Breaking News
Home / খুলনা বিভাগ / নড়াইলে হাত বাড়ালেই জত সব ভয়ংকর মাদক: দিন দিন বাড়ছে অপরাধ ঘটছে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা

নড়াইলে হাত বাড়ালেই জত সব ভয়ংকর মাদক: দিন দিন বাড়ছে অপরাধ ঘটছে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি■’চিরচেনা সবুজের মতো মায়াবী এই শহরের চিত্র এরকম কখনো ছিলনা, এখানেই নেই কোন রাজনৈতিক বৈরিতা, আছে বহুকাল ধরে রাজনৈতিক সুস্থ সংস্কৃতির এক মহান ঐতিহ্য। আর এভাবেই এখানে বেড়ে উঠছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু উলটপালট করে শহরের অতীত ইতিহাসকে ম্লান করে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে এখানকার সবমহলের মানুষজনকে। বাড়ছে অপরাধ, ঘটছে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা। নানা সময়ে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন অনেকের। প্রতিটি ঘটনা ঘটার পরে পুলিশি তৎপরতা বাড়লেও, নড়াইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনো মাথা বেথা নেই তাদের অভিযান চোখে পড়েনা, মনে হয় চলছে কানার দেশে আয়না বিক্রি মত। প্রাচীন জনপদ । শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতির চারণ ক্ষেত্র তার ইতিহাস-ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ইতিহাস থেকে বিচ্যুত হয়ে শ্রীহীন জনপদে পরিণত হয়ে পড়েছে। সেই রূপ আজ আর নেই। রূপ-সৌন্দর্য হারিয়ে শ্রীহীন জনপদে পরিনত হয়ে পড়েছে কালের স্বাক্ষী। নড়াইলের লোহাগড়া পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নীতি নৈতিকতা বিরোধী কর্মকান্ড এবং অসামাজিক কার্যকলাপ দিনকে দিন বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে মাদকের কারবার। এ জনপদে মাদকাসক্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, ভয়াল মাদকের আগ্রাসী থাবায় সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময়ী নড়াইল-লোহাগড়া-কালিয়া-নড়াগাতী এখন, প্রায় বিপন্ন’ জনপদে পরিণত। সর্বত্র মাদকের ছড়াছড়ি। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এখানে মাদক বিক্রেতার পাশাপাশি সেবনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। এখানকার মাদক সেবীদের কাছে ‘ইয়াবা’ এখন হট কেকের মতো। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেদারসে চলছে ইয়াবা বেচাকেনা। স্থানীয় পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মাদক পাচার ও বিক্রি বন্ধে তৎপর থাকলেও মাদক বেচাকেনা থেমে নেই। তবে নড়াইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনো অভিযান চোখে পড়েনা মাদক সহজলভ্য হওয়ায় লোহাগড়ার মাদক পাচারকারী ও সেবনকারীরা ‘ইয়াবা বড়ি’র নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। বাজারের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা সর্বত্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ‘সিন্ডিকেট’ করে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। এক কথায়, ইয়াবায় ভাসছে লোহাগড়া। ইয়াবা বেচাকেনার কারনে লোহাগড়ায় নীতি নৈতিকতা বিরোধী কর্মকান্ডও বাড়ছে। বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, পৌর শহরসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক বাণিজ্যিক পয়েন্টে দেদারসে মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। এসব মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে, ঘুমের বড়ি, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ ও ইয়াবা। পূর্বে ফেনসিডিলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে তা কমে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে ইয়াবা। বর্তমানে এখানে এক বোতল ফেনসিডিলের দাম ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। পক্ষান্তরে, মায়ানমারের তৈরী, যা আর সেভেন নামে পরিচিত ইয়াবা বড়ি ১’শ টাকা থেকে ৪শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডাব্লিউ ওয়াই (চম্পা) বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা করে পিস। ইয়াবা সেবনে জন সম্মুখে তাৎক্ষনিক পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া না থাকার কারনে ইয়াবার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে এ নেশার প্রতি স্কুল,কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। ইদানিং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। লোহাগড়ায় সড়ক পথ দিয়ে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে থাকে। সীমান্ত শহর যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মাদক পাচারকারী চক্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজস্ব লোকজন দিয়ে লোহাগড়ায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক পাচারকারীরা মাদক পাচারের জন্য পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের বেশি ব্যবহার করছে। এরা ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে পরিচিত। এ সব ক্যারিয়ারদের অধিকাংশ স্বামী পরিত্যক্ত ও তালাক প্রাপ্তা মহিলা। ক্যারিয়াররা মাদকসহ মাঝে মধ্যে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও ভুল ঠিকানা ও আইনের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে তারা সহজেই মামলা থেকে অব্যহতি পেয়ে যাচ্ছে। লোহাগড়া উপজেলার মধুমতি নদীর কালনা,বকজুড়ি, শিয়রবর, চরভাটপাড়া, জয়বাংলা, পাংখারচর, ইতনা ও করফা ঘাট দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়ে থাকে। এসব ঘাটে মাঝে মধ্যে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক হলেও কোনো ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না ইয়াবা বেচাকেনা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নড়াইল সদরের গোবরা বাজার, তুলারামপুর, চাচরা, গাবতলা, মুলিয়া, নাকসি মাদরাসা রঘুনাতপুর শিমাখালী, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাজার, কুন্দশী, মদিনাপাড়া, লক্ষীপাশা, রামপুর, কাশিপুর, জয়পুর, সিডি, মরণমোড়,কচুবাড়িয়া, আমাদা, এড়েন্দা, বাদশার গ্যারেজ, দিঘলিয়া, কুমড়ি, কালনা, মানিকগঞ্জ, পার-মল্লিকপুর, দোয়া- মল্লিকপুর, গোপীনাথপুর ও ইতনা বাজারসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক পয়েন্টে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজস্ব লোকজনদের দিয়ে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে মাদকসহ সেবনকারীদের আটক করলেও মুল পাচারকারীরা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যে কারণে কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না মাদক বেচাকেনা। বিশেষ করে, সর্বনাশা ইয়াবার ব্যাপক বিস্তৃতির কারনে এখানকার সচেতন অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মাদক পাচারকারী চক্র লোহাগড়ার পূর্বাঞ্চলের কালনা ঘাটকে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ঘাট দিয়ে মাদকদ্রব্য রাজধানী ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে। তাছাড়া, কালনা-নড়াইল-যশোর মহা সড়কে দিনের বেলায় কোন পুলিশী টহল বা চেকপোষ্ট না থাকায় মাদক পাচারকারীরা এই রুটটি নির্বিঘেœ ব্যবহার করছে। এ ঘাট দিয়ে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অস্ত্র ও সোনা পাচার হচ্ছে বলে জানা যায়। নড়াইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইয়াবা বড়ি আকারে ক্ষুদ্র হওয়ায় ধরাটা কঠিন হয়ে পড়ে। সচেতন মানুষজন মাদক বেচাকেনা বন্ধে এগিয়ে না আসলে মাদক কেনাবেচা বন্ধ করা সম্ভব নয়’। নড়াইলের লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, ‘বেআইনি মাদকদ্রব্য উদ্ধারে জন সচেতনতা না বাড়ালে মাদকের ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে মাদক বেচাকেনা বন্ধে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনো অভিযান চোখে পড়েনন।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নড়াইলে বিশাল সম্প্রীতির বন্ধনঃ সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আহত-৮

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলাঃ প্রতিনিধিঃ নড়াইলে বিশাল সম্প্রীতির বন্ধন। সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আহত-৮।নড়াইলের পল্লীতে সম্প্রীতির বন্ধনে বক্তব্য রাখছেন এমপি ...