Breaking News
Home / কৃষি ও খাদ্য / মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছে গাইবান্ধার কৃষক

মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছে গাইবান্ধার কৃষক

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটায় সম্ভাবনাময় ফল মাল্টার চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে কৃষক আমির হোসেন। সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের পুটিমারি গ্রামে আমির হোসেনের মাল্টা বাগান। বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে ছোটবড় হাজারো মাল্টা। প্রথমে ৩৩ শতক জমিতে মাল্টা ফলের চাষ শুরু করেন আমির হোসেন। বর্তমানে ১ একর ২০ শতক জমিতে মাল্টা চাষ করছেন তিনি। পিরোজপুর জেলা থেকে প্রতিটি চারা ২৭০ টাকা দরে ক্রয় করে মাল্টা চাষ শুরু করেন তিনি। দেড় বছর যেতে না যেতেই ফল আসতে শুরু করে তার বাগানে। ২০১৯ সালে বন্যায় বাগানের কিছু অংশের ক্ষতি হলেও তা কাটিয়ে উঠেছে এই কৃষক। মাল্টার গাছে মুকুল আসলে এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্য গুটি কাটতে শুরু করে। দৈনিক আধা মণ থেকে এক মণ মাল্টা উৎপাদন হয় বাগানে। বিদেশি মাল্টার চেয়ে এ মাল্টা রসালো ও বেশ সুস্বাদু। জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে এ মাল্টা। বাগানে শুধু মাল্টা চাষ নয়, মিষ্টি কুমরা, কচুসহ বিভিন্ন সবজির চাষও রয়েছে বাগানে। প্রতিদিন বাগান পরিচর্যার মধ্য দিয়ে দিন শুরু হয় তার। এ বাগানের মাল্টা খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে বাজার জাতের কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না এ কৃষককে। কাঁচা অবস্থায় মাল্টা গাড় সবুজ এবং পাকলে হালকা হলুদ রং ধারণ করে। একটি মালটা ওজনে দেড় থেকে ২শ গ্রাম হয়ে থাকে। আমির হোসেন বলেন, আমার বাগানের মাল্টার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে বাজারে। প্রথমে ৩৩ শতক জমিতে চারাসহ খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। মাল্টার চারা পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করেছি। চারা রোপণের ১৫ মাসের মাথায় মাল্টা ফল ধরতে শুরু করে। বছরে একবার ফল হওয়ার কথা শোনা গেলেও আসলে বাগানে ১২ মাসই মাল্টার গাছে ফল পাওয়া যায়। গাছের মাল্টা শেষ না হতেই অন্য গাছে মুকুল আসে। প্রথম তেমন ফল পাওয়া না গেলেও তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে বেশী ফল পাওয়া যায়। তিনি বলেন বাজারে মাল্টা কেজি প্রতি ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। উৎপাদিত মাল্টা স্থানীয় বাজার ছাড়াও শহরের বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করে থাকি। গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, এটি একটি সুস্বাদু ফল। জেলায় দুই দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। দোআঁশ মাটি মাল্টা চাষের জন্য বেশ ভালো। সে ক্ষেত্রে সাঘাটার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টার জন্য খুবই উপযোগী। আমির হোসেন মাল্টার বাগান করে লাভবান হয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমির হোসেনের মাল্টার বাগান দেখে অন্য কৃষকরা মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাঁচটি করে বাচ্চা দিল দুই ছাগল!

একটি ছাগলের একসঙ্গে দুটি বা তিনটি বাচ্চা প্রসব করার ঘটনা পুরনো। তাই ...