুলবুলের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে পুকুর, ঘের, দিঘী ও জলাশয়ের পানি উপচে পড়ায় ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার চাষের মাছ।
মৎস্য ভবন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘুর্ণিঝড়ের কারনে বরিশাল বিভাগে মোট ২৫ কোটি ৭৯ দশমিক ১৪ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। যারমধ্যে রয়েছে বড় মাছ, চিংড়ি ও বিভিন্ন পোনা মাছ।
সূত্রমতে, বরিশাল জেলার ৫৭টি ইউনিয়নের দুই হাজার ২২০টি পুকুর ও দিঘীর ৩৫৯.১২ মেট্রিক টন বড় মাছ ও ১২৩.৫৭ লাখ পোনা ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ১১ কোটি ৮৫ দশমিক ৮৫ লাখ। ঝালকাঠি জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ৯৪২টি পুকুর ও দিঘীর ১৩৩ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৩৬ দশমিক ৮০ লাখ টাকা। পিরোজপুর জেলার ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৪৬৫টি পুকুর, দিঘী এবং ৪৪৬টি মাছের ঘের থেকে ৪১৭ দশমিক ০৮ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ১২৫ মেট্রিক টন চিংড়ি ও ৪ দশমিক ২০ লাখ পোনা ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য তিন কোটি ৬২ দশমিক ৫৫ লাখ টাকা। পটুয়াখালীর ১৯টি ইউনিয়নের ২৮০টি পুকুর, দিঘী এবং ১৫০টি মাছের ঘের থেকে ৩০ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও ১৫ মেট্রিক টন চিংড়ি বেড়িয়ে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬২ লাখ টাকা। ভোলা জেলার ৪৮টি ইউনিয়নের এক হাজার ১৪৯টি পুকুর, দিঘী এবং ১২টি ঘের থেকে ৭৬৪ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, চার মেট্রিক টন চিংড়ি ও ৭৪ লাখ পোনা ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে সাত কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বরগুনা জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৬০টি পুকুর, দিঘী এবং ৩৪টি মাছের ঘের থেকে ৩২ দশমিক ২২ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শূণ্য দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চিংড়ি ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬৪ দশমিক ৯৪ লাখ টাকা।
মৎস্য বিভাগ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বরিশাল বিভাগে মোট ১০ জেলে নিহত এবং ১৮ জেলে আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১২০টি মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার। যার আনুমানিক মূল্য দুই কোটি ১৫ দশমিক ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ৮৮ লাখ টাকার মাঝ ধরা জাল এবং এক কোটি ৪২ দশমিক ২০ লাখ টাকার পুকুর, ঘের ও স্লুইচ গেইট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মৎস্য বিভাগের হিসেব অনুযায়ী মৎস্যসহ অন্যান্য সকল বিষয়ে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমান ৩০ কোটি ২৫ দশমিক ১৪ লাখ টাকা।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে তা মৎস্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থদের কোন প্রকার সহায়তা প্রদান করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসেনি। সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38346222
Users Today : 1725
Users Yesterday : 2774
Views Today : 10879
Who's Online : 28
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/