Breaking News
Home / রাজশাহীর সংবাদ / আওয়ামী লীগের বির্তকিত নেতা দেলোয়ারের বহিস্কারের দাবী

আওয়ামী লীগের বির্তকিত নেতা দেলোয়ারের বহিস্কারের দাবী

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বির্তকিত নেতা দেলোয়ার হোসেনকে দল থেকে বহিস্কার ও তাকে গ্রেফতার করে তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান দাবী করেছে তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ। চলতি বছরের ১৮ নভেম্বর সোমবার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এসব দাবী উল্লেখ করে দলের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী এবং স্থানীয় সাংসদ আয়েন উদ্দিন মহোদয় বরাবর ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মহব্বতপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি মতাদর্শী নছিম উদ্দিনের পুত্র শিবিরকর্মী দেলোয়ার হোসেন এখন ধুরইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে জমিদখল-পুকুরদখল, সাধারণ মানুষকে হয়রানী ও জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং আওয়ামী লীগের আদর্শিক প্রবীণ-ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে দাপুটে নেতায় পরিণত হয়ে রামরাজত্ব কায়েম করেছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের অপর নাম দেলোয়ার। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, দেলোয়ার হোসেন শিবিরকর্মী এবং তার পরিবারের সকলেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তার বাবা নছিম উদ্দীন বিএনপির সমর্থক চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে এলাকায় ত্রাস সৃস্টি ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখতো। এছাড়াও বিগত ২০০৭ সালে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয় মোহনপুর থানার মামলা নম্বর ১১/৯৪ তারিখ ২৮/০৮/২০০৭। তার আপন চাচা জামায়াতের কর্মী মকবুল হোসেন নাশকতা মামলার আসামী। তার ফুপাতো এক ভাই বিএনপির কর্মী মোস্তফা নাশকতা মামলার আসামী অপর ভাই আলী হোসেন জামায়াতের কর্মী,বড় চাচা প্রয়াত কপিল উদ্দিন ছিল জামায়াতের রোকন এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী রশিদা জামায়াতের নারী নেত্রী। অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মূলধারার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জৈষ্ঠ নেতা দেলোয়ারকে গ্রেফতার ও তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আতœীয়তরার সূত্রধরে এক সময় জঙ্গী নেতা বাঙলা ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে নছিম উদ্দীন কাজ করেছে বলেও এলাকায় জনশ্র“তি রয়েছে। কিšত্ত বিএনপিকর্মী নছিম ও তার পুত্র শিবিরকর্মী আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার বাহিনীর ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে পারেন না অনেকক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার মিলেনা উল্টো প্রতিবাদকারীকে নাজেহাল হতে হয় বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, বিগত ২০১৩ সালে ধুরইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর রাতারাতি দেলোয়ার হোসেনের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যায়। রাতারাতি তার এমন উঙ্খানে পুরো উপজেলার মানুষ বিশ্ময়ে হতবাক। আওয়ামী লীগের আদর্শিক এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা ও দলের প্রভাব বিস্তার মহব্বতপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মহব্বতপুর দারুল উলুম মাদরাসার সভাপতি এবং মহব্বতপুর-খাঁনপুর ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য লাভ করেন। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রতারণা করে মহব্বতপুর গ্রামের সুংগা পুকুর আয়তন প্রায় ২০ বিঘা,লগরপুকুর প্রায় ১০ বিঘা, মগব্বতপুর দিঘী প্রায় ১০ বিঘা, মহব্বপুর ছুতার পুকুর প্রায় ৩ বিঘা ও মহব্বতপুর জলকুমড়া প্রায় ২ বিঘা দখল করে কখানো ইজারা দিয়ে আবার কখানো নিজে মাছ চাষ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার কৌশলে সরকারী খাস পুকুর-জলাশয়ের ইজারা ঠেকিয়ে সরকারী কোষাগারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত করেছে। এছাড়াও মালিকানা ও ওয়াকফ্ সম্পত্তির বিরোধের জের ধরে পাঁচপাড়া মৌজায় প্রায় ১৪ বিঘা ফসলী জমি এখন তার কব্জায়। অন্যদিকে ধুরইল বড়বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ রেজি নম্বর ৮৮২ গঠন করে সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ৫০০ পরিবারের কাছে থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও গ্রামের মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অধিগ্রহণকৃত জমি লীজ নেয়ার কথা বলে সাধারণ কৃষকের কাছে থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধুরইল ইউপির সাধারণ মানুষের কাছে এখন মূর্তিমান আতঙ্ক দেলোয়ার হোসেন তার দাপটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচির নামে বাজারের বড় ব্যবসায়ী, এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গভীর নলকুপ অপারেটরসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদাবাজি, গ্রামের সহজ-সরল মানুষের নামে মামলা ও মামলা-মোকর্দমার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, চাকরির প্রলোভন দিয়ে টাকা আদায় ইত্যাদি তার এসব কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। উপজেলার মানুষ দেলোয়ারের কব্জা থেকে এসব পুকুর-জলাশয় উদ্ধারের দাবী করেছেন। স্থানীয়রা এই বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে ধুরইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যাচার করছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফসলি জমিতে অবৈধ ইট ভাটা বন্ধ হবে কি ?

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউপির বড়াল মাঠে ...