Breaking News
Home / রাজশাহীর সংবাদ / সৎ রাজনৈতিকের প্রতিকৃতি ও সহাবস্থানের প্রবর্তক এমপি ফারুক

সৎ রাজনৈতিকের প্রতিকৃতি ও সহাবস্থানের প্রবর্তক এমপি ফারুক

আলিফ হোসেন, তানোর
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ভিআইপি এই সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী এবং শহীদ পরিবারের সন্তান আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী রাজনৈতিক সহাবস্থানের প্র্বর্তক, সৎ রাজনৈতিকে প্রতিকৃতি ও বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। রাজশাহী অঞ্চলের সম্ভ্রান্ত ও উচ্চ বিত্তশীল জমিদার মুসলিম পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন। তার পিতা প্রয়াত শহীদ আজিজুল হক চৌধূরী, চাচা শহীদ মুকবুল হক চৌধূরী এবং মামা জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনা।
জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর রাজশাহী-১ আসনে এখন পর্যন্ত যতো নেতা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তার মধ্যে সব চাইতে উচ্চ বিত্তশীল ও সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তান এমপি ফারুক চৌধূরী। অনেকে যখন রাজনীতিতে এসে ব্যবসায়ী হয়েছেন তখন তিনি সিআইপি মর্যাদা অর্জন করে প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি থেকে রাজনীতি শুরু করেছেন। ফলে তার অর্থলিপসা না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যদের থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার আলাদা পরিচয় ইতিবাচক পার্থক্য গড়ে দিয়েছে, রয়েছে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে সৎ রাজনৈতিকের প্রতিকৃতি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। এদিকে তার অর্থলিপসা না থাকায় তিনি রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন ও দালালমুক্ত প্রশাসন এবং সহাবস্থানের রাজনীতি উপহার দিয়ে এই জনপদের মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন এমপি ফারুকের থেকেও ব্যক্তি ফারুক চৌধূরী সাধারণ মানুষের কাছে আরো বেশি জনপ্রিয় ও প্রিয়মূখ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অভিমত, জামায়াত-বিএনপির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগের বিপদগামী কতিপয় নেতার নেপথ্যে মদদে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটচক্র রাজনীতিতে এমপি ফারুকের সঙ্গে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতায় না পেরে তারা তাদের বি-টিম হয়ে কাজ করছে। তারা এমপি ফারুককে আওয়ামী লীগের চেতনাবিরোধী, রাজাকারপুত্র, মাদকের পৃষ্ঠপোষক, জামায়াত-বিএনপি ও অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়-পশ্রয়দাতা অ্যাঙ্খা দিয়ে আদর্শিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দলের হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগ করে প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে হাইকমান্ডের কাছে থেকে অর্ধচন্দ্র উপহার পেয়েছে বলে তৃণমূলে আলোচনা রয়েছে। জানা গেছে, এমপি ফরুকের রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় রাজশাহী জামায়াত-বিএনপির আঁতুড়ঘর ভেঙ্গে আওয়ামী লীগের বসতঘরে পরিণত করা হয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর তার রাজনৈতিক দূরদশী সম্পন্ন নেতৃত্বে এবারই প্রথম তানোরের ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ এবং বির্তকিত নির্বাচনে ১টি পৌরসভায় বিএনপি বিজয়ী হয়েছে, গোদাগাড়ী উপজেলাতেও প্রায় একই অবস্থা। তিনি আওয়ামী লীগের কত বড় সম্পদ সেটি আওয়ামী লীগে তার আশার আগের ও পরের অবস্থান পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি সকলের কাছে স্পস্ট হয়ে উঠবে। রাজশাহী-১ আসন জামায়াত-বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত এখানে ছিল বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক ডাকমন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক প্রয়াত শীষ মোহাম্মদ ও তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত এমরান আলী মোল্লা এদের সন্বয়ন সাধারণ ভোটারদের কাছে এটা বিএনপির প্রায় স্থায়ী আসন। কারণ এসব নেতাদের নেতৃত্বকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের বিজয়ী হওয়া এটা আওয়ামী লীগই কখানো কল্পনা করতে পারেননি। অথচ এমপি ফারুক তার রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় সেই অসাধ্যকে সাধন করে আওয়ামী লীগকে আসনটি উপহার দিয়েছেন। কিšত্ত তিনি কিভাবে অসাধ্যকে সাধন করতে পারলেন সেটা আগে বিশ্লেষণ করা দরকার। এমপি ফারুক জানতেন এখানে জামায়াত-বিএনপিকে পরাজিত করতে হলে প্রথমেই তাদের ভোট ব্যাংক ও ঘর ভাঙ্গতে হবে অর্থাৎ তাদের কর্মী-জনবান্ধব কিছু নেতাকে আওয়ামী লীগের ছায়াতলে আনতে হবে। আর সেই বিবেচনায় তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও ভোট ব্যাংক আব্দুল মজিদ মাস্টারকে আওয়ামী লীগে যোগদান করান। কারণ মজিদ মাস্টারের একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে, তবে তিনি আওয়ামী লীগে আশার পরে বিএনপির সেই ভোট ব্যাংক আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। মজিদ মাস্টার আওয়ামী লীগে আশার পরে বিএনপিতে যে রাজনৈতিক শূণ্যতার সৃষ্টি হয় সেটি তারা আর পূরুণ করতে পারেননি মজিদ মাস্টার আওয়ামী লীগ-বিএনপির ভোটের যুদ্ধে মেইন ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় এতে আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপির পরাজয় ঘটে। আর এমপি ফারুক এটা করেছেন আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষায় এখানে তার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নাই। কারণ এটা গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর নয় যে এখানে নৌকা প্রতিক দিলেই যে কেউ বিজয়ী হবে তাই এমপি ফারুক আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করতেই মজিদ মাস্টারকে আওয়ামী লীগে নিয়ে এসে বিএনপির ভোট ব্যাংক ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়েছে বলতে গেলে এমপি ফারুকের রাজনৈতিক দূরদর্শীতার কাছে বিএনপির পরাজয় ঘটেছে।
অথচ এই ভিআইপি আসনটি বিএনপির কাছে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগকে উপহার দেবার জন্য যেখানে এমপি ফারুককে বাহবা প্রশংসা করার কথা সেখানে উল্টো তাকে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়-পশ্রয়দাতা বলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশে ফারুক চৌধূরীই একমাত্র রাজনৈতিক নেতা যিনি তার পরিবার থেকে একাই রাজনীতি করেন। তার স্ত্রী-সন্তান তো দুরের কথা তার ভাই-বোনদেরই এই জনপদের মানুষ চেনেন না তারা রাজনীতিও করেন না যেটা দেশের গতানুগতিক রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। এমপি ফারুকের প্রচেস্টায় বিনা পয়সায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহকারী জজ, পুলিশের এসআই-সদস্য থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্কুলের দপ্তরি হিসেবে অসংখ্য মানুষকে চাকরি হয়েছে। আবার নির্বাচনী এলাকায় চাকরির মেলা করে বিনা পয়সায় হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অবৈধ অর্থের মোহে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল অনেক নেতা দল,নেতা ও নেতৃত্বের প্রতি অসম্মান দেখিয়ে প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। একমাত্র এমপি ফারুক চৌধূরী আদর্শিক নেতৃত্ব দল, নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো বেঈমানী না করে শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন এখানো রয়েছেন। মাদক ও অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এমপি ফারুক চৌধূরীর অবস্থান সব সময় জিরো ট্রলারেন্স। তার কঠোর অবস্থান ছিল সব ধরণের অশ্লীলতা-বেহায়াপনা, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে যা এখানো রয়েছে। এমপি নির্বাচিত হবার পর তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় লটারি জুয়া, যাত্রা-পুতুল নাচের নামে অশ্লীল নুত্যর আসর ও অপসংস্কৃতির অসুস্থ প্রতিযোগীতা বন্ধ করে দিয়েছেন। বাঙ্গালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও সুস্থ বিনোদের জন্য এসবের পরিবর্তে তিনি প্রচলন করেছেন বিজ্ঞান মেলা, স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগীতা, বৈশাখী মেলা, বইমেলা, চাকরির মেলা, উন্নয়ন মেলা, নবান্ন ও পিঠা উৎসব ইত্যাদি। তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে লেখাপড়ার আগ্রহ বাড়াতে মেধাবীদের মধ্যে বাইকেল সাইকেল, টিফিনবক্স, ছাতা ইত্যাদি বিতরণ করে আসছেন, এছাড়াও প্রতিবছর সম্মানিত হজ্ব যাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন ও তাদের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে এসব সংস্কৃতি পূর্বে ছিলনা তিনি প্রবর্তন করেছেন। এমপি ফারুকের আদর্শিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শীতা ও গতিশিল সাংগঠনিক তৎপরতায় রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের আজকের এই জয়জয়কার অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তানোরে জায়গার অভাবে একটি সরকারী পলিটেনিক ইন্সটিটিউট যখন ফিরে যাবার উপক্রম তখন তিনি তানোরের মানুষের কথা বিবেচনা করে তার ব্যক্তিগত কয়েক কোটি টাকা মূল্যর সম্পতি দান করেছেন এবং সম্মানি ভাতার টাকা তিনি এখানো এলাকার অসহায়-দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করে আসছেন।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর নেতা যারা টেন্ডারবাজী-খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, হাট-ঘাট-মাদক স্পট, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, আবাসিক হোটেল-ক্লিনিকে চাঁদাবাজি, টার্মিনাল-স্ট্যান্ড ও বালুমহাল দখল, দলীয় কর্মসূচির নামে চাঁদাবাজি, দলের পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্য ইত্যাদির মাধ্যমে রাতারাতি অঢেল বিত্তবৈভব বা অবৈধ সম্পদ অর্জন করে রাতারাতি নব্য কোটিপতি হয়ে দলের ভেতর দলীয়কোন্দল সৃষ্টি করেছে এমপি ফারুক তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে তারা যেনো কোনো ভাবেই দলের সাংগঠনিক কোনো পদে আসতে না পারে সেই বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারক মহলকে অবগত করেছেন। আর বিষয়টি বুঝতে পেরেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমপি ফারুকের সভাপতি পদ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের আশঙ্কা এমপি ফারুক ফের সভাপতি হলে তাদের রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল বিত্তবৈভব নিয়ে বিপাকে পড়বে তায় তারা যেকোনো মূল্য এমপি ফারুকের সভাপতি হওয়া ঠেকাতে চাই। রাজশাহী-১ আসনের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।#
তানোর প্রতিনিধি

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বগুড়া জেলা আ:লীগের নব-নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে শিবগঞ্জে আনন্দ মিছিল

জিএম মিজান শিবগঞ্জ বগুড়া প্রতিনিধি বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মজুন ...