Breaking News
Home / Uncategorized / ছোঁয়ার নাকের বাঁশি দুটো ফুলে লাল হয়ে আছে

ছোঁয়ার নাকের বাঁশি দুটো ফুলে লাল হয়ে আছে

রাবেয়া ,আশা, আকাশ.আরো কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিল ক্যাম্পাসে, ছোঁয়া রাগে ফোঁপাতে ফোঁপাতে গিয়ে ওদের মাঝখানে বসে পড়ল। ছোঁয়ার নাটের বাঁশি দুটো ফুলে লাল হয়ে আছে। রাবেয়া দেখেই বুঝতে পারল ছোঁয়া কোন কারনে রেগে আছে। কারণ রায়হান যখন রেগে যায় নাকের বাঁশি এমন করেই পানুশ সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করে ।ফুলিয়ে রাখে এই মেয়ে তো একই অবস্থা। রাবেয়া তার ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে ছোঁয়ার সামনে রাখলো। ছোঁয়া গরগর করে পুরো পানিটা তার মাথার মধ্যে ঢেলে দিল‌।

রাবেয়া_ কিরে এমন হট হয়ে আছিস কেন। তোর এই গরমে তো মনে হয় ভার্সিটির সবাই ।পুড়ে ছাই হয়ে যাবে কাহিনীকে।

ছোঁয়া_আমাকে মাথামোটা বলা কত বড় সাহস। মন চাচ্ছে বজ্জাত , হনুমান, লাল বান্দর ,জল হস্তি , গরু ,ছাগল, ভেড়া ,মহিষ, ওগান্ডার এনা কন্ডা টাকে। কেটে কুচি কুচি করে টুকরো করে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানাতে।। নানা না কেটে কুচি কুচি করে পুকুরের মাছ কে খাওয়াতে।। এখন ভালো হয়ে গেছি ।যদি আগের ছোঁয়া হতাম না ।তাহলে রাস্তার মধ্যে বজ্জাত টার সব কয়টা চুল আমি টেনে ছিড়ে ফেলতাম।

আশা_ আরে হয়েছেটাকি বলবি তো এতগুলা মিষ্টি মধুর গালি তুই কাকে দিলি।

ছোয়া_ কাকে আবার ওই হনুমান টাকে দিতেছি ।মন চাচ্ছে ওর গলায় একটা বান্দর ঝুলিয়ে দিতে ।এদিকে ঘুরলে থাপ্পর ।ওইদিকে ঘুরলে একটা থাপ্পর আমাকে মাথামোটা বলা।

রাবেয়া_ আরে সেই হনুমান টা কে আবার..

ছোঁয়া_ আর বলিস না হনুমানটার ভিতর মনুসত্য বলতে কিছু নেই ।একটুর জন্য বাচ্চাটাকে গাড়ির নিচে ফেলে মেরে ফেলত ।আমি যদি গিয়ে না বাচতাম। আবার বলে কিনা আমি নাকি পাগল আমার মাথার তার নাকি একটাও ঠিক নেই সবগুলো নাকি ছেড়ে আছে..

আকাশ_ বাচ্চা কিসের বাচ্চা।

ছোঁয়া_ কি সুন্দর কিউটি কিউটি বিড়ালের বাচ্চাটা আমি না বাচালে তো গাড়ির নিচে পড়ে মরে যেত। শোন আল্লাহর সৃষ্টি প্রাণীদের উপর দয়া দেখাতে হয।় কারণ ওরা আমাদের মত হাত-পা নেই যে কাজ করে খেতে পারবে ।ওরা যদি কাজ করে খেতে পারত তাহলে কোনদিন মানুষের লাথি গুতা খেয়ে ঘরের সামনে পড়ে থাকত না খাবারের জন্য ।বুঝলি আর না বিড়াল কারো খাবার চুরি করে নিয়ে যেত ।সবকিছু এরা পেটের দায় করে। তার জন্য ওদেরকে সবসময় মায়া করা উচিত ।দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত না ওদের সাহায্য করা উচিত । আমাদের মতো কামাই করে খেতে পারবে না ওরা কোনদিন মানুষের লাথি গুতা খেয়ে একমুঠো খাবারের জন্য ঘোরাফেরা করতো না ঘরের সামনে। ওদের কষ্ট আছে বুঝলি। আমার আবার ওদের জন্য অনেক মায়া। চোখের সামনে বাচ্চাটাকে মরতে দেখতে পারলাম না ।কিন্তু হনুমান টা আমাকে কি বলল আমার নাকি মাথার তার ছিরা। আর একটুর জন্যেই নাকি আমি গাড়ির নিচে পড়ে যেতাম। আমি কেন ওর সাথে রাগারাগি করলাম।

রাবেয়া _ তুইতো আসলেই একটা মাথামোটা তারছিড়া পাগল যে বলেছে ঠিকই বলেছে ( মিন মিন করে)

ছোঁয়া_ কিছু বললি আমাকে।

রাবেয়া_ না না কিছু না।

ঠিক তখনই ক্যাম্পাসে রায়হানের আগমন। রায়হান যেন আরো অবাক হল ।এ যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। মেয়েটাতো রাবেয়া ও আকাশ ওদের সাথে বসে আছে ।কিন্তু এই মেয়েটা আবার হঠাৎ করে কোথা থেকে আসলো ।আগে তো দেখা যায়নি রায়হান প্রায় দুই মাস পরে আজ ভার্সিটিতে এসেছে ।রায়হান যেদিন ভার্সিটি থেকে গিয়েছিল। ঠিক সেইদিন ছোয়া এডমিশন নিয়েছিল আগে চট্টগ্রামে লেখাপড়া করতো কিন্তু ওইখান থেকে যেকোন সমস্যার কারণে তিনি এখানে এসে ভর্তি হয়েছেন। বাচাল মানুষদের বন্দর অভাব হয় না ঠিক তেমনি ছোঁয়া অল্পদিনেই সবার সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলেছে কারণ ছোঁয়া একটু রাগারাগি বেশি করলো ওর মনটা ফ্রেশ। রায়হান এগিয়ে গিয়ে রাবেয়া ও ছোঁয়ার সামনে দাঁড়ালো। আকাশ তো অনেকদিন পরে রায়হানকে দেখে জড়িয়ে ধরতে যাচ্ছিল আর বাকি সব মেয়েরা হা করে তাকিয়ে দেখছে অনেকের ক্রাশ রায়হান। অনেকদিন পরে দেখতে পেয়ে ওরা কিছু বলতে যাবে। হঠাৎ করেই ছোঁয়া রায়হান কে দেখতে পেয়ে রেগে গিয়ে রায়হানের কলার চেপে ধরে বলল।

ছোঁয়া_ আপনার তো সাহস কম না আপনি আবার আমার পিছু পিছু কলেজে এসেছেন। সুন্দরী মেয়ে দেখলে মাথা ঠিক থাকে না তাই না এখন বলবেন তুমি দেখতে খুব সুন্দর ।তোমার কথা বলার স্টাইল গুলো ওয়াও ।আর তোমার চোখ হরিণের মতো টানা টানা। আর তোমার ঠোঁট কাঁপলে যেন দুনিয়া কাপে ।তুমি হাসলে গালে টোল পরে। তোমার যা চেহারা না কি যে মায়াবী ।চোখ ফেরাতে পারিনা আর কত কি যে বলবেন….

রাবেয়া_ এই সেরেছে রে ছোঁয়া গেছে একবারে ।আর মানুষ পেল না লাগার জন্য। রায়হানের পিছু লেগেছে ওর কাম শেষ..( মনে মনে)

ক্যাম্পাসে সবাই অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে আর কয়েকটা মেয়ে তো অনেক রাগি চোখে তাকিয়ে আছে ওদের ক্রাশের গলা ধরে জাকানো। রাবেয়া কিছু বলতে যাবে রায়হান ইশারায় চুপ থাকতে বললো।
রায়হান কিছু না বলে মুচকি হেসে তাকিয়ে আছে ছোঁয়ার দিকে। এটা ছোঁয়া না হয়ে অন্য কেউ হলে তো রায়হান এতক্ষণে কি যে করত নিজেও জানেনা ।মেয়েটা কতইনা রাগী কিন্তু কতটা সহজ সরল নিজেকে কি মনে করে।

ছোঁয়া_ এই লুচু ব্যাটা আমার দিকে এমন করে তাকিয়ে আছেন কেন। জীবনে মেয়ে দেখান নাই হনুমান বান্দর কোথাকার। জানেন আমি কে। যদি একবার জানেন না তাহলে আমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে সাহস হবে না আপনার..

রায়হান_ তা আপনি কে যদি দয়া করে আপনার পরিচয়টা দিতেন তাহলে আমি ধন্য হতাম।

ছোঁয়া_ এই মেয়েটাকে চিনেন (রাবেয়াকে দেখিয়ে) ওর ছোট ভাই রায়হানের বউ আমি বুঝলেন হবো বউ এখনো হয়নি কিন্তু ভবিষ্যতে হব। এই এলাকার 1 নম্বর ধনীদের মধ্যে ওরা একজন। যদি আমার হবু স্বামী জানতে পারে আপনি এরকম ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। তাহলে আপনার চোখ দুটো তুলে নিয়ে ফুটবল খেলবে। লুচু ছেলে কোথাকার। এবারের মত মাফ করে দিলাম দ্বিতীয় বার আমার সাথে বেয়াদবি করলে কিন্তু আর মাফ পাবেন না বলে দিলাম হুম….

রায়হান হাসি আটকে রাখতে পারতেছে না কোনরকমে কন্ট্রোল করে নিচ্ছে ।একে তো চালাক। এত সহজ-সরল ।আবার একেতো কত বড় চাপাবাজ মাইরে। রায়হান মুচকি হেসে বলল

রায়হান_ তুমি কি কখনো রায়হানকে দেখেছো।

ছোঁয়া_ ওই মিয়া দেখেছি মানে। একসাথে কত ঘুরেছি তার কোন ঠিক ঠিকানা ।নেই আমরা দুজন একজন আর একজনকে অনেক ভালবাসি ওকে।

রায়হান মুচকি হেসে বলল

ছোঁয়া_ সরি মিস আমি জানতাম না আপনি রায়হানের হবো বউ ।জানলে কখনো আপনার দিকে চোখ তুলে তাকাতাম না। সরি আপনি কিন্তু ভুলেও রায়হানকে কিছু বলবেন না ।তাহলে কিন্তু আমার হাত-পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে।

ছোঁয়া বাভ নিয়ে বললো
ছোঁয়া_ ওই রায়হান কি রায়হান কি বল রায়হান ভাই।

রায়হান_ ওকে আমার আবারও ভুল হয়ে গেছে। রায়হান ভাইকে আমার সম্পর্কে কিছু বলবেন না এবার আমি আসি।‌। কিন্তু বি কেয়ারফুল রায়হান ভাই কিন্তু অনেকটা রাগী টাইপের। উনি রেগে গেলে না আপনাকে ঝাল মুড়ির মত ডিব্বার ভিতরে ঝাঁকিয়ে একদম ঝাল মুড়ি বানিয়ে খাবে।

ছোঁয়া_ আমার সামনে আসলে না আপনার রায়হান ভাই ।একদম বিড়ালের মত হয়ে যায় মেও মেও করে কোন আওয়াজ চলে না বুঝলেন। আমি যা বলি সেটাই শুনে( ভাব নিয়ে)

রায়হান_ ও আচ্ছা আমি জানতাম না তো। রায়হান ভাই আপনাকে এতো ভয় পাই ( রাবেয়ার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে।। রাবেয়া একটা ডুক গিললো। রায়হানের চাখনির মানে রাবেয়া খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছে।এ কেমন তার ছেড়া বান্ধবীর সাথে চলাফেরা করিস )
কিন্তু এতটুকু বুঝতে পারতেছি রায়হান ভাই মনে হয় এলাকায় থাকলে। আপনি এই অবস্থায় এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না..?

ছোঁয়া_ কেন কেন আমি এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারব না কেন আমার শরীরে কি কাপড় নেই।

রায়হান_ আপনার শরীরে অবশ্যই কাপড় আছে। কিন্তু যেই বেশে ভার্সিটিতে এসেছেন ।সেটা শুধু বাসায় পড়ার জন্য খোলামেলা সবার সামনে প্রদর্শন করার জন্য না। আর ঠোঁটে গাঢ় ওভাবে লিপস্টিক দিয়েছেন কেন। আপনি কি জানেন আপনার এই ঠোটে গাঢ় লিপস্টিক এর কারণে অনেক ছেলেরাই আপনার দিকে কামনার নজরে তাকাচ্ছে। আপনার ঠোটের লিবিসটিক গুলো তার ঠোট দিয়ে মুছে দেওয়ার জন্য। আপনার ঠোঁটের স্বাদ নেওয়ার জন্য। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না তাই পারতেছে না ।কিন্তু ওদের যেমন পাপ হচ্ছে ।আপনার ঠিক ততটাই পাপ হচ্ছে তার চাইতে বেশি পাপ হচ্ছে। কারণ আপনি নিজেই সুযোগ করে দিচ্ছেন আপনার এই সুন্দর ঠোট গুলো দেখার জন্য। কিছুক্ষণ আগে যে আমার সাথে রাগ দেখিয়ে মাথা থেকে ওড়নাটা রাগ করে হাতে নিয়ে কথা বলেছেন তখন কিন্তু আপনার ।হালি বুক স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছিল। আপনি কি ভেবে দেখেছেন খালি বুক থাকা অবস্থায় কারো খারাপ নজর আপনার বুকে যেতে পারত। হয়তো আমারও যেতে পারতো। তাই আপনার কি করা উচিত ছিল রাস্তায় বের হবার সময় অবশ্যই বোরখা পরা উচিত ছিল। এই যে দেখুন রাবিয়া এতো রায়হানের বোন দেখেনতো কিভাবে ভার্সিটিতে এসেছে বোরখা পড়ে ।শুধু বোরখা পড়লেই চলবে না মুখ খোলা রাখা যাবে না দেখুন তো ওর শুধু দুটো চোখ দেখা যায় বাকি মুখ পুরাটাই ভালোভাবে ডেকে নিয়েছে। এখন বলবেন যে বোরখা পড়ে শুধ নেকাআপ করলে চলে। মুখটা খোলা রাখলে সমস্যা কি পর্দা তো হয়ে গেছে ।আমি তাহলে বলব কি জানেন একটা ঘর সুন্দর করে বানানো হয়েছে। চারোদিকে লোহার বেড়া ঢোকার কোনো সিস্টেম নেই। এত সুন্দর করে ঘর বানিয়ে দরজাটা যদি খোলা রেখে দেন। তাহলে কি চুর ওইখানে লোহার বেড়া কেটে ঢুকবে না সিদা দরজা দিয়ে ঢুকবে। শুনেন শুধু চেহারাটা দেখলেই না ছেলেরা আন্তাজ করতে পারে যে মেয়েটার নিচের শরির টা কতটা সুন্দর হতে পারবে। কারণ চেহারার মধ্যে মানুষের সৌন্দর্য ভাসে ।বিয়ের পাত্রী যখন দেখতে যায় ছেলেরা তখন কি মেয়েটার সারা শরীর মুখ যেমন কাপড় ছাড়া দেখতে পারে বাকিটা শরীর কি দেখতে পারে সম্ভব না। শুধু মুখটাই দেখে মুখটা দেখলেই বুঝতে পারে যে মেয়েটা সুন্দরি কি অসুন্দর। এখন বলবেন যে পর্দা করে কি হবে পাঁচ বছরের মেয়েটা যখন ধর্ষণের শিকার হয় ওইখানে তো পর্দা করে নাই মেয়েটা ছোট বাচ্চা। পুরুষের ভিতরে তো কিছু জানোয়ার আছে যেমন পাঁচটা আঙুল সমান না এটা মানতে হবে। ঠিক তেমনি একটা মডেলিং কাপড় পরা বুকে ওড়না না দেওয়া উচু বুক দেখিয়ে চলা মেয়েটার দিকে যেরকম ভাবে বাজে নজরে একটা ছেলে তাকাবে। পর্দা করে বোরখা পরা মেয়েটার দিকে কিন্তু সেইরকম বাজে নজরে তাকাবে না কারণ সে বুঝতে পারবে না এটা কি মায়ের বয়সি।না দাদির বয়সি না বউয়ের বয়সি। কিন্তু বোরখা টাইট ফিটিং করে পড়লে কিন্তু ওই কাপড় চাইতে বোরখাটা আপনাকে আরো বেশি কামনাময়ী লাগবে। বোরখা হতে হবে লুজ ফিটিং যাতে আপনার শরীরের বিশেষ অঙ্গ কোনভাবেই বোঝা না যায়। এবার বলুন বোরখা পরা মেয়েটা আর মডেলিং করা ওই মেয়েটা কে দেখে কি একি এরকম ভাবে তাকাবে কখনো তাকাবে না। বোরখা না পরে বের হলে হঠাৎ করে বাতাসে আপনার বুক থেকে ওড়নাটা সরে গেলেও আর সেটা কোন ছেলের চোখে পড়লে । আপনার উচু বুক দেখে ছেলেরা জিভ দিয়ে চেটে চেটে মজা নেই । এটা কি ধর্ষণের এর চাইতে কম কিকু। শুধু ধর্ষণ করলে ধর্ষণ হইনা এরকমভাবে বাজে নজরে তাকানোর পরিবেশ সৃষ্টি করে দিলে ছেলেরা মনে মনে দূর থেকে মজা নিলে ।এটাও একপ্রকার ধর্ষণ। অন্তত বোরকা পরে বের হলে তো এরকম ভাবে আপনার অঙ্গ বাহিরে ফুটে উঠবে না। বা ওড়না উড়ে গিয়ে আপনার বুকের দিকে কেউ বাজে নজরে তাকাতে পারবেনা। আর ছেলেটা মনে মনে জিভ দিয়ে চেটে খেতে পারবেন আপনাকে।
জানেন তো আল্লাহ কুরআনে কি বলেছে যার লজ্জা নেই তার ঈমান নেই। আর এই লিপস্টিক টা কখনোই দিয়ে রাস্তায় বের হবেন না। কারণ এটার মধ্যে একটা ঘ্রান আছে । আর এই ঘ্রান টা বাতাসে উড়ে গিয়ে ছেলেদের নাকে লাগে যার কারণে আপনার শরীরে ঘ্রান সে অনুভব করতে পারে।আর এই ঘ্রাণের কারণে কিন্তু আপনাকে জাহান্নামে যেতে হবে।

একটা কাহানি বলি শুনেন

এক মেয়ে বাজার করে যাচ্ছিল বাড়িতে তখন এক হুজুরের সাথে দেখা হয়ে যায় তারপর হুজুরকে ডেকে বলল।
_ হুজুর ছেলেরা বাজে নজরে এমন ভাবে তাকায় রাস্তাঘাটে বের হওয়া সম্ভব না। কিন্তু আমার মতে
মেয়েরা পর্দা না করলে ও চলবে।জদি ছেলেরা তাদের চোখ খেফা জতে রাখে। কারণ ইসলামে আছে যে কোনো মেয়ে জদি আপত্তিকর অবস্থায় থাকে। তাহলে কোন ছেলের তার দিকে এক বার চোখ গেলে তার পরে চোখ সরিয়ে নিতে হবে।কোনো পাপ হবে না। কারণ ছেলেটা ইচ্ছে করে দেখেনি।তার পরে জদি ছেলেটা দ্বিতীয় বার লোভ সামলাতে না পেরে দেখার জন্য আবার তাকাই তাহলে পাপ হবে। তাহলে আমরা মেয়েরা পর্দা না করলে সমস্যা কি কারণ ছেলেদের তো মানা করাই আছে।আমরা আপত্তিকর অবস্থায় থাকলে আমাদের দিকে যেন না তাকায়। এখানে তো ছেলেদের চোখের আগে পর্দা করতে হবে।

হুজুর মুচকি হেসে বললো তোমার হাতে এগুলো কি।

_ ডিম।
_ কোথায় নিয়ে যাচ্ছো।
_ বাসায়।
_ কেন তুমি বাসায় কেন নিয়ে যাচ্ছ ডিমগুলো এখানে ভেঙে খেয়ে ফেলো।
_ আপনার কি মাথা খারাপ এখানে আমি ভেঙে রাখবো কিসের উপর ।আর এখানে আমি খাব কি করে খোলা মেলা সবার সামনে।
_ একটা ডিম তুমি খোলো মেলা।ভাংতে পারবে না।আর তুমি তো আল্লাহর সৃষ্টি সেরা জীব। আল্লাহর সৃষ্টির মাধ্য সব চেয়ে সুন্দর। তাহলে তুমি তোমার সেই সুন্দর দেহ টাকে বুরখা দিয়ে না ডেকে। রাস্তায় খোলা মেলা বের হোও কি করে। তোমার দাম কি এই ডিমের চাইতে কম। ঠিক তেমনি মেয়েদের কেউ খোলামেলা থাকার জন্য ব্যবস্থা আছে সেটা হচ্ছে তার নিজের রুম বা তার স্বামীর সামনে। কিন্তু বাহিরে বের হলে অবশ্যই পর্দা করে বের হতে হবে ।যেমন ডিম গুলো তুমি চাইলে ও এখানে ভেঙে খেতে পারবে না। কারণ এই ডিমগুলো খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটা জায়গা দরকার। আগুন দরকার। ঠিক তেমনি মেয়েদের কেউ খোলামেলা থাকার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আছে তার রোম। কিন্তু রাস্তাঘাটে খোলামেলা থাকার মত জায়গা না। আল্লাহ সৌন্দর্য সৃষ্টি করছে দেখার জন্যে। আর মেয়েদের প্রতি ছেলেদের একটা জন্মগত আকর্ষণ থাকে। ছেলেরা তাকালে ছেলেদের পাপ হবে কিন্তু পাপ-পুণ্যের বিচার এখন কয়জন করে হয়তো মরার পরও শাস্তি পাবে কিন্তু তুমি তো তোমার নিজেকে সামলে চলতে হবে তাই না ।

মেয়েটা আর কিছু বলল না মাথা নিচু করে চলে গেল

আমার কথা আমি বলে দিলাম। এখন যদি আমার কথা বুঝতে পারো তাহলে ভালো। কিন্তু জোর করব না। কারণ জোর করার অধিকার নেই। অধিকার থাকলে।এই পোশাকে বাহিরে বের হবার অপরাধে।কানের নিচে দুইটা থাপ্পড় দিতাম। আজীবন মনে থাকতো আপনার।
।।এই কথা বলে রায়হান আকাশ কে ইশারায় সামনের দিকে যেতে বলে রায়হান চলে গেল।

ছোঁয়া এতক্ষণ মাথা নিচু করে কথাগুলো শুনছিল যখন রায়হান চলে গেল তখন মুখ ভেংচি কেটে মনে মনে ভাবল তুই কেরে আমাকে জ্ঞান দেওয়ার।কিন্তু সেটা জানে না ওর ভালোর জন্যই কথাগুলো বলা হয়েছে।

রাবেয়া মাথায় হাত দিয়ে টপ করে নিচে বসে পড়ল। আল্লাহ এই মেয়ে কার সাথে কি বলতেছে ও নিজেও জানেনা। হায় আল্লাহ এখন কি হবে।

কথা বলা শেষ হতেই ছোঁয়া ভাব নিয়ে রাবেয়ার সহ অন্য বান্ধবীদের কাছে এসে দাঁড়ালো। মনে হচ্ছে যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয় করেছে ও একাই। কিন্তু একি সবাই ওর দিকে এরকম চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে কেন

ছোঁয়া_ দেখেছিস আমার মাথায় কি বুদ্ধি। কি করে ছেলেটাকে আমার পিছে থেকে হাতালাম। ধন্যবাদ রাবিয়া ঐদিন তোর মুখ থেকে তোর ভাইয়ের কথা শোনার পরে বুঝতে পারলাম মোটামুটি পাওয়ার আছে ওর তাই এই ফাঁকে এই জায়গায় কাজে লাগিয়ে দিলাম।।
কি হলো তোরা সবাই আমার দিকে এরকম করে তাকিয়ে আছিস কেন। মনে হচ্ছে আমি কোন একটা এলিয়েন.. কিন্তু যাই বলিস ছেলেটা কিন্তু দেখতে খারাপ না মন চাচ্ছে ওর সাথে প্রেম করে ফেলতে।

আশা_ তুই শুধু এলিয়েন না তুই আস্ত একটা গাধী…

ছোঁয়া_ মানেটা কি। আর রাবেয়া তুই এরকম করে টেবিলে না বসে ঘাসের উপর বসে আছিস কেন মাথায় হাত দিয়ে।

[1/4, 1:12 PM] Ryhan Khan: রাবেয়া_ পানি পানি দে আমারে ( আশা তার সাইড ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে দিতেই রাবিয়া একশ্বাসে পুরাটা পানি খেয়ে নিল)

ছোয়া_ তোর আবার কি হলো।মনে হচ্ছে আজরায়িল দেখে ছিস।যার জন্য ভয়ে কাঁপতে ছিস?

রাবেয়া_ হা আজরাইল এর চাইতে কম কিসের। তুই কি করলি একটা ছোঁয়া। তুই কোনদিন আমার ভাইকে দেখেছিস আর এটা বলতে গেলি কেন তুই রায়হানের হবো বউ…

ছোঁয়া_ ও এই কথা। বুঝিস না কেন ছেলেটাকে আমার পিছু ছাড়ার জন্য এই কথা বললাম। দেখিস নাই কেমন ভয় পেয়ে আমার পিছু থেকে চলে গেছে এটা আমার মাথার বুদ্ধি বুঝলি। আর তোর ভাইকি জানতে পারবে নাকি যে আমি ওকে হবু স্বামী বলেছি এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন দরকার নেই?

রাবেয়া_ জানবে মানে অলরেডি জেনে গিয়েছে।

ছোঁয়া_ মানে ( অবাক হয়ে)

রাবেয়া_ এতক্ষণ তুই যার কলার চেপে ধরে বাসন দিয়েছিলি।সে আর কেউ না আমার ভাই রায়হান এখন বুঝলি.. তোর কারনে আমার কপালে কষ্ট আছে রে না জানি বাড়িতে গেলে ও কি করে।।

ছোঁয়া__ কি কি ( ডোক গিলে)

আশা_ কি না জ্বি।

ছোঁয়া_ টপ করে নিচে বসে পরলো এখন কি হবে।। যা হবার তা তো হয়েই গেছে এখন আর ভেবে লাভ কি। কিন্তু হা ছেলে টাকে যত হনুমান বলে গালি দিলাম না কেন দেখতে সেই।

আশা ছোঁয়ার মাথায় থাপড় মেরে বলল।

আশা _ কিরে কোথায় হারিয়ে গেলি আবার।

ছোঁয়া_ তোরা সব কয়টা বেইমান ।পেত্নীর দল। শাকচুন্নির মা। তালগাছের ডাকিনী খালা। তেলাপোকার নানী। জীবনে কোনদিন তোদের ভালো হবে না বলে দিলাম। তোদের একেকটার কপালে এক একটা করে লুচ্চা জামাই জুটবে বলে দিলাম।তোদের সাথে কোন কথাই নাই তোরা আগে বলতে পারলি না এটাই রায়হান( মাথা চেপে ধরে)

রাবেয়া_ হয়েছে তোর বকবকানি শেষ হলে ক্যালাসে চল। ক্লাসের টাইম হয়ে গেছে। ওহ মনে পড়েছে তোর নাকি ইন্টারভিউ দেওয়ার কথা আজকে কখন যাবি?

ছোঁয়া_ ইয়া আল্লাহ আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম ইন্টারভিউর কথা! ১০ টাই ইন্টারভিউ এখনতো সাড়ে নটা বেজে গেছে। না জানি কপালে কি আছে আল্লাহই জানে।

আশা_ চাকরিটা কি তোর খুব জরুরী ।এই বয়সে পড়ালেখা করার পাশাপাশি চাকরিটা তোর করতেই হবে!

ছোঁয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
ছোঁয়া_ হারে চাকরি টা আমার খুব জরুরী। কিন্তু আমার লেখাপড়ায় তো চাকরি করা সম্ভব না। যে কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি । সেই কোম্পানির মালিক। আমার আপুর ক্লাসমেট ছিল। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার পর আপুর বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু ওদের মধ্যে নাকি ভালো বন্ধু ছিল। আপু বলে দিয়েছে যাওয়ার পর আপুর নাম বললে চিনতে পারবে। গতকাল দেখা করেছিলাম আমি কিন্তু উনাকে কেমন চিন্তিত দেখাচ্ছিলো বলেছিল আজকে যাওয়ার জন্য। যদি চাকরিটা হয়ে যায় তাহলে উপকৃত হবে বুঝলি। চাইলে টিউশনি করাতে পারি কিন্তু ভয় লাগে রাত বিরাতে টিউশনি করে বাড়িতে ফেরার সময় যদি সম্মানটাই হারিয়ে ফেলি।
সমস্যাটা কোথায় জানিস যদি আমি ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে আমাদের সমাজের মানুষ আমাকে দোষী করবে ধর্ষণকারীকে না।
লোকে বলে বেড়াবে যে হয়তো বয়ফ্রেন্ড জোর করে কিছু করে দিয়েছে এখন বলতেছে নাকি অন্য কেউ ধর্ষণ করেছে লোকের মুখে চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।

জানিস তো আমরা মেয়েরা কতটা অসহায় একটা মেয়ে ডিভোর্সের শিকার হলে পাড়ার মানুষেরা অনেক বাজে বাজে কথা বলে। কি একা একা আছেন লাগবো নাকি কাউকে । আরো সমস্যা নাই রাতে শুধু একটা ফোন দিয়েন চলে আসব নে মজা দিতে। কিছু মুরুব্বীরা বলবে এই মেয়েটাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বিদায় করো এই ডিভোর্সের জন্য পাড়ার ছেলে মেয়েরা খারাপ হয়ে যাবে ।আরো অনেকে অনেক কথা শোনাবে। কিন্তু এটা কেউ জানে না যে মেয়েটা সেখানে স্বামীর বাড়িতে এটা অত্যাচারের শিকার হয়েছে। পরেও থাকতে চেয়েছিল কিন্তু শেষ মুহূর্তে টিকতে না পেরে বাধ্য হয়ে নিজের জীবনটা বাঁচানোর জন্য চলে এসেছে।

আমাদের সমাজটা এরকম হয়ে গেছে কারো সম্পর্কে কিছু না জেনে আজেবাজে মন্তব্য করে বসে। রিক্সা দিয়ে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে যাচ্ছে হঠাৎ করে ছেলেটা ফুলের দোকান থেকে খুব সুন্দর দেখে দুইটা গোলাপ এনে মেয়েটার হাতে দিলো। কিন্তু পাশ থেকে একজন বলে উঠল ভাই মানিয়েছে আপনারা দুজনকে হেব্বি মাল কিন্তু মেয়েটা। । কিন্তু পাশের লোকটা জানেনা যে এই ছেলেটার বোন হতে পারে মেয়েটা। হয়তো বোন টা অন্য এলাকায় থেকে ভার্সিটিতে পড়ে অনেকদিন পরে বাড়িতে এসেছে তাই দুই ভাইবোন মিলে একটু ঘুরতে বের হলো। হয়তো ভাইয়ের কাছে ফুলগুলো ভালো লাগছে তাই বোনকে উপহার দিল কিন্তু লোকটা কি আজেবাজে মন্তব্য করে বসলো।। আমাদের সমাজের মানুষগুলো এরকম রে। কারো সম্বন্ধে না জেনেই একটা বাজে মন্তব্য করে বসে

যাইহোক এসব কথা বলে আর লাভ কি বল।মুল কথায় আসি

আমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত একজন মানুষ ।আমার কোনো ভাই নেই। আমরা দুই বোন আর বাবা মা দুলাভাইয়ের টাকায় আমাদের চলতে হয়। যদি চাকরিটা হয়ে যায় তাহলে অন্তত ফ্যামিলির জন্য কিছুটা করতে পারলাম ।মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়ে তো বাবা মার জন্য কিছু করতে পারলাম না রে এখনো উনাদের টা খেয়ে যাচ্ছি বিয়ে দিয়ে দিলে আবার উনাদের থেকে নিয়ে যাব। ওনাদের জন্য তো কিছুই করতে পারেনি ।আর স্বামীর ঘরে গিয়ে যে কিছু করতে পারবো তার কোন গ্যারান্টি নেই। আমরা মেয়েরা খুব অসহায় রে শুধু বাবা-মার কষ্টের জন্য সৃষ্টি হয় খেয়ে ও যায় নিয়েও যায়। আমি জানি আমার বাবা-মা অনেকটাই লজ্জা পায় দুলাভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিতে কিন্তু কি করবো খেয়ে বাঁচতে হবে তো। আর আমার দুলাভাই মাটির মানুষ উনি আমার বাবা মাকে নিজের বাবা মার মত দেখে এজন্য এরকম ছেলে পাওয়া যায় না উনি একাই আমাদের চার জনের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব বরণ করে। মানুষটা খুব ভালো । কিন্তু চেষ্টা করে দেখি না আমি। যদি চাকরিটা হয়ে যাই। আমি জানি যদি কিছুটা টাকা আমি মায়ের হাতে দিতে পারি হয়তো খুশিতে মায়ের চোখে পানি চলে আসবে। জানি মা কখনো আমাকে চাকরি করতে দিবে না ।মাকে যখন জোর করে বলব কেন তোমার ছেলে হলে অবশ্যই টাকা কামাই করে দিতো তুমি অবশ্যই নিতে মেয়ে বলে বলতে পারো না আমারতো জানা আছে যে প্রত্যেকটা বাবা-মায়ের চাই তার সন্তান বৃদ্ধ বয়সে তাদের পাশে থাকে তাদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিবে। তখন তো বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মা’র কাজ করার মত কোন সামর্থ্য থাকে না। মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়েছি চেষ্টা করতে তো দোষের কিছুই না তাই দেখি গিয়ে চাকরিটা হয় কি না। ।। ছোঁয়া একটু থেমে বললো…?
আমি অনেক খারাপ তাই না রে ।বেশি কথা বলি । তোদেরকে বকাবকি করি । আমি এতটা খারাপ না রে কিন্তু সমস্যা কি রাগ উঠলে আমি কন্ট্রোল করতে পারিনা।। আমার অনেক ইচ্ছে হয় বাবা মার জন্য কিছু করতে কিন্তু মেয়ে বলে এ সমাজে কোন দাম পাইনা।

ছোয়ার কথা শুনে রাবেয়া আশা সহ কয়েকজনের চোখে পানি চলে এসেছে।। মেয়েটার মনে কতই না দুঃখ লুকিয়ে আছে কিন্তু বাহির থেকে দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না। আসলে এরকম মানুষ গুলোই গ্রেট হাজারো কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে মুখে হাসি ফুটিয়ে চলতে পারা মানুষগুলাই সবচাইতে বেস্ট। রাবেয়া চোখের পানি মুছে বলল।

রাবেয়া_ আচ্ছা চিন্তা করিস না তুই গিয়ে দেখ চাকরিটা হয় কিনা। না হলে আমার সাথে যোগাযোগ করিস আমি আমার ভাইকে বলে যে কোনো মূল্যে তোকে চাকরি দিয়ে দিব আমাদের কোম্পানিতে।

ছোঁয়া_ দয়া দেখাচ্ছিস।দয়া নিয়ে বাঁচতে চাইনা বলেই তো নিজে কিছু করার চেষ্টা করতেছি।

রাবেয়া_ দিব দুইটা কানের নিচে ।দয়া বলতেছিস কেন নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড এর জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে করব। কেন নাই তোর ফ্যামিলিতে চাইলে আল্লাহ আমাকে পাঠাতে পারত। আমার জায়গা তোকে পাঠাতে পারত ।কেউতো নিজের ইচ্ছে করে বড়লোক ফ্যামিলিতে জন্ম নিতে পারে না।বা গরিব ফ্যামিলিতে জন্ম নিচ্ছে না। পুরোটাই আল্লাহর ইচ্ছে।তিনি যাকে যেখানে পাঠান সে সেখানে জন্মগ্রহণ করে।তাহলে দয়া বলছিস কেন ।আমি তোর জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়েছি তোর জায়গা নিজেকে দাঁড় করে ভাবতে গেলে চোখে পানি চলে আসে। কারণ আমার দুই ভাই আমাদের দুই বোনকে এতটাই ভালোবাসে ভাইয়ের ভালোবাসা কতটা গুরুত্ব তোকে বোঝাতে পারবো না একটা বোনের জন্য। তুই হয়তো হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিস ভাই না থাকা একটা বোনের কতটা কষ্ট ।তোর জন্য কিছু করতে পারলে আমি খুশী হবো রে।

ছোঁয়া_ হয়েছে হয়েছে ক্লাসে যা টাইম হয়ে গেছে। আমার আবার যেতে হবে ।আর তোর এরকম বজ্জাত ভাইয়ের কোম্পানিতে চাকরি করতে আমার বয়েই গেছে। কত বড় শয়তান ছেলে দেখেছিস নিজের পরিচয়টা নিজে দিল না ।তোদেরকে ওই ইশারায় চুপ থাকতে বললো আমি তো তখন বুঝতে পারিনি।

রাবেয়া_ দেখ আমাকে যা বলার বলবি। কিন্তু আমার ভাইকে কিছু বলবি না তাহলে কিন্তু তোর মাথার চুল একটাও থাকবে না।

ছোঁয়া_ সব বুঝলাম কিন্তু একটা জিনিস কিছুতেই মাথায় আসছে না।

আশা _ এমন কি জিনিস তোর মাথায় আসছে না।

ছোঁয়া_ তোরা তো বললি রায়হান নাকি রাবেয়ার ছোট কিন্তু। আমার কাছে তো মনে হচ্ছে রায়হান রাবিয়ার থেকে । কমপক্ষে 5 বছরের বড় হবে দেখতে-শুনতে কত বড় ,কি বডি ‌ হিরোর মত দেখতে তাহলে ছোট হয় কি করে।

রাবেয়া_ জানিস এই জন্য রায়হান আর আমি একসাথে ভার্সিটিতে আসি না ‌।বা কথা বলি না ।তোদের শাকচুন্নি দের নজর আমার ভাইয়ের উপর পড়ে যাই। যা তোদের সাথে কোন কথাই নেই…. রাবেয়া ধেই ধেই করে ক্লাসের দিকে চলে গেল। পিছন থেকে ছোঁয়া আসা অন্যরা ডাকাডাকি করল কাজ হলো না ।তারপরে ছোঁয়া ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে গেল আর বাকিরা ক্লাসের দিকে ছুটল।

ছোঁয়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে রিক্সার জন্য ।। কিন্তু একটা খালি রিকশা মিলছে না। ওই দিক দিয়ে আবার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে টাইম মত না গেলে যদি রাগারাগি করে চাকরিটা না হয়। হাতে বেশি টাকা নেই বাসে করে গেলে দশ টাকা তে যাওয়া যাবে । রিক্সা করে গেলে কম হলেও 30 টাকা লাগবে। তাই ছোঁয়া বাস স্টেশনে এসে দাঁড়ালো। ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস এসে হাজির হল। বাস আসতে দেরি হোয়াই অনেকেই ভিড় জমিয়েছে।বাসে ওটার জন্য। তখন ধাক্কাধাক্কি করে ওঠার সময় ছোঁয়া টের পেল একটা ছেলে বাজে ভাবে ওর পিঠে হাত দিচ্ছে ভিড়ের জন্য কেউ খেয়াল করবে না। হয়তো এই সুযোগেই ছেলেটা তার হাত ছোয়ার শরিলে দিতে পারতেছে। কেউ দেখতে না পারলে তো কি হয়েছে । ছোঁয়ার তো বুঝতে বাকি নেই ছেলেটা ইচ্ছে করে এমন টা করছে।কারণ মেয়েরা ভালো করে বুঝতে পারে যে ছেলেদের স্পর্শ কোনটা অনিচ্ছায় লেগেছে আর কোনটা ইচ্ছে ভাবে দিচ্ছে। ছেলেটার হাত পিঠ থেকে কোমরে যাওয়ার আগেই। ছোঁয়া পিছনে ঘুরে কিছু বলে নাই শুধু পাটা ছেলেটার নিচে জায়গা মত একটা লাথি মারে । ছোঁয়া আর কিছু না বলে বাসে উঠে পড়ে । ছোঁয়া ভালো করে জানে ছেলেটার কোন মুখ নেই কিছু বলার। ছোঁয়া দেখে ছেলেটা নিচে পড়ে নাকে চেপে ধরে কাতরাচ্ছে। কি বলবে সে যে এই মেয়েটা আমাকে মেরেছে। তখন অন্যরা বলবে। কেন মেরেছে তখন প্রশ্ন আসবে যে বাজেভাবে স্পর্শ করেছিল তাই মেরেছি ।তাহলে নিশ্চয়ই ছেলেটা ফেঁসে যাবে সবার হাতে মার খাবে তাই হয়তো চুপচাপ করে থাকা ছাড়া তার কোনো উপায় নেই। ছেলে টা এখন কিছু বলতে পারবে না সইতে পারছে।। অন্যায় দেখলে ছোঁয়া কখনো চুপ করে থাকে না কারন চুপ করে থাকলে ছেলেরা আরো সুযোগ পাই আর সে সুযোগে অনেক বাজে ব্যবহার করে।। কিন্তু ছোঁয়ার বড় আপু শিক্ষা দিয়েছে ছোয়াকে ।যে বাজে ছেলেরা যতই বাজে কমেন্ট করোক না কেন। কোনদিনও তাদেরকে থাপ্পর মারতে যাস না ।কারণ সব ছেলেরা এক না ।তাদের মধ্যে যদি খারাপ ছেলে হয়ে থাকে। এই থাপ্পরের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য হয়তো একদিন তোর সর্বনাশ করে বসবে তার কোন গ্যারান্টি নাই। তাই ছোঁয়া কখনো কাউকে থাপ্পড় মারে না। শুধু সুযোগ বুঝে। ভাল করে শিক্ষা দিয়ে দেয় যেমন এই ছেলেটাকে দিল।

প্রায় আধাঘণ্টা পর ছোঁয়া
ছোঁয়া অফিসের সামনে এসে দাঁড়ালো। গেইটের দারোয়ান গতকালকে ছোঁয়া কে দেখে ছিল ।তাই চিনতে বেশি সমস্যা হলো না। ছোঁয়া দারোয়ানকে সালাম দিয়ে ভিতরে ঢুকলো। বসের রুম চার তলায় লিফট দিয়ে উঠতে হয় সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে অনেক সময়ের ব্যাপার।।

[1/4, 1:24 PM] Ryhan Khan: কিন্তু ছোঁয়ার কপালটাই খারাপ ছোঁয়া আসার সাথে সাথে লিফট দিয়ে কেউ উপরে উঠে যাচ্ছে ।হয়তো নিচে নামতে আবার টাইম লাগবে ।এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই ছোয়ার। তাই সিঁড়ি দিয়ে ওঠার জন্য পা বাড়ালো ।চার তলার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে হাপিয়ে গেলে ছোঁয়া। কপালের ঘাম মুছে। এমডি পার্সোনাল সেক্রেটারীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে।
অফিসের এমডির কেবিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। একবুক সাহস নিয়ে দরজায় টোকা নাড়লো ছোঁয়া।

_ মে আই কামিং স্যার।
_ সিওর কামিং।

এক বুক সাহস নিয়ে ছোঁয়া কেবিনের ভিতরে ঢুকলো। কিন্তু বসের চেয়ারে বসে থাকা ছেলেটাকে দেখে যেন ছোঁয়া আকাশ থেকে পড়লো। এটাতো গত কালকে দেখা করে য গিয়েছিল সেই ছেলেটা না আরেকজন । ছোঁয়া পারছে না দৌড়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতে । ছোঁয়ার মনে হচ্ছে ছেলেটা এখনই ওকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে। ছোয়ার অনেক স্বপ্ন ছিল। বিয়ে হবে ছোট ছোট বাচ্চা হবে। সে বাচ্চাগুলো বড় করবে ।তারপরে তাদের আবার বিয়ে দেবে ।তাদের ঘরে নাতি পত্নী হবে। ছোঁয়া তাদের সাথে গল্প করবে। কিন্তু কিছুই আর হয়তো সম্ভব হবে না। ছোঁয়া করুন চোখে সামনে চেয়ারে বসে থাকা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইল। ছেলেটা মুচকি হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। ছোঁয়া ভয় পেয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। ছোঁয়া শিওর ওর চাকরি টা আর হবে না।জান বাঁচিয়ে ফিরতে পরলেই অনেক….

#চলবে___
ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন

#রেগুলার গল্প না দেওয়ার জন্য সরি আমি .?আসলে আমি ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে গল্প গুলো লিখি? যেদিন কাজে আটকে যায় সেদিন গল্প লেখা হয়না?
আর কেমন হয়েছে জানাবেন গল্পটা। সবাই ভাল থাকবেন তার সাথে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন আর। আপুরা পর্দার করে চলবেন রাস্তায় বের হলে। যদিও আপনা দেরকে পর্দার ব্যাপারে জোর করার জন্য আমার অধিকার নেই কারণ আমি অচেনা মানুষ তারপরও বলে গেলাম যদি আপনাদের ভালো লাগে। তাহলে অবশ্যই পর্দা করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।।।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে জিম্বাবুয়ে

পাকিস্তান সফর শেষ না হতেই টাইগারপ্রেমীদের জন্য এলো সুখবর। ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ ...