Breaking News
Home / Uncategorized / মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। ১৯৫২ সালের এ দিনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ অনেকে আত্মাহুতি দিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বাংলাকে পথ চলার সম্বল করে বাধা পেরোনোর শপথের দিন আজ। দিনটি বাঙালি জাতির জন্য একই সঙ্গে শোক ও গৌরবের। কেবল বাঙালির নয়, দিবসটি বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষের। তাই বাঙালিসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ সেই শহীদদের আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। দিবসের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর একে একে সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশ বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি, ভাষা সংগ্রামী, মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা সিটির দুই মেয়র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রোভিসি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান।

রাত সাড়ে ১২টার পর শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আজ সারা দিন বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে খালি পায়ে সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।

একুশ বাঙালির চেতনায় সদা জাগ্রত। আজ তাই সব পথ মিশে গেছে শহীদ মিনারের বেদিতে। শুধু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নয়, দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সব শহীদ মিনারে ফুলেল ভালোবাসা জানিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে ভাষা শহীদদের। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

অমর একুশে পালন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ।

আজ জাতীয় ছুটির দিন। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনগুলো জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

দিবসটি উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়াও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় জাদুঘর, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, শিশু একাডেমিসহ অন্য প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Please follow and like us:
error

About jahir

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফেসবুক থেকে এই জাতীয় কোনো মেইল এলে সতর্ক থাকুন!

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : ফেসবুক থেকে কোনো মেল এলে সতর্ক থাকুন। ইনবক্সে ঢুকেই ...