Breaking News
Home / Uncategorized / রায়হান অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে

রায়হান অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে

আজ কেন যেন গাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করছে না। খুব ইচ্ছে করতেছে রাতের শহরটাকে রিক্সা দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখতে। যেই ভাবা সেই কাজ । দাড়ি অফিস পার্কিং জায়গায় রয়ে গেল রায়হান গুটিগুটি পায়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ালো। তারপরে একটা রিক্সায় উঠে পড়ল। দিনের বেলায় এই ধুলো-বালির শহরটাকে একদম বিরক্ত লাগে শ্বাস নেওয়ার মতো অবস্থা থাকে না। কিন্তু রাতের বেলায় কত সুন্দর লাগে । অন্ধকার কে আলোকিত করার জন্য পুরো শহরটা লাইটিংয়ে ঝলমল করছে ।ল্যাম্পপোস্টের আলো। আকাশে মিটিমিটি তারা। বিরক্তকর মনটা নিমিশেই ভাল হয়ে গেল। কিন্তু তারপরেও কেমন যেন একা একা লাগতেছে যদি রায়হানের পাশে একটা মেয়ে বসত। দুজন দুজনের হাত ধরে রাখতে পারতো। আর বাতাসে মেয়েটার চোলগুলো উত্তরে উরে রায়হানের মুখে এসে পড়তো। রায়হান আলতো করে সেই চুলে মুখ গুজে দিয়ে চুলের ইস্মেল নিতো। মেয়েটা কেঁপে ওঠে রায়হানের হাত শক্ত করে মুঠো করে ধরতো। এক অজানা ভালোলাগা কাজ করতো।হয়তো মেয়েটা একসময় রায়হানের কাঁধে মাথা রাখতো । রায়হান আলতো করে মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত।কতই না ভালো হতো.. হঠাৎ করে রায়হানের কুয়াশা কন্নার কথা মনে হয়ে গেল।ইশ মেয়েটা যদি এখন পাশে থাকতো তাহলে কল্পনাগুলো সত্যি হতে পারতো। ঠিক তখনই রায়হান দেখতে পেল রাস্তার পাশে নতুন বছর উপলক্ষে পার্কে হয়তো ছোটখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ব্যাপারটি হবে এইখানে অনেক ছোটখাটো দোকানদাররা এসেছে কেউ আচার বিক্রি করছে কেউবা জালমোরি কেউবা রেশমি চুড়ি অনেকে অনেক অনেক কিছুই বিক্রি করতেছে একটা মেয়ে চোরির দোকান থেকে । দুই হাতে কাচের চুরি পরেছে ।একটা হাতের সাথে আরেকটা লাগিয়ে ঝনঝন করে।চোরির আওয়াজ তুলতেছে ।আওয়াজটা অনেকটাই মধুর। হয়তো প্রেমিক পুরুষদের কাছে এটা অনেক প্রিয়। মেয়েটা এতক্ষণ নিচু হয়েছিল ।যখন মুখটা উপরে তুলে তাকালো রায়হান চিনতে ভুল করল না আরে এটা তো সেই কুয়াশা কন্যা। রিকশাটা অনেকটাই সামনে চলে গেছে রায়হান রিকশা থেকে লাফ দিয়ে নেমে দৌড়ে আসতে গেলে রিক্সাওয়ালা ডেকে বলল মামা ভাড়া দিয়ে যান। রায়হান নিজের মাথায় নিজেই থাপ্পর দিল আবার দৌড়ে গিয়ে রিক্সাওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে মেয়েটার কাছে এসে দাঁড়ালো। মেয়েটা একবার রায়হানের দিকে চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিল। রায়হান কিভাবে কি বলবে কি থেকে কি শুরু করবে ভেবে পাচ্ছে না ।যেন মেয়েদের কাছ থেকে ও বেশি লজ্জা পাচ্ছে ।মাথার চুল হাত দিয়ে চুলকাতে লাগলো। রায়হান কে অভাক করে দিয়ে মেয়েটা বললো।
_ কিছু বলবেন।
_ না মানে ইয়ে মানে ( কথাগুলো যেন সবকিছু আওলিয়ে গেল কোন কথাই মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না)
_ না মানে ইয়ে মানে করছেন কেন ।এরকম ভেজাবিরাল ছেলে আমি একদম দেখতে পারি না। কিছু বলার যখন সাহস নাই তখন আড়চোখে তাকাচ্ছেন কেন।
_ আপনি কিভাবে বুঝলেন আমি আপনার দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছে।
_ মেয়েদেরকে এতটা বোকা মনে করবেন না ।মেয়েদের আলাদা একটা মাইন্ড আছে। ওরা খুব ভালো করে বুঝতে পারে যে এই ছেলেটা তার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে না । ভালো দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে ।মেয়েদের ব্রেন খুব স্ট্রং আর এটা আল্লাহতালার দান। দেখলেই বুঝতে পারে যে মানুষটা চোখের দৃষ্টি ভালো না খারাপ সে কিছু বলতে চাই কি চাই না।
_ ও আচ্ছা আমি তো জানতাম না। তাহলে বলেন তো আমি কি বলতে চাচ্ছি।
_ আজব তো আপনি চেনা নেই জানা নেই আপনি কি বলতে চাচ্ছেন সেটা আমি কি করে বলব ।কিন্তু আপনি যে কিছু বলতে চাচ্ছেন সেটা বুঝতে পেরেছি।

রায়হান খেয়াল করে দেখল মেয়েটা ঠোঁটে গাঢ় ভাবে লিবিসটিক দিয়েছে। এই লিপস্টিকের কারণে মেয়েটাকে আরো বেশি আবেদনময়ী লাগতেছে। হয়তো অনেক ছেলেরাই মেয়েটার ঠোঁটের দিকে বাজে নজরে তাকিয়েছে ।হয়তো অনেকে ঠোঁটের স্বাদ নিতে চেয়েছে ।কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। রায়হানের মন চাচ্ছে কয়েকটা থাপ্পর দিতে ‌।এরকম লিপস্টিক মেখে সং সেজে বের হওয়ার কি দরকার ছিল ।মেয়েরা বুঝে না এমন করে সাজলে ছেলেরা ওদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কোন অধিকার নাই রায়হানের কিছু বলার তাই রায়হান চুপ মেরে গেল..
_ কিছু বলবেন না হলে আমি গেলাম।
_ এই দাঁড়ান দাঁড়ান কোথায় যাচ্ছেন।
_ জাহান্নামের চৌরাস্তায় যাচ্ছি তাতে আপনার কোন সমস্যা।
_ রেগে যাচ্ছেন কেন অবশ্য রাগলে কিন্তু আপনাকে অনেক বেশি সুন্দর লাগে। একদম পরীর মত লাগে আপনার গাল দুটো লাল হয়ে যায়।
_ ফ্লাট করা হচ্ছে আমার সাথে ।জায়গা মত এমন মার দিব না জীবনে বাবা হতে পারবেন না।

রায়হান বই পেয়ে একটা ঢোঁক গিলল মেয়ে তো সাধারন মেয়ে না।
_ না মানে আপনি যা ভাবছেন আমি কেমন ছেলে না।
_ ওমা তাই নাকি আমি কি করে বুঝবো আপনি অন্য ছেলেদের মতো ক্যারেক্টার লস। না তাহলে চলেন তো ওই যে জুপটা দেখা যাচ্ছে ওইটার আড়ালে ।দেখব আমি যে ওইখানে গিয়ে আপনি আমার উপর আপনার পৌরষত্ব ফেলান। কি ফেলান না ।তখন নিজেকে আমি না হয় বুঝদিতে পারবো আপনি ভাল না খারাপ…
_ ঝোপের আড়ালে মানে ( রায়হান রীতিমত অবাক হলো)
_ কেন আজকালকার ছেলেরা তো প্রেম করে একমাত্র কোনরকমে মেয়েটাকে পটিয়ে-পাটিয়ে হয়তো ঝোপের আড়ালে নয়তো ফ্ল্যাটে নিয়ে ফিজিক্যাল রিলেশন করার জন্য। একবার যদি ফিজিকেল রিলেশন করা যায়। তাহলে হয়তো সেই ছেলেটা আগে থেকে প্ল্যান করে সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও করার জন্য ব্যবস্থা করে রাখে। তার পর ভিডিওটা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মেয়েটাকে আরো অনেকবার বিছানায় নিতে পারে বিছানায় না যেতে চাইলে নেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেওয়া হয় তখন মেয়েটা নিজের সম্মানের কথা চিন্তা না করলেও বাবা-মার সম্মানের কথা চিন্তা করে আবার নিজের সর্বত্র ছেলেটার কাছে বিলিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ় আবার হয়তো আবার একটা সুন্দরী মেয়ের দেখা পেলে সেই মেয়েটাকে ছুড়ে ফেলে দেই ।আর ভিডিওটা দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে
যদি আমার পিছে আর কোন সময় আসিস তাহলে তোর এই ভিডিওটা আমি নেটে ছেড়ে দিব তখন এই মেয়েটা না পারে কাউকে বলতে না পারে সইতে। নিজে নিজে জ্বলে পুড়ে মরে। আর ভুলের জন্য নিজের মাথার চুল টেনে ছিড়ে। যে আমি এই কোন মানুষকে ভালবাসতে গেলাম আমার সবকিছু উজাড় করে দিলাম আর সে কিনা আমাকে এমন করে ঠকালো। আপনারা ছেলেরা তো এটাই চান ।আমিতো আপনার জন্য আরও সহজ করে দিলাম চলেন জোপের আড়ালে দেখব আপনি কতটা ভালো ছেলে ।ওইখানে একা পেয়ে আপনি আপনার পুরুষত্ব না ফেলে থাকতে পারবেন না সেটা আমি ভালো করে জানি..(এই কথা বলেই মেয়েটা চলে যাচ্ছে)

রায়হান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে কথাটা সত্য এরকম কাহানি অনেক হয়েছে রায়হান শুনেছে। রায়হান পিছন থেকে ডেকে বললো।
_ সব ছেলেরা তো আর এক না ।সব ছেলেরা তো আর ফিজিক্যাল রিলেশন করতে চাই না প্রেম করে ।আর যখন একটা ছেলে ফিজিক্যাল রিলেশন করতে চাই। যে ফেলেছে ফিজিকেল রিলেশন না করলে তোমার সাথে আমি সম্পর্ক রাখবো না এমন কথা বলে।তখন মেয়েটা ছেলেটার সাথে ফিজিকাল রিলেশন না করে। সম্পর্ক এখানেই সব কিছু শেষ করে দিলেই তো চলে। তারপরে মেয়েটা কেন বোকার মত সবকিছু সপে দিই ।তার কাছে ।তার এটা বুঝতে হবে যে ছেলে ওর সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করতে চায় ।তাহলে সে ওকে ভালোবাসে না ওর দেহকে ভালোবাসে।

মেয়েটা মুচকি হেসে বলল।
_ জানেন তো ভালবাসলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায় ।তখন বিবেক বুদ্ধি লোপ পেয়ে যায়। মেয়েটা নিজের জীবনের বিনিময়েও ছেলেটাকে হারাতে চাইনা।। আর আপনার কথা শেষ হয়েছে আমার অনেক কাজ আছে আমি গেলাম। আর নিজেকে যে বীরপুরুষ বানাচ্ছেন কই সাহস তো হলোনা আমার সাথে জপের আড়ালে যেতে।

রায়হানের এবার একটু রাগ উঠে গেল এ কেমন মেয়েকে পছন্দ করলে সে যে কিনা ওর পরীক্ষা নিতে চাই। রায়হান একটু রাগ নিয়ে বলল।
_ চলেন ঝোপের আড়ালে সব ছেলেরা যে এক না আপনাকে তো বোঝাতে হবে।

মেয়েটা যেন এরকম কথার অপেক্ষায় ছিল মেয়েটার ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটে উঠেছে। এগিয়ে এসে রায়হানের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল ঝোপের দিকে যোপ বললে ভুল হবে ।পার্কে অনেক রকম গাছ থাকে এই গাছটা একটু পাতা বেশি হয়েছে ।মানুষ তেমন একটা থাকে না এ দিকে। মেয়েটা ঠিক ওই জায়গায় রায়হানকে নিয়ে যাচ্ছে আর এদিকে মানুষ হইচই করে অনুষ্ঠানে আনন্দ করতেছে কিছুক্ষণ পরেই ।কিছুক্ষণ বললে ভুল হবে হয়তো কয়েক ঘন্টা পরে রাত বারোটা বাজবে আর তখন মানুষ অনেক আনন্দ করবে নিউ ইয়ার উপলক্ষে।।। মেয়েটা যখন রায়হানের হাতে স্পর্শ করল কোমল হাতের স্পর্শে রায়হান কেমন যেন কেঁপে উঠল। কবিরা একটা কথা বলেছে ।কথাটা সত্য পুরুষরা যতই সক্ত হোক না কেন। নারীর স্পর্শে একদম মোমের মতো গলে যায় ।ঠিক তেমনটাই হয়েছে রায়হান।মোমের মতো গলে গেছে। রায়হান কে ঝোপের আড়ালে নিয়েই মেয়েটা ।রায়হানকে জাপ্তে জরিয়ে ধরল। রায়হান যেন কারেন্টের শক খেলা করছে কি মেয়েটা। রায়হানের হাত-পা অনেকটাই কাঁপতেছে কারণ কোন মেয়ে এরকম ভাবে রায়হানের এতটা কাছে আসেনি আজ পর্যন্ত। রায়হান মেয়েটাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল।
_ কি হচ্ছে কি এসব।
_ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকুন 5 মিনিট আপনাকে জড়িয়ে ধরে রাখব। দেখব আপনি নিজেকে কন্ট্রোল করে রাখতে পারেন কিনা ।আমি জানি আপনি পাঁচ মিনিট পর ।পাঁচ মিনিট না অন্তত 2 মিনিট পর আপনার পুরুষত্ব দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন আমি শিওর..।। রায়হান নরা চরা করতে চাইলে। মেয়েটা রায়হানের ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোট মিলিয়ে দিলো। রায়হান যেন মূহুর্তের মধ্যে অন্ন জগতে হারিয়ে গেল।

মেয়েটার ধারণা ঠিক হয়তো রায়হানের মনের ভেতর অনেক রকমের ভাবনা তৈরি হচ্ছে। হয়তো রায়হানের মন একবার বলছে রায়হান তুমি মেয়ে টাকে স্পর্শ করো। এমন সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না কেউ নিয়ে আসে পাশে শুধু মুখ চেপে ধরে যা ইচ্ছে তাই করো। আরেকটা মন বাধা দিচ্ছে যে এটা ঠিক না। কিন্তু সব চাইতে বড় কথা হচ্ছে মানুষ চাইলে সব পারে ।হয়তো রায়হান চাইলে মেয়েটা কে কাছে টেনে নিতে পারবে। হয়তো নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবে ।কারণ মানুষের দ্বারা দুটি সম্বব পুরোটা নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। রায়হান নিজেকে শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইলো কিন্তু রায়হানের সাথে কি হচ্ছে ও নিজেও জানেনা কেমন যেন মাতাল হয়ে যাচ্ছে মেয়েটার স্পর্শে। । কিন্তু নিজেকে শক্ত করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কারণ রায়হান কিছুক্ষণের জন্য না সারা জীবনের জন্য মেয়েটাকে পেতে চাই। ঠিক পাচ মিনিট পর রায়হান কে মেয়েটা ছেড়ে দিয়ে বলল।

_ না আপনি আসলেই খুব ভালো ছেলে আপনার প্রতি আমার ধারণা ভুল ছিল সরি ক্ষমা করবেন।। জীবনে আর কোনদিন আপনার সাথে দেখা হবে না।

_ দেখা হবে না কেন ( অবাক হয়ে)
_ কারণ আমি ভালো মানুষের সাথে দ্বিতীয় বার দেখা করি না।জদি দেখা হয় তাহলে আপনি আমাকে মারতে চাইবেন।তাই আর দেখা না হলেই ভালো।

_ না না আমি এমন নয়।মারতে চাইব কেন।

_ আমি বলব না। কেন মারতে চাইবেন।সেটা আপনি একটু পরে।নিজেই বুঝে যাবেন। অনেক মায়া হচ্ছে আপনার জন্য। আপনি কতো ভালো মানুষ। কিন্তু কি জানেন।ভালো মানুষ ঠকে বেশি।
রায়হান কিছু বলতে যাবে তার আগেই মেয়েটা দৌড়ে চলে গেল।। রায়হান মুচকি হাসল হয়তো মেয়েটা লজ্জা পেয়েছে।। হঠাৎ রায়হানের মনে পড়ে গেল শীতল কে ফোন করে জেনে নিলে ভালো হয় ওর কোন কালারের চুরি পছন্দ কারণ এখানে অনেক চোরি উঠেছে। কিন্তু পকেটে হাত দিতেই রায়হান চমকে উঠলো একি মোবাইল কোথায়। তারপরে পেছনে হাত দিয়ে দেখলো মানিব্যাগ পর্যন্ত নেই। এমনকি হাতের ঘড়িটা পর্যন্ত নেই মেয়েটার সাথে কথা বলার আগে এখানে আসার আগে তো সবকিছুই ছিল। তারমানে কি মেয়েটাই সবকিছু নিয়ে গেল। রায়হান মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল ওরে বাবা কি অভিনয়টা না করলো মেয়েটা। এইজন্যেই কবে বলে সুন্দরী মেয়েদেরকে বিশ্বাস করতে নেই।। এখন বাসায় কি করে যাবে মোবাইল টাকা কিছুই নেই হেঁটে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।। রায়হান পকেটে হাত দিয়ে দেখল একটা পকেট 50 টাকা আছে না কপালটা এত খারাপ না হেটে যাওয়া লাগবে না। ঠিক তখন একজন লোক ছুরি নিয়ে এসে রায়হানের সামনে দাঁড়ালো ।।যা আছে বের করে দে তাড়াতাড়ি আওয়াজ করবি তো ছুরি চালিয়ে দিব।। লোকটা রায়হানকে তল্লাশি করে 50 টাকা পেল তারপরে ধুর কোন ফকিন্নি কে ধরতে গেলাম গালি দিয়ে চলে গেল।। রাইহান এবার মুচকি হাসতে লাগল হায়রে কপাল জীবনে করবোনি প্রেম প্রেমের এইনা নমুনা গাড়ি ভাড়া তো চলে গেল এবার হেঁটে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই।।

ঠিক তখনি রায়হান ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলো শরীর একপ্রকার ঘামতে লাগলো কি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন না দেখলো। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে রাত তিনটা বাজে তার মানে সারারাত কুয়াশা কন্যাকে নিয়ে কল্পনা করতে করতে সেই কুয়াশা কন্যাকে নিয়ে এরকম স্বপ্ন দেখলো ।না জানি বাস্তবে মেয়েটা সত্যি সত্যি পকেটমার হয় কিনা।

[1/2, 5:48 PM] Ryhan Khan: ভোরের আলো জানালা দিয়ে রুমে প্রবেশ করতেই ইতির ঘুম ভেঙে গেল। কিন্তু নড়াচড়া করার শক্তি পাচ্ছে না কেউ একজন তাকে বাহুজুরে জড়িয়ে ধরে রেখেছে । ।রোদ এখনো বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। রোদের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখের ওপর এসে পড়ে রয়েছে। ঘন কালো চোখের পাপড়ি। গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। লাউয়ের ডগার মত নাক। ধবধবে সাদা চামড়ার গাল যেন টোকা দিলে রক্ত জমে যাবে। রোদের বুকের একেকটা পশম যেন।ইতি কে পাগল করে দিচ্ছে।ইতি কে মুগ্ধ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট এতটাই সুন্দর। ইতি ভাবতেই লজ্জায় কুঁকিড়ে উঠল এরকম হ্যান্ডসাম একটা ছেলে তার স্বামী।ইশ ছেলেটা এত সুন্দর হতে গেল কেন একটু কম সুন্দর হলে কি হতো। ।।ইতির মন ইতি কে বললো।তুই কি লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছিস সবসময় শুনেছিস ছেলেরা মেয়েদের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু তুই মেয়ে হয়ে ছেলের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকিস। তা কি ঠিক হচ্ছে নির্লজ্জের মত।।। ইতি মন খারাপ করে তার মনকে বোঝাতে চেষ্টা করতেছে আমার কি দোষ ছেলেটা এত সুন্দর কেন আর দুনিয়াতে আল্লাহ চোখ দিয়েছে সৌন্দর্য দেখার জন্য। যে দিকে সৌন্দর্য আছে সেদিকে চোখ যাবেই।বাঁধা দিয়ে রাখতে চাইলেও সম্ভব হয়না কারণ । মুখের কথা যে মন মানেনা মন সবসময় ব্যাকুল হয়ে থাকে দেখার জন্য… ইতি একটু নড়েচড়ে উঠতেই।রোদ আরো ভালো করে ইতি কে জড়িয়ে ধরে ইতির গলায় নাক ডুবিয়ে দিল ইতি আরো খুব বেশি করে কেঁপে উঠলো। ওর গরম নিশ্বাস মাতাল হয়ে যাচ্ছে ইতি। মন চাচ্ছে আবারো নিজেকে রোদের কাছে সপে দিতে দ।ইতি নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করতেছে। হঠাৎ করে রাতের সবকিছু মনে পড়ে গেল।ইতি চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললো‌।ইশ কি লজ্জা। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোদ ঘুম থেকে ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে যেতে হবে। আর না উঠতে পারলে সমস্যা হবে।রোদ আবার ইতিকে এ অবস্থায় দেখে ফেললে হয়তো দুষ্টুমি শুরু করে দিবে। কারণ রোদ কে দিয়ে বিশ্বাস নেই ।যখন প্রেম করার চেষ্টা করেছে ইতি । তখন যেন ভাজা মাছ উলটে খেতে পারৈনা। কিন্তু কাল রাতে কি করল ছেলেটি পাগল করে ছেড়ে দিল ওকে।এই ছেলেকে দিয়ে বিশ্বাস নেই। এখন দেখো কি নিষ্পাপ বাচ্চাদের মত ঘুমাচ্ছো যেন কিছুই বোঝেনা। কিন্তু আস্ত একটা শয়তান যা ইতি গতরাতে টের পেয়েছে।। আলতো করে রোদের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে। বিছানার পাশে পরে থাকা শাড়িটা দিয়ে হালকাভাবে শরীরটাকে ডেকে। বাড়ি থেকে আনা সুটকেস নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেল ইতি। বলা তো যায়না সুটকেস খুলে কাপড় বের করতে গেলে যদি। রোদ আবার উঠে যায় তখন যদি আবার দুষ্টুমি শুরু করে দেই। প্রীতিকে এই অবস্থায় দেখে। তাই ইতি রিক্স নিতে রাজি হলো না। শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে ইতি নিচে গিয়ে দাঁড়ালো। বান্ধবীদের কাছে শুনেছে বিয়ের পরে প্রথম গোসলের সময় নাকি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। ইতি ও কেমন যেন লজ্জা লজ্জা ভাব হচ্ছে‌। ওর শরীরের দিকে তাকাতেই আরো বেশি লজ্জা পাচ্ছে ।অনেক জায়গায় লালচে দাগ পড়ে গেছে হয়তো এগুলো রোদের স্পর্শের দাগ। গোসল শেষে একটা নীল রঙের শাড়ি পড়ে ইতি বের হলো ।রোদ এখনো ঘুমাচ্ছে । এতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুলগুলো ঝাড়তে ছিল ঠিক তখনই আচমকা কেউ একজন পেছন থেকে এসে ইতি কে জড়িয়ে ধরল ইতির বুঝতে বাকি রইল না।এটা কে । ইতি আবারো কেঁপে উঠল রোদের স্পর্শে। রোদ গভীরভাবে ইতির ঘাড়ে চুমু খেলো।
ইতি চোখ বন্ধ করে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে বলল।
_ সারারাত দুষ্টুমি করে বুঝি শখ মেটেনি এখন আবার শুরু করেছো।
_ কিছুক্ষণ থাকি না এভাবে ভালো লাগতেছে তো( ভালো করে জড়িয়ে ধরে)
_ না এক মুহূর্ত না এখন যাবে ফ্রেশ হবে না হলে কিন্তু… রোদ ছেড়ে দিয়ে মুখ মলিন করে বললো।
_ ভালো লাগে না আমার স্পর্শ মিস করবে একদিন খুব মিস করবে।। এই কথা বলে রোদ অভিমান করে ওয়াশ রুমে চলে গেল। ইতি হঠাৎ করে একটু খারাপ লাগলেও আবার ভুলে গেল কথাটা কারণ ইতি জানে রোদের মন খারাপ ইতি সহজেই দূর করে দিতে পারবে।

এতে ফজরের নামাজ পড়ে রুমে থেকে বের হয়ে গেল যেহেতু রাবিয়া ইতির বান্ধবী সেই ক্ষেত্রে অনেকবার এই বাড়িতে আসা হয়েছে তাই সবকিছুই চেনাজানা।

রায়হান সবে মাত্র ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমেছে নাস্তা করার জন্য। রোদ নতুন বিয়ে করেছে আজ ওর অফিসে যাওয়া ঠিক হবেনা তাই রায়হান অফিসে যাওয়ার জন্য সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেছে।প্লান আগে ভার্সিটি তে যাবে তার পরে অফিসে। কারণ আজ প্রাই ২ মাস হতে চলল রায়হান ভার্সিটি তে যাচ্ছে না শিতল অসুস্থ হবার পর থেকে। কিছু দিন পরেই ওদের ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা।

ইতি সিরি দিয়ে নিচে নামতেই রায়হানের সাথে চুখা চুখি হলো।
ইতিকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে দেখে রায়হান মুচকি হেসে বলল।

_ গুড মর্নিং ভাবি।
_ মর্নিং ( মাথা নিচু করে)
_ তা রাত কেমন কাটলো গো ভাবি।আমি তো মনে করেছিলাম কমপক্ষে সকাল দশটার আগে আপনার ঘুম ভাঙবে না ।কারণ সারারাত টি-টোয়েন্টি খেলে এত সকালে ঘুম থেকে উঠে যায় ( মুচকি হেসে)
ইতি তো লজ্জায় একদম শেষ মন চাচ্ছে ফ্লোর ভাগ করে নিচে ঢুকে যেতে দুষ্টু কোথাকার।
_ কি হলো চুপ করে আছেন যে। তা বড় ভাবী হিসেবে আমায় কেউ কি শুটকি দিয়ে যান রাতে কি কি হলো। কিভাবে হল। ভবিষ্যতে আমারও তো কাজে লাগতে পারে তাই না( চোখ টিপ মেরে)

ইতি তো লজ্জায় যায় যায় অবস্থা
এই শয়তানটা তো রোদের চাইতে আরো বেশি হারামি না জানি ওর বউকে কতটা জ্বালাবে ও। নাজানি কোন ব্যাটারি রায়হানের বৌ হবে তার তো রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে।
রায়হান আর কিছু বলতে যাবে। তার আগেই ইতি এক দৌড়ে কিচেন রুমে চলে গেল
। ইতি ভালো করেই জানে রায়হানের দুষ্টুমি কোন ঠিক ঠিকানা নাই না জানি আবার কি বলে ফেলে ।। ইতি কে এক প্রকার দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে রায়হান হাসতে হাসতে শেষ।। ইতি কিচেন রুমে গিয়ে দেখল রায়হানের মা আর রাবেয়া মিলে সকালে নাস্তা তৈরি করতেছে।। ইতি আস্তে করে গিয়ে ওদের পিছনে দাঁড়াল। রায়হানের মা ইতি কে দেখে বলল

_ আরে বৌমা যে । সকাল সকাল উঠে গেলে যে আমি তো ভেবেছিলাম আরো কিছুক্ষণ পরে রাবেয়াকে বলবো তোমাদেরকে উঠানোর জন্য এত সকাল-সকাল উঠাতে গেলে কেন।

_ ইয়ে মানে আন্টি আমি সকাল বেলা বেশিক্ষণ ঘুমাতে পারি না রোজ অভ্যাস তো তাই।

রায়হানের মা মন খারাপ করে বললো।
_ আমরা তো তোমাকে ঠিকই আপন করে নিয়েছি তুমি কি। এখনো আমাদেরকে আপন ভাবতে পারোনি।

_ আসলে আন্টি….
_ থাপ্পর দিয়ে সবকয়টা দাঁত ফেলে দিবো আর একবার আন্টি বললে কেন আমিতো তোকে নিজের মেয়ের মতোই দেখি তুই কি আমাকে মা বলে ডাকতে পারিস না।

ইতি অনেকটা লজ্জা পেলো তারপরে রায়হানের মাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল

_ সরি মা এমনটা আর হবে না ।আপনার এই মেয়েটাকে কি মাফ করে দেওয়া যায় না।

_ হয়েছে হয়েছে এখন রুমের মধ্যে গিয়ে বসে থাক। নতুন বউ নিচে আসা ঠিক না।

_ এ বললে বলো না কে আমি মনে হয় এই বাড়িতে নতুন এসেছি।
_
[1/2, 6:57 PM] Ryhan Khan: পাগলি মেয়ের কথা শোনো আগের আশা আর এখনের আসার মধ্যে অনেক ব্যবধান আছে।

_ আমি এতকিছু জানি না আপনি এখন কিচেন রুম থেকে বের হবেন আমি আর রাবেয়া মিলে রান্না করবো আজকের পর থেকে যদি আপনাকে কিচেন রুমে দেখছি তাহলে খবর আছে আপনার।

রায়হানের মা আর কিছু বলতে পারলোনা একপ্রকার জোর করেই ইতি ওনাকে কিচেন রুম থেকে বের করে দিল। রায়হানের মা হাসতে হাসতে চলে গেল পাগল মেয়ে একটা।।

রান্না শেষে ইতি রাবিয়া মিলে টেবিলে খাবার সাজিয়ে দিলো। ইতি খেয়াল করে দেখল রায়হান এখনো সোফায় বসে আছে রায়হান রাতের স্বপ্নটা নিয়ে ভাবাভাবি করতেছে আর মানিব্যাগটা সাবধানে রাখার চেষ্টা করতেছে না জানি মেয়েটার সাথে বাস্তবে দেখা হয়েছে আবার পকেট মেরে ফেলে।। রোদ বিয়ে করেছে এখনো রোদের আত্মীয়রা কেউ জানে না‌ আজ জানানো হবে হঠাৎ করে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এখনো কোনো আত্মীয়-স্বজন আসে নাই। পুরো বাসায় থাকা ইতি মুচকি হেসে রায়হানের পাশে গিয়ে বসে পড়লো।
_ মনে হচ্ছে কোন কারণে টেনসনে আছ কোন প্রবলেম ( ইতি)
_ না তেমন কিছু না।
_ তেমন কিছু না হলে কেমন কিছু কিছুতো একটা হয়েছে।

ইতির জড়াজড়িতে রায়হান রাতের স্বপ্ন কথা বলতে বাধ্য হল।

রায়হানের কথা শুনে ইতি হাসতে হাসতে শেষ 😁। হাসি কন্ট্রোল করে বলল

১ম পর্ব

_

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আণুবীক্ষণিক দানবের দাপটে ভাঙছে মানবিক মূল্যবোধ ও অনুশাসন

সর্বগ্রাসী করোনা কেবল মানুষের প্রাণহরণই করছে না, পাল্টে দিচ্ছে মানুষের যুগযুগান্তের বিশ্বাস, ...