Breaking News
Home / অপরাধ / আলোর ভূবণের প্রতারণার ফাঁদে জীবন অন্ধকার !

আলোর ভূবণের প্রতারণার ফাঁদে জীবন অন্ধকার !

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
যে আসরে মানুষ নিঃস্ব হয় নেই আসর বসেছে তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউপির ভিমনগর মাঠে। স্থানীয় একটি ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী বিজয় মেলার প্রধান আকর্ষণ ‘আলোর ভূবন’ নামের অবৈধ রাফেল ড্র লটারি জুয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব লটারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখানো হলেও মূলত আয়োজকরা জম্পেশ জূয়া বাণিজ্য করছে পাশাপাশি মেলা ঘিরে ইয়াবা-গাঁজার হাট বসেছে এতে বিপদগামী হচ্ছে য্বুসমাজ। অথজ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রহস্যজনক কারণে সবকিছু দেখেও না দেখার অভিনয়ে এড়িয়ে চলেছে। সচেতন মহলের অভিমত, মাত্র কুড়ি টাকা মূল্যর লট্রারি কিনে রাতারাতি বিত্তশীল হবার আশায় অলোর ভূবন লট্রারি জুয়ার প্রলোভণের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ নিঃস্ব হতে চলেছে হতদরিদ্রদের সংসার ভাঙ্গছে, সৃষ্টি হচ্ছে দাম্পত্য কলহ-বিবাদ এর দায় নিবে কে ? এছাড়াও গত মৌসুমে আলোর ভূবন দুই দিনে প্রায় কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করে পুরুস্কার না দিয়েই পালিয়েছে এবার যে এমন হবে না তার নিশ্চয়তা কি ? রাজশাহী-১ নির্বাচনী এলাকার সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী তার নির্বাচনী এলাকায় যাত্রা-সার্কাস-পুতুল নাচের নামে অশ্লীল নৃত্য, ও লট্রারি জুয়াসহ সব ধরণের অশ্লীলতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সর্ব মহলে প্রসংশিত হয়েছেন। অথচ তার এলাকায় বহিরাগতরা এসে প্রকাশ্যে লট্রারি জুয়ার টিকিট বিক্রি করছে এটা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তারা তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় এসব অবৈধ লট্রারি জুয়ার টিকিট বিক্রি বন্ধের দাবি করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রাজশাহী পুলিশ সুপারের(এসপি) জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, বিজয় মেলা নাম দেয়া হলেও এখানে যাত্রাপালার আড়ালে নারীর অর্ধনগ্ন অশ্লীল নৃত্য ও লট্রারির নামে জুয়া চলছে। আলোর ভূবন র‌্যাফেল ড্র লটারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখানোয়, স্বল্প ও নিম্ আয়ের মানুষ তাদের দিনভর কষ্টার্জিত উর্পাজনের টাকা দিয়ে ২০ টাকা মূল্যর লটারি’ কিনে নিঃস্ব হয়ে ভগ্ন হৃদয়ে বাড়ি ফিরছে সংসারে সৃষ্টি হচ্ছে অশান্তী দামপত্ত্য-কলহ-বিবাদ। এদিকে লটারির প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে ডিস লাইনে নিজস্ব (অবৈধ) চ্যানেলে লটারির কর্মকান্ড সরাসরি সম্প্রচার করছে কয়েকটি ক্যাবল প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে প্রায় দেড় শতাধিক অটোচার্জার গাড়ীতে মাইকের মাধ্যমে উচ্চ শব্দে লটারির প্রচারণা করায় মেলার আশপাশে বসবাসকারি মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে অবৈধ এই লটারি ‘জুয়া’ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, স্থানীয় এমপি ও তার ভাই ঘাষিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানের নেপথ্যে মদদ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব অসামাজিক কর্মকান্ড চলছে। আর এসব অসামাজিক কর্মকান্ডের জন্য এমপির ইমেজ সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বইছে সমালোচনার ঝড় বলে তারা মনে করছে।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় একটি কথিত ক্লাবের নামে বিজয় মেলার আড়ালে যাত্রাপালার নামে অশ্লীল নৃত্য ও লট্রারি জুয়া আয়োজন করেছে। এদিকে মেলার প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়ে উঠেছে আলোর ভূবন র‌্যাফেল ড্র নামের লটারি মাত্র ২০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে, মোটর বাইক, সোনার গহনা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পুরুস্কার দেয়া হচ্ছে। এলাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক কর্মী তানোর, গোদাগাড়ী, মান্দা, নাচোল, নিয়ামতপুর, পবা ও মোহনপুরসহ রাজশাহী অঞ্চলের আনাজে-কাঁনাচে আলোর ভূবন ্যাফেল ড্রর টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। শুধুমাত্র যানবাহনেই নয় বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে লট্রারি জুয়ার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। আর মাত্র ২০ টাকায় এসব লোভনীয় পুরুস্কার পেতে টিকিট সংগ্রহে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের নারী-পুরুষ এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এতে প্রতিদিন লট্রারির প্রায় কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হলেও সামান্য ব্যয় হয় পুরুস্কারে। পুরুস্কারের লোভে নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের সারাদিনের কষ্টার্জিত উর্পাজনের টাকা বাড়ি নিয়ে যেতে পারছেন না। অধিকাংশক্ষেত্রে অনেক সংসারে দাম্পত্য-কলহ দেখা দিচ্ছে। প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে কয়েকটি ক্যাবল প্রতিষ্ঠান সরাসরি (অবৈধ) তাদের নিজস্ব চ্যানেলে লটারি জূয়া সম্প্রচার করছে। আবার লটারি জুয়ার টিকিট বিক্রি ও খেলার সময় শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘড়ির কাটা রাত ৮টা এলেই টিকিট ক্রেতারা বাড়িতে, অন্যর বাড়িতে অথবা বিভিন্ন দোকানের টিভি সেটের সামনে বসে পড়েন। মেলায় লটারি মঞ্চে শিশুদের দিয়ে টিকিট তুলিয়ে তা প্রচার করা হচ্ছে। টিকিটের জমা দেয়া অংশে লেখা ক্রেতার নাম ও ফোন নম্বর দেখে তাকে ডেকে পুরুস্কার দেয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের সিংহভাগ পুরুস্কার না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে, এতে অধিকাংশক্ষেত্রে সংসারে দাম্পত্য-কলহ সৃষ্টি হচ্ছে বলে ব্যাপক প্রচার রয়েছে। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও মোচনপুর উপজেলা প্রশাসন বা মেলা কমিটির দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরী তার নির্বাচনী এলাকায় (তানোর-গোদাগাড়ী) এসব অবৈধ লট্রারি জুয়ার টিকিট বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।#

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঢাকার নাইটক্লাব: হাইপ্রোফাইলদের অন্ধকার জীবন

রাত ১২টা। বনানীর ৮ নম্বর রোডের একটি বহুতল বাড়ির সামনে পাহারায় কয়েকজন ...