Breaking News
Home / জাতীয় / স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা দুর্নীতি সহায়ক; প্রত্যাহারের দাবি টিআইবির

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনা দুর্নীতি সহায়ক; প্রত্যাহারের দাবি টিআইবির

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি ২০২০: স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে গবেষণা, জরিপ ও অন্যকোনো তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ, বিনা অনুমতিতে স্থিরচিত্র বা ভিডিওচিত্র ধারণ না করা এবং সংগৃহীত তথ্য প্রকাশের আগেই বস্তুনিষ্ঠতা বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সম্মতি গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা সম্বলিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এই নির্দেশনাকে স্বাস্থ্যসেবায় দুর্নীতি সহায়ক আখ্যায়িত করে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহŸান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে সকল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা, জরিপ ও অন্যকোনো উদ্দেশ্যে তথ্য বা সংবাদ সংগ্রহে অনুমতি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা বর্তমান সময়ে অচিন্তনীয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃপক্ষের ঔপনিবেশিক ও নিবর্তনবাদী মানসিকতার মাধ্যমে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতে সরকার ঘোষিত ও আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের অপ্রতিরোধ্য অন্তরায় সৃষ্টি করবে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের তথ্যের ‘বস্তুনিষ্ঠতা’ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সম্মতি গ্রহণের যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, তা যেমন স্বাস্থ্য খাতে সকল প্রকার গবেষণা ও তথ্য প্রকাশের দ্বার রুদ্ধ করবে, তেমনি এ খাতে সকল প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদের আত্মসাৎ ও অপচয়ের সুরক্ষা দিবে। আপাতদৃষ্টিতে এটাকে তথ্য যাচাই করার মত হাস্যকর যুক্তি হিসেবে উল্লিখিত হলেও প্রকৃত অর্থে তা সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই এ ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে মনে করা অমূলক নয়।”
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসাপাতালের কেনাকাটায় লোমহর্ষক দুর্নীতি ও অবিশ^াস্য অনিয়মের ঘটনার তথ্য গণমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এ ধরনের তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা চিরতরে বিনষ্ট করে দুর্নীতির মহোৎসবের সুযোগ সৃষ্টি করাÑ এ প্রশ্ন উত্থাপন করা মোটেই অমূলক নয়। সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেখানে উচিত বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা, তার পরিবর্তে এই নির্দেশনা কীভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দুর্নীতির প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’ সামঞ্জস্য বিবেচিত হতে পারে তা বোধগম্য নয়। অবিলম্বে নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্দেশনার উল্লিখিত ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানায় টিআইবি।
‘সরকারি হাসপাতালের দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা’ শিরোনামের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, “রোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মতো অপরিহার্য বিষয়সমূহ যথানিয়মে পরিপালিত হবে, এটা আমাদের সকলের কাম্য। কিন্তু তা করতে গিয়ে হাসপাতালের সেবার মান সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণার জরিপ বা অন্য উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহের ওপর বাধা-নিষেধ আরোপ এবং অনুমতি ব্যতিরেকে হাসপাতালের অভ্যন্তরের রোগী বা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের স্থিরচিত্র বা ভিডিও ধারণের নিষেধাজ্ঞার মতো নির্দেশনা অবিবেচনা প্রসূত।”
Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রথম ধাপের অভিযানে ছয় কোটি মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

জাটকাসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রজাতির মাছের ডিম, লার্ভা ও পোনা রক্ষায় দেশের ১৩টি ...