Breaking News
Home / Uncategorized / মানুষের রক্তে গোসল করা এই নারী কোলের শিশুকেও ছাড়েননি

মানুষের রক্তে গোসল করা এই নারী কোলের শিশুকেও ছাড়েননি

কলঙ্কিত এক নারী। তার নিষ্ঠুরতার হাত থেকে বাদ যায়নি দুধের শিশুটিও। জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হত ছোট্ট সেই শিশুকে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করেই মজা লুটতেন বর্বরতম এই নারী। রানী হয়েও রাজ্যবাসীর রক্ষক না হয়ে তিনি ছিলেন ভক্ষক। তার ভয়ে কাঁপত গোটা মস্কোবাসী। আজো ইতিহাসে এক সিরিয়াল কিলার হিসেবে তার পরিচিতি।

দারিয়া সাল্টিকোভা

দারিয়া সাল্টিকোভা

বলছি, দারিয়া সাল্টিকোভা নামক নারীর কথা। যিনি মানুষকে হত্যা করে বড়ই আনন্দ পেতেন। মৃত্যু যন্ত্রণায় যখন সবাই কাতরাতো এই নারী তখন আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠতেন। ক্রীতদাসদের কাউকে ফুটন্ত তেলের মধ্যে ছেড়ে দিতেন আবার কাউকে গরম পানিতে। রাশিয়ার এক উচ্চ বংশীয় নারী ছিলেন তিনি। প্রথম পর্বে নিশ্চয় তার সম্পর্কে জেনেছেন! আজ থাকছে এই নারী কীভাবে এমন নিষ্ঠুর প্রকৃতির হয়ে উঠেছিলেন সেই রহস্য…

ক্রিতদাসদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে

ক্রিতদাসদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে

নারী ও শিশুদের প্রতি সাল্টিকোভার নির্যাতন চরম সীমা লঙ্ঘন করে। তবু তিনি হাঁপিয়ে উঠতেন না। কিশোরীদের একটি ঘরে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন করে অভুক্ত অবস্থায় মারা হত। পাশাপাশি ফুটন্ত পানিতে নিক্ষেপ বা আগুনেও পোড়ানো হত। এমনকি প্রচণ্ড শীতের মধ্যে তাদেরকে নগ্ন অবস্থায় রাখা হত। এভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করতে গিয়ে সেসব কিশোরীদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটত।

প্রেমিক চলে যাওয়াতে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন

প্রেমিক চলে যাওয়াতে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন

যদিও এ বিষয়ে দারিয়া সাল্টিকোভার অভিমত ছিল, অসাবধানতাবশত তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিজের অন্তরের জ্বালা মেটাতে তিনি সুন্দরী নারী কিংবা কিশোরীদেরকে এভাবেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতেন। কারণ তিনি ব্যক্তিজীবনে সুখী ছিলেন না। অতীতে তিনিও একজন প্রেমপিয়াসী রমণী ছিলেন। অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারিণী ছিলেন। সাল্টিকোভার সেই কোমল মনকে কঠিন করে দিয়েছিল তারই প্রেমিক!

রাগে ও ক্ষোভে ফেটে পড়তেন তিনি

রাগে ও ক্ষোভে ফেটে পড়তেন তিনি

১৭৬২ সালের দিকে সাল্টিকোভার প্রেমিক নিকোলাই টুচেভ তার সঙ্গে প্রতারণা করেন। সে অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকেই বিয়ে করেন। এরপর রাগে ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন রানী। যদিও সে তার ক্রীতদাসদের দিয়ে প্রেমিক ও তার স্ত্রীর বাড়িতে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে তার সে বাসনা পূরণ না হওয়ায় তিনি হাজারো নারী ও যুবকদের প্রাণ নিতে থাকেন। যে কোনো কারণেই সাল্টিকোভার নিষ্ঠুর হয়ে উঠতেন। ক্রিতদাসীদের ঘর পরিষ্কার বা রান্না করা ইত্যাদি যদি তার পছন্দ না হত ততক্ষণাৎই তাদের পিঠে চাবুক পড়ত। অন্যদের শারীরিক লাঞ্ছনা উপভোগ করতেন এই নারী।

এভাবেই মানুষকে হত্যা করে ফেলে দেয়া হত

এভাবেই মানুষকে হত্যা করে ফেলে দেয়া হত

এই হত্যাযজ্ঞের ইতি টানার সময় এলো…সাল্টিকোভার প্রাসাদটি যে রক্তে রঙিন হচ্ছিলো এই খবর কিন্তু পাঁচ কান হতে দেরি হয়নি। তবুও এভাবেই কেটে যায় ছয়টি বছর। অবশেষে তার রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে সাল্টিকোভার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। তবে প্রমাণের অভাব ছিল। কারণ কারো সাহস ছিল না এই নারীর বিরুদ্ধে গিয়ে সাক্ষ্য দেয়ার। শেষমেষ ৩৮ জন নারীকে হত্যার দায় এড়াতে পারেননি সাল্টিকোভা। মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে সাল্টিকোভাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী করে রাখা হয় সাল্টিকোভাকে।

সাল্টিকোভার নির্যাতনের নমুনা

সাল্টিকোভার নির্যাতনের নমুনা

সেই ঘরে একটি জানালাও ছিল না। তাই দীর্ঘকাল তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকারে বাস করেছিলেন। ২৪ ঘণ্টা প্রহরীরা তাকে পাহাড়া দিতেন। শুধু খাবারের সময় একটু মোমের আলো পেতেন তিনি। খাবারের মেন্যু শুনলেও হড়কে যাবেন! শুধু লবণ মাখানো ভাত পেতেন তিনি। এই ঘরেই তার পরবর্তী ১১ বছর কেটেছিল।  তাকে যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানকার নাম মস্কো ক্লিস্টার। এটি এমন এক কুখ্যাত স্থান ছিল যেখানে অভিজাত বংশের নারীরাই বিভিন্ন অপরাধের কারণে বন্দী ছিলেন।

মৃত্যুর পূর্বে কঠিন সময় পার করেন তিনি

মৃত্যুর পূর্বে কঠিন সময় পার করেন তিনি

১১ বছর পর, ১৭৭৯ সালে, সাল্টিকোভাকে অন্য একটি ভবনে স্থানান্তরিত করা হয়। ততদিনে সাল্টিকোভা প্রায় উন্মাদে পরিণত হয়েছিলেন। কারণ তিনি দীর্ঘদিন বাইরের আলো পর্যন্ত দেখেননি। তার এবারের ঘরে অবশ্য একটি জানালা রাখা হয়েছিল। তবে এটি খুলে দিলে সাল্টিকোভা সামনে কাউকে দেখলেই থুতু দিতেন, বকতেন কিংবা হাতের কাছে কিছু থাকলেই তা ছুঁড়ে মারতেন। এভাবেই ৩৩ বছর কারাবাস ভোগ করেন সাল্টিকোভা। ১৮০১ সালের ২ নভেম্বর ৭১ বছর বয়সে কারাবাসে থাকা অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।সূত্র: অলদ্যাটসইন্টারেস্টিং/রাশিয়াপিডিয়াডটআরটি

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দেশের দুই বিভাগে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

টানা সাতদিন ধরে সারাদেশে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী তিন দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ...