Breaking News
Home / কৃষি ও খাদ্য / তানোরে ইট ভাটায় উর্বরা মাটি কৃষিতে অশনি সঙ্কেত

তানোরে ইট ভাটায় উর্বরা মাটি কৃষিতে অশনি সঙ্কেত

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরের বাধাইড় ইউপির সীমান্তবর্তী গোয়ালপাড়া নীতিমালা লঙ্ঘন করে ফসলী জমিতে গড়ে উঠেছে কেআরবি নামের ইট ভাটা। স্থানীয়রা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সুন্দরপুর ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম আলু চাষের কথা বলে গোয়ালপাড়া মাঠে প্রথমে চার বিঘা চার ফসলি জমি কিনেছেন, পরবর্তীতে আরো প্রায় কুড়ি বিঘা জমি ইজারা নিয়ে প্রায় ত্রিশ বিঘা জমির ওপর কেআরবি ইটভাটা নির্মাণ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, ইটভাটা নির্মাণে বাধা দিলে তাদের মামলা-হামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রফিকুল ইসলাম এই ইটভাটা নির্মাণ করে ফসলী মাঠের সর্বনাশ করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি জমিতে ইট ভাটা গড়ে উঠায় আশপাশের জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত ও পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়েছে। এদিকে ইট তৈরীতে আবাদি জমির টপসয়েল (উপরিভাগের উর্বরা মাটি) ব্যবহার করায় জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। ফলে কৃষকরা ধানের অধিক ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, আবাদযোগ্য জমির টপসয়েল ইটভাটা মালিকেরা স্বল্প দামে কিনে ট্রাকে ভরে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ফসলী জমির উর্বরা শক্তি প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে যার প্রভাব পড়েছে উৎপাদনমূখী ফসলের ওপর। প্রতি বছর আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেয়ায় জমি অপেক্ষাকৃত নিচু হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশক্ষেত্রে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বর্ষায় জমিগুলো আবাদের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ছেবলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে বছরের পর বছর চাষাবাদ করায় ফসলের অবশিষ্ট অংশ পচে এবং সার প্রয়োগের কারণে জমির উপরিভাগে মুল উর্বরা শক্তি বাড়তে থাকে। কিšত্ত জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে জমিতে বিদ্যমান উর্বরা শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। যা ফিরে পেতে অনেক সময় লাগবে। মাটির টপসয়েলের নিচের অংশে চাষাবাদ করলে প্রচুর পরিমানে রাসায়ানিক ও জৈবসার প্রয়োগ করলেও আবার উর্বরা শক্তি ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লাগে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসলি জমিগুলোর উপরিভাগের মাটি টপসয়েল বিক্রি হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, বাধাইড় ইউপির ঝিনাখৈর গ্রামে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাক, ট্রলি ও ট্রাক্টর করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেআরবি ইট ভাটায়। কৃষক নমির আলী জানান, তাঁর এলাকায় কিছু কিছু জমি অনেক উচু তাই অনেকে মাটি বিক্রি করে দেয়। কৃষক আব্দুল জব্বার (৩৩) বলেন, এলাকার অধিকাংশ কৃষকের ধারণা নেই জমির টপসয়েল সম্পর্কে তাই তারা ইট ভাটা মালিকদের প্রলোভনে পড়ে এসব মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিউল ইসলাম বলেন, মাটির উপরিভাগের ৬-৭ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরা শক্তি থাকে। কিšত্ত দুঃখজনক হলেও সত্য দেড় দু’ফুট গভীরে গিয়ে ফসলের জমি থেকে মাটি নেয়া হলে মাটির উর্বরা শক্তি তো থাকবেই না মাটিকে একেবারে ধ্বংস করা হবে। এসব জমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পতিত পড়ে থাকবে অথবা চাষাবাদ করলে অনুর্বর হওয়ার কারণে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না। আবার জমিতে সার প্রয়োগ করে এ ক্ষতি এক দুই বছরে কোনভাবেই পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই। যে টুকু মাটি উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে ততটুকু পলি মাটি দিয়ে ভরাট করলে হয়ত কিছুটা উর্বরা শক্তি ওই জমিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। এ অবস্থায় জমির মালিক ও কৃষকদের সচেতন হতে হবে। এব্যাপারে ইট ভাটার মালিক বলে পরিচিত রফিকুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সারাদেশে যেভাবে ও যেই নিয়মে ইটভাটা চলছে তিনি সেই ভাবে ইটভাটা চালাচ্ছেন এতে সমস্যা কি।#

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কৃষি কর্মকর্তার বাটপারী শৈলকুপায় পেঁয়াজের প্রদর্শনী প্লটে বরাদ্দ বারী-১ জমিতে শোভা পাচ্ছে লাল তীর !

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনোজ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতারণার ...