Breaking News
Home / আইন আদালত / কক্সবাজারের উখিয়ার নওমুসলিম মরিয়ম নিজের অপহরণ মামলা নিস্পত্তিতে মরিয়া

কক্সবাজারের উখিয়ার নওমুসলিম মরিয়ম নিজের অপহরণ মামলা নিস্পত্তিতে মরিয়া

বেলাল আজাদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সমূদ্র উপকূলীয় চেংছড়ি (রুপপতি) গ্রামে ধর্মান্তরীণ হওয়া নওমুসলিম মরিয়ম বেগম (পূর্বনাম: মাইমুনি চাকমা) নিজেকে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগে নিজের পিতার দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি করতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন। ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ধর্মান্তরীণে নওমুসলিম হওয়ায় ও নিজের পছন্দে মুসলিম পরিবারের ছেলেকে বিয়ে করায় নিজের পিতার দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার নিজে ভিকটিম (অপহৃতা) হিসেবে মামলায় জড়িত নিরপরাধ আসামীদ্বয়ের পরিত্রাণ চেয়ে আইনী লড়াই করেই যাচ্ছেন নওমুসলিম মরিয়ম বেগম ওরফে মাইমুনী চাকমা। ইতিমধ্যে নিজেকে অপহরণের (ভিকটিম) কাল্পনিক ঘটনা সাঁজিয়ে নিজের পিতার দায়েরকৃত (জি.আর. নং-৫৮৭/২০১৯) মামলাটি বিচারাধীন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় (উখিয়া) আমলী আদালতে গত ৭ জানুয়ারী তিনি ভিকটিম হিসেবে আদালতে দাঁড়িয়ে আপোষ-মীমাংশা মূলে মামলা নিস্পত্তির করার আবেদনও করেছেন।
জানা গেছে, জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেংছড়ি (রূপপতি) গ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি (উপজাতি) সম্প্রদায়ের সূর্য মোহন চাকমার মেয়ে মাইমুনী চাকমা ওরফে মরিয়ম বেগম (২১) পূর্বের স্বামী একই ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া গ্রামের ওখাই মং চাকমার অন্যায়-অত্যাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মাদকের মামলায় দীর্ঘকাল কারান্তরীণ থাকায় গত ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে বিবাহ বিচ্ছেদ (হলফনামানং-১১/২০১৯) হওয়ার পর থেকে স্বামী পরিত্যক্ত অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করে আসছিল।
এরপর পর থেকে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রামের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে ‘ধর্মান্তরীণ হলফনামা নং-৭২৮৮/২০১৯’ মূলে ইসলাম গ্রহণ ও নওমুসলিন হিসেবে মরিয়ম বেগম নাম ধারণ করেন এবং জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী গ্রামের জাগির হোছনের ছেলে হাফেজ হাবিব উল্লাহর (৩৫) সাথে রেজিঃযুক্ত-১৩/২০১৯ নং কাবিননামা মূলে বিবাহ বন্ধঁনে আবদ্ধ হন। ধর্মান্তরীণে নওমুসলিম হওয়ার ও মুসলিম পরিবারের ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধঁনে আবদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তার পিতা সূর্য মোহন চাকমা (৬৫) বাদী হয়ে নওমুসলিম মরিয়ম বেগম ওরফে মাইমুনী চাকমাকে অপহরণের কাল্পনিক ঘটনা সাঁজিয়ে, ধর্মান্তরীণে সহায়তাকারী রিদুয়ান (২১) ও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ স্বামী হাফেজ হাবিব উল্লাহ (৩৫) কে আসামী করে উখিয়া থানায় মামলা (জি.আর-৫৮৭/২০১৯, উখিয়া থানার মামলা নং-৪১, তাং-২৯/১১/২০১৯ইং, ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০/সংশোধিত ২০০৩ সনের ৭/৩০ ) দায়ের করেন।
মামলার ১নং আসামী রিদুয়ান গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ও ২নং আসামী হাবিব উল্লাহ উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে আছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই (নিরস্ত্র) সিদ্ধার্থ সাহা বলেন, মামলাটি অপহরণ মামলা হলেও তদন্তকালে ভিকটিম মাইমুনি চাকমাকে জোর পূর্বক অপহরণের কোন সত্যতা মিলেনি বরং ভিকটিম স্বেচ্ছায় বাদীর অর্থাৎ পিতার ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এই ভিকটিম একজন প্রাপ্ত বয়সী ও বিবাহিত মহিলা। মামলাটি দায়ের হওয়ার পূর্বেই ভিকটিম আইনী প্রক্রিয়ায় ধর্ম পরিবর্তন ও মামলার ২নং আসামী হাবিব উল্লাহর সাথে বিবাহ বন্ধঁনে আবদ্ধ হয়। মামলার ১নং আসামী রিদুয়ান কে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে আর ২নং আসামী হাবিব উল্লাহ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছে। ভিকটিম যেহেতু প্রাপ্ত বয়স্ক এবং স্বয়ং আদালতে দাঁড়িয়ে মামলা আপোষে নিস্পত্তির আবেদন করেছেন, এছাড়া মামলার বাদী বা কোন স্বাক্ষীর মামলার সত্যতায় স্বাক্ষ্য দিত আগ্রহ দেখা যায়নি, এমতাবস্থায় স্বাভাবিক ভাবেই মামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। যদিও ভিকটিম অজ্ঞাত কারণে আত্মগোপনে থাকায় আইনগত ভাবে তাকে উদ্ধার করে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদানের জন্য সোর্পদ করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। তথাপি খুব শীঘ্রই সিনিয়র অফিসারদের সাথে আলোচনা ক্রমে তদন্ত কার্যক্রমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবুল মনসুর জানান, মামলার ভিকটিম কে অপহরণ নয় বরং সেচ্ছায় তার পিত্রালয় ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও আসামী হাবিব উল্লাহর সাথে বিবাহ বন্ধঁনের বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেওয়া হবে।
মামলাটির কাগজপত্র ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনায় সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট হায়দার তানভীর, এডভোকেট দুলাল মল্লিক, কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সিনিয়র এডভোকেট দুলাল মল্লিক, এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট জাবেদুল আনোয়ার রুবেল, এডভোকেট মহি উদ্দীন খান সহ অনেক বিজ্ঞ আইনজীবীর আইনী মতামত থেকে জানা যায়, মামলাটি দায়ের করার পূর্বেই
 ভিকটিম ও আসামীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার ফলে স্বামী কিভাবে স্ত্রীকে অপহরণ করতে পারে? সে বিবেচনায় মামলাটি আইনগত অচল।
এদিকে মামলার ভিকটিম নওমুসলিম মরিয়ম বেগম ওরফে মাইমুনি চাকমা জানান, এই মামলার কারণে তার নিজের ও স্বামীর স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাঘাত ঘটছে। অপর আসামী রিদুয়ান বিনা অপরাধে জেলের ঘানি টানছে। মামলার কারণে তারা আর্থিক, মানসিক ও সামাজিক ভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি মামলাটি দ্রুত নিস্পত্তি ও আসামীদের অব্যাহতি চান।
উখিয়া পুলিশ কোর্ট (জি.আর.ও) অফিসের মনির হোসেন জি.আর-৫৮৭/২০১৯ নং মামলায় ভিকটিম মাইমুনি চাকমা ওরফে মরিয়ম বেগম কতৃক আপোষ-মীমাংশা ক্রমে মামলা নিস্পত্তি করণের আদেশ প্রদানের আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার সংবাদদাতা/বাদী বা তদন্তকারী কর্মকর্তা কে সাথে নিয়েই ভিকটিমকে যে কোন আবেদন করতে হয়।
Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মিন্নির মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও মামলা বাতিলে ...