Breaking News
Home / Uncategorized / ঢাকা স্কুলের সেমিনারে বক্তারা টেকসই উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে

ঢাকা স্কুলের সেমিনারে বক্তারা টেকসই উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) অপরিহার্য। পিপিপি ছাড়া এসডিজির সব অভীষ্ট ও লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব। তাই পিপিপি বাস্তবায়নে যেসব বাধা আছে তা দুর করার উদ্যোগ নীতিনির্ধারণী মহল থেকে নিতে হবে। গতকাল শনিবার ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স (ডিএসসিই) আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ফল এন্ট্রাপ্রেনিউরিয়াল ভেঞ্চার: পারসপেক্টিভ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই সেমিনারের ঢাকা স্কুলের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, উদ্যোক্তা অর্থনীতি কোর্সের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী, সহকারী অধ্যাপক রেহানা পারভীন, সারাহ তাসনীম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শবনম জাহান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পিপিপি অথরিটির প্রধান নির্বাহী ও সচিব মুহাম্মদ আলকামা সিদ্দিকী।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ বলেন, সুষম উন্নয়নের জন্য পিপিপি ভালো একটি উদ্যোগ। এর জন্য বেসরকারি খাতকে অন্তভূক্ত করার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। পিপিপিতে সফল হতে হলে ব্যবসা করার সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে। ঢাকা স্কুলে উদ্যোক্তা উন্নয়নে পিপিপির আওতায় ‘ইকোনমিক ইনকিবিউটর’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ের রাখতে হবে। এটি সরকারের দায়িত্ব। যারা দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিপিপি স্বার্থক মডেল হতে পারে। পাশ্ববর্তী দেশ ভারত ১৯৯০ সালে পিপিপির আওতায় সফলভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ণ করছে। বাংলাদেশের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পিপিপি বাস্তবায়নের বড় বাধা আস্থার অভাবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেট পিপিপি সফল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এসব বাধা দুর করতে সবার আগে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।
মুহাম্মদ আলকামা সিদ্দিকী বলেন, পিপিপি ধারণা একেবারে নতুন নয়। ১৯৯৬ সালে জ্বালানী খাতে প্রথম এটি ব্যবহার করা হয়। অবকাঠামো উন্নয়নে পিপিপি ধারণা গ্রহণ করা হয় ২০০৪ সালে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিপিপি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার পিপিপির প্রথম প্রকল্প। বর্তমানে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ণাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাপক উন্নয়নে পিপিপির সুযোগ-সম্ভাবনা অনেক। এছাড়া এসডিজি অর্জন করতে হলে অবশ্যই পিপিপি নিশ্চিত করতে হবে।
ড. শবনম জাহান বলেন, পিপিপির আওতায় ছোট-বড় সব ধরনের অবকাঠামো ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তবে এতে যেন শুধু প্রতিষ্ঠিত বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুযোগ না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পিপিপির মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে একদিকে অবকাঠামো তৈরি হবে অন্যদিকে সফল উদ্যোক্তা গড়ে তোলা সহজ হবে।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘বাংলাদেশ’ নামকরণের ৫০ বছর পূর্ণ

১৯৬৯ সাল। শুরু হয় আইয়ূব পতন আন্দোলন। সেসময় গণঅভ্যুত্থানে স্লোগান দেয়া হয় ...