Breaking News
Home / রাজশাহীর সংবাদ / ফারুক চৌধূরীকে মন্ত্রীসভায় দেখতে চাই

ফারুক চৌধূরীকে মন্ত্রীসভায় দেখতে চাই

আলিফ হোসেন, তানোর
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক দুই সাংসদ মেরাজ উদ্দিন মোল্লাকে সভাপতি ও কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে দলীয় সাংসদরা জেলা বা উপজেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে পারবেন না এই নিয়মের বেড়াজালে পদবঞ্চিত হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের সব চাইতে হেভিওয়েট ও আদর্শিক নেতৃত্ব গণমানুষের নেতা আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ এবং সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী। এতে দলটির তৃণমূলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তৃণমূলের ভাষ্য এমপি ফারুক যেকোনো রাজনৈতিক দলের কাছেই বিশাল সম্পদ তিনি পদবঞ্চিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তার শূণ্যতা পূরুণের মতো তেমন কোনো নেতৃত্ব এখানো গড়ে উঠেনি । রাজশাহী বিভাগীয় শহর ও জামায়াত-বিএনপির দূর্গ বা আঁতুড় ঘর। এখানে আওয়ামী লীগের মতো বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিতে গেলে নেতার যেই ধরনের পারিবারিক ঐতিহ্য-সামাজিক পরিচিতি, আর্থিক স্চ্ছালতা, জনবল বা কর্মীবাহিনী, রাজনৈতিক দূরর্শীতা, আদর্শিক ও বিশ্বস্ততা ইত্যাদি প্রয়োজন সেটা এমপি ফারুক চৌধূরীর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছে, এসব বিবেচনায় এই সম্পদ ধরে রাখতে এবার তাকে সরকারের মন্ত্রীসভায় স্থান দেয়ার দাবী করে দলের সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃস্টি আকর্ষণ করেছেন।
জানা গেছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ভিআইপি সংসদীয় আসনে তিন বারের নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী এবং রাজশাহী চেম্বর অব কমার্সের সাবেক সভাপতি, সিআইপি, রাজশাহীর সর্বোচ্চ স্বচ্ছ আয়কর দাতা, শহীদ পরিবারের সন্তান, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনার ভাগ্নে. বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদান রাখায় রাস্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদক অর্জনকারী, আদর্শীক ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব বিলাস-প্রচার বিমূখ, সৎ রাজনৈতিকের প্রতিকৃতি, কর্মী ও জনবান্ধব তথা গণমানুষের নেতা সবার প্রিয় আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীকে মন্ত্রীসভায় দেখতে চাই রাজশাহী অঞ্চলের দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ। বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্র ও বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদান, কৃষি সম্পর্কে (অগাধ) বিশেষ জ্ঞান এবং কৃষিবিদ এমপি ফারুক চৌধূরীকে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য বা শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করার দাবী করেছেন রাজশাহী জনপদের দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। ইতমধ্যে রাজশাহী তথা প্রচন্ড খরাপ্রবণ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তিনি তাল-খেজুর ও সাজিনা রোপণের উদ্যোগ নিয়ে সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছেন, এছাড়াও তিনি মাল্টা চাষের প্রচলন করেছেন তার হাত ধরেই এখন বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষের বিপ্লব ঘটেছে। অন্যদিকে পান ও মুড়ি ধান চাষ (স্থানীয় ভাষায় খাওনা) করতে তিনি কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে কৃষি বিষয়ে তার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ইতমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পান চাষ ও মুড়ি ধান চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে শুরু করেছে। কোনো ধরণের চাষ, সেচ ও শ্রমিক ছাড়াই মুড়ি ধান (খাওনা) চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। আবার বরেন্দ্র অঞ্চলে চার ফসলি জমি যখন গিলে খাচ্ছিল আম বাগানে তখন এমপি ফারুক চৌধূরী বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে দেখেন একই জমিতে একই সঙ্গে ধান ও আম চাষ কোনো অবস্থাতেই লাভজনক নয় এতে কাক্ষিত কোনো ফসলই পাওয়া যায় না তবে এক ফসলী বা পতিত জমিতে আম বাগান করা বেশী শ্রেয়। ফলে তার প্রচেস্টার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে চার ফসলী জমিতে আম বাগান তৈরীর প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও এমপি ফারুক চৌধূরী এমন একজন কৃষিবান্ধব ও বিশেষজ্ঞ জনপ্রতিনিধি যে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে দেশী-বিদেশী যত প্রকারের ফুল-ফলজ-বনজ-ঔষুধী ইত্যাদি গাছ রয়েছে তা সরকারী পর্যায়ের অধিকাংশ কৃষি বিভাগেই নাই, আবার কৃষি সম্পর্কে তার যেই বিশদ জ্ঞান রয়েছে সেটা অধিকাংশ কৃষি কর্মকর্তার নাই। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, এসব বিবেচনায় কৃষিবান্ধব এই জনপ্রতিনিধিকে কৃষি-খাদ্য. মৎস্য বা শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হলে শুধুমাত্র কৃষি নয় দেশের কৃষকরাও স্বাবলম্বী ও উপকৃত হবে। আবার রাজশাহীর উন্নয়নে এমপি ফারুক চৌধূরী উন্নয়নের যেই মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতেই রাজশাহীর মানুষ এবার এমপি ফারুককে মন্ত্রী সভায় দেখতে চাই এটা এখন তাদের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়ে উঠেছে।
রাজশাহী-১ আসন বিএনপি-জামায়াতের আঁতুড় ঘর হিসেবে পরিচিত হলেও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাংসদ ফারুক চৌধূরী তার রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় বিএনপি-জামায়াতের আঁতুড় ঘর তছনছ করে আওয়ামী লীগের বসত ঘরে পরিণত করে পর পর তিন বার বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এবার আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় এমপি ফারুককে পূর্ণ মন্ত্রী করার দাবি করেছেন রাজশাহীর সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। কারণ ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের সরকারে রাজশাহী থেকে নির্বাচিত এমপি না থাকলেও দু’জনকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। দশম ও একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও রাজশাহীর সবগুলো আসন আওয়ামী লীগ ও শরিক দল বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যরা যখন রাজনীতিতে এসে ব্যবসায়ী হয়েছেন তখন ফারুক চৌধূরী সফল ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। আবার আদর্শিক ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের জন্য দলের সভাপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের সকল প্রোটৌকল ভেঙ্গে তার একক ক্ষমতা বলে ফারুক চৌধূরীকে আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়েছেন যেটা অনেক বড় বড় রাজনৈতিক নেতার কপালে জোটে না এমনকি এখানো তিনি এমপির সম্মানী ভাতার একটি টাকাও গ্রহণ না করে সেই টাকা তার নির্বাচনী এলকার হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করে আসছেন আবার তানোরে সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট নির্মাণের জন্য কয়েক কোটি টাকা মূল্যর তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি তিনি দান করেছেন, এসব বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশস্ত সৈনিক এমপি ফারুক চৌধূরীকে এবার মন্ত্রীসভায় দেখতে চাই রাজশাহীর মানুষ। এমপি ফারুকের রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় বিএনপি-জামায়াতের (আতুড় ঘর) রাজশাহীকে আওয়ামী লীগের বসত ঘরে পরিণত করেছেন। এমপি ফারুকের রাজনীতিতে আশার আগে ও পরের আওয়ামী লীগের অবস্থান পর্যালোচনা করলেই সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাহলে দেশের জন্য যেই পরিবারের এমন ত্যাগের মহিমা রয়েছে আবার সেই পরিবারের সন্তান একটানা পর পর তিন বার বিপুল ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি কেনো আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী সভায় পূর্ণ মন্ত্রী হবেন না এটাতো এই জনপদের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রাণের দাবী। বঙ্গবন্ধু কন্যা, বিশ্বমানবতার অগ্রদূত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে রাজশাহীর সব শ্রেণী-পেশার মানুষের আকুল আবেদন এবার তার সরকারের মন্ত্রী সভায় এমপি ফারুককে পূর্ণ মন্ত্রী করা হোক। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান ও বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এমপি ফারুক চৌধূরীকে মন্ত্রীসভায় স্থান দেয়ার দাবী এই অঞ্চলের সকল মানুষের তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম, শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হেনা। এরপর জিয়াউর রহমানের আমলে পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন, রাজশাহীর মরহুম এমরান আলী সরকার। আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের আমলে যথাক্রমে রাজশাহীর মেসবাহ উদ্দীন আহম্মেদ বাবলু উপমন্ত্রী, সরদার আমজাদ হোসেন পূর্ণ মন্ত্রী এবং মরহুম নুরুননবী চাঁদ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে এ্যাডভোকেট কবির হোসেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও ব্যারিষ্টার আমিনুল হক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৬ সালের শেখ হাসিনার সরকারে সংরক্ষিত সাংসদ অধ্যাপিকা জিনাতুন নেসা তালুকদার উপ-মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এছাড়াও বিএনপির দলীয় সাংসদ ডাঃ আলাউদ্দীন শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রীসভায় যোগদান করলে ফ্লোরক্রসিংয়ের অভিযোগে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান। এরপর তাঁর আসনে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে ডাঃ আলাউদ্দীন পুনরায় মন্ত্রী হন। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ ব্যারিষ্টার আমিনুল হক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর পদ ছাড়াও সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীর অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। বিগত ২০০৮ সালে আওয়ামী সরকারে শেষ সময়ে শিল্প প্রতিমন্ত্রী করা হয় এমপি ফারুক চৌধূরীকে এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী সরকার গঠন করলে রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ শাহারিয়ার আলমকে করা হয় পররাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এদিকে ২০১৮ সালে একাদ্বশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো সরকার গঠন করেছে এবার আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীকে মন্ত্রীসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই রাজশাহীর দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ এই অঞ্চলের এসব মানুষের প্রাণের দাবী একটাই এমপি ফারুককে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাওয়া। #

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তানোরে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন

আলিফ হোসেন, তানোর রাজশাহীর তানোরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জমকালো আয়োজনে বাঙালি ...