Breaking News
Home / Uncategorized / কন্যাকে স্বামী সম্পর্কে উপদেশ…

কন্যাকে স্বামী সম্পর্কে উপদেশ…

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বহুদিন ধরে উৎসুক ছিলাম যে, আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) এর নিকট জিজ্ঞেস করব, নবী (সা.) এর স্ত্রীদেরর মধ্যে কোন দু‘জন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন, ‘তোমরা দু‘জন যদি আল্লাহর নিকট তাওবাহ করতে, কেননা তোমাদের অন্তর (অন্যায়ের দিকে) ঝুঁকে পড়েছে।’ (সূরা: আত তাহরীম, আয়াত: ৪)।

অবশেষে তিনি হজের জন্য রওয়ানা হলেন এবং আমিও তারঁ সঙ্গী হলাম। (পথে) তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে একটি পাত্রে পানিপূর্ণ করে নিয়ে গেলাম। তিনি প্রয়োজন সম্পন্ন করে ফিরে এলেন, আমি ওজুর পানি তাঁর হাতে ঢেলে দিতে লাগলাম আর তিনি ওজু করতে থাকলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! নবী (সা.) এর স্ত্রীদের মধ্যে কোন দু‘জন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা দু‘জন যদি আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করতে, কেননা তোমাদের অন্তর ঝুঁকে পরেছে।’ (সূরা: আত তাহরীম, আয়াত: ৪)।

তিনি বলেন, হে ইবনু ‘আব্বাস! তোমার প্রশ্নে অবাক হচ্ছি। তারা ছিল আয়িশাহ ও হাফসাহ। অতঃপর ‘উমার (রা.) হাদিস বর্ণনা করতে থাকলেন এবং বললেন, আমি এবং উমাইয়াহ ইবনু যায়েদ সম্প্রদায়ের আমার এক আনসারী প্রতিবেশী যারা মদিনার উপকন্ঠে বসবাস করতেন। আমরা পালাক্রমে নবী (সা.) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতাম। সে একদিন নবী (সা.) এর দরবারে যেত এবং আমি অন্য দিন যেতাম।

যখন আমি যেতাম, তখন সারাটা দিন যা কিছু ঘটত, ওহী অবতীর্ণ এবং অন্যান্য যা কিছু, সব সংবাদ তাকে দিতাম, এবং সেও অনুরুপ সংবাদ আমাকে দিত। আমরা কুরাইশরা নিজেদের স্ত্রীলোকদের ওপর প্রভাবশীল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন আনসারদের মধ্যে আসলাম, তখন দেখতে পেলাম, তাদের স্ত্রীরাই তাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। অতঃপর আমাদের স্ত্রীরাও আনসারদের স্ত্রীদের রীতি-নীতি গ্রহণ করল।

একদিন আমি আমার স্ত্রী’র প্রতি নারাজ হলাম এবং উচ্চঃস্বরে তাকে কিছু বললে সেও পাল্টা জবাব দিলো। সে আমার মুখে মুখে তর্ক করবে এটা আমি অপচ্ছন্দ করলাম। সে বলল, আমি আপনার কথার পাল্টা জবাব দিচ্ছি, তা আপনি অপচ্ছন্দ করছেন কেন? আল্লাহর শপথ! নবী (সা.) এর স্ত্রী’রা তাঁর কথার প্রতি উত্তর দিয়ে থাকতেন এবং তাদের কেউ কেউ আবার পূর্ণ একটা দিন, এমনকি রাত পর্যন্ত তার প্রতি অভিমান করে কাটিয়ে দেন। একথা শুনে আমি ঘাবড়ে গেলাম এবং তাকে বললাম, তোমাদের মাঝে যে এরুপ করেছে তার সর্বনাশ হয়েছে।

এরপর আমি পোশাক পরিধান করলাম, অতঃপর হাফসার ঘরে গিয়ে প্রবেশ করলাম এবং তাকে বললাম, হে হাফসাহ! তোমাদের মধ্যে কেউ কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সারাদিন এমনকি রাত পর্যন্ত অসুন্তুষ্ট করে রাখে? সে জবাব দিলো? হ্যাঁ! আমি বললাম, সে তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তোমরা কি বেপরোয়া হয়ে গেছ যে, প্রিয় রাসূলের (সা.) অসুন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সে স্ত্রী’র প্রতি অসুন্তুষ্ট হতে পারেন এবং পরিণামে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে? সুতরাং নবী (সা.) এর নিকট কোন জিনিস অতিরিক্ত দাবি করো না তাঁর কথার প্রতি উত্তর করো না এবং তাঁর সঙ্গে (অভিমান করে) কথা বলা বন্ধ করো না। তোমার যদি কিছুর প্রয়োজন হয়, তবে আমার নিকট চেয়ে নিও এবং স্বীয় প্রতিবেশীর অনুকরণে অহংকার করো না। কেননা, সে তোমার চেয়ে বেশি রুপবতী এবং রাসূলের নিকট প্রিয়। (এখানে) প্রতিবেশীনী হজরত আয়িশাহ (রা.)-কে বুঝানো হয়েছে।

উমার (রা.) আরো বললেন, এ সময় আমাদের মধ্যে গুঞ্জন হতে লাগল যে, (সিরিয়ার) গাসসান সম্প্রদায় আমাদের ওপর আক্রমণ চালাবার জন্য তাদের ঘোড়াগুলোকে প্রস্তুত করছে। আমার আনসার সঙ্গী তার পালার দিন নবী (সা.) এর খেদমতে হাজির থেকে রাতে ফিরে এসে আমার দরজায় খুব জোরে আঘাত করল এবং প্রশ্ন করল, আমি ঘরে আছি কি না? আমি ভীত হয়ে তার নিকট বেরিয়ে এলাম। সে বলল,আজ এক সাংঘাতিক ঘটনা ঘটে গেছে। আমি বললাম, তা কি? গাসসানীরা এসে গেছে? সে বলল, না, বরং তার চেয়েও সাংঘাতিক ও ভয়ংকর ঘটনা। রাসূলূল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়েছেন। আমি বললাম হাফসাহ তো ধ্বংস হলো, ব্যর্থ হলো। আমি আগেই ধারণা করেছিলাম যে, খুব শীঘ্রই এ ধরনের কিছু একটা ঘটবে। এরপর আমি পোশাক পরিধান করলাম এবং ফজরের নামাজ নবী (সা.) এর সঙ্গে আদায় করলাম।

নামাজ শেষে নবী (সা.) মাচানে আরোহণ করলেন এবং সেখানে একাকী বসে রইলেন। আমি হাফসার নিকট গেলাম তখন সে কাঁদছিল। আমি প্রশ্ন করলাম, কাঁদছ কনে? আমি কি তোমাকে এ ব্যাপারে আগেই সতর্ক করিনি? রাসূলুল্লাহ (সা.) কি তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন? সে বলল, আমি জানি না। তিনি মাচানের ওপরে একাকী আছেন। আমি সেখান হতে বেরিয়ে এসে মিম্বারের নিকট আসলাম যেখানে একদল লোক বসা ছিল এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ কাঁদছিল। আমি তাদের নিকট কিছুক্ষণ বসলাম, কিন্তু আমার অন্তর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অসহ্য হয়ে পড়েছিল।

সুতরাং যে মাচানে নবী (সা.) অবস্থান করেছিলেন আমি সেখানে গিয়ে তাঁর কালো গোলামকে বললাম।‘উমারের জন্য প্রবেশের অনুমতি চাও। সে নবী (সা.) এর কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর ফিরে এসে বলল, আমি নবী (সা.) এর সঙ্গে কথা বলেছি এবং আপনার কথা উল্লেখ করেছি, কিন্তু তিনি নিরুত্তর রয়েছেন। আমি ফিরে আসলাম এবং যেখানে মিম্বারের নিকট একদল লোক বসা ছিল, সেখানে বসলাম। কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে অসহ্য করে তুলছে। তাই আবার এসে গোলাকে বললাম, ‘উমারের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করো। সে গেল এবং ফিরে এসে বলল, আমি তাঁর কাছে আপনার কথা বলেছি, কিন্তু তিনি নিরুত্তর রয়েছেন। আমি আবার ফিরে এসে মিম্বারের নিকট উপবিষ্ট লোকদের সঙ্গে বসলাম। কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে অসহ্য করে তুলল। আবারো আমি এসে গোলামকে বললাম, ‘উমারের জন্য প্রবেশের অনুমতি চাও। সে গেল এবং ফিরে এসে বলল, আমি আপনার কথা উল্লেখ করেছি, কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি। যখন আমি ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি, এমন সময় সে আমাকে ডেকে বলল, নবী (সা.) আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।

অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট প্রবেশ করলাম, তিনি খেজুর পাতার চাটাইর ওপরে শুয়ে আছেন এবং তাতে কোনো চাদর বিছান ছিল না। তাঁর শরীরে চাটাইর দাগ স্পষ্ট হয়ে রয়েছে এবং তিনি খেজুর গাছের পাতা ভর্তি একটি বালিশে ভর দিয়ে আছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং দাঁড়ানো অবস্থায়ই বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি আপনার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়েছেন? তিনি আমার দিকে চোখ ফিরিয়ে বললেন, না। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার। এরপর আমি দাঁড়ানো অবস্থায়ই পরিবেশ হালকা করার উদ্দেশ্যে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি মেহেরবানী করে আমার কথার দিকে একটু মনোযোগ দিতেন।

আমরা কুরাইশরা নারীদের ওপর দাপট খাটাতাম। কিন্তু আমরা মদিনায় আসার পর দেখলাম যে, এখানকার নারীরা পুরুষদের অধীন করে রেখেছে। (একথা শুনে) নবী (সা.) মুচকি হাসলেন। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমার কথা একটু খেয়াল করে শুনতেন। আমি হাফসার নিকট গেলাম এবং তাকে বললাম, তুমি তোমার সঙ্গীনীর (আয়িশার) অনুকরণে অভিমানী হয়ো না। সে তোমারে চেয়ে অধীক রুপবতী এবং নবী (সা.) এর নিকট অধীক প্রিয়। নবী(সা.) পুনরায় মুচকি হাসলেন। আমি তাঁকে হাসতে দেখে বসে পড়লাম। এরপর আমি তাঁর ঘরের চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম। আল্লাহর শপথ! আমি তাঁর ঘরে উল্লেখযোগ্য কিছুই দেখতে পেলাম না। তিনটি চামরা ব্যতীত।

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি দোয়া করুন, যাতে আল্লাহ তায়ালা আপনার উম্মতকে ধন-সম্পদ দান করেন। কেননা, পারস্য এবং রোমকদের (যথেষ্ট) পরিমাণে ধন-সম্পদ দেয়া হয়েছে। অথচ তারা আল্লাহর ইবাদত করে না। (একথা শুনে) নবী (সা.) সোজা হয়ে বসলেন, (এতক্ষণে) তিনি ঠেস দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! এটা কি তোমার অভিমত? এরা হচ্ছে সেসব লোক, যারা তাদের ভালো কাজের বিনিময় এ দুনিয়ায় পাচ্ছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ক্ষমার জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করুন।

নবী (সা.) ঊনত্রিশ দিন তাঁর স্ত্রীগণ থেকে পৃথক থাকেন, সে গোপন কথা হাফসাহ (রা.)‘আয়িশাহ (রা.) এর নিকট বলে দেয়ার কারণে। যখন আল্লাহ তায়ালা তাঁকে মৃদু ভর্ৎসনা করলেন তখন তাদের প্রতি রাগের কারণে নবী (সা.) বলেছিলেন, আমি একমাসের জন্য তাদের (স্ত্রীদের) নিকট যাব না।

সুতরাং ঊনত্রিশ দিন হলে নবী (সা.) সর্বপ্রথম ‘আয়িশার কাছে গেলেন। ‘আয়িশাহ (রা.) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কসম করেছেন যে, এক মাসের মধ্যে আমাদের নিকট আসবে না, কিন্তু এখন ঊনত্রিশ দিন হয়েছে মাত্র। আমি দিনগুলো এক এক করে হিসেব করে রেখেছি। নবী (সা.) বলেন, ঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়। (রাবী বলেন) ওই মাসটি ছিল ঊনত্রিশ দিনের।‘আয়িশাহ (রা.) আরো বলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা ইখতিয়ার সম্বলিত আয়াত অবতীর্ণ করলেন এবং তিনি স্ত্রীদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমাকে দিয়িই আরম্ভ করেন এবং আমি তাকেই গ্রহণ করলাম। অতঃপর তিনি সব স্ত্রীকেই ইখতিয়ার দিলেন এবং প্রত্যেকই তাই বলল, যা ‘আয়িশাহ (রা.) বলেছিলেন। (বুখারী-হা: ৫১৯১,ই: ফা: বা:, হা: ৪৮১২, আ: প্র:, হা:৪৮০৯)

হাদিসের শিক্ষা: (১) স্ত্রীদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য মাঝে মাঝে অভিমান করা যায়। (২) দুনিয়ার জীবন আরাম আয়েশের জায়গা নয়।

সংগ্রহ : প্রিয়ম হাসান

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিরামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবনে বিরামপুর প্রেসক্লাব অফিস বরাদ্দ

  বিরামপুর প্রতিনিধি মোঃ রেজওয়ান আলী-দিনাজপুরের বিরামপুর প্রেসক্লাব অফিস বরাদ্দ দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ...