রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বাশঁখালীতে যুবতীর ভাসমান লাশ উদ্ধার ‘ফিরতিযাত্রা’ নির্বিঘ্ন করার উপায় খুঁজছে সরকার গাজায় হত্যাযজ্ঞ নেতানিয়াহুকে ফোন করে সমর্থনের কথা জানালেন বাইডেন ঈদের দিন বায়তুল মোকাররমে ফিলিস্তিনি যুবকের বক্তব্য ভাইরাল (ভিডিও) অতিরিক্ত মদপানে রুমার মৃত্যু, ধারণা পুলিশের হেফাজতের নতুন আহ্বায়ক কমিটি জিডি ও এজহারের মধ্যে পার্থক্য জানেন কি? জুনের আগে মিলছে না নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স কারাগারে যেভাবে দিন কাটছে সেই ঐশীর বাংলাদেশে করোনা ২৪ ঘন্টায় আরও কমল মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১ ডোমারে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা শিবগঞ্জে বন্ধন-৯৮ এর ঈদ পূনর্মিলনী তথাকথিত ধর্ম ও সমাজতান্ত্রিকরা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর : মোমিন মেহেদী নওগাঁর মহাদেবপুরে এমপির সাথে নবগঠিত ডিজিটাল প্রেসক্লাবের সদস্যদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কমিটি হস্তান্তর পল্লবীতে পুলিশ কর্তৃক সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীকে হয়রানী।

অতিরিক্ত সচিবের চিকিৎসক মেয়ের আক্ষেপ ‘বাবা চিকিৎসা না পেয়েই মারা গেলেন’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রয়াত গৌতম আইচ সরকার কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন অনেকদিন ধরেই, করোনাভাইরাস সঙ্কটের এই সময়ে তা তীব্র হয়ে ওঠলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন গৌতম আইচ। তার চিকিৎসার জন্য একাধিক হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে তার পরিবারকে।

অন্য কোনো হাসপাতালে না পেরে শেষে বৃহস্পতিবার কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এই সরকারি কর্মকর্তাকে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হবার আগেই গৌতম আইচ মারা যান।

অসুস্থ বাবার চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের এই বিড়ম্বনার কথা জানালেন গৌতম আইচের মেয়ে সুস্মিতা আইচ । তিনি নিজেও একজন চিকিৎসক। সরকার ৩৩৩ হটলাইন নম্বর থেকে যে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করছেন সুস্মিতা।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর কোনো উপসর্গ না থাকলেও অন্য কোনো উপায় না পেয়ে অনেক কষ্টে বাবাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই।

নিজের আক্ষেপ জানিয়ে ডা. সুস্মিতা আইচ বলেন, বাবার আইসিইউ সাপোর্টটা খুব দরকার ছিল, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। বাবার চিকিৎসাই হল না, তিনি মারা গেলেন। আমি ডাক্তার হয়েও কিছু করতে পারলাম না।

গৌতম আইচ দীর্ঘদিন ধরে কিডনির নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ডা. সুস্মিতা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কিনা, তা জানার চেষ্টাও করা হয়নি।

কুর্মিটোলা ভর্তির আগে বাবার চিকিৎসা নিয়ে বিড়ম্বনার কথা জানিয়ে সুস্মিতা আইচ বলেন, আমাদের আশপাশে এমন কোনো হাসাপাতাল নেই যেখানে ভর্তি করানোর চেষ্টা করিনি। বাবাকে ল্যাবএইডে ভর্তি করাতে বলি। তখন তারা বলে, তাদের কনসালটেন্ট নেই, ভর্তি রাখতে পারবে না। এরপর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারাও ভর্তি না নিয়ে স্কয়ারে নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্কয়ার বলে, আমাদের পক্ষে ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয়, আমরা টেস্ট বন্ধ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, স্কয়ার থেকে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে নিয়ে আসি, কিন্তু তারা পেশেন্টকে দেখেইনি, চেকও করেনি। তাদের রোগী ভর্তিই বন্ধ। ই উনাইটেড হাসপাতালও ভর্তি নেয়নি।পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে যাই। তারা বলে, এই পেশেন্টকে কার্ডিয়াক সাপোর্ট দেওয়া দরকার, কিডনির পেশেন্ট যেহেতু। আমাদের এই সাপোর্ট শুরু হয়নি, আমরা পারব না।

ডা. সুস্মিতা আইচ বলেন, সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী কার্ডিয়াকে যাই। তারা রাখতে পারবে না বলে জানায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কথা বলি, তারাও বলে, এই মুহূর্তে ভর্তি নেওয়া সম্ভব না। আমি মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালেও গিয়েছি।

সব হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি করাতে ব্যর্থ হয়ে বাবাকে নিয়ে যখন বাসায় বসে আছেন, তখন তাদের এক আত্মীয় অনেক চেষ্টার পর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একটা ‘সিট ম্যানেজ’ হওয়ার খবর জানান।

সুস্মিতা বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে আমাদের একজন রিলেটিভ একটা রেফারেন্সে কুর্মিটোলায় একটা জেনারেল বেডের অ্যারেঞ্জ করেন। বাবার অক্সিজেনের খুব বেশি দরকার হওয়ায় তার কোভিড-১৯ এর কোনো উপসর্গ না থাকলেও তাকে ওই হাসপাতালে নিযে যাই। বাবাকে আলাদা কেবিনে রাখা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বাবার অক্সিজেন ফল করতে শুরু করল। যে বেডে তাকে রাখা হয়েছিল সেখানে কোনো সরকারি ডাক্তার যায়নি। তারা আমাকে ওষুধ বুঝিয়ে দেয়, আমিই ওষুধ খাওয়াচ্ছি, আমার ভাই অক্সিজেন দিচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, শুক্রবার সকালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাবেন। আমরাও সেটাই চাইছিলাম। কোভিড-১৯ এর রিপোর্টটা পেলে সেই অনুযায়ী আমরা অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, প্রয়োজনে ভালো কোনো বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতাম। কিন্তু শুক্রবার সারা দিন তারা টেস্টই করায়নি। বাবা মারা যাওয়ার পর তারা বলছে, আগেই নমুনা নেওয়া দরকার ছিল। আমরা বললাম, এখন নিয়ে নেন। আমরা এখনো করাতে চাই।

বাবার শারীরিক সম্পর্কে নিজের অভিম তজানিয়ে ডানিয়ে সুস্মিতা বলেন, আমি ডাক্তার হিসেবে মনে করি, বাবার কোভিড-১৯ এর কোনো উপসর্গ ছিল না। ডায়ালাইসিসের সময় তার আগেও এমন হয়েছে। এই অবস্থায় হাসপাতালগুলো চাইলেই তাকে ভর্তি নিতে পারত। কোভিড-১৯ সন্দেহ হলে প্রয়োজনে আইসোলেশনে রাখতে পারত, কিন্তু কেউ সেটা করেনি।

ডা. সুস্মিতা আইচ নিজের মানসিক কষ্টের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে একজন ডাক্তার হিসেবে আমি জানতাম বাবার কী হয়েছে, কিন্তু আমি কোথাও তাকে আইসিইউ সাপের্টে নিতে পারলাম না। তার একটা আইসিইউ সাপোর্ট হলেই হত, আমি তার হিস্ট্রিটা খুব ভালোমতোই জানতাম।

Please Share This Post in Your Social Media

https://twitter.com/WDeshersangbad


বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

বঙ্গবন্ধু কাতরকণ্ঠে বলেন, মারাত্মক বিপর্যয়

© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone