Breaking News
Home / রাজশাহীর সংবাদ / তানোর আওয়ামী লীগে রাব্বানীর প্রয়োজন কি শেষ ?

তানোর আওয়ামী লীগে রাব্বানীর প্রয়োজন কি শেষ ?

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (দায়িত্বহীন), মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র ও এমপি মনোয়ন প্রত্যাশী গোলাম রাব্বানী এখন নিজ ঘরেই পরবাসি বা ‘বাঁবুই ভেঁজা’ (সবকিছু থেকেও নাই) হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও তার প্রয়োজন প্রায় ফুরিয়ে গেছে বলে মনে করছে তৃণমূল। রাজশাহী অঞ্চলে সেই কথিত তিনপ্রজন্মের জনপ্রতিনিধি ও প্রায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে চলছে চরম দূর্দীন দেখা দিয়েছে শনির দশা বলে অভিমত তৃণমূলের। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের এক বিপদগামী নেতার প্ররোচনায় গোলাম রাব্বানী এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এক সময় মাঠে নগদ নারায়ন (টাকা) ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা মোহ সৃষ্টি করে ছিলেন। কিšত্ত যেই টাকা ছিটানো বন্ধ অমনি মোহের হাটে ধ্বস মোহ আর বাস্তব পরস্পরবিরোধী বিষয় সবকিছু হারিয়ে সেটা এখন তিনি হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছেন। তৃণমূলের ভাষ্য, তার পরিকল্পনা ছিল নির্বাচনের মৌসুমে মনোনয়ন প্রত্যাশী দাবি করে কিছু টাকা-পয়সা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি মোহ সৃষ্টি করে এমপি ফারুক চৌধূরীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলেই তাকে দ্বিগুন মূল্য দিয়ে কাছে টানবে। অথচ জেলা আওয়ামী লীগের বিপদগামী নেতার কথায় তিনি এই স্বপ্ন পূরুণ করতে গিয়ে রাজা-রাজকন্যা দুটিই হারিয়ে রীতিমত বনবাসী হয়ে পড়েছে। এদিকে এমপি নির্বাচনের দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এমপি ফারুক চৌধূরী তাকে কাছে না টানায় তাঁর সেই স্বপ্ন ও পরিকল্পনা উবে গেছে। একদিকে হাতে নগদ নারায়ন না থাকায় তিনি না পারছেন এলাকায় অবস্থান করতে, না পারছেন রাজনীতির মাঠে নামতে, অন্যদিকে এমপিও তাকে না ডাকায় পারছেন না এমপির কাছে যেতে, অর্থাৎ সবকিছু হারিয়ে এখন তিনি নিজ ঘরে পরবাসি বা ‘বাঁবুই ভেঁজা’ হয়ে পড়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধূরীর বিরোধীতা করে মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গোলাম রাব্বানী প্রায় একা হয়ে পড়েছে দলের আদর্শিক সিনিয়র নেতারা অনেক আগেই তাকে ত্যাগ করেছে পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে চরম ঝুঁকির মূখে পড়েছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার প্রায় দীর্ঘ একদশকের একচ্ছত্র আধিপত্যর অবসান হয়েছে। সবকিছু মিলে তিনি চরম বেকায়দায় বাঁবুই ভেঁজা হয়ে পড়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে তাকে অপসারণের জন্য তৃণমূলে জোর দাবী উঠেছে আওয়ামী লীগে টিকে থাকায় এখন তার কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে সংগঠন পরিপন্থী (বিরোধী) কর্মকান্ডের অভিযোগে তৃণমূলের দাবির প্রেক্ষিতে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাদেকুন নবী বাবু চৌধূরীকে (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, চাকরি দেয়ার নামে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েও চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে এসব টাকা তাদের ফেরত সা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে এসব এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এসব মানুষের অন্যতম পাড়িশো গ্রামের বাবু ৬ লাখ ও কচুয়া গ্রামের সোনা কাজি ৬ লাখ টাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেও সেই টাকা পাচ্ছেন না বলে গুঞ্জন বইছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মুন্ডুমালা পৌরসভায় হাট ইজারা, এডিপি ও জলবায়ু প্রকল্পের প্রায় কয়েক কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণ। অন্যদিকে পৌরসভার প্রায় দুই বছরের বিদ্যুৎ বিল কয়েক লাখ টাকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় ৮ মাসের বেতন বিল বকেয়া রয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে পৌরসভার কাউন্সিলরগণ মেয়র গোলাম রাব্বানীর বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরে দূর্নীতি দমন কমিশনে (দুদুক) লিখিত অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাংসদ ওমর ফারুক চৌধূরী তার একক ক্ষমতা বলে নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে গোলাম রাব্বানীকে দু’বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দু’বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছেন যদিও দু’বারই তার পরাজয় ঘটেছে এবং দু’বার মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে এবং তিনি নিজেও সর্বশক্তি নিয়োগ করে মেয়র হিসেবে বিজয়ী করে এনেছেন। অথচ এতো কিছুর পরেও এমপি ফারুকের বিরোধীতা করে গোলাম রাব্বানী নিজেই সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সম্ভবনাময় গোছানো মাঠ নস্টের তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছিল, আবার জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজও করেছিল। এদিকে মনোনয়ন যে কেউ চাইতেই পারেন কিšত্ত মনোনয়ন চাওয়া আর নির্বাচনের মাঠে দলীয় এমপিদের বিরুদ্ধে পৃথক বলয় সৃষ্টির নামে মিথ্যা অপপ্রচার, বিষোদাগার ইত্যাদির মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের বি-টিম হয়ে কাজ করা এক কথা নয়। আদর্শ-নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দল, নেতা ও নেতৃত্বের সঙ্গে বেঈমানী করে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি নিজেই ধরাশয়ী হয়েছেন বলে মনে করছে তৃণমূল। তৃণমূলের ভাষ্য, এমপি ফারুক চৌধূরী ছিল জেলার সভাপতি ও সাংসদ ফলে রাজশাহীতে তিনি তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিনিধি ছিলেন তাহলে যিনি এমপি ফারুক চৌধূরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করেছে তিনি তো প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং দলের সভাপতির বিরুদ্ধেই অপপ্রচার করেছিল তাই আওয়ামী লীগে এমন নেতার স্থান নাই। তৃণমূলের অভিযোগ,যেই নেতা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে তানোর উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না সেই নেতা কি ভাবে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হবে-? কারণ গোদাগাড়ী উপজেলায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় তানোরের প্রায় দ্বিগুন, আসলে গোলাম রাব্বানী এমপি ফারুকের বিরোধীতা করতে গিয়ে ও তাকে ঠেকাতে বিশেষ মহলের নেপথ্যে মদদে জামায়াত-বিএনপির বি-টিম হয়ে কাজ করছে। আর বিষয়টি উপলব্ধী করার পর পরই তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্ট করা হলেও গোলাম রাব্বানীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তানোরে এতিমদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি রাজশাহীর তানোরে বাঙালি জাতির জনক ও মহান স্বাধীনতার স্থপত্তি ...