বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১১:২৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
পটুয়াখালীতে প্রস্তাবিত পটুয়াখালী ইপিজেড ও ইনভেস্টরস ক্লাবের অগ্রগতির পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত।  বিশ্ব ঐতিহ্য বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন ঘুরে আসুন জীববৈচিত্র্য উপভোগ করতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত। আইনমন্ত্রী, আপনি বাপের ‘কুলাঙ্গার সন্তান’: ডা. জাফরুল্লাহ মাদ্রাসা প্রধানদের জন্য সুখবর প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি শুরু হাজারবার কুরআন খতমকারী আলী আর নেই তানোরে আওয়ামী লীগ মুখোমুখি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়ে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল দিনাজপুর বিরামপুর পৌরসভায় ১১ মাসপর বেতন পেলেন কর্মকর্তা ও কর্মচারী গণ করোনার টিকা নিলেন মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রী রাজনীতিতে সামনে আরও খেলা আছে ইসিকে অপদস্ত করতে সবই করছেন মাহবুব তালুকদার: সিইসি ৪ অতিরিক্ত সচিবের দফতর বদল এ সংক্রান্ত আদেশ জারি রাজারহাটে কৃষক গ্রুপের মাঝে কৃষিযন্ত্র বিতরণ

দুমকিতে ঔষধ কোম্পানী প্রতিনিধিদের ভীরে ব্যহত চিকিৎসা সেবা, দূর্ভোগে রোগীরা!

মো. সুমন মৃধা দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে কর্তৃপক্ষের বিধি নিষেধ অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর সেলস-রিপ্রেজেনটেটিভদের অনাকাঙ্খিত জটলার কারনে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে বিঘিœত হচ্ছে। সরকারী অফিস সময়ের বেশীর ভাগ (সকাল ৯-৫টা) কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চেম্বার রিপ্রেজেন্টেটিভদের দখলে থাকায় চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী সাধারণ রুগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা বাইরে অপেক্ষার বিড়ম্বনায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে ।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, দুমকি উপজেলা হাসপাতালে রোগীর চেয়ে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভীর অনেক বেশী। হাসপাতালের কড়িডোর, কর্তব্যরত চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের জটলা। আউটডোরে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদুর রহমান চেম্বারে রুগী দেখছেন। সামনে বসে আছেন দু’জন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। রোগীদের বসার সীট দখল করে বসে থাকে রিপ্রেজেন্টেটিভ গেটে দাড়িয়ে হাসাপালের একজন কর্মচারী রুগীদের ভীর সামলাচ্ছেন। ভিড়ে বৃদ্ধ, শিশু ও মহিলা রোগীরা রীতিমতো নাকাল হচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে কেউ ডাক্তারের চিকিৎসা পত্র নিয়ে বের হলেই ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ছোঁ-মেরে প্রেসক্রিপশন নিয়ে যান-চলে ফটোসেসন। প্রেসক্রিপশনে কি কি ঔষধ দিয়েছে, তাতে নিজ কোম্পানির প্রেডাক্ট আছে কিনা তার প্রমাণ পেতে রীতিমতো প্রতিনিধিদের কাড়াকাড়ি লেগে যায়। এতে উটকো বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন রুগী ও তাদের স্বজনরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে বহির্বিভাগ খোলা থাকা পর্যন্ত রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভিড় লেগে থাকে। ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়ে রোগীরা বেরিয়ে এলেই প্রেসক্রিপশন দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন কোম্পানির লোকেরা। প্রতিদিন সকাল ১০টার সময় ডাক্তারের চেম্বারে ভিজিট শুরু করে রিপ্রেজেন্টেটিভরা। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা এবং হয়রানীর শিকার হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনরা। নিয়মানুযায়ী সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রিপ্রেজেনটেটিভদের হাসপাতালে প্রবেশ নিষেধ থাকলেও তারা নিয়ম অমান্য করে সকাল থেকেই প্রতিদিন হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে ও হাসপাতালে প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে শুরু করে। এ ছাড়াও হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে রোগীদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে তাদের কোম্পানির ওষুধ লেখা আছে কি না তা দেখতে রোগীদের ওপর প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়েন তারা। বহি:বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা জলিশা গ্রামের বাসিন্দা মোসাম্মাৎ আলেয়া বেগম (৫৬) বলেন, সকাল ১০টায় হাসপাতালে আসলেও ভীরের কারনে ডাক্তারের রুমে ঢুকতে দেয়নি। প্রায় ২ঘন্টা বসে থেকে ডাক্তার দেখানোর পরে কোম্পানীর লোকেরা প্রেসক্রিপশন নিয়ে বিভিন্ন জনে ছবি তোলায় আরও ৩০মিনিট দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আলেয়া বেগমের মতো উপস্থিত অন্যান্য কয়েকজন রুগী ও তাদের স্বজনদেরও অভিযোগ একই। রুগীর সাথে আসা কলেজ ছাত্রী মনিরা আক্তার বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, অফিস সময়ে রিপ্রেজেন্টেটিভদের চেম্বার ভিজিটের অনুমতি দেয়ায় সাধারণ রুগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এটি বন্ধ হওয়া দরকার।
মো. ফোরকান আহম্মেদ, মো. মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন রিপ্রেজেনটেটিভ জানান, আমরা এভাবে রুগী বা রুগীর আত্বীয়-স্বজনদের ভোগান্তী দিতে চাই না। চিকিৎসক আমাদের ঔষধ লিখলো কি না সেটার বাস্তব প্রমান কোম্পানীকে দেখানোর নির্দেশনার কারনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফটো তুলতে হয়। আর এই ফটো কোম্পানীতে না পাঠালে মাসিক সভায় বসদের গাল-মন্দ খেতে হয়। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন বলেন, চেম্বার ভিজিটের সময় নির্ধারণ করা থাকলেও সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভরা বেশীর ভাগই সেটা মানছে না। সুযোগ পেলেই তারা ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকে পড়ছে। এ ব্যপারে হাসপাতালের সকল চিকিৎসককে নির্ধারিত ভিজিট সময় মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এব্যাপারে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, সকালে কোন ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ হাসপাতাল চত্বরে ফটো সেশন বা ডাক্তারের চেম্বারে ভিজিট করতে পারবে না। নিয়মানুযায়ী সপ্তাহে দুদিন বা হাসপাতালের র্নিধারিত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের সাথে ভিজিট করতে হবে। সকালে ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতে পারবে না। কেউ প্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38347112
Users Today : 2615
Users Yesterday : 2774
Views Today : 15492
Who's Online : 40

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/