Breaking News
Home / অপরাধ / গাইবান্ধায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

গাইবান্ধায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা শহরের ফকিরপাড়া হযরত শাহ বাঙ্গাল (র:) হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল্লাহ এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকার করেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে উল্টো তার বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। বলাৎকারের স্বীকার ছাত্রের পিতা আবুল কালাম আজাদ গতকাল রবিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দোষী ব্যক্তির শাস্তি দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন ছেলে জোনায়েদ আনাম হযরত শাহ বাঙ্গাল (র:) হাফিজিয়া কওমী মাদ্রাসার কিতাব বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় গত বছরের ১২ আগস্ট রাতের বেলায় শিক্ষক আব্দুল্লাহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বলাৎকার করে। পরে নির্যাতিত ছাত্র মাদ্রাসার সুপার ও কমিটির কয়েকজন সদস্যের কাছে শিক্ষক আব্দুল্লাহ এর বিচার দাবি করে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বিচার না পেয়ে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জুনায়েদ আনামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তাকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জোর করে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ এর নির্দেশে তার বন্ধু মাওলানা ইলিয়াছ জুনায়েদ আনামকে শারীরিক নির্যাতন করে। ওই ছাত্রের বাম কানে থাপ্পর মারার কারণে সে গুরুতর আহত হয় ও সে কানে কম শুনতে পায়। এখনও তার চিকিৎসা চলছে। এক শালিসে মাওলানা ইলিয়াস তাকে থাপ্পর মারার কথা স্বীকার করে। সেসময় কয়েকজন ছাত্র বৈঠকে ঘটনার সাক্ষী দিলে মাদ্রাসার সুপার জোবায়ের আহম্মেদ তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে জঙ্গি বানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। এ বলাৎকারের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিথ্যা, ভিত্তিহীন বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জোনায়েদ আনামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয় এবং তার কাছে গোপনে জামাতি টুপি জঙ্গিবাদী বই পুস্তুক রেখে তাকে জঙ্গি প্রমাণের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, বলাৎকারের ঘটনায় মাদ্রাসা সুপারের উপস্থিতিতে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে একটি শালিস বৈঠক হয়। সে বৈঠকে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ স¤পাদক হুমায়ুন ইকবাল অনুপস্থিত থাকলেও তাকে চাঁদাবাজির মামলার সাক্ষী করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মাদ্রাসার সুপার জোবায়ের আহম্মেদের বিরুদ্ধেও একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে জিল্লুর রহমান আহবায়ক, ইমদাদুল হক, নজরুল ইসলাম, মনোয়ারুল হক, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াহেদ ও ওমর ফারুক সেলুকে সদস্য করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করে বলাৎকারের অভিযোগের সত্যতা পায় এবং কুরআন সুন্নাহর আলোকে বিধি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির কাছে প্রদত্ত তদন্ত রিপোটে সুপারিশ করে। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পার্লারের আড়ালে দেহব্যবসা, খদ্দের সেজে পুলিশের অভিযান

দীর্ঘদিন ধরে পার্লারে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। আর সেটা ধরতেই খদ্দের সেজে ম্যাসাজ ...