Breaking News
Home / সাহিত্য / ভিড় বাড়েনি, তবে পাঠক বাড়ছে গ্রন্থমেলায়

ভিড় বাড়েনি, তবে পাঠক বাড়ছে গ্রন্থমেলায়

গ্রন্থমেলা শব্দটি উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকের চমৎকার একটি সমাবেশ চিত্র। যেখানে পণ্যের বদলে লেনদেন হয় শব্দ, গল্প আর গান। আর কথা হয় কবিতায়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বই উৎসবের নাম অমর একুশে গ্রন্থমেলা। দু’দিন আগেই শুরু হয়েছে বাঙালির প্রাণের এ উৎসব। তবে তৃতীয় দিনে এসেও খুব একটা ভিড় বাড়েনি মেলায়। প্রকাশক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মেলায় ভিড় না বাড়লেও বই কেনা পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত।

ঘাসফুল প্রকাশনীর প্রকাশক মাহাদী আনাম জানান, বই মেলায় শুরুতে খুব একটা ভিড় থাকে না। বিক্রিও হয় কম। তবে এবার দর্শনার্থী কম থাকলেও অনেকেই বই কিনছেন। এমনটা গত বছরগুলোতে ঘটেনি বললেই চলে।

মাহাদী জানান, তার প্রকাশনীতে ৭০ শতাংশ বই চলে এসেছে। তবে এখনো কিছু বই ছাপা বাকি রয়ে গেছে। কিছু বই ছাপা হচ্ছে ছাপাখানায়। এবার বড়দের পাশাপাশি ছোটদের বইও ছাপছে প্রকাশনীটি।

দেশ প্রকাশনীর প্রকাশক অচিন্ত চয়ন বলেন, তৃতীয় দিনে এসে বিক্রি বেড়েছে। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে বিক্রির পরিমাণ বেশি বলা যায়।

অচিন্ত চয়ন জানান, এবার স্টল ও মেলার আয়তন বড় হওয়ায় পাঠকরা সহজে চলাফেরা ও কেনাকাটা করতে পারছেন। এবার পাঠকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব কারণেই শুরুতেই মেলায় ক্রেতা পাঠকদের সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে গ্রন্থমেলার আয়তন বৃদ্ধি করায় এবার বইমেলার প্রবেশ করতে ধাক্কাধাক্কি করতে হচ্ছে না। এ কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও সাবলীলভাবে দ্বায়িত্ব পালন করতে পারছে।

বাংলা একাডেমির বইমেলা আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদ আহমেদ বলেন, এবার প্রতিদিনই পনের থেকে বিশ হাজার পাঠক ও দর্শনার্থী মেলায় আসছেন। সামনের দিনে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। সবচেয়ে ভালো দিকটি হলো মেলায় শুরু থেকেই বিক্রি বেড়েছে।

তিনি জানান, এবার প্রতিটি প্যাভিলিয়ন এবং স্টল নির্দিষ্ট দূরত্বে তৈরি করা হয়েছে। মেলায় চলাচলের রাস্তাগুলো করা হয়েছে প্রশস্ত। পাঠকদের বিশ্রামের জন্য বিভিন্ন দিকে বসার জায়গাও তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে পাঠকরা মেলায় ঘুরে ক্লান্ত হচ্ছেন না। বইও কিনতে পারছেন বেশি।

এবারের মেলায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে শিশু চত্বর, পুলিশের কন্ট্রোল রুম, ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম, ব্লাড ব্যাংক, মসজিদ ও ফুড কোর্ট রাখা হয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চ, মিডিয়া সেন্টার, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর বিভিন্ন সংস্থার স্টল। তবে বই বিক্রির স্টল রয়েছে দুই পাশেই। একাডেমিতে লিটল ম্যাগ চত্বরে বিক্রি হচ্ছে কবিতার বই।

এ কারণে গ্রন্থমেলা ২০২০ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মেলায় ঘুরে আসা দর্শনার্থী শফিক আহমেদ। তিনি বলেন, বইমেলাকে এরচেয়েও ভালোভাবে সাজানো সম্ভব, তবে এবার যতটুকু সাজানো হয়েছে তা অনেক সুন্দর। এ ধারাবাহিকতা যেন ধরে রাখা হয়।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নড়াইলে স্বভাব কবি বিপিন সরকারের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী শিল্পীর সমাধিতে পুস্পমাল্য অর্পণ,

উজ্জ্বল রায় নড়াইলঃ নড়াইলে স্বভাব কবি বিপিন সরকারের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ...