Breaking News
Home / ওপার বাংলা /ভারত /কলিকাতা / উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অহিংস প্রতীক ছিলেন মহাত্মা গান্ধী

উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অহিংস প্রতীক ছিলেন মহাত্মা গান্ধী

\উজ্জ্বল রায় স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট■:\ ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অহিংস আন্দোলনের প্রতীক ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল তার কণ্ঠ। একদিন এক সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘ঘুষ নেয়া অন্যায়’। কিন্তু সভায় যারা এসেছিলেন তারা কি গান্ধীর এ বাণী ঠিকভাবে শুনেছেন? অনেকেই কৌতুক করে বলেন, সেদিন সেখানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নাকি বাক্যটি শুনেছেন এভাবে- ঘুষ নেয়া ‘অন্য আয়’। আর সে কারণেই নাকি ঘুষের পরম্পরা থেকে গেছে! তবে কৌতুকে গান্ধীর ঘুষবিষয়ক বাণী বিকৃত করা হলেও এটিই আসলে সব সময়ের বাস্তবতা।ঘুষ-দুর্নীতিকে নিরুৎসাহিত করতে গান্ধীর মহৎবাণী দুর্নীতিবাজরা নিজেদের মতো করে বুঝেছেন। নিজেরা না শুধরে, বিকৃত করেছেন গান্ধীর বাণী। তবে শোধরানোর এ চক্রে স¤প্রতি মহাফাঁপড়ে পড়েছেন আমাদের শিক্ষামন্ত্রী। স¤প্রতি ঘুষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছিল তার। অনলাইন বিডিনিউজের ২৪ ডিসেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেদিন শিক্ষা অধিদফতরে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন কিছু সত্য কথাও। অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘স্কুল পরিদর্শনে গেলে খাম রেডি থাকে। উনারা যেয়ে খেয়ে-দেয়ে খাম নিয়ে এসে রিপোর্ট করে দেন। আপনাদের অনুরোধ করেছি, আপনারা ঘুষ খান; কিন্তু সহনীয় হয়ে খান। কেননা আমার সাহস নেই বলার যে, ঘুষ খাবেন না। তা অর্থহীন হবে।’ মাননীয় মন্ত্রী সত্য বলেছেন। নিজেদের দায়ও অস্বীকার করেননি। বলেছেন, ‘নানা জায়গায়ই এমন হচ্ছে, সব জায়গায় এমন হচ্ছে। খালি যে অফিসাররা চোর তা না, মন্ত্রীরাও চোর। আমিও চোর। এ জগতে এমনই চলে আসছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।’ যদিও মন্ত্রী পরে মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, এটি তার কথা নয়। একজন শিক্ষকের বক্তব্যের রেফারেন্স হিসেবে তিনি সেদিন ওই কথা বলেছিলেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী যার বরাতে বক্তব্য দিয়েছেন তাতেও উঠে এসেছে শিক্ষা খাতে ঘুষ-দুর্নীতির চিত্র। এর কয়েকদিন আগে অবশ্য দুদকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী স্বীকার করেছেন শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির কথা। স্বীকার না করে উপায়ও নেই। কারণ সারা দেশের পরিস্থিতি কী তা একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসেই বোঝা যায়। স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা শফি আহমেদ: ‘আমার বাড়ি মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নে। সেখানে একটি স্কুলে দফতরি নিয়োগের জন্য ঘুষের দর উঠেছে ৮ লাখ টাকা। অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ওদের বললাম, ওই দফতরি সারা জীবনে যে বেতন পাবে তা-ও তো ৮ লাখ টাকা হবে না… তাহলে ও কি একদিন স্কুল বিক্রি করে দেবে! শফি আহমেদ নব্বইয়ের গণআন্দোলনে সামনের সারির নেতা ছিলেন। রাজনীতিক হিসেবে নিজ এলাকার ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে সচরাচর কেউ এমন করে লেখেন না। তিনি সাহস করে লিখেছেন। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কারা এমন চাকরির টেন্ডার দিয়ে ঘুষের দর হেঁকেছে? তিনি উত্তরে বলেছেন, ‘স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি।’ এ স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে কারা আছে নিশ্চয়ই ধারণা করা যায়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই আছেন কমিটিতে। তাকে ধন্যবাদ, তিনি নিজ দলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির ছোট্ট একটি উদাহরণ মাত্র এটি। এর চেয়ে বড় দুর্নীতির গোমর ফাঁস করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। কিছুদিন আগে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গিয়েছিলেন। ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অবদান ও সার্বিক বিষয়ে’ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে বলেন, ‘দুর্নীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্য চলবে না, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।’ এরকম কথার কথা মাইকের সামনে অনেকেই বলেন। এরপর অবশ্য তিনি আসল কথা বলেছেন। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে নৈতিকতার শিক্ষা দেবেন সেই শিক্ষক নিয়োগে ঘুষের রেট ফাঁস করেছেন। সরাসরিই বলেছেন, ‘মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৭ লাখ টাকায় প্রধান শিক্ষক, ১২ লাখ টাকায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া চলবে না। যারা ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রধান শিক্ষক হন, তাদের লক্ষ্য থাকে কীভাবে ৫০ লাখ টাকা আয় করা যায়।’ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার এমন বুলন্দ আওয়াজে সেদিন নিশ্চয়ই হাততালি দিয়েছেন সেই শিক্ষকরাও যারা ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। অবশ্য ঘুষের বিরুদ্ধে যিনি বলেছেন, তিনি সংসদ সদস্য থাকার সময় কি এমন নিয়োগ বাণিজ্য হয়নি? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে এই যখন অবস্থা তখন অবাক হইনি পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষের কারবারের একটি ঘটনা শুনে। স¤প্রতি এক আড্ডায় বিষয়টি শুনেছি একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মুখে, যার ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা উত্তরের এক জেলার কনস্টেবল নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন। তার কাছে শুনেছেন সেই জেলার পুলিশ সুপার কীভাবে কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষের কারবার করেছেন। মালিক হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার। এসব শোনা কথা। এর সত্যতা হয়তো আছে; কিন্তু কোনো পুলিশ সুপারই ঘুষ খান না এ কথা হলফ করে কেউ কি বলতে পারবেন? তাহলে সামনে চলে আসবে ফরিদপুরের সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার সুভাস চন্দ্র সাহার হলফনামা। এ পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত অক্টোবরে মামলা করেছে দুদক। সুভাষ ও তার স্ত্রীর যৌথ নামে একটি ব্যাংকের তিনটি শাখায় ১৯টি এফডিআরে এ টাকা জমার হিসাব পেয়েছে দুদক। সর্বশেষ আয়কর বিবরণীতে এর কোনো উল্লেখ করেনি পুলিশ দম্পত্তি। তাই দুদক মনে করছে, দুর্নীতিমূলক কর্মকা-ই অবৈধ এ অর্থের উৎস। কাগজে-কলমে দুদক তথ্য-প্রমাণ পেলেও সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচানোর নানা চেষ্টা তদবির হয়েছিল। মামলা করতে দুদককে বাধা দেয়া হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, সুভাষ চন্দ্রকে পুলিশ সুপারের পদ থেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। তাই নিচের এ তথ্য দিয়েই এ ক্ষেত্রে পিছু হটতে চাই। দু’বছর আগে একটি জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম ছিল ‘বরিশালে পুলিশের ঘুষ তহবিল’। এতে বলা হয়েছিল, বরিশালের পুলিশ সদস্যরা পদোন্নতি পেতে ঘুষের টাকার জন্য তহবিল গঠন করেছে। পদোন্নতির জন্য ঘাটে ঘাটে টাকা দিতেই সেই তহবিলে জমা পড়েছিল প্রায় ৭০ লাখ টাকা। ঘটনাটি যে সত্য, তা প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে বরিশালের তখনকার এক উপকমিশনারসহ ১১ জনকে বরখাস্তও করা হয়েছিল। সেই বরখাস্তকৃতরা এখন কোথায় আছেন, সহি সালামতে অন্য কোনো জেলায় চাকরি করছেন কিনা তা আমার জানা নেই। শুধু পুলিশ বিভাগ কেন, সরকারি-বেসরকারি সব খাতেই চলে আসছে ঘুষ-দুর্নীতির মচ্ছব। এ ক্ষেত্রে ঠগ বাছতে গেলে গা উজাড় হবে। ২০১৬ সালের জুনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, সেবা খাতে ৬৭.৮ ভাগ পরিবারই দুর্নীতির শিকার। ঘুষ দিতে হয় ৫৮.১ ভাগ পরিবারকেই। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির গবেষণা অনুযায়ী সেবাগ্রহণকারী পরিবারগুলোকে ২০১৫ সালে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। কেনই বা ঘুষ দিতে হবে না? টিআইবির রিপোর্ট প্রকাশের ঠিক এক বছর আগের পত্রিকার এক রিপোটে জানা যায় ‘শর্ষের ভেতরে ভূত’ কীভাবে ঢুকেছে। যারা দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরদের পাকড়াও করবেন তাদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ। খোদ দুদকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে ৩৭ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ। এ কারণে শোকজ করা হয়েছিল সেই দুই কর্মকর্তাকে। এর সত্যতাও পেয়েছিল দুদক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ভয়ভীতি দেখিয়ে গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৭ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার। এমন পরিস্থিতি থেকে দুদক কিছুটা বের হতে পেরেছে সা¤প্রতিক সময়ে। এরই মধ্যে দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তারা। সেবা খাতের দুর্নীতি কমাতে হাতেনাতে ঘুষখোরদের পাকড়াওয়ে দুদকের অভিযান আগের চেয়ে জোরদার হয়েছে। গত দু’বছরে হাতেনাতে ঘুষসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ জনের মতো ছোট-বড় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। সিন্ধুসম ঘুষ-দুর্নীতির রাজ্যে দুদকের এ উদ্যোগ বিন্দুসম। তাই প্রশ্ন করা যায়, সেবা খাতে কি ঘুষ কমেছে? নিয়োগ-পদোন্নতিতে কি ঘুষ বন্ধ হয়েছে? টেন্ডার, কমিশন বাণিজ্যে কি ভাটা পড়েছে? ধারণা করি এর উত্তরে হ্যাঁ বলার জোর খুব কম লোকই পাবেন। বরং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হওয়ার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষের রেট দ্বিগুণ হয়েছে বলেও শোনা যায়। আসলে ‘অন্য আয়’ যাদের মজ্জায় ঢুকে গেছে, তাদের কি নিবৃত্ত করা যায় বেশি বেতন দিয়ে? দুর্নীতি যাদের হাড়ে হাড়ে- সেটি আমলা-কর্মচারী বা রাজনীতিক-মন্ত্রী যেই হোক না কেন- তাদের এর থেকে ছাড় পাওয়াটা দুঃসাধ্য বটে। শোনা কথা, একজন মন্ত্রীকে নাকি তার খুব ঘনিষ্ঠ পিএস সাহস করে বলেছিলেন, ‘স্যার আর কত খাবেন, আপনার বয়স হয়েছে।’ এর জবাবে সেই মন্ত্রী নাকি বলেছিলেন, ‘কী করব, অভ্যাস হয়ে গেছে।’ সেই মন্ত্রী কোন আমলের তা আপাতত উহ্য থাক। কারণ দিনকাল ভালো নয়। তবে শুধু বর্তমানকে দোষ দিয়ে লাভ কী? ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে এত হা-হুতাশেরই বা কী আছে? দুর্নীতি দু’হাজার বছর আগেও হয়েছে। তা না হলে প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির অধ্যাপক চাণক্য কি আর বলতেন চল্লিশ ধরনের দুর্নীতির কথা? খ্রিস্টপূর্ব মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের এ রাজ উপদেষ্টা বলেছিলেন, ‘জিহ্বার ডগায় বিষ বা মধু থাকলে তার স্বাদ না নিয়ে নির্লিপ্ত থাকা অবাস্তব। তেমনি অসম্ভব হল সরকারের তহবিল নিয়ে যারা লেনদেন করেন, তাদের একটুকুও সরকারের সম্পদ চেখে না দেখা। চাণক্যের এমন সত্যকথন দু’হাজার বছর পরও সত্য। রুশ রস অনুযায়ী, ‘ঘুষ ব্যাপারটা অধিকাংশ লোকেরই অপছন্দ। কারণ তারা শুধু ঘুষ দিয়েই যায়, তারা ঘুষ পায় না। তাই ঘুষের সহনশীল মাত্রা নিয়ে কথা বলায় শুধু শুধু মন্ত্রীকে দুষে কী লাভ? যখন এর মাত্রা সর্বব্যাপী। এ নিয়ে বরং অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বলা একটি প্রাসঙ্গিক গল্প লিখে শেষ করতে চাই। ঘটনা ব্রিটিশ শাসনামলের। এক তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট বিলেত থেকে ভারতবর্ষে এসেছেন বেশিদিন হয়নি। বিচারকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে একটু-আধটু বাংলা শিখেছেন। একদিন বিচারকাজ শেষে নিজ কক্ষে বসে আছেন বিচারক। হঠাৎ চাপরাশি হন্তদন্ত হয়ে তার রুমে ঢুকলেন। কোনোরকম বিরতি না দিয়েই ম্যাজিস্ট্রেটকে বললেন, ‘হুজুর, মিস্টার নাজির ইজ ইটিং ঘুষ।’ বিচারক মহাশয় বিপাকে পড়লেন। ‘ঘুষ’ শব্দের অর্থ কী জানেন না তিনি। চাপরাশিও ইংরেজি কম বোঝেন। তাই কী আর করা! এ অবস্থায় ঘুষের অর্থ বোঝাতে চাপরাশি বিচারক মহাশয়কে সরাসরি নাজিরের রুমে নিয়ে গেলেন। বিচারক নাজিরের রুমে ঢুকে দেখেন টেবিলের ওপর এক কাঁদি পাকা কলা। এই কলার কাঁদিই ঘুষ হিসেবে দেয়া হয়েছে নাজিরকে। সেখান থেকেই কলা ছিঁড়ে মুখে পুরেছেন নাজির। এ অবস্থায় তরুণ বিচারক বুঝলেন, ‘কলা’কেই মনে হয় ‘ঘুষ’ বলা হয়। কিছুদিন আগে তিনি এ ফলটি খেয়েছেনও। খুবই সুস্বাদু লেগেছে তার কাছে। জেনেছেন এর পুষ্টিগুণও। তাই তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট মনে করলেন ‘কলা’র প্রতিশব্দই ‘ঘুষ’। আর সেই বোধ থেকেই বললেন, ‘ওহ, আই থিংক সামথিং রং। বাট ইউ আর ইটিং ঘুষ। ঘুষ ইজ গুড ফর হেলথ, এভরিবডি মাস্ট ইট ঘুষ।’ ব্রিটিশ ভদ্রলোক বাংলা কম জানার কারণে ‘ঘুষ’ শব্দের অর্থ ঠাহর করতে পারেননি। কিন্তু গান্ধীজির বাণীর মানে বিকৃত করে যারা ঘুষকে ‘অন্য আয়’ হিসেবে দেখে আসছেন যুগ যুগ ধরে, তারা তরুণ বিচারকের গল্প শুনে মুচকি হেসেছেন, হাসছেন এখনও। কারণ তাদের কাছে সবসময়ই ‘ঘুষ ইজ গুড ফর হেলথ’। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ দুদকের এক ভরা মজলিসে গল্পটি বলেছিলেন। আর সেই গল্পের উপসংহার টানতে গিয়ে সেদিন তিনি বলেছিলেন,‘তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট যখন নাজিরের রুমে ওই কথা বলেছেন, তখন মনে হয় পুরো বাঙালি জাতিই সেখানে ছিল এবং আজও তা ধ্যানে-জ্ঞানে মেনে চলছে। \উজ্জ্বল রায় স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট■ ছবি সংযুক্ত

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বেনাপোলে রহমান চেম্বারের ৬ তলা থেকে পড়ে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ইকরামুল ইসলাম যশোর  প্রতিনিধি যশোরের বেনাপোল বাজারে নতুন রহমান চেম্বারের ৬তলা ভবন ...