রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
শিক্ষকের বাসা থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার ঝর্ণার সন্ধান পাচ্ছেন না গোয়েন্দারা কঠোর লকডাউন: বন্ধ হতে পারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন স্বামী ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য করতে গিয়ে মরতে বসেছিলেন সজল-নওশাবা বাংলাদেশি ভেবে ভারতীয় যুবককে গুলি করলো বিএসএফ করোনায় সাভার মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর মৃত্যু আইপিএলে কোহলি-ধোনিরা ভালো খেললেই হবে ডোপ পরীক্ষা লাইফ সাপোর্টে সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ বরের উচ্চতা ৪০ ইঞ্চি কনের ৪২ সাংবাদিক সুমনকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের ৩ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ ! রাজারাহাটে  ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের ত্রাণ বিতরণ নেত্রকোণায় শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িত তিন অটোরিকশা চালক ক্রমাগত বাড়তে থাকা ভোজ্য তেলে কর প্রত্যাহার দেশের বরেণ্য ৪ তারকা আইসিইউতে

অবসরে যাচ্ছেন যে ১৫ সচিব

সচিব পর্যায়ের ১৬ কর্মকর্তাসহ দেড় শতাধিক কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রয়েছেন বর্তমান প্রশাসনে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশাসনের কমবেশি ১৫ জন সচিব অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় যোগ্যতা, দক্ষতা বিবেচনায় এ তালিকার কেউ কেউ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে পারেন। কিংবা পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের দিয়ে এসব পদ পূরণ করা হতে পারে। এসব নিয়েই জল্পনা-কল্পনা চলছে প্রশাসনপাড়ায়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ, খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. রইছউল আলম মণ্ডল, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব মো. কামাল উদ্দিন তালুকদারের স্বাভাবিক অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

একই সময়ের মধ্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব রৌনক জাহান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. সামছুর রহমান, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব ওএন সিদ্দিকা খানম, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) জ্যোতির্ময় দত্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস অবসরে যাবেন।

এসব পদ খালি হলে সেখানে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তারাই নিয়োগ পাবেন- এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ব্যক্তিগত ক্যারিশমার কারণে সরকারের গুডবুকে থাকা কেউ কেউ চুক্তিতে নিয়োগ পেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ রোববার নিজ দফতরে বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এবং জনসেবা নিরবচ্ছিন্ন যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। যা অতীতেও হয়ে এসেছে, এটা অন্যায় কিছু না। তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয় না।

জানা গেছে, বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও দূতাবাস মিলিয়ে ১৬২ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে চাকরি করছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন সচিব রয়েছেন, যারা অবসরে যাওয়ার পরও চুক্তিতে আছেন। এর বাইরেও শতাধিক সরকারি কর্মচারী রয়েছেন চুক্তিভিত্তিক। বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কোনো নীতিমালা নেই। তবে যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পছন্দের কিছু কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। অতীতেও এ ধরনের নিয়োগ হয়েছে।

তবে এ কথাও সত্য যে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে উপরের দিকে পদ ব্লক হয়ে যাচ্ছে। নিচের দিকে থাকা কর্মকর্তারা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত পদে পদোন্নতি পেয়ে দায়িত্ব নিতে পারছেন না।

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান মঙ্গলবার বলেন, কিছু বিশেষায়িত পদ ছাড়া কোথাও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিপক্ষে আমি। কারণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে যারা পরবর্তী সময়ে ওইসব পদে যাওয়ার যোগ্য তারা হতাশ হন। তাদের পদোন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ, হতাশা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এতে প্রশাসনিক কাজের গতি ব্যাহত হয়।

চলমান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করে ২০১৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য নীতিমালা করার তাগিদ দিয়ে মুহিত বলেছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স বাড়ানো হয়েছে।

এ কারণে তাদের চুক্তিভিত্তিক চাকরি পরিহার করতে হবে। আগে তারা ৫৭ বছরেই চাকরি থেকে অবসরে যেতেন। ২০১১ সালে সেটা বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়েছে। তারপরও কেন তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে হবে। সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে হয়। এ কারণে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছিলেন এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা করার। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব ‘নথিজাত’ করে রেখেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সর্বশেষ পে-কমিশনের সুপারিশেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ওই সময় কিছুটা কমেছিল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। সরকারের গত মেয়াদে (২০১৪-১৮) প্রশাসনে সচিব পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ছিল ৩৬টি। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৪টি, ২০১৫ সালে ৭টি, ২০১৬ ও ১৭ সালে ৯টি করে এবং ২০১৮ সালে ৭টি। অথচ বর্তমান মেয়াদের ৮ মাসেই এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। (যুগান্তর)

Please Share This Post in Your Social Media

দেশের সংবাদ নিউজ পোটালের সেকেনটের ভিজিটর

38441541
Users Today : 1017
Users Yesterday : 1570
Views Today : 11286
Who's Online : 39
© All rights reserved © 2011 deshersangbad.com/
Design And Developed By Freelancer Zone