Breaking News
Home / Uncategorized / ভুয়া সঞ্চয়পত্রে ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী দম্পতি গ্রেফতার

ভুয়া সঞ্চয়পত্রে ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী দম্পতি গ্রেফতার

২১টি ভুয়া সঞ্চয়পত্র জমা দিয়ে দু’টি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার দু’জন হলো- এইচ এম এ বারিক ওরফে বাদল ওরফে বাদল হাওলাদার ওরফে মোস্তাক আহমেদ এবং তার স্ত্রী মরশিদা আফরীন।

শনিবার সিআইডির সদর দফতরে সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সিআইডি জানায়, ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তারা ভুয়া সঞ্চয়পত্র জমা দিয়ে গত কয়েক বছরে এ টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল।

সিআইডি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ২০০৪ সাল থেকে একটি প্রতারক চক্র ২১টি ভুয়া সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে এবি ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেই টাকা আত্মসাৎ করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার তৎকালীন ম্যানেজার জড়িত।

তিনি জানান, ২০০৪ সালে এবি ব্যাংক থেকে এভাবে জালিয়াতি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়। তবে তখন থেকেই পালাতক ছিল মোস্তাক হাওলাদার। এরপর তার প্রথম মামলায় সাজাও হয়।

দম্পতি জালিয়াতি করে ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে উল্লেখ করে সিআইডি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, দম্পতির ব্যাংক হিসাবে জালিয়াতি করে উপার্জিত দুই কোটি টাকা সন্ধান পেয়েছি। এছাড়াও তাদের নামে গুলশান ২-এ প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি নয়তলা বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমির তথ্য পেয়েছি।

গত ১৬ বছরে সে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতে পালিয়ে ছিল।  ২০১১ সালে গোপনে দেশে এসে আবার জালিয়াতি শুরু করে। ১৬ বছর ধরে পলাতক মোস্তাককে খুঁজছিল পুলিশ।

তিনি আরো জানান, ওই মামলায় এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের তৎকালীন ম্যানেজার আসিরুল হক গ্রেফতার হয়। ২০০৬ সালে সে তিনমাস কারাভোগ করে। পরবর্তীতে সে জামিনে মুক্ত হলে হৃদরোগে মারা যায়। তবে এর সঙ্গে ব্যাংকের আর কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছে কি না- তা তদন্ত করে দেখছে সিআইডি।

ব্যাংক থেকে ভুয়া সঞ্চয়পত্র দিয়ে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় দুদক ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা পশ্চিম ও মোহাম্মদপুর থানায় সাতটি মামলা করে। মামলাগুলো সিআইডি তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।

সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটির মূলহোতা একজন শিল্পপতি। তার ঢাকা স্টক একচেঞ্জে ব্যবসা ছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই শিল্পপতির নাম গোপন রেখেছে সিআইডি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে তারা। ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাৎ করে সে ব্যবসা করে শিল্পপতি হয়েছে। তার পরিচয় পেয়েছে সিআইডি। শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দুমকিতেসড়কের দু’পাশেগাছের স্তুপ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

  মো.সুমনর্মৃধাদুমকি(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি॥পটুয়াখালীর দুমকিতেযানবাহন ও জনচলাচলের ব্যস্ত সড়কের দু-পাশ দখলকরে বে-আইনীভাবেগাছেরগুড়িফেলেরাখায়যানবাহনচলাচলে চরম ভোগান্তি ...