আশার আলো দেখছেন ইমরান সমর্থিত প্রার্থীরা

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে আরও এগিয়ে গেল কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল। এরপরে রয়েছে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল। মূলত তিন দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে।

পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ঘোষিত ১৪৮ আসনের মধ্যে ৬১টিতে জয়ী হয়েছেন ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পিএমএল-এন পেয়েছে ৪৩ আসন। আর পিপিপি পেয়েছে ৩৮ আসন। এছাড়া এমকিউএম ৪টি, জেইউআই (পি) একটি ও পিএমএল একটি আসনে জয় পেয়েছে। এবার আইনি প্রতিবন্ধকতার কারণে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছে ইমরানের সমর্থকরা।

পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। নির্বাচনের আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক প্রার্থী নিহত হওয়ায় একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাপক কারচুপির অভিযোগের মধ্যে মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে ২৬৫ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর শুরু হয় ফল ঘোষণা। দীর্ঘ এই সময় ধরে ফল আটকে রাখায় ও স্পষ্ট করে কিছু না বলায় ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নানা দিক থেকে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের ফল ঘোষণায় এমন দেরি অস্বাভাবিক।

দেশটির বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ইমরান খানকে কারাগারে বন্দি রেখে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছিল লাগামহীন। ইমরান এবং পিটিআই পার্টির ওপর সামরিক বাহিনীর নিপীড়নের কারণে কেন্দ্রে কম ভোটার উপস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনে ভোটার ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ।

 

ভোটে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সবচেয়ে বেশি আসন জিতবে বলে  ধারণা করেছিলেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ৭৪ বছর বয়সী নওয়াজের ওপর জেনারেলদের আশীর্বাদ রয়েছে। লাহোরের একটি কেন্দ্রে মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে ভোটদানের পর সাংবাদিকদের নওয়াজ শরিফ বলেন, ভোট অবশ্যই স্বচ্ছ হচ্ছে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ ভোট শুরুর ঠিক আগে ‘আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে’ সারাদেশে মোবাইল ফোন পরিষেবা স্থগিত করে দেয়। এতে কারচুপির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। পিটিআই একে ‘কাপুরুষোচিত কাণ্ড’ বলে মন্তব্য করেছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তা রক্ষায় সাড়ে ৬ লাখের বেশি সেনা, পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার ভোটের দিনেও দুটি পৃথক হামলায় অন্তত সাতজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর আগের দিন বুধবার প্রার্থীদের অফিসের বাইরে দুটি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৮ জন নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম জনবহুল দেশটিতে জাতীয় এবং চারটি প্রাদেশিক পরিষদের এ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন প্রায় ১৮ হাজার। জাতীয় পরিষদের ২৬৫টি আসনে লড়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি প্রার্থী।

পোলিং গ্রুপ গ্যালাপ পাকিস্তানের নির্বাহী পরিচালক বিলাল গিলানি বলেন, পাকিস্তানের নির্বাচনের ইতিহাসের সঙ্গে কারচুপির অভিযোগ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এটি একটি সামরিক বাহিনী পরিচালিত গণতন্ত্র।

ইমরান খানকে আদিয়ালা জেল থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোটের অনুমতি দেওয়া হয় বলে পিটিআইর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে গত সপ্তাহে রাষ্ট্রদ্রোহ, দুর্নীতি এবং অবৈধ বিয়ের অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Exit mobile version