Breaking News
Home / রাজশাহীর সংবাদ / তানোর পৌর মেয়র মিজানের দূর্নীতির তদন্ত শুরু

তানোর পৌর মেয়র মিজানের দূর্নীতির তদন্ত শুরু

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর পৌরসভার আলোচিত মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে উঙ্খাপিত দূর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারী মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-কর্মকর্তা (ডিডিএলজি) দিনব্যাপী তানোর পৌরসভায় উপস্থিত হয়ে এসব অনিয়ম-দূর্নীতির তদন্ত করেছেন। এদিকে মেয়রের দূর্নীতির তদন্ত কার্যক্রমের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে মিস্টি বিতরণ করে উল্লাস করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তানোরের কলমা বাজার, তানোর পৌরসভার সুমাসপুর, তালন্দ বাজার, কাঁমারগা বাজার ও কালীগঞ্জহাট এলাকায় নেতাকর্মীরা মিস্টি বিতরণ করে উল্লাস করেছে।
প্রসঙ্গত, বিগত ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর সোমবার তানোর পৌরসভার সংরক্ষিত ৩ নম্বর আসনের নারী কাউন্সিলর মোমেনা আহম্মেদ বাদী হয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পত্রটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ গ্রহণ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপি ফান্ডের প্রায় এক কোটি ও বিশেষ বরাদ্দ প্রায় ৪০ লাখ। এরমধ্যে ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৪ টাকার টেন্ডার হয়। কিন্তু অবশিষ্ট ৫১ লাখ ৯ হাজার ৬১৬ টাকার বিভিন্ন ভূয়া বিল ভাউচার করে কোটেশন বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে পুরো টাকা আতœসাৎ করেন মেয়র। এছাড়াও রিং পাইপ বরাদ্দ, গাছে রঙ ও হাট-বাজার উন্নয়ন করার নামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপি ফান্ডের প্রায় ৮০ লাখ টাকা কোনো কাজ ছাড়াই আতœসাৎ করেন মেয়র। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার টেন্ডার গত ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্ররুয়ারী টেন্ডার আহবান ও ১৯ ফেব্ররুয়ারী দুটি অপ্রচলিত পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। অথচ নীতিমালায় বলা রয়েছে বহুল প্রচলিত (হোয়াইটপ্রেস) পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও ব্যাপক প্রচার করতে হবে। অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছর হতে ২০১৯-২০ অর্থ বছর পর্যন্ত ২৪ হাজার জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করা হয়। প্রতি নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা হিসেবে এতো বছরে দাঁড়ায় ১২ লাখ টাকা। কিন্তু পৌর তহবিলে জমা করা হয়েছে মাত্র এক লাখ টাকা। মেয়র তার অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় এতোসব টাকা আতœসাৎ করেন। ওই একই অর্থবছর হতে এযাবৎ পর্যন্ত পৌরসভার নিজস্ব ২টি রোড রোলার ভাড়া খাটিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় হয়। কিন্তু মেয়র রোড রোলার ভাড়ার টাকা পৌর তহবিলে মাত্র দুই লাখ টাকা জমা দেখান। বাকি টাকা আতœসাৎ করেছেন। এছাড়াও গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে কম দর দেখিয়ে চলতি অর্থবছরে ৩টি হাটের ইজারা প্রদান করা হয়। মেয়র তার আস্থাভাজন লোকদের ইজারা পাইয়ে দেন। ফলে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা মেয়র তসরুফ করেন। সরকারি বিধি-বিধান তোয়াক্কা না করে ৩টি কোল্ড স্টোর হতে মোটা টাকা উৎকোচ নিয়ে পৌর তহবিলে মাত্র ২০ হাজার টাকা আয় দেখান। এখানে মেয়র আতœসাৎ করেন প্রায় ৭ লাখ টাকা। আবার ২০১৬-১৭ অর্থবছর হতে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ঠিকাদার লাইন্সেস নবায়ন, সিডিউল বিক্রয় ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট ফি প্রদান বাবদ আয় হলেও পৌর তহবিলে জমা না করে মেয়র ও সংশ্লিষ্টরা যোগসাজশে আতœসাৎ করেছেন। এছাড়াও জিআইজেড প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৫টি কম্পিউটারের মধ্যে ৩টি কম্পিউটারের কোনো হদিস নেই। পৌরসভার ২টি মোটরসাইকেল বিগত ৫ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকলেও জ্বালানী খরচ বাবদ ৪ লাখ টাকা পৌর তহবিল থেকে তসরুফ করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মশক নিধনের জন্য ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। দু’এক জায়গায় লোক দেখনো স্প্রে করে ভূয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আতœসাৎ করা হয়। গোল্লাপাড়া বাজারে মাছ পট্টির সংস্কার কাজে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। অথচ পৌর তহবিলের ১১ লাখ টাকা উত্তোলন করে মেয়র আতœসাৎ করেন। মিজানুর রহমান মিজান মেয়র পৌরসভায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪ বছর ধরে এভাবে অনিয়ম-দূর্নীতি করে ৪০ লাখ টাকা মূল্যের কার গাড়ি ও কোটি টাকা মূল্যের তানোর সদরে বিলাস বহুল বরেন্দ্র ভবন তৈরি করেছেন। অভিযোগে আরো বলা হয় মেয়রের এসব দূর্নীতির কাজে সহায়তা করে পৌরসভার কার্যসহকারি মাহবুব আলম রাজশাহী নগরীতে ২২ লাখ টাকায় ফ্ল্যট বাড়ি ক্রয় করেছেন। এছাড়াও বাইপাস নামক স্থানে ১০ লাখ টাকায় জমির প্লট ক্রয় করেছেন। সরেজমিন অনুসন্ধান করা হলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা (ডিডিএলজি) বলেন, মেয়র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়ে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে রাজশাহী দূর্নীতি-দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এব্যাপারে তানোর পৌর মেয়র ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পৌরসভার নাগরিকরা বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ফলে প্রায় দুইযুগ ধরে বিএনপি প্রার্থী ভোটে নির্বাচিত হয়ে পৌর পিতা হিসাবে নাগরিকদের সেবা করে আসছে। তবে, তার দ্বারা পৌর কার্যালয়ে কোনো অনিয়ম-দূর্নীতি হয়নি। এবিষয়ে জানতে চাইলে তানোর পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মমেনা আহম্মেদ বলেন, ইতমধ্যে মেয়র মিজানের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদুকে মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, সরেজমিন অনুসন্ধান করা হলে মেয়রের বিরুদ্ধে করা প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। #

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তানোরে এতিমদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি রাজশাহীর তানোরে বাঙালি জাতির জনক ও মহান স্বাধীনতার স্থপত্তি ...